পঞ্চদশ অধ্যায়- সভ্য মানুষদের প্রতি উপদেশ

নারদ মুনি বললেন- “হে রাজন্, কোন কোন ব্রাহ্মণেরা সকাম কর্মের প্রতি অত্যন্ত আসক্ত, কোন ব্রাহ্মণেরা তপস্যার প্রতি আসক্ত এবং অন্য অনেকে বেদ অধ্যয়নে আসক্ত, কিন্তু কয়েকজন, সংখ্যায় অল্প হলেও তাঁরা জ্ঞানের অনুশীলন করেন এবং বিভিন্ন যোগের, বিশেষ করে ভক্তিযোগের অনুশীলন করেন। পিতৃপুরুষদের মুক্তিকামী ব্যক্তি জ্ঞাননিষ্ঠ ব্রাহ্মণদের দান করবেন। এই প্রকার উন্নত ব্রাহ্মণের অভাবে কর্মনিষ্ঠ (কর্মকাণ্ড পরায়ণ) ব্রাহ্মণকে দান করা যেতে পারে। দেবপক্ষে কেবল দুজন ব্রাহ্মণকে নিমন্ত্রণ করা উচিত এবং পিতৃপক্ষে তিনজন ব্রাহ্মণকে নিমন্ত্রণ করা উচিত। অথবা, উভয় পক্ষেই কেবল একজন ব্রাহ্মণকে ভোজন করানোই যথেষ্ট। অত্যন্ত ঐশ্বর্যশালী হলেও এই অনুষ্ঠানে ব্যয়বহুল আয়োজন করা উচিত নয়। শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানের সময় যদি অনেক ব্রাহ্মণ এবং আত্মীয়-স্বজনদের ভোজন করানোর ব্যবস্থা করা হয়, তা হলে দেশ-কালোচিত শ্রদ্ধা, দ্রব্য, পাত্র এবং অর্চনা যথাযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হতে পারে না। শুভল কাল এবং স্থান প্রাপ্ত হলে, শ্রদ্ধা সহকারে ঘি দিয়ে তৈরী অন্ন ভগবানকে নিবেদন করে, তারপর সেই প্রসাদ বৈষ্ণব অথবা ব্রাহ্মণকে নিবেদন করা উচিত। তার ফলে অক্ষয় সমৃদ্ধি লাভ হয়। দেবতা, ঋষি, পিতৃ, সাধারণ মানুষ, আত্মীয়-স্বজন এবং বন্ধু-বান্ধবদের সকলকেই ভগবানের ভক্তরূপে দর্শন করে, প্রসাদ নিবেদন করা উচিত। ধর্মতত্ত্বজ্ঞ ব্যক্তি শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে কখনও মাছ, মাংস, ডিম ইত্যাদি আমিষ নিবেদন করবেন না এবং তিনি যদি ক্ষত্রিয়ও হন, তা হলেও স্বয়ং আমিষ আহার করবেন না। যখন ঘি দিয়ে তৈরী উপযুক্ত খাদ্য সাধুদের নিবেদন করা হয়, তখন পিতৃপুরুষ এবং ভগবান অত্যন্ত প্রসন্ন হন। যজ্ঞের নামে পশুহিংসা করা হলে তাঁরা কখনও প্রসন্ন হন না। যাঁরা শ্রেষ্ঠ ধর্মের মাধ্যমে উন্নতি সাধন করতে চান, তাঁদের অন্য সমস্ত জীবদের প্রতি কায়, মন এবং বাক্যের দ্বারা হিংসা না করতে উপদেশ দেওয়া হয়েছে। তার থেকে শ্রেষ্ঠ ধর্ম আর নেই। আধ্যাত্মিক জ্ঞানের বিকাশের ফলে, যাঁরা যজ্ঞ সম্বন্ধে যথাযথভাবে অবগত, যাঁরা যথার্থই ধর্মতত্ত্ববিদ এবং যাঁরা জড় বাসনা থেকে মুক্ত, তাঁরা আধ্যাত্মিক জ্ঞান বা পরম তত্ত্বজ্ঞানের অগ্নিতে আত্মাকে সংযত করেন। তাঁরা কর্মকাণ্ডীয় অনুষ্ঠান ত্যাগ করতে পারেন। দ্রব্যময় যজ্ঞ অনুষ্ঠানকারী ব্যক্তিকে দর্শন করে যজ্ঞের পশুরা অত্যন্ত ভয়ভীত হয়ে মনে করে, ‘এই নির্দয় যজ্ঞকর্তা যজ্ঞের উদ্দেশ্য সম্বন্ধে নিতান্তই অজ্ঞ। সে অন্যদের বধ করে অত্যন্ত তৃপ্ত হয়। এখন সে নিশ্চয়ই আমাদের হত্যা করবে।’ অতএব, যিনি ধর্মতত্ত্ব সম্বন্ধে যথার্থই অবগত, তিনি নিরীহ পশুদের প্রতি হিংসাপরায়ণ না হয়ে, ভগবানের কৃপায় অনায়াসে যে খাদ্য লাভ হয়, তা দিয়েই প্রতিদিন নিত্য-নৈমিত্তিক কার্য নির্বাহ করবেন।”
