শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “হে মহারাজ পরীক্ষিৎ, তখন গৃহের অভ্যন্তরের এবং বাইরের দ্বারসমূহ পূর্বে মতো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তখন গৃহবাসীরা, বিশেষ করে কারারক্ষকেরা, নবজাত শিশুর ক্রন্দন শুনে শয্যা থেকে জেগে উঠেছিল। তারপর, সমস্ত প্রহরীরা শ্রীঘ্রই ভোজরাজ কংসের কাছে গিয়ে দেবকীর সন্তানের জন্ম সংবাদ প্রদান করেছিল। অত্যন্ত উৎকন্ঠা সহকারে এই সংবাদের প্রতীক্ষারত কংস তৎক্ষণাৎ তার কার্য সম্পাদনে তৎপর হয়েছিল। কংস তখন অতি শ্রীঘ্র তার শয্যা থেকে উত্থিত হয়ে চিন্তা করেছিল, ‘এটি হচ্ছে কাল, যে আমাকে বধ করার জন্য জন্মগ্রহণ করেছে!’ এইভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে কংস মুক্তকেশে শ্রীঘ্রই সূতিকাগৃহে উপস্থিত হয়েছিল।”
অসহায় দেবকী কাতরভাবে কংসের কাছে আবেদন করেছিল- “হে ভ্রাতা, তোমার কল্যাণ হোক। এই কন্যাটিকে হত্যা করো না। সে ভবিষ্যতে তোমার পুত্রবধূ হবে। স্ত্রীহত্যা করা তোমার উচিত নয়। হে ভ্রাতঃ, দৈবের প্রেরণায় তুমি অগ্নির মতো উজ্জ্বল এবং সুন্দর আমার পুত্রদের হত্যা করেছ। এই কন্যাটিকে দয়া করে তুমি হত্যা করো না। একে উপহারস্বরূপ আমাকে প্রদান কর। হে প্রভো, হে ভ্রাতঃ, সন্তানবিহীনা হওয়ার ফলে আমি অত্যন্ত দীনা, কিন্তু তবুও আমি তোমার কনিষ্ঠা ভগ্নী এবং তাই আমার এই শেষ সন্তানটিকে তোমার উপহার-স্বরূপ প্রদান করা উচিত।”
শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “এইভাবে কন্যাটিকে আলিঙ্গন করে কাতরভাবে ক্রন্দন করতে করতে দেবকী কংসের কাছে সেই শিশুটির জন্য প্রার্থনা করলেও দুরাত্মা কংস তাঁকে ভর্ৎসনা করে তাঁর হাত থেকে কন্যাটিকে বলপূর্বক ছিনিয়ে নিয়েছিল। বিকট স্বার্থের বশবর্তী হয়ে কংস তার ভগ্নীর সঙ্গে সমস্ত আত্মীয়তার সম্পর্ক সমূলে উৎপাটিত করেছিল। সে তখন সদ্যোজাতা ভাগিনীকে চরণযুগলে ধারণ করে সবলে শিলাপৃষ্ঠে নিক্ষেপ করেছিল। সেই কন্যাটি অর্থাৎ ভগবান শ্রীবিষ্ণুর কনিষ্ঠা ভগ্নী যোগমায়া দেবী কংসের হাত থেকে ঊর্ধ্বে উৎক্ষিপ্ত হয়ে আকাশে অস্ত্রযুক্ত অষ্টমহাভুজা দুর্গাদেবীরূপে প্রকাশিতা হয়েছিলেন। দুর্গাদেবী ফুলের মালা, চন্দন, সুন্দর বসন এবং বহুমূল্য রত্নালঙ্কারে বিভূষিতা ছিলেন। তিনি তাঁর হস্তে ধনুক, ত্রিশূল, বাণ, ঢাল, খড়্গ শঙ্খ, চক্র, ও গদা ধারণ করেছিলেন এবং অপ্সরা, কিন্নর, উরগ, সিদ্ধ, চারণ, গন্ধর্ব আদি স্বর্গলোকবাসীরা তাঁর পূজার জন্য বিধি উপকরণ প্রদান করে তাঁর বন্দনা করেছিলেন। তিনি তখন এই কথাগুলি বলেছিলেন- ‘ওরে মহামূর্খ কংস! আমাকে বধ করে তোর কি লাভ হবে? তোর চিরশত্রু ভগবান যিনি অবশ্যই তোকে বধ করবেন, তিনি ইতিমধ্যেই অন্যত্র জন্মগ্রহণ করেছেন। অতএব নিরর্থক দীন শিশুদের হত্যা করিস্ না।’ কংসকে এই কথা বলে, দুর্গাদেবী বা যোগমায়া বারাণসী প্রভৃতি বিভিন্ন স্থানে অন্নপূর্ণা, দুর্গা, কালী, ভদ্রা আদি বিবিধ নামে বিখ্যাতা হয়েছিলেন।”
