শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “হে রাজন্, অদিতির পুত্র দেবতারা স্বর্গলোক থেকে অদৃশ্য হলে দৈত্যেরা যখন তাঁদের পদ অধিকার করেছিল, তখন অদিতি অনাথিনীর মতো শোক করতে লাগলেন। দীর্ঘকাল পর সমাধি থেকে নিবৃত্ত হয়ে মহা শক্তিমান মহর্ষি কশ্যপ গৃহে প্রত্যাবর্তন করে দেখলেন যে, অদিতির আশ্রম নিরানন্দময় এবং উৎসব রহিত।”
“হে কুরুশ্রেষ্ঠ, কশ্যপ মুনি যথাযথভাবে সমাদৃত হয়ে আসন গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর শোককাতরা পত্নী অদিতিকে বলেছিলেন, ‘হে ভদ্রে, এখন কি জগতে ধর্মের, ব্রাহ্মণদের অথবা মৃত্যুর বশবর্তী মানুষদের কোন অমঙ্গল হয়েছে? হে গৃহমেধিনী, গৃহস্থ-আশ্রমে যদি ধর্ম, অর্থ এবং কামের বিধি যথাযথভাবে পালন করা হয়, তা হলে গৃহস্থ-আশ্রমেও তাঁর কার্যকলাপ একজন যোগীর মতো। এই ত্রিবর্গের অনুশীলনে কোন ত্রুটি হয়নি তো? অথবা তুমি অত্যন্ত কুটুম্বাসক্ত হওয়ার ফলে অতিথিকে যথাযথভাবে সমাদর না করায় তাঁরা গৃহ থেকে চলে যায়নি তো? যে গৃহ থেকে অতিথি কেবল একটু জলের দ্বারাও সৎকৃত না হয়ে চলে যায়, সেই গৃহ শৃগালের বিবর সদৃশ। হে সতী ভদ্রে, আমি যখন গৃহ থেকে অন্য স্থানে চলে গিয়েছিলাম, তখন কি তুমি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার ফলে অগ্নিতে ঘৃত আহুতি দিয়ে হোম করনি? অগ্নি এবং ব্রাহ্মণদের পূজা করার দ্বারা গৃহস্থ তাঁর ইপ্সিত উচ্চলোক লাভ করতে পারেন, কারণ, যজ্ঞাগ্নি এবং ব্রাহ্মণ সমস্ত দেবতাদের আত্মা শ্রীবিষ্ণুর মুখস্বরূপ। হে মনস্বিনী, তোমার পুত্রেরা কুশলে আছে তো? তোমার শুষ্ক মুখমণ্ডল দর্শন করে আমি বুঝতে পারছি যে, তোমার চিত্ত অশান্ত হয়েছে। তার কারণ কি?”
অদিতি বললেন- “হে পরম পূজ্য ব্রহ্মজ্ঞানী পতিদেবতা! ব্রাহ্মণ, গাভী, ধর্ম এবং অন্য মানুষেরা সকলেই কুশলে আছে। হে গৃহস্বামী, সৌভাগ্যে পূর্ণ হওয়ার ফলে গৃহ স্বাভাবিকভাবেই ধর্ম, অর্থ এবং কামের দ্বারা সমৃদ্ধিশালী হয়েছে। হে প্রভু, অগ্নি, অতিথি, ভৃত্য, ভিক্ষুক সকলেই আমার দ্বারা যথাযথভাবে সৎকৃত হয়েছে। যেহেতু আমি সর্বদা আপনার ধ্যান করি, তাই ধর্মের অবহেলার কোন সম্ভাবনা নেই। হে প্রভু, যেহেতু আপনি প্রজাপতি এবং আমার ধর্ম উপদেষ্টা, তাই আমার কোন্ বাসনা অপূর্ণ থাকতে পারে? হে মরীচি পুত্র, যেহেতু আপনি একজন মহাপুরুষ, তাই আপনার দেহ এবং মন থেকে উদ্ভুত এবং সত্ত্ব, রজ ও তমোগুণের দ্বারা প্রভাবিত দৈত্য এবং দেবতাদের প্রতি আপনি সমদর্শী। কিন্তু ভগবান যদিও পরম ঈশ্বর এবং সমস্ত জীবের প্রতি সমদর্শী, তবুও তিনি তাঁর ভক্তদের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ প্রদর্শন করেন। অতএব, হে