ঊনত্রিংশতি অধ্যায়- রাস নৃত্যের উদ্দেশ্যে শ্রীকৃষ্ণ ও গোপীদের মিলন

শ্রীবাদরায়ণি বললেন- “ষড়ৈশ্বর্যপূর্ণ পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ প্রস্ফুটিত মল্লিকা কুসুমরাশি সুরভিত সেই শরৎকালীন রজনী অবলোকন করে তাঁর যোগমায়া শক্তির প্রভাবে তাঁর প্রেমময় লীলা উপভোগের অভিলাষ করলেন। দীর্ঘকাল পরে তার প্রিয়তমা পত্নীকে দর্শন করে প্রিয়তম পতি যেমন স্বহস্তে তার মুখমণ্ডল কুঙ্কুমে রঞ্জিত করে, চন্দ্রও তেমনি তার সুখদায়ক অরুণবর্ণের কিরণ দ্বারা পূর্বদিগন্তের মুখমণ্ডল লেপন করতে করতে ও তার উদয় দর্শনকারীগণের সন্তাপ হরণ করতে করতে উদিত হলেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নবীন কুঙ্কুমের ন্যায় অরুণবর্ণ, লক্ষ্ণীদেবীর বদনকমল সদৃশ, কুমুদবিকাশশীল, অখণ্ডমণ্ডল পূর্ণচন্দ্র ও তার স্নিগ্ধ কিরণে রঞ্জিত বনভূমি নিরীক্ষণ করে সুন্দরনয়না গোপীগণের মনোহর ও মধুর বেণুগীত বাদন করতে লাগলেন।”
“কৃষ্ণের সেই প্রণয় উদ্দীপক বংশী-গীত শ্রবণ করে, কৃষ্ণ-বিমুগ্ধচিত্তা বৃন্দাবনের গোপীগণ পরস্পরের অগোচরে, যেখানে তাঁদের প্রিয়তম অপেক্ষারত সেখানে গমন করলেন। দ্রুত গমন করায় তাদের কর্ণ-কুণ্ডল দুলতে লাগল। কোন কোন গোপী কৃষ্ণের বাঁশী শ্রবণকালে গাভীর দুগ্ধ দোহন করছিলেন। তাঁরা দোহন বন্ধ করে তাঁর সঙ্গে মিলিত হতে গমন করলেন। কেউ কেউ চুল্লীর উপর দুধ জ্বাল দিতে বসিয়ে এবং অন্যান্যরা চুল্লীতে পিঠা-চাপাটি সেঁকতে দিয়ে গমন করলেন। কোন কোন গোপী পোশাক পরিধান করছিলেন, কেউ তাঁদের শিশুকে দুধ পান করাচ্ছিলেন বা তাঁদের পতিদের একান্ত সেবা করছিলেন, কেউ ভোজন করছিলেন, কেউ কেউ অঙ্গ মার্জন, অঙ্গরাগ লেপন বা নয়নে কাজল দিচ্ছিলেন? কিন্তু তাঁরা সকলেই এই সকল কর্তব্যকর্ম মুহূর্তের মধ্যে পরিত্যাগ বা বন্ধ করে বিপর্যস্তভাবে বস্ত্র-ভূষণাদি নিয়ে কৃষ্ণ সন্নিধানে গমন করলেন। তাঁদের পতি, পিতা, ভ্রাতা ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজনেরা তাঁদের নিবৃত্ত করতে চেষ্টা করলেন, কিন্তু ইতিমধ্যে কৃষ্ণ কর্তৃক অপহৃতচিত্তা গোপীগণ, তাঁর বংশী ধ্বনি দ্বারা মোহিত হয়ে আর নিবৃত্ত হলেন না। কোন কোন গোপী তাঁদের গৃহ হতে নির্গত হতে না পেরে, তাঁরা গৃহেই অবস্থান করে শ্রীকৃষ্ণের প্রতি শুদ্ধ প্রেমে নয়ন মুদ্রিত করে ধ্যানস্থ হলেন। কৃষ্ণ দর্শনে নয়নে অপারগ সকল গোপীগণের দুঃসহ পিয়জনবিরহজনিত তীব্রতাপে তাঁদের সকল অশুভ কর্ম দগ্ধীভূত হল। তাঁর ধ্যান দ্বারা তাঁর আলিঙ্গন অনুভূত হওয়ার আনন্দে তাঁদের জাগতিক দুঃখও ক্ষীণ হল। পরমাত্মা কৃষ্ণকে তাঁদের উপপতি ভাবনা দ্বারা তাঁর অন্তরঙ্গ ভাবের সঙ্গ করার ফলে তাঁদের অশেষ কর্ম-বন্ধন নাশ হওয়ায় তাঁরা তাঁদের গুণময় দেহ পরিত্যাগ করলেন।”
শ্রীপরীক্ষিৎ মহারাজ বললেন- “হে মুনিবর, গোপীরা কৃষ্ণকে পরম ব্রহ্মরূপে নয়, কেবলমাত্র তাঁদের প্রিয়তম রূপেই অবগত ছিলেন। তা হলে কিভাবে গুণময় বিষয়ে আসক্ত-চিত্তা গোপীরা জড়াসক্তি হতে মুক্তিলাভ করেছিলেন?”
শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “এই ব্যাপারটি তোমার কাছে আমি পূর্বেই বর্ণনা করেছি। শিশুপাল কৃষ্ণবিদ্বেষী হওয়া সত্ত্বেও যখন সিদ্ধি লাভ করেছিল, তখন ভগবানের প্রিয় ভক্তগণের কথা আর কি বলবার আছে। হে রাজন্, পরমেশ্বর ভগবান অবিনাশী, অপরিমেয়, নির্গুণ ও গুণ-নিয়ন্তা। মানবের পরম মঙ্গলের জন্যই এই জগতে তিনি স্বয়ং আবির্ভূত হন। যাঁরা অবিরত তাঁদের কাম, ক্রোধ, ভয়, স্নেহ, ঐক্য বা সৌহার্দ্য ভগবান শ্রীহরির উদ্দেশ্যে পরিচালিত করেন, তাঁরা অবশ্যই তাঁর তন্ময়তা লাভ করেন। জন্মরহিত যোগেশ্বরেশ্বর পরম পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সম্বন্ধে তোমার বিস্মিত হওয়া উচিত নয়। শেষ পর্যন্ত এই ভগবানই জগতকে মুক্তি প্রদান করেন। ব্রজনারীদের উপস্থিত দর্শন করে বাগ্মীশ্রেষ্ঠ শ্রীকৃষ্ণ মনোহর বাক্যে তাঁদের সম্ভাষণ করলে তাঁদের হৃদয় বিমোহিত হল।”
ভগবান কৃষ্ণ বললেন- “হে পরমে সৌভাগ্যবতী রমণীগণ, স্বাগতম। আমি তোমাদের প্রীতির জন্য কি করব? ব্রজের সকল কুশল তো? তোমাদের আগমনের কারণ কি বল? এই রাত্রি অতি ভয়ঙ্কর এবং ভয়ঙ্কর প্রাণীরা চারিদিকে ওত পেতে আছে। ব্রজে ফিরে যাও, হে সুমধ্যমা, সুন্দরীগণ। এই স্থানটি নারীদের জন্য উপযুক্ত নয়। তোমাদের গৃহে না পেয়ে, তোমাদের মাতা, পিতা, পুত্র, ভ্রাতা ও পতিগণ অবশ্যই তোমাদের অন্বেষণ করবে। তোমাদের পরিবারের সদস্যদের উদ্বেগের কারণ হয়ো না। এখন তোমরা চন্দ্রকিরণে রঞ্জিত, বৃন্দাবনের পুষ্পপূর্ণ বন দর্শন করেছ। তোমরা যমুনা থেকে আগত শান্ত বাতাসে কম্পমান পল্লব-যুক্ত বৃক্ষের শোভা দর্শন করেছ। এখন তাই গোষ্ঠে ফিরে যাও। বিলম্ব কর না। হে সতী নারীগণ, তোমাদের পতিদের সেবা কর এবং ক্রন্দনরত শিশু ও গোবৎসদের দুগ্ধ পান করাও। তা ছাড়া, সম্ভবত আমার প্রতি প্রবল প্রেমবশত তোমাদের চিত্ত বশীভূত হওয়াতে তোমরা এখানে আগমন করেছ। তোমাদের জন্য এটি অবশ্যই যথেষ্ট প্রশংসনীয়, কারণ স্বভাবহ সকল প্রাণীই আমার প্রতি প্রীতিভাবযুক্ত হয়ে থাকে।”