“অধর্মের পাঁচটি শাখা- বিধর্ম, পরধর্ম, ধর্মাভাস, উপধর্ম এবং ছলধর্ম। ধর্মজ্ঞ ব্যক্তির অবশ্য এগুলি ত্যাগ করা কর্তব্য। যে ধর্ম স্ব-ধর্মের প্রতিবন্ধক, তাকে বলা হয় বিধর্ম। অন্যের বিহিত ধর্মকে বলা হয় হয় পরধর্ম। বেদের বিরুদ্ধাচরণকারী দাম্ভিক ব্যক্তির দ্বারা সৃষ্ট ধর্মকে বলা হয় উপধর্ম এবং বাক্য-বিন্যাসের দ্বারা অন্যথা ব্যাখ্যাকে বলা হয় ছলধর্ম। মানুষের মনগড়া যে ধর্ম স্বেচ্ছাকৃতভাবে তার কর্তব্য কর্মের অবহেলা করে, তাকে বলা হয় আভাস। মানুষ যদি তার আশ্রম অথবা বর্ণ অনুসারে তার ধর্ম অনুষ্ঠান করে, তা হলে তার সমস্ত দুঃখ নিবৃত্তির জন্য তা যথেষ্ট হবে না কেন?”
“মানুষ দরিদ্র হলেও, জীবন ধারণের জন্য অর্থনৈতিক উন্নতি সাধনের চেষ্টা করা উচিত নয় অথবা বিখ্যাৎ ধর্মবিৎ হওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়। অজগর যেমন এক স্থানে অবস্থান করে, জীবন ধারণের চেষ্টা না করেও আহার প্রাপ্ত হয়, তেমনই নিষ্কাম ব্যক্তিও বিনা প্রচেষ্টায় তাঁর জীবিকা প্রাপ্ত হন। যে ব্যক্তি আত্মতৃপ্ত ও সন্তুষ্ট এবং যিনি তাঁর কার্যকলাপের মাধ্যমে সর্বান্তর্যামী ভগবানের সঙ্গে যুক্ত, তিনি জীবিকা অর্জনের কোন রকম প্রচেষ্টা না করা সত্ত্বেও দিব্য আনন্দ উপভোগ করেন। কাম এবং লোভের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে যে ব্যক্তি ধন সংগ্রহের বাসনায় ইতস্তত ধাবিত হয়, সে কি কখনও সেই আনন্দ উপভোগ করতে পারে? পাদুকা পরিহিত ব্যক্তির যেমন পাথরকুচি এবং কাঁটার উপর দিয়ে হেঁটে গেলেও কোন ক্ষতি হয় না, তেমনই সন্তুষ্টচিত্ত ব্যক্তির কোন ক্লেশ হয় না; বস্তুতপক্ষে তিনি সর্বদাই সুখ অনুভব করেন। হে রাজন্, আত্মতৃপ্ত ব্যক্তি কেবল একটু জল পান করেই সুখে থাকতে পারেন। কিন্তু যে ব্যক্তি তার ইন্দ্রিয়ের দ্বারা চালিত হয়, বিশেষ করে জিহ্বা এবং উপস্থের দ্বারা, তাকে অবশ্যই তার ইন্দ্রিয়তৃপ্তি সাধনের জন্য গৃহপালিত কুকুরের পদ গ্রহণ করতে হয়। যে ভক্ত বা ব্রাহ্মণ আত্মতৃপ্ত নয়, তার আধ্যাত্মিক বল, বিদ্যা, তপস্যা এবং যশ ইন্দ্রিয় লোলুপতার ফলে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং তার জ্ঞানও ক্রমশ বিনষ্ট হয়ে যায়। ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় কাতর ব্যক্তি যখন আহার করেন, তখন তার দেহের প্রবল আকাঙ্ক্ষা এবং প্রয়োজন অবশ্যই তৃপ্ত হয়। তেমনই, ক্রুদ্ধ ব্যক্তির ক্রোধ তিরস্কার এবং তার ফলের দ্বারা শান্ত হয়। কিন্তু লোভী সকল দিক জয় করে অথবা পৃথিবী ভোগ করেও তুষ্ট হতে পারে না।”
