দ্বাদশ অধ্যায়- মোহিনীমূর্তির শিব বিমোহন

শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “ভগবান শ্রীহরি স্ত্রীরূপ ধারণ করে অসুরদের মোহিত করে দেবতাদের অমৃত পান করিয়েছেন, সেই কথা শুনে বৃষধ্বজ মহাদেব উমা সহ ভূতগণ পরিবৃত হয়ে ভগবান শ্রীমধুসূদন যেখানে অবস্থান করেন, সেখানে তাঁর মোহিনীরূপ দর্শন করার জন্য গমন করেছিলেন। উমা সহ মহাদেবকে ভগবান সাদরে অভ্যর্থনা করেছিলেন। মহাদেব সুখে উপবেশনপূর্বক ভগবানের পূজা করে হাসতে হাসতে বলেছিলেন, ‘হে দেবদেব, হে জগদ্ব্যাপী, হে জগদীশ, হে জগন্ময়, আপনি সমস্ত বস্তুর মূল নিমিত্ত এবং উপাদান কারণ। আপনি জড় নন। বস্তুতপক্ষে, আপনি সমস্ত চেতনের আত্মা বা পরমাত্মা। অতএব, আপনি পরমেশ্বর অর্থাৎ পরম নিয়ন্তা। হে ভগবান, ব্যক্ত, অব্যক্ত, অহঙ্কার এবং এই জগতের আদি, মধ্য এবং অন্ত সবই আপনার থেকে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু যেহেতু আপনি পরম সত্য, পরমাত্মা এবং পরমব্রহ্ম, তাই জন্ম, মৃত্যু এবং স্থিতি প্রভৃতির পরিবর্তন আপনার মধ্যে নেই। জীবনের চরম লক্ষ্য লাভের অভিলাষী এবং সর্বতোভাবে ইন্দ্রিয়সুখ ভোগের জড় বাসনা রহিত শুদ্ধ ভক্ত বা মহাত্মাগণ নিরন্তর আপনার শ্রীপাদপদ্মের প্রেমময়ী সেবায় যুক্ত থাকেন।’ ”
“হে প্রভু, আপনি পরমব্রহ্ম, সর্বতোভাবে পূর্ণ। সম্পূর্ণরূপে চিন্ময় হওয়ার ফলে আপনি নিত্য, জড়া প্রকৃতির সমস্ত গুণ থেকে মুক্ত এবং পূর্ণ আনন্দময়। প্রকৃতপক্ষে আপনার শোকের কোন প্রশ্নই ওঠে না। যেহেতু আপনি সর্ব-কারণের পরম কারণ, তাই আপনাকে ছাড়া কোন কিছুর অস্তিত্ব থাকতে পারে না। তবুও আমরা কার্য-কারণ সম্পর্কে আপনার থেকে ভিন্ন, কারণ এক দিক দিয়ে দেখতে গেলে কার্য এবং কারণ ভিন্ন। আপনিই সৃষ্টি, স্থিতি এবং বিনাশের আদি কারণ এবং আপনি সমস্ত জীবদের বর প্রদান করেন। সকলেই তার কর্মের ফলের জন্য আপনার উপর নির্ভর করে, কিন্তু আপনি সর্বদাই স্বতন্ত্র। হে ভগবান, আপনি কার্য এবং কারণস্বরূপ। তাই, আপনি দুইরূপে প্রতীত হলেও আপনি এক। স্বর্ণ, স্বর্ণালংকার এবং স্বর্ণখণির মধ্যে যেমন কোন পার্থক্য নেই, তেমনই কার্য এবং কারণের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই; তারা উভয়েই এক। অজ্ঞানতাবশতই মানুষ ভেদ কল্পনা করে থাকে। আপনি সমস্ত জড় কলুষ থেকে মুক্ত এবং যেহেতু সমগ্র জগৎ আপনারই সৃষ্ট এবং আপনাকে ছাড়া তার অস্তিত্ব থাকতে পারে না, তাই তা আপনার