অষ্টাদশ অধ্যায়- রাজা যযাতির পুনর্যৌবন প্রাপ্তি

শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “হে মহারাজ পরীক্ষিৎ! দেহধারী জীবের ছ’টি ইন্দ্রিয়ের মতো রাজা নহুষের যতি, যযাতি, সংযাতি, আয়তি, রিয়তি এবং কৃতি নামক ছয় পুত্র ছিলেন। কেউ যখন রাজা বা রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণ করেন, তখন তাঁর পক্ষে আত্ম-উপলব্ধির অর্থ হৃদয়ঙ্গম করা সম্ভব হয় না। সেই কথা জেনে নহুষের জ্যেষ্ঠপুত্র যতি তাঁর পিতৃদত্ত রাজ্য গ্রহণ করেননি। যযাতির পিতা নহুষ ইন্দ্রপত্নী শচীর প্রতি ধৃষ্ট আচরণ করায় শচী যখন অগস্ত্য আদি ব্রাহ্মণদের কাছে অভিযোগ করেছিলেন, তখন সেই ব্রাহ্মণেরা নহুষকে অভিশাপ দিয়েছিলেন স্বর্গ থেকে ভ্রষ্ট হয়ে অজগরত্ব প্রাপ্ত হওয়ার জন্য। তার ফলে যযাতি রাজা হয়েছিলেন। রাজা যযাতি তাঁর চারজন কনিষ্ঠ ভ্রাতাদের চতুর্দিক শাসন করতে দিয়েছিলেন। যযাতি স্বয়ং শুক্রাচার্যের কন্যা দেবযানী এবং বৃষপর্বার কন্যা শর্মিষ্ঠাকে বিবাহ করে সারা পৃথিবী শাসন করেছিলেন।”
মহারাজ পরীক্ষিৎ বললেন- “শুক্রাচার্য ছিলেন একজন অত্যন্ত শক্তিশালী ব্রাহ্মণ আর মহারাজ যযাতি ছিলেন ক্ষত্রিয়। তা হলে ক্ষত্রিয় এবং ব্রাহ্মণের মধ্যে এই প্রতিলোম বিবাহ কিভাবে হয়েছিল?”
শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “একদিন বৃষপর্বার কন্যা শর্মিষ্ঠা, সরল হওয়া সত্ত্বেও যিনি ছিলেন কোপনস্বভাবা, তিনি সহস্র সখী পরিবৃত হয়ে শুক্রাচার্যের কন্যা দেবযানী সহ প্রাসাদের উদ্যানে বিহার করছিলেন। সেই উদ্যান পুষ্প-শোভিত বৃক্ষে পূর্ণ ছিল। সেখানকার সরোবরগুলি পদ্মফুলে পূর্ণ ছিল এবং অলিকুল ও পক্ষিসমূহ সেখানে এসে মধুর স্বরে গান করছিল। সেই কমলনয়না যুবতী কন্যারা জলাশয়ের তীরে এসে তাদের বস্ত্র রেখে, পরস্পরের প্রতি জল সিঞ্চন করতে করতে জলক্রীড়া করতে লাগল। জলকেলি করতে করতে সেই কন্যারা সহসা মহাদেবকে বৃষের উপর আরোহণ করে তাঁর পত্নী পার্বতী সহ আগমন করতে দেখতে পেল। নগ্ন হওয়ার ফলে লজ্জিত হয়ে, তারা শ্রীঘ্র জল থেকে উঠে এসে তাদের বস্ত্র পরিধান করেছিল। শর্মিষ্ঠা না জেনে দেবযানীর বস্ত্র পরিধান করেছিল। তার ফলে দেবযানী ক্রুদ্ধ হয়ে তাকে এই কথাগুলি বলেছিলেন। হায়, আমার দাসী এই শর্মিষ্ঠার আচরণ দেখ! কুকুর যেমন যজ্ঞের হবি হরণ করে, ঠিক সেইভাবে সে সমস্ত শিষ্টাচারের অবহেলা করে আমার বস্ত্র পরিধান করেছে। যাঁরা পরমপুরুষের মুখ স্বরূপ, যাঁরা তপস্যার দ্বারা এই জগৎ সৃষ্টি করেছেন, যাঁরা