চতুর্দশ অধ্যায়- ব্রহ্মাণ্ডের ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি

মহারাজ পরীক্ষিৎ বললেন- “হে ভগবন্, হে শুকদেব গোস্বামী, প্রতি মন্বন্তরে মনু আদি যাঁর দ্বারা যে যে কর্মে যেভাবে নিযুক্ত হন, তা আমাকে বলুন।”
শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “হে রাজন্, সমস্ত মনুগণ, মনুপুত্রগণ, মুনিগণ, ইন্দ্রগণ এবং সমস্ত দেবতারাই পরম পুরুষ ভগবানের যজ্ঞ প্রভৃতি অবতারদের নিয়োজিত হন। হে রাজন্, আমি পূর্বেই যজ্ঞ আদি ভগবানের বিভিন্ন অবতারদের বর্ণনা করেছি। মনু এবং অন্যেরা এই অবতারদের দ্বারা মনোনীত হয়ে, তাঁদের নির্দেশনায় ব্রহ্মাণ্ডের কার্যকলাপ পরিচালনা করেন। প্রতি চতুর্যুগের অন্তে মহান ঋষিগণ কালক্রমে সনাতন ধর্ম লুপ্তপ্রায় হতে দেখে ধর্মের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। হে রাজন্, তারপর মনুগণ ভগবানের নির্দেশ অনুসারে পূর্ণরূপে নিযুক্ত হয়ে চতুষ্পাদ ধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। যজ্ঞের ফল ভোগ করার জন্য প্রজাপালকগণ অর্থাৎ মনুর পুত্র এবং পৌত্রেরা মন্বন্তরের অবসান পর্যন্ত ভগবানের নির্দেশ পালন করেন। দেবতারাও সেই সমস্ত যজ্ঞের ভাগ প্রাপ্ত হন। দেবরাজ ইন্দ্র ভগবানের আশীর্বাদ প্রাপ্ত হয়ে এবং তার ফলে অসীম ঐশ্বর্য ভোগ করে সমস্ত লোকে যথেষ্ট বারি বর্ষণ করেন এবং ত্রিভুবনের সমস্ত জীবদের পালন করেন। প্রতিটি যুগে ভগবান শ্রীহরি সনকাদি সিদ্ধদের রূপ ধারণ করে দিব্যজ্ঞান প্রদান করেন, যাজ্ঞবল্ক্য আদি ঋষিরূপ ধারণ করে কর্মের শিক্ষা দেন এবং দত্তাত্রেয় আদি মহাযোগীর রূপ ধারণ করে যোগ শিক্ষা দেন। প্রজাপতি মরীচিরূপে ভগবান প্রজাসৃষ্টি করেন; রাজারূপে তিনি দস্যু-তস্করদের বধ করেন এবং কালরূপে তিনি সব কিছু সংহার করেন। জড় জগতের সমস্ত গুণ ভগবানেরই গুণ বলে বুঝতে হবে। মায়ার দ্বারা বিমোহিত হয়ে জনসাধারণ বিভিন্ন প্রকার গবেষণা এবং দার্শনিক জল্পনা-কল্পনার দ্বারা ভগবৎ-তত্ত্ব নিরূপণ করার চেষ্টা করে, কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা ভগবানকে দেখতে পায় না। এক কল্পে বা ব্রহ্মার একদিকে বহু পরিবর্তন হয়, যেগুলিকে বলা হয় বিকল্প। হে রাজন্, সেগুলি আমি আপনার কাছে পূর্বেই বর্ণনা করেছি। ত্রিকালদর্শী তত্ত্বজ্ঞানীদের মতে ব্রহ্মার একদিনে চোদ্দজন মনুর আবির্ভাব হয়।”

Leave a Reply

March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  

Blog Stats

  • 140,959 hits