সপ্তদশ অধ্যায়- পুরূরবার পুত্রদের বংশ বিবরণ

শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “পুরূরবার আয়ু নামক এক পুত্র ছিলেন, তাঁর নহুষ, ক্ষত্রবৃদ্ধ, রজী, রাভ এবং অনেনা নামক অত্যন্ত বীর্যবান পাঁচজন পুত্র ছিলেন। হে মহারাজ পরীক্ষিৎ, এখন আপনি ক্ষত্রবৃদ্ধের বংশবৃত্তান্ত শ্রবণ করুন। ক্ষত্রবৃদ্ধের পুত্র সুহোত্রের কাশ্য, কুম এবং গৃৎসমদ নামক তিনজন পুত্র ছিলেন। গৃৎসমদ থেকে শুনকের জন্ম হয় এবং তাঁর থেকে ঋগ্বেদজ্ঞদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মহর্ষি শৌণকের জন্ম হয়। কাশ্যের পুত্র কাশি এবং তাঁর পুত্র রাষ্ট্র ছিলেন দীর্ঘতমের পিতা। দীর্ঘতমের পুত্র ধন্বন্তরি, যিনি ছিলেন যজ্ঞভাগ ভোক্তা ভগবান বাসুদেবের অবতার এবং আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের প্রবর্তক। এই ধন্বন্তরিকে স্মরণ করলে সমস্ত রোগ থেকে মুক্ত হওয়া যায়। ধন্বন্তরির পুত্র কেতুমান এবং তাঁর পুত্র ভীমরথ। ভীমরথের পুত্র দিবোদাস এবং দিবোদাসের পুত্র দ্যুমান, যিনি প্রতর্দন নামেও পরিচিত। দ্যুমান শত্রুজিৎ, বৎস, ঋতধ্বজ এবং কুবলায়শ্ব নামেও পরিচিত ছিলেন। তাঁর থেকে অলর্ক আদি পুত্রের জন্ম হয়। দ্যুমানের পুত্র অলর্ক ছেষট্টি হাজার বছর ধরে পৃথিবী শাসন করেছিলেন। তিনি ব্যতীত অন্য কেউ যুবকরূপে এত বছর ধরে পৃথিবী শাসন করেননি। অলর্ক থেকে সন্ততি নামক পুত্রের জন্ম হয় এবং তাঁর পুত্র সুনীথ। সুনীতের পুত্র নিকেতন, নিকেতনের পুত্র ধর্মকেতু এবং ধর্মকেতুর পুত্র সত্যকেতু।”
“হে মহারাজ পরীক্ষিৎ! সত্যকেতুর পুত্র ধৃষ্টকেতু এবং ধৃষ্টকেতুর পুত্র সুকুমার, যিনি সমগ্র পৃথিবীর সম্রাট ছিলেন। সুকুমার থেকে বীতিহোত্র নামক পুত্রের জন্ম হয়; বীতিহোত্র থেকে ভর্গ এবং ভর্গ থেকে ভার্গভূমির জন্ম হয়। হে মহারাজ পরীক্ষিৎ! এই সমস্ত রাজারা ছিলেন কাশি-বংশসম্ভুত এবং তাঁদের ক্ষত্রবৃদ্ধের বংশধরও বলা যায়। রাভের পুত্র রভস, রভস থেকে গম্ভীর এবং গম্ভীর থেকে অক্রিয় নামক পুত্রের জন্ম হয়। অক্রিয়ের পুত্র ব্রহ্মবিৎ। হে রাজন! এখন আপনি অনেনার বংশবৃত্তান্ত শ্রবণ করুন। অনেনার পুত্র শুদ্ধ এবং শুদ্ধের পুত্র শুচি। শুচির পুত্র ধর্মসারথি, যিনি চিত্রকৃৎ নামেও পরিচিত ছিলেন। চিত্রকৃৎ থেকে শান্তরজ নামক এক পুত্রের জন্ম হয়। তিনি আত্ম-তত্ত্ববিৎ ছিলেন এবং যাবতীয় কর্মের অনুষ্ঠান করার ফলে সন্তান উৎপাদনে যত্নবান হননি। রজীর পাঁচশ পুত্র ছিল এবং তারা সসকলেই ছিলেন অত্যন্ত শক্তিশালী। দেবতাদের অনুরোধে রজী দৈত্যদের বধ করে ইন্দ্রকে স্বর্গলোক প্রদান করেছিলেন। কিন্তু প্রহ্লাদ আদি শত্রুদের ভয়ে ভীত হয়ে ইন্দ্র রজীকে স্বর্গলোক প্রত্যর্পণ করেন এবং রজীর চরণে নিজেকে সমর্পণ করেন। রজীর মৃত্যু হলে তার পুত্রদের কাছে ইন্দ্র স্বর্গলোক ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তাঁরা ইন্দ্রের যজ্ঞভাগ ফিরিয়ে দিতে সম্মত হলেও তাঁকে স্বর্গলোক ফিরিয়ে দিতে অস্বীকার করেছিলেন। তখন দেবগুরু বৃহস্পতি অগ্নিতে আহুতি প্রদান করেছিলেন যাতে রজীর পুত্ররা নীতিমার্গ থেকে ভ্রষ্ট হন। এইভাবে অধঃপতিত হলে, ইন্দ্র তাঁদের অনায়াসে বধ করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজনও জীবিত ছিলেন না। ক্ষত্রবৃদ্ধের পৌত্র কুশ থেকে প্রতি নামক এক পুত্রের জন্ম হয়। প্রতির পুত্র সঞ্জয় এবং সঞ্জয়ের পুত্র জয়। জয় থেকে কৃতের জন্ম হয় এবং কৃত থেকে রাজা হর্যবলের জন্ম হয়। হর্যবল থেকে সহদেব নামক পুত্রের জন্ম হয় এবং সহদেব থেকে হীন জন্মগ্রহণ করেন। হীনের পুত্র জয়সেন এবং জয়সেন থেকে সঙ্কৃতির জন্ম হয়। সঙ্কৃতির পুত্র ছিলেন ক্ষত্রিয় ধর্মপরায়ণ মহারথ জয়। এই সমস্ত রাজারা ছিলেন ক্ষত্রবৃদ্ধের বংশধর। এখন আপনি নহুষের বংশবৃত্তান্ত শ্রবণ করুন।”

Leave a Reply

May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

Blog Stats

  • 140,943 hits