“দুর্গাদেবীর সেই বাণী শ্রবণ করে কংস অত্যন্ত বিস্মিত হয়েছিল। সে তখন তার ভগ্নী এবং ভগ্নীপতি বসুদেবকে বন্ধন মুক্ত করে অত্যন্ত বিনীতভাবে বলেছিল- ‘হায় ভগিনী! হায় ভগ্নীপতি! আমি এতই পাপী যে, রাক্ষসেরা যেমন নিজেদের সন্তান ভক্ষণ করে, আমিও তেমন তোমাদের বহু সন্তানকে হত্যা করেছি। আমি অত্যন্ত নির্দয় এবং নিষ্ঠুর, তাই আমি আমার সমস্ত আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুবান্ধবদের পরিত্যাগ করেছি। অতএব, আমি জানি না, ব্রহ্মঘাতীর মতো মৃত্যুর পর অথবা জীবিত অবস্থায় আমি কোন লোকে গমন করব। হায়, কেবল মানুষেরাই মিথ্যা কথা বলে না, এমন কি দৈবও মিথ্যা কথা বলে। আমি এতই পাপাত্মা যে, আমি দৈববাণীতে বিশ্বাস করে আমার ভগ্নীর সন্তানদের বধ করেছি।”
“হে মহাত্মা দম্পতি, তোমাদের সন্তানেরা তাদের অদৃষ্টের কর্মফল ভোগ করেছে। অতএব তাদের জন্য শোক করো না। দৈবের নিয়ন্ত্রণাধীনে সমস্ত জীবেরা সর্বদা একত্রে অবস্থান করতে পারে না। এই পৃথিবীতে মৃত্তিকাজাত ঘট, পুতুল আদি বস্তু যেমন প্রকট এবং তারপর ভেঙ্গে গিয়ে মাটিতে মিশ্রিত হয়ে বিলুপ্ত হয়ে যায়, তেমনই, বদ্ধ জীবের শরীর বিনষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু জীবাত্মা মাটির মতো অপরিবর্তিত থাকে এবং তার কখনও বিনাশ হয় না ( ন হন্যতে হন্যমানে শরীরে)। যে ব্যক্তি দেহ এবং আত্মার স্বরূপ সম্বন্ধে অবগত নয়, তার দেহাত্মবুদ্ধি অত্যন্ত প্রবল হয়। দেহ এবং দেহের সঙ্গে সম্পর্কিত বস্তুর প্রতি আসক্তির ফলে সে তার পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের সঙ্গে সংযোগ এবং বিচ্ছেদের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত এই আসক্তি থাকে, ততক্ষণ তার সংসার-বন্ধন নিবৃত্ত হয় না। (অন্যথা সে মুক্ত)। হে ভদ্রে, হে ভগ্নী দেবকী! সকলেই দৈবের বিধান অনুসারে তার কর্মফল ভোগ করে। তাই, যদিও তোমার পুত্ররা দুর্ভাগ্যবশত আমার দ্বারা নিহত হয়েছে, সেই জন্য দয়া করে শোক করো না। দেহাত্মবুদ্ধির ফলে আত্ম-উপলব্ধি রহিত হয়ে, বদ্ধ জীব অজ্ঞানের অন্ধকারে আচ্ছন্ন থেকে মনে করে, ‘আমি হত হয়েছি।’ অথবা ‘আমি আমার শত্রুকে হত্যা করেছি।’ মূর্খ ব্যক্তি যতক্ষণ পর্যন্ত এইভাবে আত্মাকে নিহত অথবা হত্যাকারী বলে মনে করে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে জড় জগতের বন্ধনে আবদ্ধ থেকে তার কর্ম অনুসারে সুখ এবং দুঃখ ভোগ করে। কংস তাঁদের কাছে আবেদন করেছিল, ‘হে ভগ্নী এবং ভগ্নীপতি, তোমরা উভয়েই অত্যন্ত সাধু প্রকৃতির, অতএব আমার মতো দীন এবং ক্ষুত্র হৃদয় ব্যক্তির প্রতি তোমরা কৃপা কর। দয়া করে তোমরা আমার নৃশংস আচরণের জন্য আমাকে ক্ষমা কর।’ এই বলে কংস অশ্রুমুখে বসুদেব এবং দেবকীর পায়ে পতিত হয়েছিল। দুর্গাদেবীর বাণীতে পূর্ণরূপে বিশ্বাস করে, কংস দেবকী এবং বসুদেবের প্রতি আত্মীয়তা প্রদর্শনপূর্বক তাঁদের লৌহশৃঙ্খলের বন্ধন মুক্ত করেছিল।”
