ঊনবিংশতি অধ্যায়- বলি মহারাজের কাছে বামনদেবের দানভিক্ষা

শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “বলি মহারাজের এই প্রকার মনোমুগ্ধকর বাক্য শ্রবণ করে ভগবান বামনদেব অত্যন্ত প্রসন্ন হয়েছিলেন, কারণ বলি মহারাজ ধর্মের ভিত্তিতে সেই কথাগুলি বলেছিলেন। তাই ভগবান তখন তাঁর প্রশংসা করেছিলেন।”
ভগবান বললেন- “হে রাজন্, আপনি যথার্থই মহান, কারণ ঐহিক বিষয়ে ভৃগুবংশীয় ব্রাহ্মণেরা আপনার উপদেষ্টা এবং পারলৌকিক ধর্মে আপনার শান্ত প্রকৃতির পিতামহ কুলবৃদ্ধ প্রহ্লাদ মহারাজ আপনার উপদেষ্টা। আপনার বাক্য অতি সত্য এবং তা ধর্মনীতির অনুকূল। আপনার এই আচরণ আপনার বংশের উপযুক্ত এবং তা আপনার যশ বৃদ্ধি করবে। আমি অবগত আছি যে, এখনও পর্যন্ত আপনার বংশের কোন সংকীর্ণমনা অথবা কৃপণ ব্যক্তি জন্মগ্রহণ করেননি, যিনি যাচক ব্রাহ্মণদের প্রত্যাখ্যান করেছেন অথবা প্রতিশ্রুতি দিয়ে দান করেননি। হে বলি মহারাজ! আপনার বংশে কখনও এমন কোন সংকীর্ণহৃদয় রাজার জন্ম হয়নি যিনি তীর্থস্থানে ব্রাহ্মণদের প্রার্থিত বস্তু দান করতে প্রত্যাখ্যান করেছেন অথবা যুদ্ধক্ষেত্রে যুদ্ধার্থী ক্ষত্রিয়কে যুদ্ধ দান করতে প্রত্যাখ্যান করেছেন। আপনার বংশ বিশেষভাবে যশস্বী হয়েছে, প্রহ্লাদ মহারাজের উপস্থিতির ফলে, যিনি আকাশে চন্দ্রের মতো শোভা পাচ্ছেন। আপনার বংশে হিরণ্যাক্ষের জন্ম হয়েছে, যিনি কারও সহায়তা ব্যতীতই একাকী কেবল তাঁর গদা নিয়ে সমস্ত দিক জয় করার জন্য সারা পৃথিবী পর্যটন করেছিলেন, কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি কোন প্রতিদ্বন্দ্বী খুঁজে পাননি। পৃথিবীকে গর্ভোদক সমুদ্র থেকে উদ্ধার করার সময় বরাহরূপধারী বিষ্ণু তাঁর সমক্ষে আগত হিরণ্যাক্ষকে বধ করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রচণ্ড সংগ্রাম হয়েছিল এবং বিষ্ণু অতি কষ্টে হিরণ্যাক্ষকে বধ করে তাঁর অসাধারণ বীরত্ব স্মরণ করতে করতে নিজেকে যথার্থই বিজয়ী বলে মনে করেছিলেন। ভ্রাতার মৃত্যুসংবাদ শ্রবণ করে হিরণ্যকশিপু মহাক্রোধে তাঁর ভ্রাতৃঘাতী বিষ্ণুকে হত্যা করার জন্য তাঁর বাসস্থানে উপস্থিত হয়েছিলেন। হিরণ্যকশিপুকে শূল হস্তে কৃতান্তের মতো আসতে দেখে, মায়াবাদীদের প্রধান এবং কালোচিত কর্তব্য বিষয়ে অভিজ্ঞ বিষ্ণু এইভাবে চিন্তা করেছিলেন। আমি যেখানে যেখানে যাব, এই হিরণ্যকশিপুও জীবদের মৃত্যুর ন্যায় সেইখানেই আমার অনুসরণ করবে। অতএব আমি তার হৃদয়ে প্রবেশ করবে, কারণ সে বাহ্য দৃষ্টিসম্পন্ন হওয়ার ফলে আমাকে দেখতে পাবে না।”