সর্বদা পরমব্রহ্মকে তাঁদের হৃদয়ে ধারণ করেন, যাঁরা মঙ্গলময় পন্থার অর্থাৎ বেদমার্গের প্রদর্শক, যাঁরা এই জগতে একমাত্র উপাস্য হওয়ার ফলে মহান দেবতা, লোকপাল, এমন কি পরমপুরুষ, পরমাত্মা, পরম পাবন শ্রীনিবাসও যাদের পূজা করেন, আমরা সেই সুব্রাহ্মণ। আমরা বিশেষভাবে পূজ্য কারণ আমরা ভৃগুবংশীয়। যদিও এই রমণীর অসুর পিতা আমাদের শিষ্য, তবুও সে শূদ্রের বৈদিক জ্ঞান ধারণ করার মতোই আমার পরিধেয় বস্ত্র ধারণ করেছে।”
শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “এই প্রকার নিষ্ঠুর বাক্যে তিরস্কৃত হয়ে শর্মিষ্ঠা অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন। সর্পিনীর মতো মুহুর্মুহু নিঃশ্বাস পরিত্যাগ করতে করতে অধরোষ্ঠ দংশন করে, তিনি শুক্রচার্যের কন্যাকে বলতে লাগলেন। ওরে ভিক্ষুকি! নিজের স্থিতি না জেনে এত কথা বলছিস কেন? তোরা কি কাকের মতো আমাদের গৃহে তোদের জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রতীক্ষা করিস না? শর্মিষ্ঠা এইভাবে কঠোর বাক্যের দ্বারা শুক্রাচার্যের কন্যা দেবযানীকে তিরস্কার পূর্বক ক্রোধে তাঁর বস্ত্র হরণ করে তাঁকে কূপের মধ্যে নিক্ষেপ করেছিলেন। দেবযানীকে কূপের মধ্যে নিক্ষেপ করে শর্মিষ্ঠা গৃহে ফিরে গিয়েছিলেন। ইতিমধ্যে মৃগয়া করতে করতে রাজা যযাতি ঘটনাক্রমে তৃষ্ণার্ত হয়ে সেই কূপে জলপান করতে করতে দেবযানীকে দেখতে পেয়েছিলেন। দেবযানীকে কূপের মধ্যে নগ্না দর্শন করে রাজা যযাতি তৎক্ষণাৎ স্বীয় উত্তরীয় বস্ত্র তাঁকে প্রদান করেছিলেন এবং তাঁর প্রতি দয়াপরবশ হয়ে তিনি নিজের হাত দিয়ে দেবযানীর হাত ধরে তাঁকে কূপের মধ্য থেকে উদ্ধার করেছিলেন।”
দেবযানী প্রেমপূর্ণ বাক্যে মহারাজ যযাতিকে বললেন- “হে বীর! হে শত্রুপুরী জয়কারী রাজন্! আপনি আমার হস্ত ধারণ করে আমাকে আপনার পত্নীরূপে গ্রহণ করেছেন। আমাকে যেন আর অন্য কেউ স্পর্শ না করে, কারণ আমাদের এই পতি-পত্নীর সম্বন্ধ দৈবকৃত, মনুষ্যকৃত নয়। কূপে পতিত হওয়ার ফলে আপনার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎকার হল। এই মিলন অবশ্যই দৈব কর্তৃক সম্পাদিত হয়েছে। আমি যখন বৃহস্পতির পুত্র কচকে অভিশাপ দিয়েছিলাম, তখন তিনিও আমাকে এই বলে অভিশাপ দিয়েছিলেন যে, আমার পতি ব্রাহ্মণ হবেন না। অতএব হে মহাভুজ! আমার ব্রাহ্মণের পত্নী হবার কোন সম্ভাবনা নেই। যেহেতু এই প্রকার বিবাহ শাস্ত্রের দ্বারা অনুমোদিত নয়, তাই রাজা যযাতি তা চাননি, কিন্তু যেহেতু তা দৈবের দ্বারা আয়োজিত