দ্বাবিংশতি অধ্যায়- অজমীঢ়ের বংশ বিবরণ

শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “হে রাজন্! দিবোদাসের পুত্র মিত্রায়ু এবং মিত্রায়ুর চ্যবন, সুদাস, সহদেব ও সোমক এই চার পুত্র। সোমক ছিলেন জন্তুর পিতা। সোমকের একশত পুত্র ছিলেন; তাঁদের মধ্যে পৃষত ছিলেন কনিষ্ঠ। পৃষত থেকে মহারাজ দ্রুপদের জন্ম হয়। দ্রুপদ ছিলেন সর্বসম্পদ সমন্বিত। মহারাজ দ্রুপদ থেকে দ্রোপদীর জন্ম হয়। মহারাজ দ্রুপদের ধৃষ্টদ্যুম্ন আদি বহু পুত্র ছিলেন। ধৃষ্টদ্যুম্ন থেকে ধৃষ্টকেতুর জন্ম হয়। এঁরা সকলে ভর্ম্যাশ্বের বংশধর বা পাঞ্চাল-বংশীয় নামে পরিচিত। অজমীঢ়ের অন্য পুত্র ঋক্ষ নামে বিখ্যাত ছিলেন। ঋক্ষ থেকে সংবরণ নামক পুত্রের জন্ম হয়। সংবরণ থেকে সূর্যকন্যা তপতীর গর্ভে কুরুক্ষেত্রপতি কুরু জন্মগ্রহণ করেন। কুরুর পরীক্ষি, সুধনু, জহ্নু, নিষধ- এই চার পুত্র হয়। সুধনুর পুত্র সুহোত্র, তাঁর পুত্র চ্যবন। চ্যবন থেকে কৃতীর জন্ম হয়। কৃতীর পুত্র উপরিচর বসু এবং বৃহদ্রথ, কুশাম্ব, মৎস্য, প্রত্যগ্র, চেদিপ প্রভৃতি তাঁর পুত্র ছিলেন। এঁরা সকলে চেদি রাজ্যের অধিপতি হয়েছিলেন। বৃহদ্রথ থেকে কুশাগ্রের জন্ম হয়। কুশাগ্র থেকে ঋষভ এবং ঋষভ থেকে সত্যহিত। সত্যহিতের পুত্র পুষ্পবান্ এবং পুষ্পবানের পুত্র জহু। বৃহদ্রথের অন্য এক পত্নীর গর্ভে দুই খণ্ড সন্তান উৎপন্ন হয়। সেই দুই খণ্ড দর্শন করে তাদের মাতা তাদের পরিত্যাগ করে, পরে জরা নাম্নী রাক্ষসী ‘জীবিত হও, জীবিত হও!’ এই বলে তাদের নিয়ে খেলা করতে করতে সেই খণ্ড দুটি একত্রে সংযোজিত করে। তার ফলে জরাসন্ধ নামক পুত্রের জন্ম হয়। জরাসন্ধ থেকে সহদেবের জন্ম হয়। সহদেব থেকে সোমাপি এবং সোমাপি থেকে শ্রুতশ্রবার জন্ম হয়। কুরুর পুত্র পরীক্ষি নিঃসন্তান ছিলেন, কিন্তু কুরুর জহ্নু নামক পুত্রের সুরথ নামক এক পুত্র ছিল। সুরথের পুত্র বিদূরথ এবং তাঁর পুত্র সার্বভৌম। সার্বভৌম থেকে জয়সেন, জয়সেন থেকে রাধিক এবং রাধিক থেকে অযুতায়ুর জন্ম হয়। অযুতায়ু থেকে অক্রোধন নামক এক পুত্রের জন্ম হয় এবং তাঁর পুত্র ছিল দেবাতিথি। দেবাতিথির পুত্র ঋক্ষ, ঋক্ষের পুত্র দিলীপ এবং দিলীপের পুত্র প্রতীপ। প্রতীপের পুত্র দেবাপি, শান্তনু এবং বাহ্লীক। দেবাপি পিতৃরাজ্য পরিত্যাগ করে বনে গমন করেন এবং তাই শান্তনু রাজা হন। শান্তনু পূর্বজন্মে ছিলেন মহাভিষ এবং যে কোন জরাগ্রস্থ ব্যক্তিকে তাঁর হস্তের স্পর্শ দ্বারা যৌবন প্রদান করতে পারতেন। রাজা যেহেতু তাঁর হস্তের স্পর্শের দ্বারা সকলকে ইন্দ্রিয়সুখের দ্বারা শান্তি প্রদান করতে পারতেন, তাই তাঁর নাম ছিল শান্তনু। একসময় রাজ্যে দ্বাদশ বর্ষব্যাপী বৃষ্টি হয়নি, তখন রাজা শান্তনু জ্ঞানবান ব্রাহ্মণ উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা করেন; এবং তাঁরা বলেছিলেন, “আপনি আপনার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার সম্পত্তি উপভোগ করার দোষে দোষী। আপনার রাজ্য এবং গৃহের উন্নতি সাধনের জন্য শ্রীঘ্রই আপনার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতাকে রাজত্ব প্রদান করুন।” ব্রাহ্মণেরা এইভাবে উপদেশ দিলে, শান্তনু বনে গিয়ে তাঁর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা দেবাপিকে রাজ্যভার গ্রহণ করতে অনুরোধ করেন এবং তাঁকে বলেন যে, প্রজাপালনই রাজার পরম ধর্ম। ইতিপূর্বেই কিন্তু শান্তনুর মন্ত্রী অশ্ববার দেবাপিকে বৈদিক মার্গ থেকে ভ্রষ্ট করে রাজা হওয়ার অনুপযুক্ত প্রতিপন্ন করার জন্য কয়েকজন ব্রাহ্মণকে তাঁর কাছে পাঠিয়েছিলেন। ব্রাহ্মণেরা দেবাপিকে বেদমার্গ থেকে ভ্রষ্ট করেছিলেন এবং তাই শান্তনু যখন তাঁকে রাজ্যভার গ্রহণ করতে অনুরোধ করেন, তখন তিনি তাতে সম্মত হননি। পক্ষান্তরে, তিনি বেদের নিন্দা করে অধঃপতিত হন। তখন শান্তনু পুনরায় রাজা হন এবং বৃষ্টির দেবতা ইন্দ্র তাঁর প্রতি প্রসন্ন হয়ে বারিবর্ষণ করেন। পরবর্তীকালে দেবাপি মন এবং ইন্দ্রিয়কে সংযত করার জন্য যোগের পন্থা অবলম্বন করে কলাপ নামক গ্রামে গমন করেন। তিনি এখনও সেখানে অবস্থান করছেন। কলিযুগে চন্দ্রবংশ বিনষ্ট হলে, পরবর্তীতে সত্যযুগের শুরুতে দেবাপি এই পৃথিবীতে সোমবংশের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবেন। (শান্তনুর ভ্রাতা) বাহ্লীক থেকে সোমদত্ত নামক এক পুত্রের জন্ম হয়। তার তিন পুত্র ভুরি, ভূরিশ্রবা এবং শল। শান্তনু থেকে গঙ্গার গর্ভে আত্ম-তত্ত্ববিৎ সর্বধর্মে অভিজ্ঞ, পরম ভাগবত এবং মহাজ্ঞানী ভীষ্মের জন্ম হয়। ভীষ্মদেব ছিলেন সমস্ত যোদ্ধাদের অগ্রগণ্য। তিনি যখন যুদ্ধে পরশুরামকে পরাজিত করেন, তখন ভগবান পরশুরাম তাঁর প্রতি অত্যন্ত প্রসন্ন হয়েছিলেন। শান্তনুর ঔরসে ধীবরকন্যা সত্যবতীর গর্ভে চিত্রাঙ্গদের জন্ম হয়। চিত্রাঙ্গদের কনিষ্ঠ ভ্রাতা বিচিত্রবীর্য। চিত্রাঙ্গদ চিত্রাঙ্গদ নামক এক গন্ধর্ব কর্তৃক নিহত হন। শান্তনুর সঙ্গে বিবাহ হওয়ায় পূর্বে সত্যবতীর গর্ভে পরাশর মুনির ঔরসে ভগবানের অংশসম্ভূত বেদপ্রবর্তক কৃষ্ণদ্বৈপায়ন নামক বেদব্যাস আবির্ভূত হন। এই ব্যাসদেব থেকে আমি (শুকদেব গোস্বামী) জন্মগ্রহণ করেছি এবং তাঁর থেকে আমি মহান বৈদিক শাস্ত্র শ্রীমদ্ভাগবত অধ্যয়ন করি। ভগবানের অবতার ব্যাসদেব পৈল আদি শিষ্যদের পরিত্যাগ করে আমাকে শ্রীমদ্ভাগবত উপদেশ দিয়েছিলেন, কারণ আমি সমস্ত জড় বাসনা থেকে মুক্ত ছিলাম। কাশী রাজের দুই কন্যা অম্বিকা এবং অম্বালিকাকে বলপূর্বক অপহরণ করে বিচিত্রবীর্য বিবাহ করেন, কিন্তু তাঁর এই দুই পত্নীর প্রতি অত্যন্ত আসক্ত হওয়ার ফলে, যক্ষ্মারোগে আক্রান্ত হয়ে বিচিত্রবীর্যের মৃত্যু হয়। বাদরায়ণ শ্রীব্যাসদেব তাঁর মাতা সত্যবতীর আদেশে ভ্রাতা বিচিত্রবীর্যের দুই পত্নী অম্বিকা এবং অম্বালিকার গর্ভে দুই পুত্র এবং বিচিত্রবীর্যের দাসীর গর্ভে এক পুত্র উৎপাদন করেন। তাঁদের নাম যথাক্রমে ধৃতরাষ্ট্র, পাণ্ডু এবং বিদুর।”