চিন্ময় গুণের পরিণাম। অতএব ব্রহ্ম সত্য এবং জগৎ মিথ্যার ধারণা ভ্রান্ত। বৈদান্তিক নামে পরিচিত নির্বিশেষবাদীরা আপনাকে নির্বিশেস ব্রহ্ম বলে মনে করে। মীমাংসক নামক অন্য দার্শনিকেরা আপনাকে ধর্ম বলে মনে করে। সাংখ্য দার্শনিকেরা আপনাকে প্রকৃতি ও পুরুষের অতীত এবং সমস্ত দেবতাদেরও নিয়ন্তা পরম পুরুষ বলে মনে করেন। ভগবদ্ভক্তির মার্গ অনুসরণকারী পাঞ্চরাত্রিকেরা আপনাকে নবশক্তি সমন্বিত বলে মনে করেন এবং পতঞ্জলি মুনির অনুগামী পাতঞ্জল দার্শনিকেরা আপনাকে পরম স্বতন্ত্র, অসমোর্ধ্ব ভগবান বলে মনে করেন। হে ভগবান, আমি মহাদেব, ব্রহ্মা, মরীচি আদি ঋষিগণ সত্ত্বগুণে জন্মগ্রহণ করেছি। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমরা আপনার মায়ার দ্বারা বিমোহিত এবং এই জগৎ যে কি তা বুঝতে পারি না। সুতরাং অসুর, মানুষ আদি অন্য সমস্ত জীবেরা, যারা জড়া প্রকৃতির নিকৃষ্ট গুণে (রজ ও তমোগুণে) রয়েছে, তাদের কথা আর কি বলার আছে? তারা কিভাবে আপনাকে জানতে পারবে? হে ভগবান, আপনি সাক্ষাৎ পরম জ্ঞান। আপনি এই জগৎ সম্বন্ধে এবং তার সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয় সম্বন্ধে সব কিছু জানেন। জীবেরা যে সমস্ত প্রচেষ্টা এই জড় জগতে তার বন্ধন অথবা মুক্তির কারণ, তা সবই আপনি জানেন। বায়ু যেমন বিশাল আকাশে প্রবেশ করে আবার সেই সঙ্গে স্থাবর এবং জঙ্গম সমস্ত শরীরেও প্রবেশ করে, আপনিও তেমন সর্বত্রই বিরাজমান এবং তাই আপনি সব কিছু জানেন।”
“হে ভগবান, আপনার চিন্ময় গুণের প্রভাবে আপনি যে সমস্ত অবতারে প্রকাশিত হয়েছেন তা সবই আমি দর্শন করেছি, কিন্তু সম্প্রতি আপনি যে এক অপরূপ সুন্দরী রমণীরূপ ধারণ করেছিলেন, তা আমি দর্শন করতে ইচ্ছা করি। হে ভগবান! যে রূপের দ্বারা আপনি দৈত্যদের সম্পূর্ণরূপে বিমোহিত করে দেবতাদের অমৃত পান করিয়েছিলেন, আমরা সেই রূপ দর্শন করার বাসনায় এখানে এসেছি। সেই রূপ দর্শন করার জন্য আমাদের অত্যন্ত কৌতূহল হয়েছে।”
শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “শূলপাণি মহাদেব এইভাবে প্রার্থনা করলে, ভগবান শ্রীবিষ্ণু হেসে অত্যন্ত গম্ভীরভাবে মহাদেবকে বললেন, ‘অসুরেরা যখন অমৃতভাণ্ড অপহরণ করেছিল, তখন আমি এক সুন্দরী রমণীর রূপ ধারণপূর্বক তাদের মোহিত করে দেবতাদের কার্যোদ্ধার করেছিলাম। হে সুরসত্তম, যেহেতু আপনি ইচ্ছা করেছেন, তাই আমি আপনাকে কামার্ত ব্যক্তিদের অত্যন্ত আদরণীয় আমার সেই রূপ দেখাব।”