ভগবান বামনদেব বললেন- “হে দৈত্যরাজ! ভগবান বিষ্ণু এইভাবে নির্ণয় করে তীব্রবেগে তাঁর প্রতি ধাবমান শত্রু হিরণ্যকশিপুর শরীরে প্রবেশ করেছিলেন। উদ্বিগ্নচিত্ত ভগবান বিষ্ণু অচিন্ত্য এক সূক্ষ্ম শরীর ধারণ করে, হিরণ্যকশিপুর শ্বাস বায়ুর মাধ্যমে তাঁর নাসারন্দ্র দিয়ে তাঁর শরীরে প্রবেশ করেছিলেন। তারপর হিরণ্যকশিপু বিষ্ণুর নিবাসস্থান শূণ্য দেখে সর্বত্র তাঁর অন্বেষণ করতে লাগলেন। কিন্তু তাঁকে খুঁজে না পেয়ে হিরণ্যকশিপু মহাক্রোধে গর্জন করতে করতে পৃথিবী, স্বর্গ, দশদিক, আকাশ, পর্বত-গহ্বর এবং সমুদ্রের মধ্যে তাঁর অন্বেষণ করতে লাগলেন। কিন্তু মহাবীর হিরণ্যকশিপু কোথাও বিষ্ণুকে দেখতে পেলেন না। বিষ্ণুকে না দেখতে পেয়ে হিরণ্যকশিপু বলেছিলেন, “আমি সমগ্র জগৎ অন্বেষণ করেও কোথাও আমার ভ্রাতৃঘাতী বিষ্ণুকে দেখতে পেলাম না। অতএব সে নিশ্চয়ই সেখানে গমন করেছে যেখানে গেলে কেউ আর ফিরে আসে না (অর্থাৎ নিশ্চয়ই তার মৃত্যু হয়েছে)।” ভগবান বিষ্ণুর প্রতি হিরণ্যকশিপুর ক্রোধ তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত ছিল। দেহাত্মবুদ্ধি সমন্বিত অন্য ব্যক্তিদের ক্রোধ কেবল অহঙ্কার এবং অজ্ঞানের ফলেই হয়ে থাকে। প্রহ্লাদের পুত্র, আপনার পিতা বিরোচন ছিলেন অত্যন্ত ব্রাহ্মণবৎসল। যদিও তিনি জানতে যে, দেবতারা ব্রাহ্মণের বেশ ধারণ করে তাঁর কাছে এসেছেন, তবুও তাঁদের অনুরোধে তিনি তাঁর আয়ু তাঁদের দান করেছিলেন। গৃহস্থ-আশ্রমে অবস্থিত মহাত্মা ব্রাহ্মণেরা, আপনার পূর্বপুরুষেরা এবং মহাবীরেরা, যাঁরা তাঁদের অতি উদার কার্যকলাপের জন্য বিশাল কীর্তি অর্জন করেছেন, আপনিও তাঁদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন। হে দৈত্যরাজ! এমন বংশে যাঁর জন্ম হয়েছে এবং উদারভাবে দান করতে সমর্থ, তাঁর কাছে আমি কেবল আমার নিজের পরিমিত ত্রিপাদ ভূমি প্রার্থনা করি। হে রাজন্, হে জগৎপতি, আপনি যদিও অত্যন্ত উদার এবং আমি যত ইচ্ছা ভূমি আপনার কাছে প্রার্থনা করতে পারি, তবুও আমি প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিছুই চাই না। বিদ্বান ব্রাহ্মণ যদি কেবল তাঁর প্রয়োজন অনুসারেই অন্যদের কাছ থেকে দান গ্রহণ করেন, তা হলে তাঁর পাপ হয় না।”
বলি মহারাজ বললেন- “হে ব্রাহ্মণকুমার, তোমার উপদেশ বিজ্ঞ এবং বৃদ্ধদের মতো। কিন্তু তুমি বালক এবং তোমার বুদ্ধি অপরিণত। তাই তুমি তোমার স্বার্থ সম্বন্ধে বস্তুতই অজ্ঞান। আমি ত্রিভুবনের একমাত্র অধীশ্বর এবং তাই আমি তোমাকে একটি সমগ্র দ্বীপ দান করতে পারি। আমার কাছে কিছু চাইতে এসে এবং মধুর বাক্যের দ্বারা আমাকে তুষ্ট করে তুমি কেবল ত্রিপাদ ভূমি প্রার্থনা করছ, সেই জন্য তুমি নিতান্তই বুদ্ধিহীন। হে বালক, আমার কাছে যে ভিক্ষা করতে আসে, তাকে আর অন্য কোথাও ভিক্ষা করতে হয় না। তাই, তুমি যদি ইচ্ছা কর, তা হলে তুমি তোমার জীবিকা নির্বাহের যোগ্য প্রচুর ভূমি গ্রহণ কর।”