“হে রাজন্! ধৃতরাষ্ট্রের পত্নী গান্ধারী একশত পুত্র এবং একটি কন্যা প্রসব করেন। পুত্রদের মধ্যে দুর্যোধন ছিলেন জ্যেষ্ঠ এবং কন্যাটির নাম ছিল দুঃশলা। এক ঋষির অভিশাপের ফলে পাণ্ডু মৈথুন থেকে বিরত হয়েছিলেন এবং তাই তাঁর পত্নী কুন্তীর গর্ভে ধর্মরাজ, পবনদেব এবং ইন্দ্র থেকে যথাক্রমে যুধিষ্ঠির, ভীম, অর্জুন এই তিন মহারথ পুত্রের জন্ম হয়। পাণ্ডুর দ্বিতীয় পত্নী মাদ্রীর গর্ভে অশ্বিনীকুমারদ্বয় থেকে নকুল এবং সহদেবের জন্ম হয়। যুধিষ্ঠির প্রমুখ পঞ্চপাণ্ডব থেকে দ্রোপদীর গর্ভে পাঁচটি পুত্রের জন্ম হয়। তাঁরা ছিলেন তোমার পিতৃব্য। যুধিষ্ঠির থেকে প্রতিবিন্ধ্য, ভীম থেকে শ্রুতসেন, অর্জুন থেকে শ্রুতকীর্তি জন্মগ্রহণ করেন। নকুলের পুত্রের নাম শতানীক।”
“হে রাজন্, সহদেবের পুত্র শ্রুতকর্মা। তা ছাড়া যুধিষ্ঠির এবং তাঁর ভ্রাতাদের অন্যান্য ভার্যার গর্ভে অনেক পুত্র জন্মগ্রহণ করেছিলেন। যুধিষ্ঠির থেকে পৌরবীর গর্ভে দেবক, ভীমসেন থেকে হিড়িম্বার গর্ভে ঘটোৎকচ এবং অন্য আর এক পত্নী কালীর গর্ভে সর্বগত নামক পুত্রের জন্ম হয়। তেমনই পর্বতরাজের কন্যা বিজয়ার গর্ভে সহদেব থেকে সুহোত্র নামক এক পুত্রের জন্ম হয়। করেনুমতী নামক পত্নীর গর্ভে নকুলের নরমিত্র নামক এক পুত্র হয়। তেমনই, নাগকন্যা উলুপীর গর্ভে অর্জুনের ইরাবান্ নামক এক পুত্র হয় এবং মণিপুরের রাজকন্যার গর্ভে বভ্রুবাহন নামক এক পুত্রের জন্ম হয়। মণিপুরের রাজা বভ্রুবাহনকে দত্তক পূত্ররূপে গ্রহণ করেন।”
হে মহারাজ পরীক্ষিৎ! অর্জুন থেকে সুভদ্রার গর্ভে আপনার পিতা অভিমন্যুর জন্ম হয়। তিনি সমস্ত অতিরথদের (যারা এক হাজার রথীদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারতেন) বিজেতা মহাবীর ছিলেন। তাঁর থেকে বিরাটরাজের কন্যা উত্তরার গর্ভে আপনার জন্ম হয়েছে। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে কুরুবংশ বিনষ্ট হলে আপনিও দ্রোণাচার্যের পুত্র অশ্বত্থামার ব্রহ্মাস্ত্রের তেজে বিনষ্টপ্রায় হয়েছিলেন, কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কৃপায় আপনি মৃত্যুর হাত থেকে পরিত্রাণ পেয়েছেন।”