সুব্রত, দয়া করে আপনি আপনার সেবিকাকে অনুগ্রহ করুন। আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দৈত্যেরা আমাদের ধন, সম্পদ এবং রাজ্য অপহরণ করেছে। দয়া করে আপনি আমাদের রক্ষা করুন। আমাদের প্রবল পরাক্রমশালী শত্রু দৈত্যেরা আমাদের ঐশ্বর্য, শ্রী, যশ এবং বাসস্থান সব কিছুই অপহরণ করেছে। তাদের দ্বারা নির্বাসিত হয়ে আমি দুঃখ-সাগরে মগ্ন হয়েছি। হে সাধু শ্রেষ্ঠ, আপনি কল্যাণকারী ব্যক্তিদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, দয়া করে আমাদের অবস্থা বিবেচনা করে আমার পুত্রদের প্রতি আপনি কৃপা করুন, যাতে তারা তাদের হারানো সম্পদ ফিরে পেতে পারে।”
শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “অদিতি যখন এইভাবে কশ্যপ মুনির কাছে অনুরোধ করেছিলেন, তখন তিনি মৃদু হেসে বলেছিলেন, ‘আহা, বিষ্ণু মায়ার কী শক্তি, যার দ্বারা এই জগৎ স্নেহের বন্ধনে আবদ্ধ’!”
কশ্যপ মুনি বললেন- “পঞ্চভূতের দ্বারা গঠিত এই জড় দেহিটি কি? এটি আত্মা থেকে ভিন্ন। বস্তুতপক্ষে যে জড় উপাদানগুলি দিয়ে দেহটি গঠিত হয়েছে, তা থেকে আত্মা সম্পূর্ণরূপে ভিন্ন। কিন্তু দেহের প্রতি আসক্তির ফলে মানুষ কাউকে তার পতি, কাউকে তার পুত্র, ইত্যাদি বলে মনে করে। এই সমস্ত মায়িক সম্পর্কের কারণ হচ্ছে অবিদ্যা। হে অদিতি, তুমি ভগবানকে ভজনা কর। তিনি সকলের প্রভু, তিনি সকলের শত্রুদমনকারী এবং তিনি সকলের হৃদয়ে বিরাজমান। পরম পুরুষ শ্রীকৃষ্ণ বা বাসুদেবই সকলকে সর্বমঙ্গলময় আশীর্বাদ প্রদান কতে পারেন, কারণ তিনিই হচ্ছে সমগ্র জগতের গুরু। সেই দীনবৎসল ভগবান তোমার অভিলাষ পূর্ণ করবেন। কারণ ভগবদ্ভক্তি অব্যর্থ। ভগবদ্ভক্তি ব্যতীত অন্য সমস্ত পন্থাই নিষ্ফল। সেটিই আমার অভিমত।”
শ্রীমতি অদিতি বললেন- “হে ব্রাহ্মণ, কোন্ বিধি অনুসারে আমি সেই জগৎপতির আরাধনা করতে পারি, যার ফলে ভগবান আমার প্রতি প্রসন্ন হয়ে আমার মনোবাসনা পূর্ণ করবেন। হে দ্বিজশ্রেষ্ঠ, দয়া করে আমাকে ভগবানের আরাধনার করার বিধি সম্বন্ধে উপদেশ প্রদান করুন, যাতে ভগবান আমার প্রতি প্রসন্ন হয়ে, শ্রীঘ্রই এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি থেকে আমার পুত্রগণ সহ আমাকে রক্ষা করেন।”
শ্রীকশ্যপ মুনি বললেন- “আমি পুত্র লাভের আকাঙ্ক্ষী হয়ে পদ্মযোনি ব্রহ্মাকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি কেশবের সন্তুষ্টি বিধানের জন্য যে ব্রত আমাকে বলেছিলেন, তা আমি তোমাকে বলব।”