“হে মহারাজ যুধিষ্ঠির, বহু অভিজ্ঞতা-সম্পন্ন পণ্ডিত, সংশয়চ্ছেত্তা, বিদ্বান এবং বিদ্বৎ সভায় সভাপতিত্ব করার যোগ্য ব্যক্তিও তাঁদের নিজেদের পদে সন্তুষ্ট না হওয়ার ফলে নারকীয় জীবনে অধঃপতিত হয়েছেন। সঙ্কল্পপূর্বক পরিকল্পনা করে ইন্দ্রিয়সুখ ভোগের বাসনা পরিত্যাগ করা উচিত। তেমনই, হিংসা বর্জনের দ্বারা ক্রোধ, ধন সঞ্চয়ের অনর্থতা দর্শনের দ্বারা লোভ এবং তত্ত্ব বিচারের দ্বারা ভয় বর্জন করা উচিত। আধ্যাত্মিক জ্ঞানের আলোচনার দ্বারা শোক এবং মোহ, মহান ভক্তদের সেবার দ্বারা দম্ভ, মৌন অবলম্বনের দ্বারা যোগের অন্তরায় এবং ইন্দ্রিয়সুখ ভোগের চেষ্টা পরিত্যাগের দ্বারা হিংসা জয় করা যায়। সদাচার এবং অহিংসার দ্বারা অন্য জীব কর্তৃক প্রদত্ত দুঃখ জয় করা উচিত। ধ্যান ও সমাধির দ্বারা দৈব কর্তৃক প্রদত্ত দুঃখ এবং হঠযোগ, প্রাণায়াম ইত্যাদির অভ্যাসের দ্বারা দেহ ও মন জনিত দুঃখ জয় করা উচিত। তেমনই, সত্ত্বগুণের বিকাশের দ্বারা, বিশেষ করে আহারের মাধ্যমে নিদ্রা জয় করা উচিত। সত্ত্বগুণের বিকাশের দ্বারা রজ এবং তমোগুণকে জয় করা কর্তব্য এবং তারপর ঔদাসীন্যের দ্বারা সত্ত্বগুণকে জয় করে, শুদ্ধ সত্ত্বের স্তরে উন্নীত হওয়া উচিত। শ্রদ্ধা সহকারে শ্রীগুরুদেবের সেবা করার দ্বারা তা অনায়াসে সম্ভব হয়। এইভাবে প্রকৃতির গুণের প্রভাব জয় করা যায়।”
“শ্রীগুরুদেবকে সাক্ষাৎ ভগবান বলে মনে করা উচিত, কারণ তিনি দিব্য জ্ঞানরূপ দীপের আলো প্রদান করেন। তাই, যে ব্যক্তি শ্রীগুরুদেবকে একজন সাধারণ মানুষ বলে মনে করে দুর্বুদ্ধি পোষণ করে, তার সর্বনাশ হয়। তার আধ্যাত্মিক উপলব্ধি, বৈদিক শাস্ত্র অধ্যয়ন এবং জ্ঞান হস্তীস্নানের মতো ব্যর্থ হয়। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ প্রধান এবং পুরুষের ঈশ্বর। তাঁর শ্রীপাদপদ্ম ব্যাসদেব আদি যোগেশ্বরদেরও অন্বেষণীয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও মূর্খেরা তাঁকে একজন সাধারণ মানুষ বলে মনে করে। ক্রিয়াকর্মের অনুষ্ঠান, বিধি-নিষেধ, তপস্যা এবং যোগ সাধনের উদ্দেশ্য হচ্ছে মন এবং ইন্দ্রিয়কে সংযত করা, কিন্তু মন এবং ইন্দ্রিয়কে সংযত করার পরেও সে যদি ভগবানের ধ্যান-ধারণা করতে না পারে, তা হলে তার এই সমস্ত কার্যকলাপ ব্যর্থ পরিশ্রম মাত্র। পেশাদারি কার্যকলাপ অথবা ব্যবসা যেমন পারমার্থিক উন্নতি সাধনে সাহায্য না করে কেবল জড় বন্ধনের কারণ হয়, তেমনই বৈদিক কর্মের অনুষ্ঠানের ফলে ভগবদ্বিমুখ অভক্তের কোন লাভ হয় না। যে ব্যক্তি তাঁর মনকে জয় করতে ইচ্ছুক, তাঁর অবশ্য কর্তব্য আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গ ত্যাগ করে, দূষিত সঙ্গ থেকে মুক্ত হয়ে নির্জন স্থানে বাস করা এবং কেবল দেহ ধারণের জন্য মিতাহারী হয়ে, যতটুকু প্রয়োজন কেবল ততটুকু ভিক্ষা করা।”
“হে রাজন্, যোগ অভ্যাস করার জন্য পবিত্র তীর্থস্থানে সমতল ক্ষেত্রে আসন স্থাপন করা উচিত এবং ঋজুভাবে সুখে সেই আসনে উপবেশন-পূর্বক, চিত্ত স্থির করে বৈদিক প্রণব মন্ত্র জপ করা কর্তব্য। নাসিকার অগ্রভাগে দৃষ্টি স্থির করে অভিজ্ঞ যোগী পূরক, কুম্ভক এবং রেচক দ্বারা প্রাণ এবং অপান বায়ুকে সম্পূর্ণরূপে নিরোধ করে মনের সমস্ত বাসনা পরিত্যাগ করবেন। মন যখনই কামের দ্বারা পরাভূত হয়ে ইন্দ্রিয়সুখ ভোগের প্রতি ধাবিত