“নারীর পরম ধর্ম- ঐকান্তিকভাবে তাঁর স্বামীর সেবা করা, স্বামীর পরিবারের প্রতি সুব্যবহার করা এবং তাঁর সন্তানদের লালন-পালন করা। যে সকল নারী পরজন্মে সদ্‌গতি লাভ করতে চান, তাঁদের স্বামী ধর্মাচরণ থেকে পতিত না হলে, শুধুমাত্র বিরক্তিকর, ভাগ্যহীন, বয়োবৃদ্ধ, বৃদ্ধিহীন, ব্যাধিগ্রস্ত বা ধনহীন হলেই তাঁকে ত্যাগ করা কখনই উচিত নয়। কুলনারীর উপপতি সংক্রান্ত তুচ্ছ সুখ স্বর্গবিরোধী, যশনাশক, দুঃখোৎপাদক, ভয়াবহ এবং সকল সময়েই তা নিন্দিত হয়ে থাকে। আমার কথা শ্রবণ, আমার বিগ্রহ দর্শন, আমার ধ্যান এবং আমার মহিমা কীর্তন দ্বারা আমার জন্য যেমন অপ্রাকৃত প্রেমের উদয় হয়, নিকটে অবস্থানের দ্বারা তেমন হয় না। তাই তোমাদের গৃহে তোমরা ফিরে যাও।”
শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “এইভাবে গোবিন্দ কথিত অপ্রিয় বাক্য শ্রবণ করে, গোপীগণ বিষাদগ্রস্ত ও বিফল মনোরথ হয়ে অপার উদ্বেগ অনুভব করলেন। দুঃখিত দীর্ঘনিঃশ্বাসে তাঁদের বিম্বাধর শুষ্ক হলে তাঁরা অবনত মস্তকে তাঁদের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দিয়ে ভূমিতে আঁচড় কাটছিলেন। তাঁদের দু’চোখ দিয়ে কাজলযুক্ত অশ্রুধারায় স্তনে লিপ্ত কুঙ্কুম ধৌত হয়েছিল। এইভাবে দুঃখভারাক্রান্ত হয়ে তাঁরা নীরবে দাঁড়িয়ে রইলেন। কৃষ্ণ তাঁদের প্রিয়তম হওয়া সত্ত্বেও এবং তাঁর জন্য তাঁরা সকল কামনা পরিত্যাগ করলেও, তিনি তাঁদের প্রতি অপ্রিয় বাক্য বলছিলেন। তৎ সত্ত্বেও তাঁরা দৃঢ়ভাবে কৃষ্ণের প্রতি আসক্তচিত্তা রইলেন। রোদন বন্ধ করে চোখ মার্জন করে তাঁরা ঈষৎ কোপের সঙ্গে গদগদ স্বরে বলতে লাগলেন- হে সর্বব্যাপী সর্বশক্তিমান পুরুষ, আপনার এভাবে নিষ্ঠুর কথা বলা উচিত নয়। আমরা যারা আপনার পাদপদ্মমূলে সমস্ত ইন্দ্রিয় পরিতৃপ্তির বিষয়াদি পরিত্যাগ করেছি, তাঁদের বর্জন করবেন না। হে কৃপাপরাঙ্মুখ, যেমন আদিপুরুষ নারায়ণ মুমুক্ষু মুক্তিকামী ভক্তদের সাথে বিনিময় করেন, সেইভাবে আমাদের সাথে প্রেম বিনিময় করুন। হে প্রিয় কৃষ্ণ, ধর্মজ্ঞ রূপে আপনি আমাদের উপদেশ প্রদান