“এই কথা বলতে বলতে ভগবান শ্রীবিষ্ণু তৎক্ষণাৎ সেখান থেকে অন্তর্হিত হয়েছিলেন এবং মহাদেব উমা সহ চতুর্দিকে তাঁর চক্ষু সঞ্চালন করে তাঁকে খুঁজতে লাগলেন। তারপর, নানাবিধ ফুল এবং অরুণবর্ণ পল্লবযুক্ত বৃক্ষশোভিত নিকটবর্তী একটি উপবনে মহাদেব এক অপূর্ব সুন্দরী রমণীকে কন্দুক নিয়ে খেলা করতে দেখলেন। তাঁর নিতম্বদেশ উজ্জ্বল বস্ত্রের দ্বারা আচ্ছাদিত এবং মেখলা শোভিত। সেই কন্দুকের অবক্ষেপণ এবং উৎক্ষেপণ করে সেই রমণীটি যখন খেলছিলেন, তখন তাঁর স্তনদ্বয় কম্পিত হচ্ছিল এবং সেই স্তনের ভারে এবং ভারী ফুলমালার ভারে মনে হচ্ছিল তাঁর দেহের মধ্যভাগ যেন প্রতি পদক্ষেপে ভগ্ন হয়ে যাবে, এইভাবে তিনি তাঁর প্রবালতুল্য কোমল চরণ ইতস্তত সঞ্চালন করছিলেন। সেই রমণীর মুখমণ্ডল আয়ত, সুন্দর, চঞ্চল চক্ষুর দ্বারা সুশোভিত ছিল এবং তাঁর সেই নয়নযুগল কন্দুকের উৎক্ষেপণ এবং অবক্ষেপণের সঙ্গে সঙ্গে ঘুরছিল। দুটি অতি উজ্জ্বল কর্ণকুণ্ডল তাঁর উজ্জ্বল গণ্ডদেশকে নীলাভ প্রতিবিম্বের দ্বারা সুশোভিত করেছিল এবং তাঁর এলোমেলো কেশরাশি তাঁর মুখমণ্ডলকে আরও দর্শনীয় করে তুলেছিল। সেই কন্দুক নিয়ে খেলতে খেলতে তাঁর গায়ের শাড়ি শ্লথ হয়েছিল এবং তাঁর কেশ স্খলিত হয়েছিল। তিনি তাঁর সুন্দর বাম হস্তের দ্বারা তাঁর কেশ বন্ধনের চেষ্টা করেছিলেন এবং সেই সঙ্গে তিনি তাঁর ডন হাত দিয়ে কন্দুকে আঘাত করে সেই কন্দুকটি নিয়ে খেলা করছিলেন। এইভাবে ভগবান তাঁর আত্মমায়ার দ্বারা সারা জগৎ বিমোহিত করেছিলেন।”
“মহাদেব যখন সুন্দরী রমণীটিকে কন্দুক নিয়ে খেলা করতে দেখেছিলেন, তখন সেই রমণীও তাঁর প্রতি কখনও কখনও দৃষ্টিপাত করেছিলেন এবং লজ্জায় ঈষৎ হেসেছিলেন। সেই সুন্দরী রমণীকে নিরীক্ষিণ করে এবং সেই রমণীকে প্রতিনিরীক্ষণ করতে দেখে মহাদেব তাঁর পরমা সুন্দরী পত্নী উমা এবং নিকটস্থ তাঁর পার্ষদদের বিস্মৃত হয়েছিলেন। তাঁর হাত থেকে কন্দুকটি যখন দূরে পতিত হল, তখন সেই রমণী তার পশ্চাদ্ধাবন করেছিলেন। তখন মহাদেবের সমক্ষেই বায়ু হঠাৎ কাঞ্চি সহ তাঁর কটিদেশের সূক্ষ্ম বস্ত্র উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিল। মহাদেব দেখলেন, সেই রমণীর দেহের প্রতিটি অঙ্গ অত্যন্ত সুন্দর এবং সেই সুন্দরী রমণীও তাঁকে নিরীক্ষণ করতে লাগলেন। তাই সেই রমণী তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন বলে মনে করে, মহাদেব তাঁর প্রতি অত্যন্ত আসক্ত হয়েছিলেন। সেই