হয়েছিল এবং যেহেতু তিনি দেবযানীর সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়েছিলেন, তাই তিনি তাঁর অনুরোধে অঙ্গীকার করেছিলেন। তারপর, বিজ্ঞ রাজা তাঁর প্রাসাদে ফিরে গেলে, দেবযানী ক্রন্দন করতে করতে গৃহে ফিরে গিয়ে তাঁর পিতা শুক্রচার্যের কাছে শর্মিষ্টার কারণে কি ঘটেছিল তা সব বর্ণনা করেছিলেন। দেবযানী তাঁকে বলেছিলেন কিভাবে শর্মিষ্ঠা তাঁকে কূপে নিক্ষেপ করেছিলেন এবং কিভাবে রাজা তাঁকে উদ্ধার করেছিলেন।”
“দেবযানীর কি হয়েছিল তা শ্রবণ করে শুক্রচার্য অত্যন্ত দুঃখিত হয়েছিলেন। পুরোহিতের বৃত্তির নিন্দা করে এবং উঞ্ছবৃত্তির (ক্ষেত থেকে শস্য সংগ্রহ করে জীবন ধারণ করার বৃত্তির) প্রশংসা করে তিনি তাঁর কন্যাসহ গৃহত্যাগ করেছিলেন। রাজা বৃষপর্বা বুঝতে পেরেছিলেন যে, শুক্রাচার্য তাঁকে অভিশাপ দিতে আসছেন। তাই শুক্রাচার্য তাঁর গৃহে আসার পূর্বেই বৃষপর্বা পথের মধ্যে শুক্রাচার্যের পদতলে পতিত হয়ে তাঁর ক্রোধের উপশম করে তাঁর প্রসন্নতা বিধান করেছিলেন। অতি অল্পকালের মধ্যেই শুক্রাচার্যের ক্রোধ প্রশমিত হয়েছিল, তখন বৃষপর্বার প্রতি প্রসন্ন হয়ে তিনি বলেছিলেন- হে রাজন্! দেবযানীর বাসনা পূর্ণ কর, কারণ সে আমার কন্যা এবং এই সংসারে আমি তাকে ত্যাগ করতে পারব না অথবা উপেক্ষা করতেও পারব না। শুক্রাচার্যের বাক্য শ্রবণ করে বৃষপর্বা দেবযানীর বাসনা পূর্ণ করতে সম্মত হয়েছিলেন এবং তিনি তাঁর বাক্যের প্রতীক্ষা করতে লাগলেন। দেবযানী তখন তাঁর অভিপ্রায় ব্যক্ত করে বলেছিলেন- “আমার পিতার আদেশে আমি যখন পতিগৃহে গমন করব, তখন সখী শর্মিষ্ঠাও তাঁর সহচরীগণ সহ আমার দাসীরূপে আমার অনুগামিনী হবে।”
“বৃষপর্বা বিবেচনা করেছিলেন যে, শুক্রাচার্য অপ্রসন্ন হলে সঙ্কট হবে এবং প্রসন্ন হলে জাগতিক লাভ হবে। তাই তিনি শুক্রাচার্যের আদেশ পালন করে দাসের মতো তাঁর সেবা করেছিলেন। তিনি তাঁর কন্যা শর্মিষ্ঠাকে দেবযানীর হস্তে সমর্পণ করেছিলেন এবং শর্মিষ্ঠা সহস্র সখীগণ সহ দাসীর মতো দেবযানীর পরিচর্যা করেছিলেন। শুক্রাচার্য যখন দেবযানীকে যযাতির হস্তে সম্প্রদান করেছিলেন, তখন শর্মিষ্ঠাও তাঁদের সঙ্গে গিয়েছিলেন। কিন্তু শুক্রচার্য রাজাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, ‘হে রাজন্! শর্মিষ্ঠাকে কখনও তোমার শয্যায় গ্রহণ করো না।’ ”