করেছেন যে, পতি, পুত্র ও আত্মীয় বন্ধুগণের সেবা করাই স্ত্রীগণের ধর্ম। আমরা তা মান্য করি, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আপনার প্রতিই এই সেবা করা উচিত; কারণ আপনিই সকল প্রাণীর পরম বন্ধুস্বরূপ, আপনিই তাঁদের আত্মীয়, পতি ও আত্মা। দক্ষ আত্মহিতৈষীগণ, নিত্যপ্রিয়, আত্মরূপী আপনার প্রতিই সর্বদা তাঁদের ভক্তি চালিত করেন। আমাদের পতি, পুত্র ও আত্মীয়-বন্ধুদের দ্বারা কি লাভ হয়, যাঁরা কেবল পীড়া দান করেন? অতএব, হে পরমেশ্বর, আমাদের কৃপা করুন। হে কমলনয়ন, আপনার সঙ্গ লাভের জন্য আমাদের চিরকালের আশা দয়া করে ছিন্ন করবেন না। আমাদের যে মন ও হাত এতাবৎ কাল গৃহকর্মে মগ্ন ছিল, তা আপনি সহজেই অপহরণ করেছেন। এখন আমাদের পা দুখানি এক পা-ও আপনার পাদপদ্মমূল থেকে চালিত হতে চায় না। আমরা কিভাবে ব্রজে ফিরে যাব? আর সেখানে গিয়েই বা আমরা কি করব? হে শ্রীকৃষ্ণ, আপনার সহাস্য অবলোকন ও বাঁশীর সুমধুর সঙ্গীতে আমাদের হৃদয়ের অভ্যন্তরে যে অগ্নি প্রজ্বলিত হয়েছে, সেখানে আপনার অধরামৃত সিঞ্চন করুন। তা যদি না করেন, হে সখে, আপনার বিরহানলে আমাদের দেহকে ন্যস্ত করে ধ্যান যোগে যোগীর ন্যায় আপনার চরণকমল লাভ করব। হে কমললোচন, আপনার পদতলের স্পর্শ লক্ষ্ণী দেবীর কাছেও উৎসব স্বরূপ। অরণ্যবাসীজন-প্রিয় আপনার ঐ পাদপদ্মদ্বয় আমরাও স্পর্শ করব। যতক্ষণ না আমরা আপনার দ্বারা পূর্ণরূপে সন্তুষ্ট হচ্ছি, ততক্ষণ আমরা অন্য কোন মানুষের সামনে অবস্থান করতেই অক্ষম হয়ে থাকব। লক্ষ্ণীদেবী, যাঁর কটাক্ষ লাভের জন্য দেবতারাও প্রবল প্রয়াস করেন, যিনি ভগবান নারায়ণের বক্ষবিলাসিনী, সেই তিনিও তুলসীদেবী ও ভগবানের অন্যান্য ভৃত্যগণের সঙ্গে একত্রে সেই পদযুগলের রেণুলাভের আকঙ্ক্ষা করেন, তেমনি আমরাও আপনার চরণ কমলদ্বয়ের রেণুর আশ্রয় গ্রহণের শরণাপন্ন হয়েছি। অতএব, হে দুঃখহারিণ, যারা গৃহ ও পরিবার পরিত্যাগ করে শধু আপনার উপাসনার আশায় আপনার পাদমূলে আগমন করেছে, সেই আমাদের প্রতি প্রসন্ন হোন। আপনার সুন্দর হাস্যময় কাটাক্ষপাতে আমাদের চিত্ত গভীর কামনায় দগ্ধ হচ্ছে। হে পুরুষরত্ন, দয়া করে আমাদের আপনার দাস্য প্রদান করুন। আপনার অলঙ্কৃত মুখমল্ডল, আপনার কর্ণকুণ্ডলের সৌন্দর্য-মণ্ডিত গণ্ডস্থল, আপনার অধরের সুধা, ঈষৎ হাস্যযুক্ত অবলোকন অভয়প্রদানকরী বাহুযুগল এবং লক্ষ্ণীদেবীর আনন্দের একমাত্র