“দেবকী যখন দেখলেন যে, তাঁর ভ্রাতা পূর্ব নির্ধারিত ঘটনাবলী বিশ্লেষণ করে যথার্থই অনুতপ্ত হয়েছে, তখন তাঁর সমস্ত ক্রোধ দূর হয়ে গিয়েছিল। বসুদেবও ক্রোধমুক্ত হয়ে হেসে কংসকে বলেছিলেন। হে মহাজন কংস, অজ্ঞানের প্রভাবেই কেবল মানুষ জড় দেহ এবং অহঙ্কার গ্রহণ করে। এই দর্শন সম্বন্ধে তুমি যা বলেছ তা ঠিক। আত্মজ্ঞানের অভাবে, দেহাত্মবুদ্ধি সমন্বিত মানুষেরা ‘এটি আমার’ এবং ‘এটি অন্যের’ এই ভেদভাব সৃষ্টি করে। ভেদদৃষ্টি-পরায়ণ ব্যক্তিরা শোক, হর্ষ, ভয়, দ্বেষ, লোভ, মোহ, মদ আদি জড় বৃত্তি সমন্বিত। তারা নিমিত্ত কারণের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নিরাকরণে ব্যস্ত হয়, কারণ তাদের পরম কারণ ভগবান সমন্ধে কোন জ্ঞান নেই।”
শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “দেবকী ও বসুদেব প্রসন্ন হয়ে এইভাবে নিষ্কপটে কংসকে সম্ভাষণ করলে, কংস তাঁদের অনুমতি নিয়ে তার গৃহে প্রবেশ করেছিল। তারপর সেই রাত্রি অতীত হলে, কংস মন্ত্রীদের আহ্বান করে যোগমায়া তাকে যে কথা বলেছিল (যে তার বিনাশক অন্য কোথাও জন্মগ্রহণ করেছে) তা জানিয়েছিলেন। তাদের প্রভুর বাক্য শ্রবণ করে ঈর্ষাপরায়ণ, দেবদ্বেষী এবং অনিপুণ অসুরেরা কংসকে এই বলে উপদেশ দিয়েছিল। হে ভোজরাজ, যদি তাই হয়, তা হলে আজ থেকে আমরা সমস্ত গ্রামে, নগরে এবং গোচারণ ভূমিতে দশদিনের অথবা দশদিন থেকে একটু বেশি বয়সের সমস্ত শিশুদের হত্যা করব। দেবতারা সর্বদা আপনার ধনুকের গুণ আকর্ষণের শব্দে উদ্বিগ্নচিত্ত। তারা যুদ্ধভীরু এবং উদ্বিগ্নচিত্ত। তাই, তারা আপনার অনিষ্ট করার চেষ্টা করেও কি করতে পারবে? আপনার বাণ নিক্ষেপকালে কয়েকজন দেবতা বাণের দ্বারা বিদ্ধ হয়ে বাঁচার আশায় যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়নরত হয়েছিল। কয়েকজন দেবতা পরাজিত এবং অস্ত্রবিহীন হয়ে যুদ্ধ পরিত্যাগ করেছিল এবং কৃতাঞ্জলি হয়ে আপনার স্তব করেছিল। কেউ কেউ মুক্তকচ্ছ এবং মুক্তকেশ হয়ে আপনার কাছে এসে বলেছিল, ‘হে প্রভু, আমরা আপনার ভয়ে অত্যন্ত ভীত হয়েছি।’ আপনি যখন দেখলেন যে, দেবতারা রথশূণ্য হয়েছে, কিভাবে অস্ত্র ব্যবহার করতে হয় তা ভুলে গেছে, তারা অত্যন্ত ভয়ভীত এবয় যুদ্ধে আসক্ত না হয়ে অন্য বিষয়ের প্রতি আসক্ত, অথবা তাদের ধনুক ভেঙ্গে গেছে এবং যুদ্ধ করার সমস্ত ক্ষমতা তাঁরা হারিয়ে ফেলেছে, তখন আপনি তাদের বধ করেননি। দেবতারা যখন যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দূরে থাকে, তখনই কেবল তারা বৃথা দম্ভ করে। যেখানে যুদ্ধ হয় না, সেখানেই তারা তাদের বীরত্ব প্রদর্শন করে। তাই, এই