“হে মহারাজ পরীক্ষিৎ! শর্মিষ্ঠা দেবযানীকে সুপুত্রবতী দর্শন করে, একসময় ঋতুকাল উপস্থিত হলে তাঁর সখী দেবযানীর পতি যযাতিকে এক নির্জন স্থানে পুত্র উৎপাদনের জন্য অনুরোধ করেছিলেন। রাজকন্যা শর্মিষ্ঠা যখন রাজা যযাতির কাছে পুত্রসন্তান ভিক্ষা করেছিলেন, তখন ধর্মজ্ঞ রাজা তার বাসনা পূর্ণ করতে সম্মত হয়েছিলেন। শুক্রাচার্যের সাবধানবাণী তাঁর স্মরণ হলেও তিনি এই মিলন ভগবানের ইচ্ছা বলে মনে করে শর্মিষ্ঠাকে সম্ভোগ করেছিলেন। দেবযানীর গর্ভে যদু ও তুর্বসুর জন্ম হয় এবং শর্মিষ্ঠার গর্ভে দ্রুহ্যু, অনু ও পুরুর জন্ম হয়। অভিমানিনী দেবযানী যখন জানতে পারলেন যে, তাঁর পতির দ্বারা শর্মিষ্ঠার গর্ভোৎপত্তি হয়েছে, তখন তিনি ক্রোধে মূর্ছিতপ্রায় হয়ে পিতৃগৃহে গমন করেছিলেন। রাজা যযাতি অত্যন্ত কামুক ছিলেন, তিনি পত্নীর অনুগমন করে স্তুতিবাক্যের দ্বারা এমন কি পাদসম্বাহনের দ্বারা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু কিছুতেই তিনি তাঁকে সন্তুষ্ট করতে পারলেন না। শুক্রাচার্য অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে যযাতিকে বলেছিলেন, “ওরে মিথ্যাচারী মূর্খ, স্ত্রীকামী! তুমি মহা অন্যায় করেছ। তাই আমি অভিশাপ দিচ্ছি, তুমি জরা এবং বার্ধক্যের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে বিকৃত রূপ হও।”
রাজা যযাতি বললেন- “হে পরমপূজ্য বিজ্ঞ ব্রাহ্মণ! আপনার কন্যার সাথে আমি এখনও আমার কামবাসনা তৃপ্ত করতে পারিনি।” শুক্রাচার্য তখন উত্তর দিয়েছিলেন, “যে তোমার জরা গ্রহণ করতে সম্মত হবে, তুমি তার যৌবনের সঙ্গে তোমার জরা বিনিময় করতে পার।”
শুক্রাচার্যের কাছ থেকে এই বর প্রাপ্ত হয়ে যযাতি তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্রকে বলেছিলেন- “হে প্রিয় যদু! দয়া করে তুমি আমার জরা গ্রহণ করে তার বিনিময়ে তোমার যৌবন আমাকে দান কর। হে বৎস! আমি এখনও বিষয়ভোগে তৃপ্ত হতে পারিনি। কিন্তু তুমি যদি তোমার মাতামহ প্রদত্ত আমার জরা গ্রহণ কর, তা হলে আমি আমার যৌবন নিয়ে কয়েক বছর জীবন উপভোগ করতে পারি।”
যদু উত্তর দিলেন- “হে পিতা! আপনি যুবক হলেও বার্ধক্য প্রাপ্ত হয়েছেন। আমি আপনার এই বার্ধক্য এবং জরা গ্রহণ করতে উৎসুক নই, কারণ জড় সুখভোগ না করলে বৈরাগ্য লাভ করা যায় না। হে মহারাজ পরীক্ষিৎ! যযাতি এইভাবে তাঁর অন্য পুত্র তুর্বসু, দ্রুহ্যু এবং অনুকে তাঁর বার্ধক্যের সঙ্গে তাদের যৌবন বিনিময়ের কথা জিজ্ঞাসা করেছিলেন। কিন্তু তারা ধর্মজ্ঞানশূণ্য হওয়ার ফলে অস্থির যৌবনকে নিত্য বলে মনে করেছিল এবং তাই তারা তাদের পিতার আদেশ প্রত্যাখ্যান করেছিল। রাজা যযাতি তখন তাঁর তিন পুত্র থেকে বয়সে কনিষ্ঠ কিন্তু গুণে শ্রেষ্ঠ পূরুকে বলেছিলেন, “হে বৎস! তোমার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতাদের মতো আমাকে প্রত্যাখ্যান করা তোমার উচিত নয়।”