উৎস স্বরূপ আপনার বক্ষস্থল দর্শন করে আমরা আপনার দাসী হয়েছি। হে কৃষ্ণ, আপনার মধুর বংশীধ্বনি শ্রবণে সম্মোহিত হয়ে ত্রিজগতের কোন্ নারী না তার ধর্মীয় আচরণ হতে বিচলিত হয়েছে? আপনার সৌন্দর্য সমগ্র ত্রিভুবনকে পবিত্র করে। এমন কি, আপনার রূপ দর্শন করে গাভীরা, পক্ষীরা, বৃক্ষগুলি ও মৃগদলও পুলকিত হয়। আদিপুরুষ পরমেশ্বর ভগবান যেমন দেবলোক রক্ষা করেন, তেমনি ব্রজবাসীগণের ভয় ও দুঃখ নিবারণের জন্য আপনিও আবির্ভূত হয়েছেন। অতএব হে আর্তবন্ধু, দয়া করে আপনার এই দাসীগণের উত্তপ্ত স্তনে ও শিরে আপনার কর-পদ্ম স্থাপন করুন।”
শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “গোপেিদর এই সকল বিলাসবাক্য শ্রবণ করে মহাযোগীগণেরও অধীশ্বর ভগবান কৃষ্ণ স্বয়ং নিত্য-তৃপ্ত হয়েও সহাস্যে গোপীগণের সঙ্গে আনন্দ উপভোগ করলেন। সেই সময়ে উদার ক্রিয়াকলাপে এবং উদারহাস্যে কুন্দ-কুসুমবৎ দন্তের কান্তি শোভিত ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর দৃষ্টিপাতে উৎফুল্লমুখী, সম্মিলিত সেই গোপীগণের মাঝে নক্ষত্র পরিবেষ্টিত চন্দ্রের মতো শোভা পাচ্ছিলেন। গোপীগণ তাঁর স্তুতিগান করলে, সেই শতরমণীযূথপতি তদুত্তরে উচ্চৈঃস্বরে গান করলেন। তিনি তাঁর বৈজয়ন্তীমালা পরিধান করে, বৃন্দাবন অরণ্যকে শোভিত করে তাঁদের মধ্যে বিচরণ করতে লাগলেন। শ্রীকৃষ্ণ গোপীদের সঙ্গে শীতল বালুকাময় ও নদীর তরঙ্গে উৎফুল্লিত কুমুদের সুগন্ধবাহী বায়ুতে পূর্ণ যমুনার তীরে গমন করলেন। সেখানে কৃষ্ণ গোপীদের দিকে বাহু প্রসারিত করে তাঁদের আলিঙ্গন করলেন। তাঁদের হাত, কেশ, ঊরু, নীবী, ,স্তন স্পর্শের দ্বারা ক্রীড়াচ্ছলে তাঁর নখাগ্র দ্বারা আঁচড় কেটে এবং তাঁদের সঙ্গে কৌতুক, দৃষ্টিপাত ও হাস্যের মাধ্যমে ব্রজের সুন্দরী গোপীগণের কামভাব উদ্দীপিত করে ভগবান তাঁর লীলা উপভোগ করলেন। পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বিশেষ মনোযোগ লাভ করে গোপীরা প্রত্যেকেই নিজেকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নারী মনে করে গর্বিত হলেন। ভগবান কেশব গোপীগণের সৌভাগ্যজনিত অত্যন্ত গর্বভাব দর্শন করে, তাঁদের সেই গর্ব প্রশমনের জন্য, তাঁদের প্রতি আরও কৃপাবশত তৎক্ষণাৎ অন্তর্হিত হলেন।”

Leave a Reply

August 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

Blog Stats

  • 140,959 hits