হয়, যোগী তৎক্ষণাৎ তাকে আহরণ করে হৃদয়ের মধ্যে নিরুদ্ধ করবেন। এইভাবে নিয়ত অভ্যাস করার ফলে যোগীর চিত্ত অল্পকালের মধ্যেই ধূম্রবিহীন অগ্নির মতো স্থির এবং অবিচল হয়। চেতনা যখন আর কাম-বাসনার দ্বারা কলুষিত হয় না, তখন তা সমস্ত কার্যকলাপে প্রশান্ত হয়, কারণ তখন নিত্য আনন্দময় জীবনে অধিষ্ঠিত হওয়া যায়। একবার সেই স্তরে অধিষ্ঠিত হলে, আর জড়-জাগতিক কার্যকলাপে ফিরে আসতে হয় না। যে ব্যক্তি সন্ন্যাস গ্রহণ করেন, তিনি জড়-জাগতিক কার্যকলাপের ভিত্তিস্বরূপ ধর্ম, অর্থ এবং কাম, এই ত্রিবর্গের ক্ষেত্র গৃহস্থ-আশ্রম পরিত্যাগ করেন। যে ব্যক্তি সন্ন্যাস গ্রহণ করার পর এই প্রকার জড়-জাগতিক কার্যকলাপে ফিরে আসে, তাকে বলা হয় বান্তাশী, বা যে তার নিজের বমি ভক্ষণ করে। সে অবশ্যই নির্লজ্জ। যে সমস্ত সন্ন্যাসী দেহকে মরণশীল মনে করে এবং চরমে দেহটি বিষ্ঠা, কৃমি অথবা ভস্মে পরিণত হবে বলে মনে করে, কিন্তু পুনরায় দেহের গুরুত্ব দিয়ে তাকে আত্মা বলে তার মহিমা কীর্তন করে, তারা সব চাইতে মূর্খ। গৃহস্থের শাস্ত্রবিহিত ক্রিয়া ত্যাগ, গুরুর তত্ত্বাবদানে অবস্থানকারী ব্রহ্মাচারীর ব্রহ্মচর্যের ব্রত পালন না করা, বানপ্রস্থাশ্রমীর গ্রামে বাস করে তথাকথিত সমাজ-সেবার কাজে যুক্ত হওয়া এবং সন্ন্যাসীর ইন্দ্রিয়সুখ ভোগের প্রতি আসক্তি অত্যন্ত নিন্দনীয়। যে ব্যক্তি এইভাবে আচরণ করে, যে আশ্রমের কলঙ্ক এবং আশ্রমস্থ অন্যের বিড়ম্বনাকারী। এই সমস্ত প্রতারকেরা ভগবানের বহিরঙ্গা শক্তির দ্বারা বিমোহিত এবং তাদের যে কোন পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া উচিত অথবা তাদের প্রতি অনুকম্পাপূর্বক সম্ভব হলে শিক্ষা দেওয়া উচিত, যাতে তারা তাদের মূল পদে পুনরায় অধিষ্ঠিত হতে পারে।”
“মনুষ্য-শরীরের উদ্দেশ্য হচ্ছে আত্মা এবং পরমাত্মা ভগবানকে জানা। তাঁরা উভয়েই চিন্ময় স্তরে অবস্থিত। উন্নত জ্ঞানের প্রভাবে নির্মল হলে তাঁদের উভয়কেই জানা যায়। অতএব মূর্খ এবং লোভী ব্যক্তি কি কারণে এবং কার ইন্দ্রিয়তৃপ্তি সাধনের উদ্দেশ্যে তার দে ধারণ করছে? অধ্যাত্মবাদী জ্ঞানীরা ভগবানের সৃষ্ট শরীরটিকে একটি রথের সঙ্গে তুলনা করেন। ইন্দ্রিয়গুলি তার অশ্ব; ইন্দ্রিয়াধিপতি মন তার লাগাম; ইন্দ্রিয়ের বিষয় গন্তব্যস্থল; বুদ্ধি হচ্ছে সারথি; এবং সারা শরীর জুড়ে ব্যাপ্ত চেতনা এই বন্ধনের কারণ। দেহাভ্যন্তরস্থ দশটি বায়ু সেই রথের চাকার অক্ষ, সেই চাকার উপরিভাগ ও নিম্নভাগ ধর্ম এবং অধর্ম, দেহাত্মবুদ্ধি সমন্বিত জীব সেই রথের রথী, বৈদিক মন্ত্র প্রণব হচ্ছে ধনুক, শুদ্ধ জীব স্বয়ং বাণ এবং ভগবান হচ্ছেন লক্ষ্য।”