পূরু উত্তর দিয়েছিলেন- “হে নরেশ! এই পৃথিবীতে কে তার পিতার ঋণ শোধ করতে পারে? পিতার কৃপায় মনুষ্য-জীবন প্রাপ্ত হওয়া যায় এবং সেই জীবনে ভগবানের পার্ষদত্ব পর্যন্ত লাভ করা যায়। যে পুত্র পিতার ইচ্ছা অনুসারে আচরণ করেন তিনি উত্তম, যিনি পিতা আদেশ করলে সেই আদেশ পালন করেন তিনি মধ্যম এবং যে অশ্রদ্ধার সঙ্গে পিতার আদেশ পালন করে সে অধম। কিন্তু যে পিতার আদেশ পালন করে না, সে পিতার বিষ্ঠাসদৃশ।”
শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “হে মহারাজ পরীক্ষিৎ! এইভাবে অত্যন্ত আনন্দিত চিত্তে পূরু তাঁর পিতা যযাতির জরা গ্রহণ করেছিলেন। যযাতি তখন তাঁর পুত্রের যৌবন প্রাপ্ত হয়ে তাঁর আবশ্যক অনুযায়ী এই জড় জগৎ উপভোগ করেছিলেন। তারপর রাজা যযাতি সপ্তদ্বীপ সমন্বিত সারা পৃথিবীর অধিপতি হয়ে পিতা যেভাবে তাঁর পুত্রদের পালন করেন, ঠিক সেইভাবে তাঁর প্রজাদের পালন করতে লাগলেন। যেহেতু তিনি তাঁর পুত্রের যৌবন গ্রহণ করেছিলেন, তাই তাঁর ইন্দ্রিয়গুলি বিকলতা প্রাপ্ত হয়নি এবং তিনি তাঁর বাসনা অনুসারে জড় সুখভোগ করতে লাগলেন। মহারাজ যযাতির প্রিয়তমা পত্নী দেবযানী সর্বদা নির্জন স্থানে তাঁর মন, বাক্য, দেহ এবং অন্যান্য বস্তুর দ্বারা তাঁর পতির পরম আনন্দবিধান করেছিলেন। মহারাজ যযাতি বিবিধ যজ্ঞ অনুষ্ঠান করে, সমস্ত দেবতাদের উৎস এবং সমস্ত বৈদিক জ্ঞানের চরম লক্ষ্য পরম পুরুষ ভগবান শ্রীহরির প্রসন্নতা বিধানের জন্য ব্রাহ্মণদের প্রচুর দক্ষিণা দিয়েছিলেন। ভগবান শ্রীবাসুদেব যিনি এই জগৎ সৃষ্টি করেছেন, তিনি মেঘ ধারণকারী আকাশের মতো তাঁর সর্বব্যাপক রূপ প্রকাশ করেন। আর সৃষ্টি যখন লয় হয়ে যায়, তখন পরমেশ্বর ভগবান শ্রীবিষ্ণুতে সব কিছু প্রবিষ্ট হয় এবং তখন আর এই জগতের বৈচিত্র প্রতিভাত হয় না। যিনি নারায়ণ রূপে সকলের হৃদয়ে বিরাজমান এবং সর্বত্র বিরাজমান হওয়া সত্ত্বেও জড় দৃষ্টির অগোচর, জড় বাসনারহিত হয়ে মহারাজ যযাতি সেই পরমেশ্বর ভগবানের আরাধনা করেছিলেন। মহারাজ যযাতি যদিও ছিলেন সারা পৃথিবীর রাজা এবং যদিও তিনি এক হাজার বছর ধরে তাঁর মন এবং পাঁচটি ইন্দ্রিয়কে জড় বিষয়ভোগে নিযুক্ত করেছিলেন, তবুও তিনি পরিতৃপ্ত হতে পারেননি।”

Leave a Reply

May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

Blog Stats

  • 140,959 hits