শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “হে রাজন্! নন্দ মহারাজ যখন গৃহে প্রত্যাবর্তন করছিলেন, তখন তাঁর মনে হয়েছিল যে, বসুদেব যা বলেছেন তা মিথ্যা হতে পারে না। গোকুলে নিশ্চয়ই কোন উৎপাতের ভয় রয়েছে। নন্দ মহারাজ যখন তাঁর সুন্দর পুত্র শ্রীকৃষ্ণের বিপদের কথা চিন্তা করছিলেন, তখন তাঁর ভীষণ ভয় হয়েছিল এবং তিনি ভগবান শ্রীহরির শ্রীপাদপদ্মে শরণাগত হয়েছিলেন। নন্দ মহারাজ যখন গোকুলে ফিরে আসছিলেন, তখন ভীষণ স্বভাবা বালঘাতিনী পূতনা নাম্নী রাক্ষসী পূর্বেই কংস কর্তৃক নিযুক্তা হয়ে নগর, গ্রাম, গোষ্ঠ প্রভৃতি স্থানে শিশুহত্যা করে ভ্রমণ করছিল।”
“হে রাজন্! যে স্থানে মানুষেরা শ্রবণ, কীর্তন আদি (শ্রবণং কীর্তনং বিষ্ণোঃ) ভগবদ্ভক্তির অঙ্গ অনুষ্ঠান করেন, সেখানে রাক্ষস ইত্যাদির ভয় থাকে না। তাই গোকুলে, যেখানে ভগবান স্বয়ং বিরাজমান ছিলেন, সেখানে ভয়ের কোন সম্ভাবনা ছিল না। একসময় স্বেচ্ছাবিহারিণী পূতনা রাক্ষসী তার মায়াশক্তির বলে এক সুন্দরী নারীর রূপ ধারণ করে, আকাশমার্গে বিচরণ করতে করতে নন্দ মহারাজের আলয় গোকুলে প্রবেশ করেছিল। তার বৃহৎ নিতম্ব এবং স্তনযুগলের ভারে তার ক্ষীণ কটিদেশ যেন ভারাক্রান্ত হয়েছিল এবং সে অত্যন্ত সুন্দর বসনে সজ্জিতা ছিল। তার কেশবন্ধন মল্লিকা ফুলের মালার দ্বারা অলঙ্কৃত ছিল এবং তার কর্ণকুণ্ডলের দীপ্তিতে উল্লসিত তার মুখমণ্ডল কেশরাশির দ্বারা সুশোভিত হয়েছিল। সে মনোহর হাস্য সহকারে কটাক্ষ নিক্ষেপের দ্বরা সমস্ত ব্রজবাসীদের, বিশেষ করে পুরুষদের মন হরণ করেছিল। গোপীরা তাকে দেখে মনে করেছিল, যেন মূর্তিমতী লক্ষ্ণীদেবী পদ্ম হাতে তাঁর পতি শ্রীকৃষ্ণকে দর্শন করতে এসেছেন। বালঘাতিনী পূতনা শিশু অন্বেষণ করতে করতে ভগবানের লীলাশক্তির দ্বারা প্রেরিত হয়ে, বিনা বাধায় নন্দ মহারাজের গৃহে প্রবেশ করেছিল। কারও অনুমতি না নিয়ে সে নন্দ মহারাজের গৃহে প্রবেশ করে শয্যায় শায়িত, ভস্মাচ্ছাদিত বহ্নির মতো অনন্ত শক্তি সমন্বিত শিশুকৃষ্ণকে দর্শন করেছিল। সে বুঝতে পেরেছিল যে, সেই শিশুটি কোন সাধারণ শিশু ছিল না, সে ছিল সমস্ত অসুরদের সংহারক। শয্যায় শায়িত, সর্বান্তর্যামী পরমাত্মা শ্রীকৃষ্ণ বুঝতে পেরেছিলেন যে, বালঘাতিনী পূতনা তাঁকে হত্যা করতে এসেছে। তাই যেন ভয়ভীত হয়ে তিনি তাঁর চক্ষু