“বদ্ধ অবস্থায় মানুষের জীবন কখনও রজ ও তমোগুণের দ্বারা কলুষিত হয় এবং তার প্রকাশ হয় রাগ, দ্বেষ, লোভ, মোহ, শোক, ভয়, মদ, মান, অপমান, অসূয়া, মায়া, হিংসা, মাৎসর্য, অসহিষ্ণুতা, প্রমাদ, ক্ষুধা ও নিদ্রার মাধ্যমে। এগুলি জীবের শত্রু। কখনও কখনও মানুষের ধারণা সত্ত্বগুণের দ্বারাও কলুষিত হয়। মানুষকে যতক্ষণ বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সমন্বিত জড় শরীর গ্রহণ করতে হয়, যা সম্পূর্ণরূপে তার নিয়ন্ত্রণাধীন নয়, ততক্ষণ শ্রীগুরুদেব এবং শ্রীগুরুদেবের পূর্বতন আচার্যদের আশ্রয় প্রাপ্ত হওয়া অবশ্য কর্তব্য। তাঁদের কৃপায় মানুষ তার জ্ঞানরূপ তরবারিকে শাণিত করতে পারে এবং ভগবানের কৃপারূপ শক্তির দ্বারা উপরোক্ত শত্রুদের পরাভূত করতে পারে। এইভাবে ভগবদ্ভক্ত স্বীয় আনন্দে তুষ্ট হয়ে, দেহত্যাগ করে তাঁর চিন্ময় স্বরূপে পুনরায় অধিষ্ঠিত হতে পারেন। পক্ষান্তরে, কেউ যদি অচ্যুত এবং বলদেবের আশ্রয় গ্রহণ না করে, তা হলে তার অশ্বসদৃশ ইন্দ্রিয়গুলি এবং সারথিরূপী বুদ্ধি, উভয়েই জড় কলুষের দ্বারা কলুষিত হওয়ার প্রবণতার ফলে, অসাবধান দেহরূপ রথটিকে প্রবৃত্তি মার্গে নিযে যাবে। এইভাবে যখন সে আহার, নিদ্রা এবং মৈথুনরূপ বিষয়-দস্যুর দ্বারা পুনরায় আকৃষ্ট হয়, তখন সেই দস্যুরা অশ্ব এবং সারথি সহ তাকে সংসাররূপ অন্ধকূপে নিক্ষেপ করে এবং সে তখন পুনরায় অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং ভয়ঙ্কর জন্ম-মৃত্যুর চক্রে পতিত হয়।”
“বেদবিহিত কর্ম দুই প্রকার- প্রবৃত্তি এবং নিবৃত্তি। প্রবৃত্তি কর্ম অনুষ্ঠানের দ্বারা নিম্নস্তরের জীবন থেকে উচ্চস্তরের জীবনে উন্নতি সাধন হয়, আর নিবৃত্তির দ্বারা জড় বাসনার নিবারণ হয়। প্রবৃত্তি কর্মের দ্বারা জড় জগতের বন্ধন ভোগ করতে হয়, কিন্তু নিবৃত্তির দ্বারা শুদ্ধ হয়ে নিত্য আনন্দময় জীবন উপভোগ করা যায়। অগ্নিহোত্র-যজ্ঞ, দর্শ-যজ্ঞ, পূর্ণমাস-যজ্ঞ, চাতুর্মাস্য-যজ্ঞ, পশু-যজ্ঞ এবং সোম-যজ্ঞ আদি সমস্ত যজ্ঞ অনুষ্ঠান পশুহত্যা এবং শস্য আদি মূল্যবান সামগ্রী দহন করার দ্বারা সম্পাদিত হয় এবং সেই সবই জড় বাসনা চরিতার্থ করার জন্য এবং তার ফলে অশান্তিরই সৃষ্টি হয়। এই প্রকার যজ্ঞ অনুষ্ঠান, বৈশ্বদেব পূজা এবং বলিহরণ অনুষ্ঠান, যেগুলিকে জীবনের উদ্দেশ্য বলে মনে করা হয় এবং দেবালয় নির্মাণ, পান্থশালা এবং উদ্যান নির্মাণ, পানীয় জল বিতরণের জন্য কূপ খনন, খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র স্থাপন এবং জনসাধারণের কল্যাণের জন্য বিভিন্ন কার্যের অনুষ্ঠান- এই সবই জড় বিষয়ের প্রতি আসক্তিরই লক্ষণ।”
হে মহারাজ যুধিষ্ঠির, কেউ যখন ঘি মিশ্রিত শস্য, যথা যব ও তিল যজ্ঞাগ্নিতে আহুতিরূপে নিবেদন করে, তখন তা দিব্য ধূমে পরিণত হয়, যা তাকে ধূমা, রাত্রি, কৃষ্ণপক্ষ, দক্ষিণায়ন এবং চরমে চন্দ্রে নিয়ে যায়। তারপর যজ্ঞকর্তা পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন করে ওষধি, লতা এবং শস্যে পরিণত হয়। সেগুলি বিভিন্ন জীব আহার করার ফলে তা তাদের বীর্যে পরিণত হয়, যা স্ত্রীশরীরে প্রবিষ্ট হয়। এইভাবে বার বার তার জন্ম হয়। গর্ভাদান সংস্কারের দ্বারা ব্রাহ্মণ (দ্বিজ) তাঁর পিতা-মাতার কৃপায় তাঁর দেহ প্রাপ্ত হন। এই গর্ভাদান থেকে শুরু করে জীবনের শেষে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পর্যন্ত মানুষকে পবিত্র করার জন্য আরও সংস্কার রয়েছে। এইভাবে পবিত্র হওয়ার ফলে, যোগ্য ব্রাহ্মণ জড়-জাগতিক কার্যকলাপ যজ্ঞ অনুষ্ঠানের প্রতি উদাসীন হন এবং পূর্ণজ্ঞানে ইন্দ্রিয়যজ্ঞে জ্ঞানাগ্নির আলোকে উদ্ভাসিত কর্মেন্দ্রিয়গুলিকে আহুতি দেন।”