ভগবান বললেন- “হে রাজন্, ত্রিভুবনের মধ্যে ইন্দ্রিয়তৃপ্তি সাধনের যত বস্তু রয়েছে, সেই সমস্ত বস্তু অজিতেন্দ্রিয় ব্যক্তির কামনা পূর্ণ করতে পারে না। আমি যদি ত্রিপাদ ভূমি লাভ করে সন্তুষ্ট না হই, তা হলে নয়টি বর্ষ সমন্বিত একটি দ্বীপ লাভ করেও আমি সন্তুষ্ট হব না, তখন আমার সপ্তদ্বীপ লাভের ইচ্ছা হবে। আমরা শুনেছি যে মহারাজ পৃথু, মহারাজ গয় প্রভৃতি অত্যন্ত পরাক্রমশালী রাজারা সপ্তদ্বীপের আধিপত্য লাভ করেও সন্তুষ্ট হননি অথবা তাঁদের উচ্চাভিলাষ পূর্ণ হয়নি। প্রারব্ধ কর্মের ফলে যা লাভ হয় তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকা উচিত, কারণ অসন্তোষ কখনও সুখ প্রদান করতে পারে না। যে ব্যক্তি অজিতেন্দ্রিয়, সে ত্রিভুবন লাভ করেও সুখী হতে পারে না। কামবাসনা এবং অথলিপ্সাই অসন্তোষের কারণ এবং এই অসন্তোষই সংসার অর্থাৎ জন্ম-মৃত্যুর কারণ। কিন্তু যদৃচ্ছাক্রমে যা লাভ হয় তা নিয়েই যিনি সন্তুষ্ট থাকেন, তিনি এই সংসার থেকে মুক্ত হওয়ার যোগ্য। হে ব্রাহ্মণ যদৃচ্ছাক্রমে লব্ধ বস্তুর দ্বারা সন্তুষ্ট, তার তেজ ক্রমশ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়, কিন্তু অসন্তুষ্ট ব্রাহ্মণের আধ্যাত্মিক শক্তি বিনষ্ট হয়, ঠিক যেমন জল ঢালার ফলে অগ্নির তেজ বিনষ্ট হয়। অতএব, হে রাজন্, দাতাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ আপনার কাছে আমি কেবল ত্রিপাদ ভূমি প্রার্থনা করছি। সেই দানের ফলেই আমি সন্তুষ্ট হব, কারণ প্রয়োজনের অনুরূপ বিত্তই সংসারে সুখ প্রদান করে।”
শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “বলি মহারাজকে ভগবান এই কথা বললে, বলি মহারাজ হেসে বলেছিলেন, “বেশ, তোমার যা ইচ্ছা তা-ই গ্রহণ কর।” তারপর বামনদেবকে ভূমি দান করার জন্য সঙ্কল্প করতে তিনি জলপাত্র গ্রহণ করেছিলেন। জ্ঞানীশ্রেষ্ঠ শুক্রাচার্য তখন বিষ্ণুর অভিপ্রায় বুঝতে পেরে, ভগবান বামনদেবকে সব কিছু দান করতে উদ্যত তাঁর শিষ্যকে বলেছিলেন- “হে বিরোচন-নন্দন, বামনরূপী এই ব্রহ্মচারী অব্যয়স্বরূপ সাক্ষাৎ ভগবান বিষ্ণু। কশ্যপ মুনি এবং অদিতির পুত্ররূপে ইনি দেবতাদের কার্যসাধন করার জন্য আবির্ভূত হয়েছেন। তাঁকে ভূমি দান করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ফলে, তুমি যে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি প্রাপ্ত হয়েছ তা তুমি জান না। এই প্রতিশ্রুতি তোমার পক্ষে হিতকর বলে আমি মনে করি না। তার ফলে দৈত্যদের অত্যন্ত অনিষ্ট হবে। এই কপট ব্রহ্মচারী বেশধারী ব্যক্তিটি হচ্ছেন ভগবান শ্রীহরি, যিনি তোমার রাজ্য, ঐশ্বর্য, শ্রী, তেজ, যশ এবং জ্ঞান সমস্ত হরণ করার জন্য এখানে এসেছে। তোমার সর্বস্ব অপহরণ করে তিনি তা তোমার শত্রু ইন্দ্রকে দান করবেন। তুমি তাঁকে ত্রিপাদ ভূমি দান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছ। কিন্তু তুমি যখন তাঁকে তা দান করবে, তখন তিনি ত্রিভুবন অধিকার করবেন। হে মূঢ়! তুমি যে কি মহা ভুল করেছ তা তুমি জান না। বিষ্ণুকে সব কিছু দান করলে তুমি জীবিকা নির্বাহ করবে কিভাবে? বামনদেব তাঁর এক পদবিক্ষেপের দ্বারা পৃথিবী, তারপর দ্বিতীয় পদবিক্ষেপের দ্বারা স্বর্গ এবং তারপর বিরাট শরীরের দ্বারা অন্তরীক্ষ অধিকার