“হে রাজন্! আপনার চার পুত্র- জনমেজয়, শ্রুতসেন, ভীমসেন এবং উগ্রসেন অত্যন্ত শক্তিশালী। তাদের মধ্যে জনমেজয় জ্যেষ্ঠ। তক্ষকের দ্বারা আপনার মৃত্যু হওয়ার ফলে, আপনার পুত্র জনমেজয় অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে সর্পনিধন যজ্ঞাগ্নিতে এই পৃথিবীর সমস্ত সর্পদের নিক্ষেপ করবেন। কলষের পুত্র তুরকে পুরোহিতরূপে বরণপূর্বক সারা পৃথিবী জয় করে জনমেজয় অশ্বমেধ যজ্ঞ অনুষ্ঠান করবেন। সেই জন্য তিনি তুরগ-মেধষাট্ নামে প্রসিদ্ধ হবেন। জনমেজয়ের পুত্র শতানীক যাজ্ঞবল্ক্যের কাছে তিন বেদ এবং ক্রিয়াজ্ঞান লাভ করবেন। তিনি কৃপাচার্যের কাছে অস্ত্রবিদ্যা এবং শৌনক ঋষির কাছে আত্ম-তত্ত্বজ্ঞানও লাভ করবেন। শতানীকের পুত্র হবেন সহস্রানীক এবং তাঁর থেকে অশ্বমেধজের জন্ম হবে। অশ্বমেধজ থেকে অসীমকৃষ্ণ এবং তাঁর পুত্র হবেন নেমিচক্র। হস্তিনাপুর (বর্তমান দিল্লী) যখন নদীর বন্যায় প্লাবিত হবে, তখন নেমিচক্র কৌশাম্বী নামক স্থানে বাস করবেন। তাঁর পুত্র চিত্ররথ নামে বিখ্যাত হবেন এবং চিত্ররথ থেকে শুচিরথ নামক পুত্রের জন্ম হবে। শুচিরথ থেকে বৃষ্টিমান্ উৎপন্ন হবেন এবং তাঁর পুত্র সুষেণ সারা পৃথিবীর সম্রাট হবেন। সুষেণের পুত্র সুনীথ, তাঁর পুত্র নৃচক্ষু এবং নৃচক্ষু থেকে সুখীনল নামক পুত্রের জন্ম হবে। সুখীনলের পুত্র হবেন পরিপ্লব এবং তাঁর পুত্র হবে সুনয়। সুনয় থেকে মেধাবী নামক পুত্রের জন্ম হবে। মেধাবী থেকে নৃপঞ্জয়, তাঁর থেকে দূর্ব এবং দূর্ব থেকে তিমি জন্মগ্রহণ করবেন। তিমি থেকে বৃহদ্রথের জন্ম হবে, বৃহদ্রথ থেকে সুদাস এবং সুদাস থেকে শতানীকের জন্ম হবে। শতানীক থেকে দুর্দমন উৎপন্ন হবেন। দুর্দমনের পুত্র হবেন মহীনর। মহীনরের পুত্র হবেন দণ্ডপাণি এবং তাঁর পুত্র হবেন নিমি, যাঁর থেকে রাজা ক্ষেমকের জন্ম হবে। আমি আপনার কাছে ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়কুলের উৎস এবং দেবতা ও ঋষিদের পূজ্য চন্দ্রবংশের বৃত্তান্ত বর্ণনা করলাম। এই কলিযুগে ক্ষেমক হবেন শেষ রাজা। এখন আমি ভবিষ্যৎ মাগধ রাজাদের কথা বলব। দয়া করে আপনি তা শ্রবণ করুন। জরাসন্ধের পুত্র সহদেবের মার্জারি নামক এক পুত্র হবে। মার্জারি থেকে শ্রুতশ্রবা, শ্রুতশ্রবা থেকে যুতায়ু এবং যুতায়ু থেকে নিরমিত্র জন্মগ্রহণ করবেন। নিরমিত্রের পুত্র হবেন সুনক্ষত্র, সুনক্ষত্র থেকে বৃহৎসেন এবং বৃহৎসেন থেকে কর্মজিতের জন্ম হবে। কর্মজিতের পুত্র হবেন সুতঞ্জয় এবং সুতঞ্জয়ের পুত্র বিপ্র এবং তাঁর পুত্র হবেন শুচি। শুচির পুত্র হবেন ক্ষেম, ক্ষেমের পুত্র সুব্রত, সুব্রতের পুত্র হবেন ধর্মসূত্র। ধর্মসূত্র থেকে সম, সম থেকে দ্যুমৎসেন, দ্যুমৎসেন থেকে সুমতি এবং সুমতি থেকে সুবলের জন্ম হবে। সুবল থেকে সুনীথ, সুনীথ থেকে সত্যজিৎ, সত্যজিৎ থেকে বিশ্বজিৎ এবং বিশ্বজিৎ থেকে রিপুঞ্জয়ের জন্ম হবে। এরা সকলেই বৃহদ্রথ-বংশীয়। বৃহদ্রথ-বংশীয় রাজারা এক হাজার বছর ধরে পৃথিবী শাসন করবেন।”

Leave a Reply

May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

Blog Stats

  • 140,943 hits