“মন সর্বদা সঙ্কল্প এবং বিকল্পের তরঙ্গে বিক্ষুব্ধ। তাই ইন্দ্রিয়ের সমস্ত কার্যকলাপ মনকে নিবেদন করা উচিত, তারপর মনকে বাক্যে নিবেদন করা উচিত, বাক্যকে বর্ণসমুদয়ে, বর্ণসমুদয়কে ওঙ্কারে, ওঙ্কারকে বিন্দুতে, বিন্দুকে নাদে, নাদকে প্রাণে, তারপর অবশিষ্ট জীবকে ব্রহ্মে নিবেদন করা উচিত। এটিই যজ্ঞের পন্থা। ঊর্ধ্বগামী জীব ক্রমশ অগ্নি, সূর্য, দিবা, সন্ধ্যা, শুক্লপক্ষ, পূর্ণিমা, উত্তরায়ন এবং তাদের দেবতাদের প্রাপ্ত হন। তারপর জীব যখন ব্রহ্মলোকে প্রবেশ করেন, তখন তিনি কোটি কোটি বৎসর দীর্ঘ আয়ু প্রাপ্ত হন এবং অবশেষে তাঁর স্থূল জড় উপাধির সমাপ্তি হয়। তিনি তখন সূক্ষ্ম উপাধি প্রাপ্ত হন। তারপর সেই সূক্ষ্ম উপাধিকে কারণে লয় করে তিনি কারণ উপাধি প্রাপ্ত হন। তখন তিনি তাঁর পূর্বের অবস্থা সাক্ষীরূপে দর্শন করেন। সেই কারণ উপাধি লয় করে তিনি তাঁর বিশুদ্ধ অবস্থা প্রাপ্ত হন, যে অবস্থায় তিনি পরমাত্মার সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তিতে তাঁর পরিচয় দর্শন করেন। এইভাবে জীব চিন্ময়ত্ব লাভ করেন। অধ্যাত্মিক উন্নতি সাধনের এই পন্থা তাঁদের জন্য, যাঁরা যথার্থই পরম সত্যকে উপলব্ধি করেছেন। দেবযান নামক এই মার্গে বার বার জন্মগ্রহণ করার পর, মানুষ এই ক্রমোন্নতির স্তরগুলি প্রাপ্ত হন। যিনি আত্মস্থ হওয়ার ফলে সমস্ত জড় বাসনা থেকে সর্বতোভাবে মুক্ত, তাঁকে বার বার জন্ম-মৃত্যুর মার্গে বিচরণ করতে হয় না। যে ব্যক্তি পিতৃযান এবং দেবযান মার্গ পূর্ণরূপে অবগত এবং বৈদিক জ্ঞানের প্রভাবে যাঁর চক্ষু উন্মীলিত হয়েছে, তিনি জড় শরীরে অবস্থান করলেও কখনও মোহাচ্ছন্ন হন না। যিনি সব কিছুর এবং সমস্ত জীবের অন্তরে এবং বাইরে, আদিতে এবং অন্তে, ভোগ্য এবং ভোক্তা, উৎকৃষ্ট এবং নিকৃষ্ট, তিনিই পরম সত্য। তিনি সর্বদাই জ্ঞান এবং জ্ঞেয়রূপে, বাচক ও বাচ্যরূপে এবং অহঙ্কার ও আলোকরূপে বর্তমান। এইভাবে পরমেশ্বর ভগবান সব কিছু। দর্পণে সূর্যের প্রতিবিম্বকে মিথ্যা বলে মনে করা হলেও যেমন তার প্রকৃত অস্তিত্ব রয়েছে, তেমনই কল্পনাপ্রসূত জ্ঞানের দ্বারা বাস্তববলে কিছু নেই, সেই কথা প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন হবে। এই জগতে পাঁচটি উপাদান রয়েছে- মাটি, জল, আগুন, বায়ু এবং আকাশ, কিন্তু শরীরে সেগুলির প্রতিবিম্ব নয় অথবা সেগুলির সমন্বয় বা বিকারও নয়। যেহেতু শরীর ও তার উপাদানগুলি পৃথক নয় অথবা সমন্বিত নয়, তাই এই সমস্ত মতবাদ নিতান্তই ভিত্তিহীন। দেহ যেহেতু পঞ্চভূতের দ্বারা গঠিত, তাই সূক্ষ্ম তন্মাত্ররূপ অবয়ব