চতুর্দশ অধ্যায়- উর্বশীর দ্বারা মোহিত রাজা পুরূরবা

শ্রীল শুকদেব গোস্বামী মহারাজ পরীক্ষিৎকে বললেন- “হে রাজন্, আপনি সূর্যবংশের বিবরণ শ্রবণ করলেন, এখন পরম পবিত্র চন্দ্রবংশের বিবরণ শ্রবণ করুন। এই চন্দ্রবংশে পুণ্যকীর্তি ঐল (পুরূরবা) প্রভৃতি রাজাদের মহিমা কীর্তিত হয়েছে। সহস্রশীর্ষা পুরুষ নামক গর্ভোদকশায়ী বিষ্ণুর নাভিসরোবর হতে উদ্ভুত পদ্ম থেকে ব্রহ্মার জন্ম হয়। ব্রহ্মার পুত্র অত্রি, যিনি তাঁর পিতার মতোই গুণবান ছিলেন। অত্রির আনন্দাশ্রু থেকে স্নিগ্ধ কিরণ সমন্বিত সোম বা চন্দ্র নামক পুত্রের জন্ম হয়। ব্রহ্মা তাঁকে ব্রাহ্মণ, ঔষধি এবং নক্ষত্রদের অধিপতিরূপে নিযুক্ত করেছিলেন। ত্রিভুবন (স্বর্গ, মর্ত্য এবং পাতাললোক) জয় করে সোম রাজসূয় যজ্ঞ করেছিলেন। অত্যন্ত দর্পের ফলে বৃহস্পতির পত্নী তারাকে বলপূর্বক হরণ করেছিলেন। দেবগুরু বৃহস্পতির পুনঃ পুনঃ অনুরোধ সত্ত্বেও সোম গর্ববশত তারাকে ফিরিয়ে দেননি। তার ফলে দেবতা এবং দানবদের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। বৃহস্পতির প্রতি শুক্রের শত্রুতাবশত শুক্র অসুরগণ সহ চন্দ্রের পক্ষ অবলম্বন করেছিলেন। কিন্তু শিব তাঁর গুরুর পুত্রের প্রতি স্নেহবশত সমস্ত ভূত-প্রেত পরিবৃত হয়ে বৃহস্পতির পক্ষ অবলম্বন করেছিলেন। সমস্ত দেবতাগণ সহ ইন্দ্র বৃহস্পতির পক্ষ অবলম্বন করেছিলেন। এইভাবে বৃহস্পতির পত্নীর তারার নিমিত্ত দেবতা এবং অসুর বিনাশকারী এক মহাযুদ্ধ শুরু হয়েছিল। অঙ্গিরা ব্রহ্মার কাছে সমস্ত বৃত্তান্ত নিবেদন করলে, ব্রহ্মা চন্দ্রদেব সোমকে কঠোরভাবে তিরস্কার করেছিলেন এবং তারাকে তাঁর পতির হস্তে প্রদান করেছিলেন। বৃহস্পতি তখন বুঝতে পেরেছিলেন যে, তারা গর্ভবতী।”
বৃহস্পতি বললেন- “ওরে মূর্খ রমণী! আমার আধান যোগ্য ক্ষেত্রে অন্যের দ্বারা গর্ভ স্থাপিত হয়েছে। এক্ষুণি তুমি সেই সন্তান প্রসব কর! আমি তোমাকে আশ্বাস দিচ্ছি, সেই সন্তান প্রসব করলে আমি তোমাকে ভস্মীভূত করব না। আমি জানি যদিও তুমি অসতী, তবুও তুমি সন্তানার্থী। তাই, আমি তোমাকে দণ্ডদান করব না।”
শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “বৃহস্পতির আদেশে তারা অত্যন্ত লজ্জিতা হয়ে তখন স্বর্ণকান্তি-বিশিষ্ট একটি কুমার প্রসব করেছিলেন। বৃহস্পতি এবং চন্দ্রদেব উভয়েরই সেই সুন্দর শিশুটির প্রতি স্পৃহা জন্মেছিল। বৃহস্পতি এবং চন্দ্র উভয়েই দাবি করেছিলেন, “এই পুত্র আমার, তোমার নয়” এবং তার ফলে তাঁদের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়েছিল। সেখানে সমবেত সমস্ত ঋষি এবং দেবতারা তারাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন সেই নবজাত শিশুটি কার, কিন্তু লজ্জায় তারা কোন উত্তর দিতে পারেননি। কুমার তখন অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে তার মাকে বলেছিল, ‘হে অসতী রমণী! বৃথা লজ্জায় কি প্রয়োজন? তুমি কেন তোমার দোষ স্বীকার করছ না? শ্রীঘ্র তুমি আমাকে তোমার দোষের কথা বল।’ ব্রহ্ম যখন তারাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন এবং জিজ্ঞাসা করেছিলেন সেই পুত্রটি প্রকৃতপক্ষে কার। তিনি ধীরে ধীরে উত্তর দিয়েছিলেন, “এই পুত্র সোমের।” সোমদেব তৎক্ষণাৎ সেই শিশুটিকে গ্রহণ করেছিলেন।”
“হে মহারাজ পরীক্ষিৎ! ব্রহ্মা সেই কুমারের গম্ভীর বুদ্ধি দেখে তাঁর নাম রেখেছিলেন ‘বুধ’। নক্ষত্রপতি চন্দ্র সেই পুত্রের দ্বারা অত্যন্ত আনন্দ প্রাপ্ত হয়েছিলেন। তারপর বুধ থেকে ইলার গর্ভে পুরূরবা নামক এক পুত্রের জন্ম হয়। এই পুরূরবার কথা নবম স্কন্ধের প্রথম অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে। একদিন দেবর্ষি নারদ যখন দেবরাজ ইন্দ্রের সভায় পুরূরবার রূপ, গুণ, ঔদার্য, স্বভাব, সম্পদ এবং বিক্রমের কথা বর্ণনা করছিলেন, তখন দেবী উর্বশী তা শ্রবণ করে কামবাণে পীড়িতা হয়ে তাঁর কাছে গিয়েছিলেন। মিত্র এবং বরুণের অভিশাপে দেবী উর্বশী মনুষ্য-স্বভাব প্রাপ্ত হয়েছিলেন। তাই মূর্তিমান কামদেব-স্বরূপ পুরুষশ্রেষ্ঠ পুরূরবাকে দর্শন করে উর্বশী ধৈর্য অবলম্বনপূর্বক তাঁর কাছে গিয়েছিলেন। উর্বশীকে দর্শন করে রাজা পুরূরবার নয়ন আনন্দে উৎফুল্ল হয়েছিল এবং তাঁর দেহ রোমাঞ্চিত হয়েছিল। তিনি সুমধুর বাক্যে উর্বশীকে বলেছিলেন- হে সুন্দরীশ্রেষ্ঠা! তোমার শুভাগমন হোক। দয়া করে তুমি আসন গ্রহণ কর এবং বল আমি তোমার জন্য কি করতে পারি। তুমি আমার সঙ্গ যতদিন ইচ্ছা উপভোগ করতে পার। রমণসুখে আমাদের জীবন অতিবাহিত হোক।”
উর্বশী উত্তর দিয়েছিলেন- “হে পরম রূপবান! কোন্ স্ত্রীর চিত্ত ও দৃষ্টি আপনার প্রতি আকৃষ্ট না হয়? আপনার বক্ষঃস্থল প্রাপ্ত হয়ে কোন রমণী আপনার সঙ্গে রতিসুখ ভোগের সম্পর্ক ত্যাগ করতে পারে না। হে মহারাজ পুরূরবা! এই মেষ দুটি আমার সঙ্গে পতিত হয়েছে, আপনি এদের রক্ষা করুন। যদিও আমি স্বর্গলোকের এবং আপনি পৃথিবীর অধিবাসী, তবুও আমি আপনার সঙ্গে মৈথুনসুখ উপভোগ করব। আপনাকে পতিরূপে বরণ করতে আমার কোন আপত্তি নেই, কারণ আপনি সর্বতোভাবে শ্রেষ্ঠ।”
“হে বীর! ঘৃত প্রস্তুত বস্তুই কেবল আমার ভোজ্য হবে এবং মৈথুনের সময় ব্যতীত অন্য কোন সময় আমি আপনাকে বিবস্ত্র দেখব না।” মহামনা পুরূরবা উর্বশীর সেই প্রস্তাব অঙ্গীকার করেছিলেন।
পুরূরবা উত্তর দিলেন- “হে সুন্দরী! তোমার রূপ আশ্চর্যজনক এবং তোমার ভাবভঙ্গিও আশ্চর্যজনক। তুমি সমস্ত মানব-সমাজের মনোমুগ্ধকর। অতএব, স্বর্গলোক থেকে স্বয়ং আগতা দেবী তোমার সেবা কোন্ মানুষ না করবে!
“শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “পুরুষশ্রেষ্ঠ পুরূরবা চৈত্ররথ এবং নন্দনকানন প্রভৃতি দেবতাদের উপভোগ্য স্থলে রমণেচ্ছু উর্বশীর সঙ্গে তাঁর বাসনা অনুসারে রতিসুখ উপভোগ করতে লাগলেন। পদ্মকেশরগন্ধা দেবী উর্বশীর মুখ এবং দেহের সৌরভে অনুপ্রাণিত হয়ে পুরূরবা বহুদিন পরম আনন্দে তাঁর সঙ্গসুখ উপভোগ করেছিলেন।”
“উর্বশীকে সভায় না দেখে দেবরাজ ইন্দ্র বলেছিলেন, ‘উর্বশী বিনা আমার এই সভা আর সুন্দর বলে মনে হচ্ছে না।’ সেই কথা বিবেচনা করে তিনি গন্ধর্বদের নির্দেশ দিয়েছিলেন উর্বশীকে স্বর্গলোকে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে। মধ্যরাত্রে যখন সব কিছু গভীর অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়েছিল, তখন গন্ধর্বেরা পুরূরবার গৃহে এসে রাজার কাছে তাঁর পত্নী উর্বশীর দ্বারা গচ্ছিত মেষ দুটিকে হরণ করেছিলেন। উর্বশী সেই মেষ দুটিকে পুত্রতুল্য স্নেহ করতেন। তাই, গন্ধর্বেরা যখন তাদের অপহরণ করে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন তাদের ক্রন্দন শ্রবণ করে উর্বশী তার পতিকে তিরস্কার করেছিলেন, ‘আমি হত হলাম! এই কাপুরুষ এবং নপুংসক স্বামী আমাকে রক্ষা করতে অক্ষম অথচ তিনি নিজেকে একজন বীর বলে মনে করেন। আমি তাঁর উপর নির্ভর করেছিলাম বলে, দস্যুরা আমার পুত্র মেষ দুটি অপহরণ করেছে এবং তাই আমি বিনষ্ট হলাম। আমার পতি রাত্রিবেলায় ভয়ে শুয়ে রয়েছেন, ঠিক যেমন স্ত্রীলোকেরা ভীতা হয়ে শয়ন করে, যদিও দিনের বেলা তাঁকে পুরুষের মতো বলে মন হয়।”
“হাতি যেভাবে অঙ্কুশের দ্বারা বিদ্ধ হয়, পুরূরবাও তেমনই উর্বশীর বাক্যবাণে বিদ্ধ হয়ে অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন এবং বস্ত্র পরিধান না করেই রাত্রিতে খড়গ ধারণ করে মেঘ অপহরণ কারী গন্ধর্বদের পিছনে ধাবিত হয়েছিলেন। গন্ধর্বেরা মেষ দুটি পরিত্যাগ করে বিদ্যুতের মতো দ্যুতিমান হয়ে পুরূরবার গৃহ আলোকিত করেছিলেন। উর্বশী তখন তাঁর পতিকে নগ্ন অবস্থায় মেষ দুটি নিয়ে ফিরে আসতে দেখতে পেলেন এবং তার ফলে তিনি তৎক্ষণাৎ সেখান থেকে অন্তর্হিতা হলেন। উর্বশীকে তাঁর শয্যায় দেখতে না পেয়ে পুরূরবা অত্যন্ত বিষণ্ন হয়েছিলেন। তাঁর প্রতি গভীর আসক্তির ফলে তিনি অত্যন্ত বিহ্বল হয়েছিলেন এবং তার ফলে শোক করতে করতে তিনি উন্মত্তের মতো পৃথিবী পর্যটন করতে লাগলেন। এইভাবে পৃথিবী পর্যটন করতে করতে পুরূরবা একসময় সরস্বতী নদীর তীরে কুরুক্ষেত্রে