মুদ্রিত করেছিলেন। পূতনা তখন তার অন্তকস্বরূপ শ্রীকৃষ্ণকে তার কোলে ধারণ করেছিল, ঠিক যেমন মূর্খ ব্যক্তি নিদ্রিত সর্পকে রজ্জু বলে মনে করে তাকে তার কালে ধারণ করে। পূতনা রাক্ষসীর হৃদয় ছিল অত্যন্ত ভয়ঙ্কর এবং নিষ্ঠুর, কিন্তু তাকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন একজন অতিশয় স্নেহসিক্তা মাতার মতো। তাই সে ছিল ঠিক একটি কোমল কোষমধ্যস্থ তীক্ষ্ণধার তরবারির মতো। তাকে গৃহের মধ্যে দর্শন করেও মা যশোদা এবং রোহিণী তার সৌন্দর্যে অভিভূত হয়ে, তাকে বাধা না দিয়ে নীরবে সেখানে অবস্থান করছিলেন, কারণ সে শিশুটির প্রতি মাতৃবৎ স্নেহ প্রদর্শন করছিল। এই ভয়ঙ্করী রাক্ষসী সেই স্থানেই শ্রীকৃষ্ণকে কোলে গ্রহণ করে তাঁর মুখে তাঁর স্তন প্রদান করেছিল। তার সেই স্তনাগ্র অত্যন্ত তীব্র বিষে লিপ্ত ছিল, কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তার প্রতি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে তাঁর দুই হস্তের দ্বারা প্রবলভাবে তাঁর স্তন নিপীড়ন করেছিলেন এবং তার প্রাণ সহ সেই বিষ পান করেছিলেন। জীবনের সমস্ত মর্মস্থানে অসহ্যভাবে পীড়িতা হয়ে, পূতনা “আমাকে ছেড়ে দাও, আমাকে ছেড়ে দাও! আর আমার স্তন্য পান করো না!” এই বলে চিৎকার করতে করতে ঘর্মাক্ত দেহে নেত্রযুগল বিস্ফারিত করে এবং চরণ ও বাহুদ্বয় বার বার ইতস্তত বিক্ষিপ্ত করতে করতে উচ্চস্বরে ক্রন্দন করতে লাগল। পূতনার অতি গভীর আর্তনাদে পর্বত সহ পৃথিবী এবং গ্রহগণ সহ আকাশ কম্পিত হয়েছিল। পাতাললোক ও দিক্সকল প্রতিধ্বনিত হয়েছিল এবং মানুষেরা বজ্রপাত হচ্ছে বলে মনে করে ভয়ে ভূপতিত হয়েছিল। এইভাবে কৃষ্ণ কৃর্তক স্তনভাগে আক্রান্তা হয়ে পূতনা অসহ্য বেদনায় তার প্রাণত্যাগ করেছিল। হে মহারাজ পরীক্ষিৎ! সে তার মুখ ব্যাদান এবং কেশরাশি ও হাত-পা প্রসারণপূর্বক তার রাক্ষসীরূপ গ্রহণ করে, ইন্দ্রের বজ্রের আঘাতে নিহত বৃত্রাসুরের মতো প্রাণ হারিয়ে গোষ্ঠে পতিত হয়েছিল।”