“ফাল্গুন মাসের শুক্লপক্ষে দ্বাদশী পর্যন্ত কেবল বারো দিন দুগ্ধ পানপূর্বক পয়োব্রত আচরণ করে, পরম ভক্তি সহকারে কমলনয়ন ভগবানের অর্চনা করবে। যদি বরাহ বিদরাতি মৃত্তিকা পাওয়া যায়, তা হলে তার দ্বারা অমাবস্যার দিন অঙ্গলেপন করে নদীর জলে স্নান করবে এবং স্নান করার সময় এই মন্ত্র উচ্চারণ করবে। হে মাতা বসুন্ধরা, আপনি থাকবার স্থান অভিলাষ করেছিলেন বলে বরাহরূপী ভগবান আপনাকে রসাতল থেকে উত্তোলন করেছিলেন। দয়া করে আপনি আমার সমস্ত পাপ বিনাশ করুন। আমি আপনাকে আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি। তারর, নিত্য-নৈমিত্তিক কর্তব্য সম্পাদন করে, একাগ্র চিত্তে ভগবানের অর্চাবিগ্রহ, বেদি, সূর্য, জল, অগ্নি এবং গুরুদেবকে পূজা করবে। হে ভগবান, মহত্তম, সর্বভূতের হৃদয়ে বিরাজমান, সকলের আশ্রয়, হে সব কিছুর সাক্ষী, হে বাসুদেব, সর্বব্যাপ্ত পরম পুরুষ, আমি আপনাকে আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি। হে পরম পুরুষ, আমি আপনাকে আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি। আপনি অত্যন্ত সূক্ষ্ম হওয়ার ফলে জড় চক্ষুর অগোচর। আপনি চতুর্বিংশতি তত্ত্বের জ্ঞাতা এবং আপনি সাংখ্যযোগ পদ্ধতির প্রবর্তক। আমি সেই ভগবানকে আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি, যাঁর দুইটি মস্তক (প্রায়ণীয় এবং উদায়নীয়), তিনটি পা ( সবনত্রয়), চারটি শৃঙ্গ (চতুর্বেদ) এবং সপ্তহস্ত (গায়ত্রী আদি সপ্তছন্দ)। আমি আপনাকে আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি, যাঁর আত্মা ত্রয়ীবিদ্যা (কর্মকাণ্ড, জ্ঞানকণ্ড এবং উপাসনাকাণ্ড) এবং যজ্ঞরূপে যিনি এই সমস্ত অনুষ্ঠান বিস্তার করেন। শিব অথবা রুদ্ররূপে যিনি সমস্ত শক্তি ও সমস্ত জ্ঞঅনের আধার এবং সর্বভূতের অধিপতি, সেই আপনাকে আমি আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি। হিরণ্যগর্ভ, প্রাণের উৎস, সমস্ত জীবের পরমাত্মারূপে অবস্থিত আপনাকে আমি আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি। সমস্ত যৌগৈশ্বর্যের উৎস যাঁর শরীর, সেই আপনাকে আমি আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি। আদিদেব, সকলের হৃদয়ে সাক্ষীস্বরূপ আপনাকে আমি আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি। আপনি নর-নারায়ণ ঋষিরূপে অবতরণ করেছেন। হে ভগবান, আমি আপনাকে আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি। পীতবাস, মরকত মণির মতো শ্যামবর্ণ দেহধারী, লক্ষ্মীদেবীর নিয়ন্তা এবং কেশীহন্তা আপনাকে আমি আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি। হে বরেণ্য! হে বরদশ্রেষ্ঠ! আপনি জীবের সমস্ত বাসনা পূর্ণ করতে পারেন এবং তাই যাঁরা ধীর, তাঁরা তাঁদের নিজেদের মঙ্গলের জন্য আপনার শ্রীপাদপদ্মের ধূলিকণার সেবা করেন। সমস্ত দেবতা এবং লক্ষ্মীদেবী তাঁর শ্রীপাদপদ্মের সেবায় রত। প্রকৃতপক্ষে তাঁরা তাঁর শ্রীপাদপদ্মের সৌরভের প্রতি অত্যন্ত আসক্ত। সেই ভগবান আমার প্রতি প্রসন্ন হোন।”