পঞ্চসখী সহ উর্বশীকে দেখতে পেলেন। প্রসন্ন বদনে তিনি তখন তাঁকে মধুর বাক্যে এই কথাগুলি বলেছিলেন। হে প্রিয়পত্নী! হে নিষ্ঠুর! দয়া করে দাঁড়াও, একটু দাঁড়াও। আমি জানি যে এখনও পর্যন্ত আমি তোমাকে সুখী করতে পরিনি, কিন্তু সেই জন্য আমাকে ত্যাগ করা তোমার উচিত নয়। তুমি যদি আমার সঙ্গ ত্যাগ করতে মনস্থ করে থাক, তা হলে এস, অন্তত অল্পক্ষণের জন্য আমরা কিছু কথা বলি। হে দেবী! তুমি প্রত্যাখ্যান করায় আমার সুন্দর দেহ এখানে পতিত হবে এবং যেহেতু তা তোমার আনন্দ বিধানের উপযুক্ত নয়, তাই তা শৃগাল ও শকুনিদের আহার হবে।”
উর্বশী বললেন- “হে রাজন্! আপনি একজন পুরুষ, একজন বীর। সুতরাং অধৈর্য হয়ে প্রাণত্যাগ করবেন না। ধৈর্য অবলম্বন করুন। ইন্দ্রিয়রূপ বৃকগণ যেন আপনাকে ভক্ষণ না করে। অর্থাৎ ইন্দ্রিয়ের বশীভূত হবেন না। পক্ষান্তরে, আপনার জেনে রাখা উচিত যে, রমণীর হৃদয় বৃকদের মতো। সুতরাং তাদের সঙ্গে সখ্য স্থাপন করা অনুচিত। স্ত্রীলোকেরা নির্দয় এবং কুটিল। তারা সামান্য দোষও সহ্য করতে পারে না। তাদের নিজেদের সুখের জন্য তারা যে কোন অধর্ম আচরণ করতে পারে, এমন কি তাদের বিশ্বস্ত পতি এবং ভ্রাতাকেও হত্যা করতে ভয় পায় না। স্ত্রীলোকেরা সহজেই পুরুষের দ্বারা প্রলুব্ধ হয়। তাই কুলটা রমণী শুভাকাক্সক্ষী ব্যক্তির বন্ধুত্ব ত্যাগ করে অজ্ঞ ব্যক্তিদের মধ্যে মিথ্যা প্রণয় স্থাপন করে। প্রকৃতপক্ষে, তারা একের পর এক নতুন নতুন প্রেমিকের অন্বেষণ করে। হে রাজন্! বৎসরান্তে কেবল এক রাত্রি আপনি আমার পতিরূপে আমার সঙ্গসুখ উপভোগ করতে পারবেন। তার ফলে আপনার একটি একটি করে সন্তান উৎপাদন হবে। উর্বশীকে গর্ভবতী বলে বুঝতে পেরে পুরূরবা তাঁর প্রাসাদে ফিরে গিয়েছিলেন। এক বছর পর আবার তিনি কুরুক্ষেত্রে বীর-প্রসবিনী উর্বশীর সঙ্গলাভ করেছিলেন। বৎসরান্তে পুনরায় উর্বশীকে প্রাপ্ত হযে রাজা পুরূরবা অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিলেন এবং এক রাত্রি তাঁর সঙ্গসুখ উপভোগ করেছিলেন। কিন্তু তারপর বিচ্ছেদের চিন্তায় রাজার হৃদয় অত্যন্ত কাতর হলে উর্বশী তাঁকে এই কথাগুলি বলেছিলেন- “হে রাজন্! আপনি গন্ধর্বদের শরণ গ্রহণ করুন, তা হলে তারা আবার আপনার কাছে আমাকে ফিরিয়ে দেবে।” তাঁর সেই উপদেশ অনুসারে রাজা স্তবস্তুতির দ্বারা গন্ধর্বদের সন্তুষ্টি-বিধান করেছিলেন এবং তাঁর প্রতি প্রসন্ন হয়ে গন্ধর্বেরা তাঁকে ঠিক উর্বশীর মতো দেখতে অগ্নিস্থালীকে প্রদান করেছিলেন। তাঁকে