ব্যতিরেকে তার অস্তিত্ব থাকতে পারে না। অতএব যেহেতু দেহ মিথ্যা, ইন্দ্রিয়ের বিষয়গুলিও স্বভাবতই মিথ্যা বা অনিত্য। যখন কোন বস্তুকে তার অংশ থেকে আলাদা করে দেওয়া হয়, তখন তাদের সাদৃশ্য স্বীকার করা হলে তাকে ভ্রম বলা হয়। মানুষ যখন স্বপ্ন দেখে, তখন সে জাগরণ এবং নিদ্রার মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে। এই প্রকার মানসিক অবস্থাতে বিধি-নিষেধ সমন্বিত শাস্ত্র-নির্দেশের ব্যবস্থা হয়েছে। ভাব, ক্রিয়া এবং দ্রব্যের অদ্বৈত (একত্ব) বিবেচনা করে এবং আত্মাকে সমস্ত কার্য এবং কারণ থেকে পৃথক বলে উপলব্ধি করে, মুনি তাঁর উপলব্ধি অনুসারে জাগ্রত, স্বপ্ন এবং সুযুপ্তি, এই তিনটি অবস্থা পরিত্যাগ করবেন। মানুষ যখন বুঝতে পারে যে, কার্য ও কারণ এক এবং তাদের ভেদ বস্ত্রের তন্তু ও বস্ত্রকে ভিন্ন বলে মনে করার মতো চরমে অবাস্তব, তখন এই একত্বের বিচারকে বলা হয় ভাবাদ্বৈত। হে মহারাজ যুধিষ্ঠির (পার্থ), যখন মন, বাক্য এবং শরীরের দ্বারা অনুষ্ঠিত সমস্ত কর্ম সাক্ষাৎ ভগবানের সেবায় সমর্পণ করা হয়, তাকে ক্রিয়াদ্বৈত বলে। যখন নিজের, পত্নীর, পুত্রের, আত্মীয়-স্বজনদের এবং অন্য সমস্ত জীবদের স্বার্থ এক হয়, তাকে বলা হয় দ্রব্যাদ্বৈত। হে মহারাজ যুধিষ্ঠির, সাধারণ অবস্থায়, যখন কোন বিপদের সম্ভাবনা থাকে না, তখন মানুষের কর্তব্য তার জীবনের স্তর অনুসারে অনিষিদ্ধ বস্তু, প্রচেষ্টা, উপায় এবং স্থানে তার বিহিত কার্যকলাপ সম্পাদন করা, অন্য কোন উপায়ে নয়।”
“হে রাজন্, এই সমস্ত নির্দেশ অনুসারে এবং বেদের অন্যান্য নির্দেশ অনুসারে স্বধর্ম অনুষ্ঠান করা উচিত, যাতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ভক্ত হওয়া যায়। তার ফলে, গৃহে অবস্থান কালেও জীবনের চরম লক্ষ্যে উপনীত হওয়া যায়। হে মহারাজ যুধিষ্ঠির, ভগবানের প্রতি আপনাদের সেবার ফলে আপনারা পাণ্ডবেরা, অসংখ্য রাজা এবং দেবতাদের দ্বারা সৃষ্ট মহা বিপদ থেকে উদ্ধার লাভ করেছেন। শ্রীকৃষ্ণের শ্রীপাদপদ্মের সেবা করার দ্বারা আপনি দিগ্ হস্তীর মতো মহা বলবান শত্রুদের জয় করে যজ্ঞের উপকরণ আহরণ করেছেন। ভগবানের কৃপায় আপনি ভব-বন্ধন থেকে মুক্ত হোন। বহুকাল পূর্বে, অন্য এক মহাকল্পে (ব্র্রহ্মার কল্পে), আমি উপবর্হণ নামক এক গন্ধর্ব ছিলাম। অন্য গন্ধর্বেরা আমাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করত। আমার মুখমণ্ডল ছিল অত্যন্ত সুন্দর এবং দেহের গঠন ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয়। ফুলমালা এবং চন্দনে অলঙ্কৃত আমি পুর-স্ত্রীদের অত্যন্ত প্রিয় ছিলাম। তার ফলে মোহাচ্ছন্ন হয়ে আমি সর্বদা কামোন্মত্ত ছিলাম। এক সময় দেবতাদের সভায় ভগবানের মহিমা কীর্তনের এক সংকীর্তন উৎসব হয়েছিল এবং প্রজাপতিরা সেই উৎসবে যোগদান করার জন্য গন্ধর্ব এবং অপ্সরাদের নিমন্ত্রণ করেছিলেন।”