কশ্যপ মুনি বললেন- “এই মন্ত্রগুলি জপের দ্বারা শ্রদ্ধা সহকারে ভগবানকে আবাহন করে, ( পাদ্য, অর্ঘ্য, আদি) পূজার উপকরণের দ্বরা সেই ভগবান কেশব, ঋষীকেশ অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণকে আরাধনা করবে। প্রথমে দ্বাদশ অক্ষর মন্ত্র জপ করে ফুলের মালা, ধূপ ইত্যাদির দ্বারা অর্চনপূর্বক ভগবান শ্রীবিষ্ণুকে দুধ দিয়ে স্নান করাবে। তারপর বস্ত্র, উপবীত, অলঙ্কার, পাদ্য এবং ধূপগন্ধ আদির দ্বারা পুনরায় তাঁর পূজা করবে। সম্ভব হলে পায়স, ঘৃত ও গুড়ের সঙ্গে শালি অন্ন নিবেদন করে, মূল মন্ত্রের দ্বারা অগ্নিতে আহুতি প্রদান করবে। সেই প্রসাদ ভক্ত বৈষ্ণবকে প্রদান করবে অথবা সেই প্রসাদের কিছু অংশ বৈষ্ণবকে প্রদান করে তারপর স্বয়ং গ্রহণ করবে। তারপর শ্রীবিগ্রহকে আচমন করিয়ে তাম্বূল প্রদান করবে এবং তারপর পুনরায় পূজা করবে। তারপর, একশ আট বার মন্ত্র জপ করে প্রভুর মহিমা স্তব করবে এবং তারপর ভগবানকে প্রদক্ষিণ করে আনন্দের সঙ্গে ভূমিতে দণ্ডবৎ প্রণতি নিবেদন করবে। শ্রীবিগ্রহকে নিবেদিত ফুল এবং জল মস্তকে ধারণ করে, তারপর তা পবিত্র স্থানে নিক্ষেপ করবে। তারপর অন্তত দুজন ব্রাহ্মণকে পায়স ভোজন করাবে। সেই ব্রাহ্মণদের ভোজন করানোর পর যথাযথভাবে তাঁদের সম্মান প্রদর্শন করবে, তারপর তঁদের অনুমতি গ্রহণ করে বন্ধুবান্ধব এবং আত্মীয়-স্বজনদের সহ প্রসাদ গ্রহণ করবে। সেই রাত্রে ব্রহ্মচর্য পালন করবে এবং তার পরের দিন পুনরায় স্নান করে পবিত্র হয়ে শ্রীবিষ্ণুর বিগ্রহকে একাগ্রতা সহকারে দুধ দিয়ে স্নান করাবে এবং পূর্বোক্ত বিধি অনুসারে পূজা করবে। গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তি সহকারে শ্রীবিষ্ণুর পূজা করে এবং কেবলমাত্র দুধ পান করে এই ব্রত পালন করবে এবং পূর্বোক্ত বিধি অনুসারে অগ্নিতে আহুতি প্রদান করবে এবং ব্রাহ্মণদের ভোজন করাবে। প্রতিদিন ভগবানের পূজা, নৈমিত্তিক কর্ম, হোম এবং ব্রাহ্মণ ভোজন করিয়ে, এইভাবে বারো দিন পর্যন্ত এই পয়োব্রত পালন করবে। প্রতিপদ থেকে আরম্ভ করে শুক্লা ত্রয়োদশী পর্যন্ত পূর্ণরূপে ব্রহ্মচর্য পালন করে, ভূমিতে শয়নপূর্বক ত্রিসন্ধ্যা স্নান করে এই ব্রত পালন করবে। এই সময় জড় বিষয় এবং ইন্দ্রিয়সুখ ভোগের অনর্থক আলোচনা করবে না এবং সমস্ত জীবের প্রতি হিংসা রহিত হয়ে ভগবান বাসুদেবের শুদ্ধ ভক্ত হবে। তরপর, শাস্ত্রজ্ঞ ব্রাহ্মণদের সহায়তায় শাস্ত্রবিধি অনুসারে ত্রয়োদশীর দিন পঞ্চামৃতের দ্বারা (দুধ, দৈ, ঘি, চিনি এবং