দ্বাদশ অধ্যায়- শ্রীরামচন্দ্রের পুত্র কুশের বংশাবলী

শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “শ্রীরামচন্দ্রের পুত্র কুশ, কুশের পুত্র অতিথি, অতিথির পুত্র নিষধ এবং নিষধের পুত্র নভ। নভের পুত্র পুণ্ডরীক এবং পুণ্ডরীকের পুত্র ক্ষেমধন্বা। ক্ষেমধন্বার পুত্র দেবানীক, দেবানীকের পুত্র অনীহ, অনীহের পুত্র পারিযাত্র এবং পারিযাত্রের পুত্র বলস্থল। সূর্যদেবের অংশসম্ভূত বজ্রনাভ বলস্থলের পুত্র। বজ্রনাভের পুত্র সগণ এবং তাঁর পুত্র বিধৃতি। বিধৃতির পুত্র হিরণ্যনাভ, যিনি জৈমিনির শিষ্যত্ব বরণ করেছিলেন এবং এক মহান যোগাচার্য হয়েছিলেন। এই হিরণ্যনাভ থেকেই ঋষি যাজ্ঞবল্ক্য অধ্যাত্মযোগ নামক যোগের অত্যন্ত মহান পন্থা শিক্ষালাভ করেছিলেন, যা জড় আসক্তিরূপ হৃদয়গ্রন্থি খুলতে পারে। হিরণ্যনাবের পুত্র পুষ্প এবং পুষ্পের পুত্র ধ্রুবসন্ধি। ধ্রুবসন্ধির পুত্র সুদর্শন, যাঁর পুত্র অগ্নিবর্ণ। অগ্নিবর্ণের পুত্র শীঘ্র এবং তাঁর পুত্র মরু। এই মরু যোগমার্গে সিদ্ধিলাভ করে কলাপগ্রামে এখনও অবস্থান করছেন। কলিযুগের শেষে তিনি এক পুত্র উৎপাদন করে পুনরায় সূর্যবংশের প্রবর্তন করবেন। মরুর পুত্র প্রসুশ্রুত, প্রসুশ্রুতের পুত্র সন্ধি, সন্ধি থেকে অমর্ষণ এবং অমর্ষণের পুত্র মহস্বান্। মহস্বান থেকে বিশ্ববাহুর জন্ম হয়। বিশ্ববাহু থেকে প্রসেনজিতের জন্ম হয়। প্রসেনজিৎ থেকে তক্ষক এবং তক্ষক থেকে বৃহদ্বলের জন্ম হয়, যিনি যুদ্ধে আপনার পিতার কর্তৃক নিহত হন।”
“ইক্ষ্বাকু বংশের এই সমস্ত রাজারা গত হয়েছেন। এখন ভবিষ্যতে যাঁদের জন্ম হবে, তাঁদের কথা বলছি শ্রবণ করুন। বৃহদ্বলের বৃহদ্রণ নামক এক পুত্র জন্মগ্রহণ করবেন। বৃহদ্রণের পুত্র হবেন ঊরুক্রিয়, যাঁর বৎসবৃদ্ধ নামক এক পুত্র হবে। বৎসবৃদ্ধের প্রতিব্যোম নামক এক পুত্র হবে এবং প্রতিব্যোমের ভানু নামক এক পুত্র হবে, যাঁর থেকে দিবাক নামক এক মহান সেনাপতির জন্ম হবে। তারপর দিবাক থেকে সহদেব নামক এক পুত্রের জন্ম হবে এবং সহদেব থেকে বৃহদশ্ব নামক এক মহাবীরের জন্ম হবে। বৃহদশ্ব থেকে ভানুমানের জন্ম হবে এবং ভানুমান থেকে প্রতীকাশ্বের জন্ম হবে। প্রতীকাশ্বের পুত্র হবে সুপ্রতীক। তারপর সুপ্রতীক থেকে মরুদেবের জন্ম হবে; মরুদেব থেকে সুনক্ষত্র, সুনক্ষত্র থেকে পুষ্কর এবং পুষ্কর থেকে অন্তরিক্ষ। অন্তরিক্ষের পুত্র সুতপা এবং তাঁর পুত্র হবেন অমিত্রজিৎ। অমিত্রজিৎ থেকে বৃহদ্রাজ নামক পুত্রের জন্ম হবে। বৃহদ্রাজ থেকে বর্হি এবং বর্হি থেকে কৃতঞ্জয়ের জন্ম হবে। কৃতঞ্জয়ের পুত্র হবেন রণঞ্জয় এবং তাঁর থেকে সঞ্চয় নামক পুত্রের জন্ম হবে। সঞ্জয় থেকে শাক্য, শাক্য থেকে শুদ্ধোদ এবং শুদ্ধোদ থেকে লাঙ্গলের জন্ম হবে। লাঙ্গল থেকে প্রসেনজিৎ এবং প্রসেনজিৎ থেকে ক্ষুদ্রক জন্মগ্রহণ করবেন। ক্ষুদ্রক থেকে রণক, রণক থেকে সুরথ এবং সুরথ থেকে সুমিত্রের জন্ম হবে। এই সুমিত্রই এই বংশের শেষ রাজা। এটিই বৃহদ্বলের বংশের বর্ণনা। ইক্ষ্বাকু বংশের শেষ রাজা হবেন সুমিত্র। তারপর সূর্যবংশে আর কোন বংশধর থাকবেন না। এইভাবে এই বংশের সমাপ্তি হবে।”

Leave a Reply

April 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  

Blog Stats

  • 140,959 hits