নারদ মুনি বললেন- “সেই উৎসবে নিমন্ত্রিত হয়ে আমিও স্ত্রীগণ পরিবৃত হয়ে সেখানে গিয়ে দেবতাদের মহিমা গাইতে শুরু করেছিলাম। তার ফলে ব্রহ্মাণ্ডের অধ্যক্ষ প্রজাপতিগণ প্রবলভাবে আমাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন- ‘তোমার এই অপরাধের ফলে, তুমি এক্ষুণি তোমার সৌন্দর্য রহিত হয়ে শূদ্ররূপে জন্মগ্রহণ কর।’ যদিও আমি দাসীর গর্ভে শূদ্ররূপে জন্মগ্রহণ করেছিলাম, তবুও বেদজ্ঞ বৈষ্ণবদের সেবা করার ফলে আমি এই জন্মে ব্রহ্মার পুত্ররূপে জন্মগ্রহণ করার সৌভাগ্য অর্জন করেছি। ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করার পন্থা এমনই শক্তিশালী যে, তার প্রভাবে গৃহস্থেরাও অনায়াসে সেই চরম ফল লাভ করতে পারেন, যা সন্ন্যাসীদের প্রাপ্য। হে মহারাজ যুধিষ্ঠির, আমি এখন আপনার কাছে ধর্মের সেই পন্থা বর্ণনা করলাম।”
“হে মহারাজ যুধিষ্ঠির, এই জগতে আপনারা পাণ্ডবগণ এতই ভাগ্যবান যে, সমগ্র ব্রহ্মাণ্ড পবিত্র করতে পারেন যে-সমস্ত মহর্ষিগণ, তাঁরা আপনাদের দর্শন করার জন্য আপনাদের গৃহে আসেন। অধিকন্তু, পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ঠিক আপনার ভাইয়ের মতো আপনাদের গৃহে অত্যন্ত গূঢ়রূপে অবস্থান করছেন। আহা কি আশ্চর্যের বিষয়! মহান ঋষিরা মুক্তি এবং চিন্ময় আনন্দ লাভের জন্য যাঁর অন্বেষণ করেন, সেই পরব্রহ্ম ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আপনাদের পরম শুভাকাঙ্ক্ষী, সুহৃৎ, মাতুলপুত্র, আত্মা, পূজনীয় পরিচালক এবং গুরুরূপে আচরণ করছেন। সেই পরমেশ্বর ভগবান এখন এখানে উপস্থিত, যাঁর রূপ ব্রহ্মা শিব আদি মহাপুরুষেরাও বুঝতে পারেন না। ভক্তদের নিষ্ঠাপূর্ণ আত্ম-সমর্পণের জন্য তিনি তাঁদের দ্বারা উপলব্ধ হন। সেই পরমেশ্বর ভগবান, যিনি তাঁর ভক্তদের পালক এবং যিনি মৌনতা, ভক্তি এবং জড় কার্যকলাপের নিবৃত্তের দ্বারা পূজিত হন, তিনি আমাদের প্রতি প্রসন্ন হোন।”
শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “ভরত-কুলশ্রেষ্ঠ মহারাজ যুধিষ্ঠির নারদ মুনির বর্ণনা থেকে এইভাবে সব কিছু জানতে পেরেছিলেন। তাঁর উপদেশ শ্রবণ করার পর তিনি অন্তরে গভীর আনন্দ অনুভব করেছিলেন এবং ভগবৎ-প্রেমে বিহ্বল হয়ে তিনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পূজা করেছিলেন। শ্রীকৃষ্ণ এবং মহারাজ যুধিষ্ঠিরের দ্বারা পূজিত হয়ে, নারদ মুনি তাঁদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সেখান থেকে প্রস্থান করেছিলেন। মাতুলপুত্র শ্রীকৃষ্ণ যে পরমেশ্বর ভগবান, সেই কথা শুনে যুধিষ্ঠির মহারাজ বিস্ময়ে হতবাক্ হয়েছিলেন। এই ব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত গ্রহলোকে দেবতা, অসুর, মনুষ্য আদি চর এবং অচর বিভিন্ন প্রকার জীব রয়েছে। তারা সকলে মহারাজ দক্ষের কন্যা থেকে উৎপন্ন হয়েছে। আমি তাদের সম্বন্ধে এবং তাদের বিভিন্ন বংশ সম্বন্ধে বর্ণনা করলাম।”

Leave a Reply

February 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
232425262728  

Blog Stats

  • 140,959 hits