রমণীর সঙ্গে রমণ করার বাসনায় শিব তাঁর জ্ঞান হারিয়ে তাঁকে পাবার জন্য এমনই উন্মত্ত হয়েছিলেন যে, ভবানীর সমক্ষেই তিনি নির্লজ্জভাবে সেই সুন্দরীর কাছে গিয়েছিলেন। সেই সুন্দরী রমণী ইতিমধ্যেই বিবসনা হয়ে পড়েছিলেন এবং তিনি যখন দেখলেন শিব তাঁর দিকে এগিয়ে আসছেন, তখন তিনি অত্যন্ত লজ্জিত হয়ে হাসতে হাসতে বৃক্ষের অন্তরালে লুকিয়েছিলেন; তিনি এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকেননি। মহাদেবের ইন্দ্রিয় তখন অত্যন্ত বিচলিত হয়েছিল। কামান্ধ হস্তী যেভাবে হস্তিনীর প্রতি ধাবিত হয়, মহাদেবও ঠিক সেইভাবে সেই সুন্দরীর প্রতি ধাবিত হয়েছিলেন। অত্যন্ত দ্রুতবেগে তাঁর পশ্চাতে ধাবিত হয়ে, মহাদেব সেই সুন্দরীর চুলের বেণী ধরে তাঁকে কাছে টেনে এনেছিলেন এবং অনিচ্ছুক হলেও তাঁকে তাঁর বাহুর দ্বারা আলিঙ্গন করেছিলেন।”
“হে রাজন্, হস্তীর দ্বারা আলিঙ্গিতা হস্তিনীর মতো সেই ভগবানের যোগমায়া নির্মিতা স্থূল নিতম্বিনী সুন্দরী মহাদেবের দ্বারা আলিঙ্গিতা হয়ে, আলুলায়িত কেশে মহাদেবের বাহুপাশ থেকে নিজেকে মুক্ত করে দ্রুতবেগে পলায়ন করলেন। কামরূপ শত্রুর দ্বারা বিচলিত হয়ে শিব যেন অদ্ভুতকর্মা মোহিনীরূপী বিষ্ণুর পথ অনুসরণ করতে লাগলেন। মত্ত হস্তী যেমন ঋতুমতী হস্তিনীর অনুগমন করে, অমোঘবীর্য মহাদেবও তেমন সেই সুন্দরীর অনুসরণ করতে লাগলেন এবং তখন তাঁর বীর্য স্খলিত হয়েছিল। হে রাজন্, পৃথিবীর যে যে স্থানে মহাত্মা শিবের বীর্য পতিত হয়েছিল, সেই সেই স্থান স্বর্ণ ও রৌপ্য খণিতে পরিণত হয়েছিল। মোহিনীকে অনুসরণ করতে করতে শিব নদী, সরোবর, পর্বত, বন ও উপবনে এবং যেখানে ঋষিগণ অবস্থান করতেন, সেই সমস্ত স্থানে গিয়েছিলেন।”
“হে নৃপশ্রেষ্ঠ মহারাজ পরীক্ষিৎ! মহাদেবের বীর্য সম্পূর্ণরূপে স্খলিত হলে, তিনি দেখেছিলেন কিভাবে তিনি ভগবানের মায়ার বশীভূত হয়েছেন। তখন তিনি সেই মোহ থেকে নিবৃত্ত হয়েছিলেন। এইভাবে শিব নিজের এবং অনন্ত শক্তিমান ভগবানের স্থিতি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। ভগবান শ্রীবিষ্ণুর মোহিনীশক্তি যে তাঁকে এইভাবে মোহিত করেছিল, সেই জন্য তিনি একটুও আশ্চর্য হননি। শিবকে বিচলিত এবং লজ্জিত না হতে দেখে ভগবান মধুসূদন অত্যন্ত প্রসন্ন হয়েছিলেন। তখন তিনি তাঁর স্বরূপ ধারণ করে বলতে লাগলেন, ‘হে দেবশ্রেষ্ঠ, আপনি যদিও আমার স্ত্রীরূপা মায়ার দ্বারা মোহিত হয়েছেন, তবুও আপনি আপনার স্থিতিতেই