মধু) শ্রীবিষ্ণুকে স্নান করাবে। বিত্তশাঠ্য বর্জন করে, মহা আড়ম্বরে সমস্ত জীবের হৃদয়ে বিরাজমান ভগবান শ্রীবিষ্ণুর পূজা করবে। ঘি, দুধ এবং শস্য দিয়ে চরু প্রস্তুত করে, সমাহিত চিত্তে পুরুষসূক্ত মন্ত্রের দ্বারা ভগবানের আরাধনা করবে এবং বিধি স্বাদযুক্ত নৈবেদ্য ভগবানকে নিবেদন করবে। এইভাবে ভগবানের আরাধনা করবে। বৈদিক শাস্ত্রজ্ঞান-সম্পন্ন আচার্যকে এবং (হোতা, উদ্গাতা, অধ্বর্যু এবং ব্রহ্ম নামক) তাঁর সহকারী পুরোহিতদের বস্ত্র, অলঙ্কার এবং গাভী দান করে সন্তুষ্ট করবে। এটিই বিষ্ণুর আরাধনার পন্থা বলে জানবে।”
“হে পরম পুণ্যবতী, তত্ত্বজ্ঞ আচার্যের নির্দেশ অনুসারে সমস্ত অনুষ্ঠান সম্পাদন করবে এবং আচার্য ও পুরোহিতদের সন্তুষ্টিবিধান করবে। প্রসাদ বিতরণের দ্বারা সেখানে সমাগত ব্রাহ্মণ এবং অন্য সমস্ত প্রাণীদের সন্তুষ্টিবিধান করবে। শ্রীগুরুদেব এবং সহকারী পুরোহিতদের (ঋত্বিকদের) বস্ত্র, অলঙ্কার, গাভী এবং অর্থ দক্ষিণা প্রদান করার দ্বারা সন্তুষ্টিবিধান করবে এবং প্রসাদ বিতরণের দ্বারা সেখানে সমবেত চণ্ডালদের পর্যন্ত সন্তুষ্টিবিধান করবে। দরিদ্র, অন্ধ, কৃপণ প্রভৃতি সকলকে প্রদান বিতরণ করবে। সকলকে বিষ্ণুর প্রসাদ ভোজন করালে ভগবান শ্রীবিষ্ণু অত্যন্ত প্রসন্ন হন। সেই কথা হৃদয়ঙ্গম করে যজ্ঞকর্তা বন্ধুবান্ধব এবং আত্মীয়স্বজন সহ স্বয়ং প্রসাদ গ্রহণ করবেন। প্রতিপদ থেকে ত্রয়োদশী পর্যন্ত প্রতিদিন নৃত্য, গীত, বাদ্য বা স্তুতিপাঠ, স্বস্তিবাচন এবং শ্রীমদ্ভাগবত পাঠের দ্বারা ভগবানের অর্চনা করবে। পয়োব্রত নামে প্রসিদ্ধ এই ব্রতের দ্বারা ভগবানের আরাধনা করা যায়। আমার পিতামহ ব্রহ্মার কাছে আমি তথ্য প্রাপ্ত হয়েছিলাম, এখন আামি তা সবিস্তারে বর্ণনা করলাম।”
“হে পরম সৌভাগ্যবতী, তুমি তোমার মনকে শুদ্ধ চেতনায় স্থির করে, এই পয়োব্রত অনুষ্ঠানের দ্বারা অব্যয় স্বরূপ ভগবান কেশবের ভজনা কর। এই পয়োব্রতকে সর্বযজ্ঞও বলা হয়। অর্থাৎ এই যজ্ঞ অনুষ্ঠানের ফলে আপনা থেকেই অন্য সমস্ত যজ্ঞের অনুষ্ঠান হয়ে যায়। এই সমস্ত ধর্ম অনুষ্ঠানের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। হে ভদ্রে, এটি সমস্ত তপস্যার সার, এটিই দান এবং এটিই ভগবানের প্রসন্নতা বিধানের উপায়। যার দ্বারা অধোক্ষজ ভগবান তুষ্ট হন, তা-ই শ্রেষ্ঠ নিয়ম, শ্রেষ্ঠ তপস্যা, শ্রেষ্ঠ দান, শ্রেষ্ঠ ব্রত ও শ্রেষ্ঠ যজ্ঞ। অতএব, হে কল্যাণী, তুমি এই নিয়ম সহকারে শ্রদ্ধাযুক্ত হয়ে ব্রত আচরণ কর। তার ফলে ভগবান শ্রীঘ্রই তোমার প্রতি প্রসন্ন হয়ে তোমার মনোরথ পূর্ণ করবেন।”
ষোড়শ অধ্যায়- পয়োব্রত
11 Mar 2026 Leave a comment
in অমল পুরান, অষ্টম স্কন্ধ- সৃষ্টির সংবরণ