“হে মহারাজ পরীক্ষিৎ, পূতনার বিশাল শরীর যখন ভূপতিত হয়েছিল, তখন বারো মাইল পরিমিত স্থানের সমস্ত বৃক্ষ বিচূর্ণ হয়েছিল। তার সেই বিশাল শরীর অত্যন্ত আশ্চর্যজনক ছিল। সেই রাক্ষসীর মুখ লাঙ্গলের অগ্রভাগের মতো তীক্ষ্ন দন্তবিশিষ্ট ছিল, নাসারন্দ্র পর্বতের গুহার মতো গভীর, স্তনদ্বয় পর্বত শিখরচ্যুত প্রস্তুরখণ্ডের মতো বিশাল এবং কেশরাশি বিক্ষিপ্ত ও তাম্রবর্ণ ছিল। তার অক্ষিকোটর অন্ধকূপের মতো গভীর, জঘনদ্বয় নদীতটের মতো ভীষণ, তার বাহু, ঊরু ও পদযুগল বিশাল সেতুর মতো এবং উদরটি জলশূন্য হ্রদের মতো ছিল। ইতিমধ্যেই সেই রাক্ষসীর চিৎকারে গোপ এবং গোপীদের হৃদয়, কর্ণ ও মস্তক কম্পিত হয়েছিল। পুনরায় তাঁরা যখন তার ভয়ঙ্কর শরীর দর্শন করেছিলেন, তখন তাঁরা আরও ভীত হয়েছিলেন। শিশু কৃষ্ণকে নির্ভয়ে পূতনা রাক্ষসীর বক্ষঃস্থলে খেলা করতে দেখে, গোপীরা অত্যন্ত বিষ্ময়ান্বিত হয়ে মহা আনন্তে তাঁকে তাঁদের কোলে তুলে নিয়েছিলেন। তারপর অন্য গোপসিহ মা যশোদা এবং রোহিণী গোপুচ্ছ ভ্রমণ প্রভৃতি ক্রিয়ার দ্বারা সমস্ত বিঘ্ন থেকে শিশু শ্রীকৃষ্ণের সম্যক্ভাবে রক্ষা বিধান করেছিলেন। শিশুটিকে গোমূত্র দ্বারা স্নান করিয়ে গোধূলি লিপ্ত করা হয়েছিল। তারপর গোময় দ্বারা ললাট আদি দ্বাদশ অঙ্গে ভগবানের বিভিন্ন নাম লিখে তিলক অঙ্কন করা হয়েছিল। এইভাবে শিশুটির রক্ষা বিধান করা হয়েছিল। গোপীরা প্রথমে আচমনপূর্বক তাঁদের অঙ্গে এবং করদ্বয়ে বীজন্যাস করে, তারপর বালকের অঙ্গেও সেই মন্ত্র প্রয়োগ করেছিলেন।”
“(শ্রীল শুকদেব গোস্বামী মহারাজ পরীক্ষিৎকে বলেছিলেন যে, গোপীরা যথাযথ বিধি অনুসারে এই মন্ত্রের দ্বারা তাঁদের শিশুপুত্র কৃষ্ণকে রক্ষা করেছিলেন।) অজ তোমার পদযুগল রক্ষা করুন, মণিমান জানুদ্বয় রক্ষা করুন, যজ্ঞ উরুদ্বয়, অচ্যুত কটিতট, হয়গ্রীব জঠরদেশ, কেশব হৃদয়, ঈশ বক্ষঃস্থল, সূর্য কন্টদেশ, বিষ্ণু বাহু, উরুক্রম মুখমণ্ডল, ঈশ্বর মস্তক, চক্রী সম্মুখভাগ, গদাধারী শ্রীহরি পশ্চাদ্ভাগ, ধনুর্ধারী মধুরিপু ও অসিধারী অজন তোমার উভয় পার্শ্ব এবং শঙ্খধারী উরুগায় কোণসমূহে, উপেন্দ্র উপরিভাগে, গরুড় ভূতলে এবং হলধর পুরুষ চতুর্দিকে তোমাকে রক্ষা করুন। হৃষীকেশ তোমার সমস্ত ইন্দ্রয় রক্ষা করুন, নারায়ণ তোমার প্রাণ রক্ষা করুন, শ্বেতদ্বীপ অধিপতি তোমার হৃদয় রক্ষা করুন এবং ভগবান যোগেশ্বর তোমার মনকে রক্ষা করুন। পৃশ্নিগর্ভ তোমার বুদ্ধি রক্ষা করুন এবং পরমেশ্বর তোমার আত্মাকে রক্ষা করুন। খেলা করার সময় গোবিন্দ তোমাকে রক্ষা করুন এবং শয়নকালে মাধব তোমাকে রক্ষা করুন। গমনকালে বৈকুন্ঠ তোমাকে রক্ষা করুন এবং উপবেশনকালে লক্ষ্ণীপতি