করবেন। তখন তাঁর তৃতীয় পদবিক্ষেপের স্থান কোথায় হবে? তুমি তোমার প্রতিজ্ঞা পালনে নিশ্চয়ই অসমর্থ হবে এবং আমি মনে করি যে, তোমার এই অক্ষমতার ফলে নিশ্চয়ই তোমার নরকে স্থিতি হবে। যে দানে নিজের জীবিকা পর্যন্ত বিপন্ন হয়, পণ্ডিতেরা সেই প্রকার দানের প্রশংসা করেন না। দান, যজ্ঞ, তপস্যা এবং কর্ম অনুষ্ঠান করা কেবল তাঁদের পক্ষেই সম্ভব, যাঁরা যথাযথভাবে তাঁদের জীবিকা অর্জন করতে পারেন। (যারা নিজেদের ভরণ-পোষণ করতে পারে না, তাদের পক্ষে তা সম্ভব নয়।)। অতএব জ্ঞানবান ব্যক্তি ধর্ম, যশ, অর্থ, কাম এবং স্বজন পালনের জন্য তাঁর বিত্তকে পাঁচভাগে বিভক্ত করে ইহলোকে এবং পরলোকে সুখী হন। যদি বল যে তুমি ইতিমধ্যেই প্রতিজ্ঞা করেছ, সুতরাং তুমি তা প্রত্যাখ্যান করবে কি করে? হে অসুরশ্রেষ্ঠ, এই বিষয়ে বহচ-শ্রুতির বাণী আমার কাছে শ্রবণ কর। ওঁ শব্দের দ্বারা যে প্রতিজ্ঞা করা হয় তা সত্য এবং ওঁ শব্দ না থাকলে তা মিথ্যা। বেদে বলা হয়েছে যে, সত্যই এই দেহরূপ বৃক্ষের ফুল এবং ফলস্বরূপ। কিন্তু দেহরূপ বৃক্ষই যদি না থাকে, তা হলে তাতে সত্যরূপ ফুল এবং ফলের সম্ভাবনা থাকে না। মিথ্যা যদি সেই দেহরূপ বৃক্ষের মূল হয়, তাহলে তার সাহায্য ব্যতীত সত্যরূপ ফুল এবং ফল লাভ করা যায় না। বৃক্ষের মূল উৎপাটিত হলে যেমন তা ভূপতিত হয় এবং শুষ্ক হতে শুরু করে, তেমনই যে ব্যক্তি তার দেহের যত্ন নেয় না, যা মিথ্যা বলে মনে করা হয়, অর্থাৎ মিথ্যাকে যদি উৎপাটিত করা হয়, তা হলে দেহ শুষ্ক হয়ে যায়, সেই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। ওঁ শব্দের উচ্চারণ মানুষের ধন-সম্পদের বিয়োগের সূচক, অর্থাৎ এই শব্দ উচ্চারণের ফলে মানুষি ধন-সম্পদের আসক্তি থেকে মুক্ত হয়, কারণ তা তার ধন-সম্পত্তিকে দূরে নিযে যায়। ধন শূণ্য হওয়া অতৃপ্তিকর, কারণ তখন মানুষ তার বাসনা চরিতার্থ করতে পারে না। পক্ষান্তরে বলা যায় যে, ওঁ শব্দের ব্যবহারের ফলে মানুষ দারিদ্রগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে কেউ যখন দরিদ্র ব্যক্তি বা ভিক্ষুককে ওঁ শব্দ উচ্চারণ করে দান করে, তখন তার আত্ম উপলব্ধি এবং ইন্দ্রিয়তৃপ্তি অপূর্ণ থাকে। অতএব ‘না’ বলাই নিরাপদ। সেটি মিথ্যা হলেও তা সর্বতোভাবে রক্ষা করে, তা অন্যের অনুকম্পা আকর্ষণ করে এবং অন্যের কাছ থেকে নিজের জন্য অর্থ সংগ্রহ করার পূর্ণ সুযোগ প্রদান করে। কিন্তু যে ব্যক্তি সব সময় বলে যে, তার কাছে কিছু নেই, সে নিন্দিত এবং জীবিত অবস্থায়ও মৃত অথবা যে শ্বাস গ্রহণ করলেও তাকে বধ করা উচিত। স্ত্রীলোককে বশীভূত করতে, পরিহাসে, বিবাহে, জীবিকা অর্জনে, জীবন বিপন্ন হলে, গাভী এবং ব্রাহ্মণের হিতার্থে অথবা শত্রুর হাত থেকে কাউকে রক্ষা করার সময় মিথ্যা কথা বলা নিন্দনীয় নয়।”

Leave a Reply

March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  

Blog Stats

  • 140,959 hits