উর্বশী বলে মনে করে রাজা বনে বিচরণ করতে শুরু করেছিলেন, কিন্তু পরে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, সেই রমণীটি উর্বশী নন, তিনি হচ্ছেন অগ্নিস্থালী। রাজা পুরূরবা তখন অগ্নিস্থালীকে পরিত্যাগ করে গৃহে ফিরে এসেছিলেন এবং সেখানে তিনি সারারাত উর্বশীর ধ্যান করেছিলেন। তাঁর ধ্যানের সময় ত্রেতাযুগ শুরু হয়েছিল এবং তাই সকাম কর্মবাসনা পূর্ণকারী যজ্ঞ সমন্বিত বেদত্রয়ের তত্ত্ব তাঁর হৃদয়ে প্রকাশিত হয়েছিল। যখন পুরূরবার হৃদয়ে কর্মকাণ্ডীয় যজ্ঞের বিধি প্রকট হয়েছিল, তখন তিনি যেখানে অগ্নিস্থালীকে ত্যাগ করেছিলেন সেই স্থানে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি দেখলেন যে, একটি শমীবৃক্ষের গর্ভ থেকে একটি অশ্বত্থ বৃক্ষের উৎপত্তি হয়েছে। তিনি তখন সেই বৃক্ষ থেকে একটি কাঠ নিয়ে তা থেকে দুটি অরণি তৈরী করেছিলেন। তারপর উর্বশী যেই লোকে বাস করেন সেখানে যাওয়ার বাসনায় তিনি মন্ত্র উচ্চারণ করে নিম্নভাগের অরণিকে উর্বশী, উপরের অরণিকে তিনি স্বয়ং এবং মধ্যবর্তী অরণিকে পুত্ররূপে চিন্তা করতে করতে অগ্নি প্রজ্বলিত করেছিলেন। পুরূরবার অরণি মন্থনের ফলে অগ্নি প্রকাশিত হয়েছিল। এই অগ্নি থেকে সমস্ত জড় ভোগ প্রাপ্ত হওয়া যায় এবং শৌক্রজন্ম, সাবিত্র দীক্ষা এবং যজ্ঞ অনুষ্ঠানে পবিত্র হওয়া যায়, যা অ-উ এবং ম এই তিনটি অক্ষরের সমন্বয়ে আহ্বান করা হয়। এইভাবে সেই অগ্নিকে রাজা পুরূরবার পুত্র বলে মনে করা হয়েছিল। উর্বশী যে লোকে বাস করেন সেই লোক প্রাপ্ত হওয়ার বাসনায় পুরূরবা সেই অগ্নির দ্বারা যজ্ঞ অনুষ্ঠান করেছিলেন এবং তার ফলে তিনি যজ্ঞেশ্বর ভগবান শ্রীহরির প্রসন্নতা বিধান করেছিলেন। এইভাবে তিনি সর্বদেবময় অধোক্ষজ ভগবানের আরাধনা করেছিলেন।”
“সত্যযুগে সমস্ত বৈদিক মন্ত্র বীজভূত প্রণবে নিহিত ছিল। অর্থাৎ অথর্ব বেদই কেবল সমস্ত বৈদিক জ্ঞানের উৎস ছিল। ভগবান শ্রীনারায়ণ ছিলেন একমাত্র আরাধ্য; তখন দেব-দেবীদের পূজা করার কোন নির্দেশ ছিল না, অগ্নি ছিল কেবল একটি এবং মানব-সমাজে একমাত্র বর্ণ ছিল হংস। হে মহারাজ পরীক্ষিৎ! ত্রেতাযুগের শুরুতে রাজা পুরূরবা কর্মকাণ্ডীয় যজ্ঞের সূত্রপাত করেছিলেন। এইভাবে পুরূরবা, যিনি যজ্ঞাগ্নিকে তাঁর পুত্র বলে মনে করেছিলেন, তাঁর বাসনা অনুসারে তিনি গন্ধর্বলোক প্রাপ্ত হয়েছিলেন।”

Leave a Reply

May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

Blog Stats

  • 140,959 hits