সমস্ত দেবতাদের থেকে ভয় করার কোন কারণ নেই। বিষ্ণু সর্বদা যোগীদের হৃদয়ের নিভৃত স্থানে বাস করে। শিব বনবাসী হয়েছে, আর ব্রহ্মা সর্বদাই তপস্যারত। ইন্দ্র আদি অন্যান্য দেবতারা নিতান্তই শক্তিহীন। অতএব আপনার কোন ভয় নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাদের শত্রুতাবশত দেবতাদের উপেক্ষা না করাই আমাদের অভিমত। তাই তাদের সমূলে উৎপাটিত করার জন্য তাদের সঙ্গে যুদ্ধে আমাদের প্রবৃত্ত করুন, কারণ আমরা আপনার অনুগমন করতে প্রস্তুত। রোগ যেমন প্রথম অবস্থায় উপক্ষো করা হলে বদ্ধমূল হয় এবং তার প্রতিকার অসম্ভব হয়, অথবা ইন্দ্রিয়গুলি যেমন প্রথমে বশীভূত না করা হলে, পরে তাদের বশীভূত অসম্ভব হয়, তেমনই শত্রুকে যদি প্রথমে উপেক্ষা করা হয়, তা হলে পরে তাদের পরাভূত করা অসম্ভব হয়।”
“বিষ্ণুই দেবতাদের মূল। যেখানে ধর্ম, সনাতন সংস্কৃতি, বেদ, গাভী, ব্রাহ্মণ, তপস্যা এবং উপযুক্ত দক্ষিণা সহ যজ্ঞ অনুষ্ঠান হয়, সেখানেই তিনি অবস্থান করেন এবং পূজিত হন। হে রাজন্! সর্বতোভাবে আপনার প্রকৃত অনুগামী আমরা যজ্ঞ এবং তপস্যাপরায়ণ বৈদিক ব্রাহ্মণদের হত্যা করব এবং যজ্ঞের ঘি উৎপাদনের জন্য দুধ সরবরাহ করে যে সমস্ত গাভী, তাদেরও হত্যা করব। ব্রাহ্মণ, গাভী, বৈদিক জ্ঞান, তপস্যা, সত্য, মন এবং ইন্দ্রিয় সংযম, শ্রদ্ধা, দয়া, সহিষ্ণুতা এবং যজ্ঞ বিষ্ণুর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ এবং সেগুলি দৈবী সভতার বিভিন্ন উপকরণ। সর্বান্তর্যামী সেই বিষ্ণু দৈত্যদের পরম শত্রু এবং তাই তাকে বলা হয় অসুরদ্বিট্। সে মহেশ্বর এবং ব্রহ্মাসহ সমস্ত দেবতাদের নেতা এবং তারা সকলে তাঁকে আশ্রয় করে বর্তমান। ঋষি, মহাত্মা এবং বৈষ্ণবেরাও তার উপর নির্ভর করে থাকে। তাই, বৈষ্ণবদের হিংসা করাই বিষ্ণুকে বধ করার একমাত্র উপায়।”
শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “যমরাজের নিয়মের বন্ধনে আবদ্ধ দুর্মতি দৈত্য কংস তার অসৎ মন্ত্রীদের সেই কুমন্ত্রণা বিবেচনা করে, সাধু এবং ব্রাহ্মণদের প্রতি হিংসা করাই নিজের মঙ্গল সাধনের একমাত্র উপায় বলে নির্ধারণ করেছিল। কংসের অনুচর এই সমস্ত অসুরেরা অন্যদের, বিশেষ করে বৈষ্ণবদের উৎপীড়নে অত্যন্ত দক্ষ ছিল। তারা তাদের ইচ্ছা অনুসারে যে কোন রূপ ধারণ করতে পারত। কংস এই সমস্ত অসুরদের সর্বত্র গমন করে সাধুদের উৎপীড়ন করার অনুমতি দিয়ে, তার প্রাসাদে প্রবেশ করেছিল। রজ এবং তমোগুণের দ্বারা আচ্ছন্ন হিতাহিত জ্ঞানশূণ্য, আসন্ন মৃত্যু অসুরেরা সাধুদের উৎপীড়ন শুরু করেছিল। হে রাজন্, কেউ যখন মহাত্মাদের উৎপীড়ন করে, তখন তার আয়ু, সৌন্দর্য, যশ, ধর্ম, আশীর্বাদ এবং স্বর্গলোকে উন্নতি আদি মঙ্গল ও সর্ববিধ শুভ বিনষ্ট হয়ে যায়।”
চতুর্থ অধ্যায়- কংসের অত্যাচার
08 Jun 2026 Leave a comment
in অমল পুরান, দশম স্কন্ধ- আশ্রয়