অধিষ্ঠিত রয়েছেন। অতএব, সর্বতোভাবে আপনার কল্যাণ হোক। হে শম্ভু, এই জড় জগতে আপনি ছাড়া আমার মায়াকে কে অতিক্রম করতে পারে? জীবেরা সাধারণত ইন্দ্রিয়সুখ ভোগের প্রতি আসক্ত এবং তার প্রভাবের দ্বারা পরাভূত। বস্তুতপক্ষে, তাদের পক্ষে মায়ার প্রভাব অতিক্রম করা অত্যন্ত কঠিন। এই বহিরঙ্গা প্রকৃতি মায়া, যে সৃষ্টিকার্যে আমার সহায়তা করে এবং যে প্রকৃতির তিনগুণে প্রকাশিতা, সে আর আপনাকে মোহিত করতে পারবে না।’ ”
শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বরলেন- “হে রাজন্, শ্রীবৎসাঙ্ক ভগবান কর্তৃক এইভাবে প্রশংসিত হয়ে মহাদেব তাঁকে প্রদক্ষিণ করেছিলেন এবং তারপর তাঁর অনুমতি গ্রহণ করে মহাদেব তাঁর পার্ষদ সহ কৈলাসে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। হে ভারত, তারপর শিব সমস্ত মহাজনদের দ্বারা স্বীকৃত বিষ্ণুর শক্তিরূপা তাঁর পত্নী ভবানীকে সম্বোধন করে আনন্দ সহকারে বলতে লাগলেন, ‘হে দেবী, তুমি জন্মরহিত পরদেবতা ও পরম পুরুষ ভগবানের মায়া দর্শন করলে। যদিও আমি তাঁর অংশাবতারদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, তবুও আমি তাঁর মায়ার দ্বারা মোহিত হয়েছি। অতএব যারা সম্পূর্ণরূপে মায়ার আশ্রিত, তাদের আর কি কথা। এক হাজার বছর যোগ অনুষ্ঠান করার পর আমি যখন নিবৃত্ত হয়েছিলাম, তখন তুমি আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলে, আমি কার ধ্যান করছিলাম। ইনিই সেই পুরাণ পুরুষ, যাঁর মধ্যে কাল প্রবেশ করতে পারে না এবং যাঁকে বেদ জানতে পারে না।”
শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “হে রাজন্, ক্ষীরসমুদ্র মন্থনের সময় যিনি তাঁর পৃষ্ঠে বিশাল মন্দর পর্বত ধারণ করেছিলেন, শার্ঙ্গধন্বা সেই ভগবানের পরাক্রমের কথা আমি তোমার কাছে বর্ণনা করলাম। ক্ষীরসমুদ্র মন্থনের এই বর্ণনা যিনি নিরন্তর শ্রবণ করেন অথবা কীর্তন করেন, তাঁর প্রচেষ্টা কখনও নিষ্ফল হয় না। বস্তুতপক্ষে, ভগবানের মহিমা কীর্তনই এই জড় জগতের সমস্ত দুঃখ-দুর্দশার নিবৃত্তি সাধন করে। যিনি যুবতীর রূপ ধারণপূর্বক অসুরদের মোহিত করে, ক্ষীরসমুদ্রের মন্থনের ফলে উৎপন্ন অমৃত দেবতাদের পান করিয়েছিলেন, ভক্ত বাসনাপূর্ণকারী সেই ভগবানকে আমি আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি।”

Leave a Reply

March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  

Blog Stats

  • 140,963 hits