নারায়ণ তোমাকে রক্ষা করুন। তেমনই, সমস্ত দুষ্টগ্রহের ভয়ঙ্কর শত্রু যজ্ঞভুক তোমার উপভোগের সময় সর্বদা তোমাকে রক্ষা করুন। ডাকিনী, যাতুধানী ও কুষ্মাণ্ড নামক দুষ্ট ডাইনীরা শিশুদের সব চাইতে বড় শত্রু। আর ভূত, প্রেত, পিশাচ, যক্ষ, রাক্ষস, বিনায়ক, কোটরা, রেবতী, জ্যেষ্ঠা, পূতনা, মাতৃকা আদি প্রেতাত্মারা বিস্মৃতি উন্মাদনা এবং দুঃস্বপ্ন উৎপাদন করে দেহ, প্রাণ এবং ইন্দ্রিয়কে সর্বদা কষ্ট দেয়। বৃদ্ধগ্রহের মতো তারা মহা উৎপাত সৃষ্টি করে, বিশেষ করে শিশুদের, কিন্তু শ্রীবিষ্ণুর নাম উচ্চারণের ফলে তাদের বিনাশ করা যায়, কারণ ভগবান শ্রীবিষ্ণুর নাম ধ্বনিত হলেই তারা সকলে ভীত হয়ে দূরে পালিয়ে যায়।”
শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “মা যশোদা আদি গোপীরা মাতৃস্নেহের বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। এইভাবে মন্ত্র উচ্চারণ করে শিশুটির রক্ষাক্রিয়া সম্পাদন করে, মা যশোদা তাঁকে স্তন্যপান করিয়েছিলেন এবং তারপর তাঁকে শয্যায় শয়ন করিয়েছিলেন। ইতিমধ্যে নন্দ মহারাজ আদি সমস্ত গোপেরা মথুরা থেকে ব্রজে ফিরে এসে, পূতনার বিশাল মৃত শরীর পড়ে রয়েছে দেখে অত্যন্ত বিস্মিত হয়েছিলেন।”
নন্দ মহারাজ এবং অন্য গোপেরা তখন বলেছিলেন- “হে বন্ধুগণ! আনকদুন্দুুভি বা বসুদেব নিশ্চয়ই একজন মহান ঋষি অথবা যোগেশ্বর হয়েছেন। তা না হলে তাঁর পক্ষে এই ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব হল কি করে? ব্রজবাসীরা পূতনার দেহ কুঠারের দ্বারা খণ্ড খণ্ড করে কেটে দূরে নিক্ষেপ করেছিলেন এবং প্রত্যেক অবয়ব পৃথক পৃথকভাবে কাষ্ঠবেষ্টিত করে দগ্ধ করেছিলেন। যেহেতু শ্রীকৃষ্ণ পূতনা রাক্ষসীকে বধ করার সময় তার স্তন্যপান করেছিলেন, তাই সে সমস্ত জড় কলুষ থেকে মুক্ত হয়েছিল। তার সমস্ত পাপ আপনা থেকেই বিধৌত হয়েছিল এবং তাই যখন তার বিশাল শরীর দহন করা হচ্ছিল, তখন তা থেকে অগুরুর মতো সুগন্ধযুক্ত ধূম উত্থিত হয়েছিল। রক্তপায়িনী শিশুঘাতিনী রাক্ষসী পূতনা শ্রীকৃষ্ণকে হত্যা করতে এসেছিল; কিন্তু যেহেতু সে ভগবানকে তার স্তন্যদান করেছিল, তাই সে সদ্গতি লাভ করেছিল। আর যাঁরা স্বাভাবিক বিশ্বাস ও ভক্তি সহকারে মাতৃবৎ স্নেহে কৃষ্ণকে তাঁদের স্তন্যদান করেন অথবা প্রিয় বস্তু প্রদান করেন, তাঁদের আর কি কথা? ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সর্বদা তাঁর শুদ্ধ ভক্তদের হৃদয়ে বিরাজ করেন, তিনি সর্বদা ব্রহ্মা, শিব আদি জগৎপূজ্য ব্যক্তিদের দ্বারা বন্দিত। শ্রীকৃষ্ণ যেহেতু পূতনার দেহ আলিঙ্গন করে মহাসুখে তার স্তন্যপান করেছিলেন, তাই মহারাক্ষসী হলেও পূতনা চিৎ-জগতে মাতৃসদৃশ পদ লাভ করে পরম সিদ্ধি প্রাপ্ত হয়েছিল। তা হলে মহাসুখে শ্রীকৃষ্ণ যে সমস্ত গাভীদের স্তনক্ষীর পান করেছিলেন এবং মাতৃবৎ স্নেহে যাঁরা শ্রীকৃষ্ণকে তাঁদের দুগ্ধ প্রদান করেছিলেন, তাঁদের আর কি কথা? ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মুক্তি (কৈবল্য) অথবা ব্রহ্মসাযুজ্য আদি বহু বর প্রদাতা। সেই ভগবানের প্রতি গোপীরা সর্বদা মাতৃবৎ স্নেহ অনুভব করেন এবং শ্রীকৃষ্ণ পূর্ণ তৃপ্তি সহকারে তাঁদের স্তন পান করেন। তাই তাঁদের মাতা-পুত্রের সম্পর্কের কারণে, গোপীরা নানা প্রকার পারিবারিক কার্যকলাপে ব্যস্ত থাকলেও, কখনও মনে করা উচিত নয় যে, তাঁরা তাঁদের দেহ ত্যাগের পর পুনরায় এই জগতে ফিরে আসবেন। পূতনার দেহ দহনের ফলে নির্গত ধূমের সৌরভ আঘ্রাণ করে দূরগত ব্রজবাসীরা অত্যন্ত আশ্চর্যান্বিত হয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “এই সৌরভ আসছে কোথা থেকে?” এইভাবে বলতে বলতে তাঁরা পূতনার দেহ যেখানে দহন করা হচ্ছিল, সেখানে গিয়েছিলেন। দূরাগত ব্রজবাসীরা যখন পূতনার আগমন বৃত্তান্ত এবং কৃষ্ণ কর্তৃক তার নিহত হওয়ার বর্ণনা শ্রবণ করেছিলেন, তখন তাঁরা অত্যন্ত আশ্চর্যান্বিত হয়ে শিশুটিকে আশীর্বাদ করেছিলেন। বসুদেব সেই ঘটনার কথা পূর্বেই অবগত হয়েছিলেন বলে, নন্দ মহারাজ বসুদেবের প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞতা অনুভব করে তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন।”
“হে কুরুশ্রেষ্ঠ মহারাজ পরীক্ষিৎ! নন্দ মহারাজ ছিলেন অত্যন্ত উদার এবং সরল। তিনি মৃত্যুমুখ থেকে প্রত্যাগত তাঁর পুত্র কৃষ্ণকে কোলে নিয়ে তাঁর মস্তক আঘ্রাণ করে পরম আনন্দ লাভ করেছিলেন। যে ব্যক্তি শ্রদ্ধা সহকারে পূতনা মোক্ষণরূপ শ্রীকৃষ্ণের এই অদ্ভুত শৈশবলীলা শ্রবণ করেন, তিনি আদিপুরুষ ভগবান শ্রীগোবিন্দের প্রতি পরম আসক্তি লাভ করেন।”
ষষ্ঠ অধ্যায়- পূতনা বধ
11 Jun 2026 Leave a comment
in অমল পুরান, দশম স্কন্ধ- আশ্রয়