ষোড়শ অধ্যায়- ভগবানের সঙ্গে রাজা চিত্রকেতুর সাক্ষাৎকার

শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “হে মহারাজ পরীক্ষিৎ, দেবর্ষি নারদ যোগবলে মৃত রাজপুত্রকে শোকাকুল আত্মীয়স্বজনদের প্রত্যক্ষগোচর করিয়ে বলেছিলেন- হে জীবাত্মা, তোমার মঙ্গল হোক। তোমার শোকে অত্যন্ত পরিতপ্ত তোমার মাতা-পিতা, সুহৃদ ও আত্মীয়স্বজন দর্শন কর। যেহেতু তোমার অকালমৃত্যু হয়েছে, তাই তোমার আয়ু এখনও অবশিষ্ট রয়েছে। অতএব তুমি পুনরায় তোমার দেহে প্রবেশ করে বন্ধুবান্ধব এবং আত্মীয়স্বজন পরিবৃত হয়ে অবশিষ্ট আয়ুষ্কাল ভোগ কর। তোমার পিতৃপ্রদত্ত রাজসিংহাসন এবং সমস্ত ঐশ্বর্য গ্রহণ কর।”
নারদ মুনির যোগবলে জীবাত্মা কিছুকালের জন্য তঁর মৃত শরীরে পুনঃপ্রবেশ করে, নারদ মুনির অনুরোধের উত্তরে বলেছিলেন- “আমি আমার কর্মের ফলে এক দেহ থেকে আর এক দেহে দেহান্তরিত হচ্ছি। কখনও দেবযোনিতে, কখনও নিম্নস্তরের পশুযোনিতে, কখনও বৃক্ষলতারূপে এবং কখনও মনুষ্য-যোনিতে ভ্রমণ করছি। অতএব, কোন্ জন্মে এঁরা আমার মাতা-পিতা ছিলেন? প্রকৃতপক্ষে কেউই আমার মাতা-পিতা নন। আমি কিভাবে এই দুই ব্যক্তিকে আমার পিতা এবং মাতারূপে গ্রহণ করতে পারি? সমস্ত জীবদের নিয়ে নদীর মতো প্রবহমান এই জড় জগতে সকলেই কালের প্রভাবে পরস্পরে বন্ধু, আত্মীয়, শত্রু, নিরপেক্ষ, মিত্র, উদাসীন, বিদ্বেষী আদি বহু সম্পর্কে সম্পর্কিত হয়। এই সমস্ত সম্পর্ক সত্ত্বেও কেউই প্রকৃতপক্ষ কারও সঙ্গে নিত্য সম্পর্কে সম্পর্কিত নয়। স্বর্ণ আদি ক্রয়-বিক্রয়যোগ্য বস্তু যেমন একজনের কাছ থেকে আর এক জনের কাছে স্থানান্তরিত হয়, তেমনই জীব তার কর্মফলের প্রভাবে একের পর এক বিভিন্ন প্রকার পিতার দ্বারা বিভিন্ন যোনিতে সঞ্চারিত হয়ে ব্রহ্মান্ডের সর্বত্র পরিভ্রমণ করছে। অল্প কিছু সংখ্যক জীব মনুষ্য যোনিতে জন্মগ্রহণ করে এবং বহু জীব পশু যোনিতে জন্মগ্রহণ করে। যদিও উভয়েই জীব, তবুও তাদের সম্পর্ক অনিত্য। একটি পশু কিছুকালের জন্য কোন মানুষের অধিকারে থাকতে পারে এবং তারপর সেই পশুটি অন্য কোন মানুষের অধিকারে হস্তান্তরিত হতে পারে। যখন পশুটি চলে যায়, তখন আর পূর্বের মালিকের তার উপর মমত্ব থাকে না। যতক্ষণ পর্যন্ত পশুটি তার অধিকারে থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত তার প্রতি তার মমত্ব থাকে, কিন্তু পশুটি বিক্রি করে দেওয়ার পরে, সেই মমত্ব শেষ হয়ে যায়। এক জীব যদিও দেহের ভিত্তিতে অন্য জীবের সম্বন্ধ যুক্ত হয়, তবু সেই সম্পর্ক নশ্বর, কিন্তু জীব নিত্য। প্রকৃতপক্ষে দেহের জন্ম হয় অথবা মৃত্যু হয়, জীবের হয় না। কখনও মনে করা উচিত নয় যে, জীবের জন্ম হয়েছে অথবা মৃত্যু হয়েছে। তথাকথিত পিতা-মাতার সঙ্গে জীবের প্রকৃত কোন সম্পর্ক নেই। যতক্ষণ পর্যন্ত সে তার পূর্বকৃত কর্মের ফলস্বরূপ কোন বিশেষ পিতা এবং মাতার পুত্র বলে নিজেকে মনে করে, ততক্ষণ পর্যন্তই সেই পিতা-মাতা প্রদত্ত শরীরের সঙ্গে তার সম্পর্ক থাকে। এইভাবে সে ভ্রান্তভাবে নিজেকে তাদের পুত্র বলে মনে করে তাদের প্রতি স্নেহপূর্ণ আচরণ করে। কিন্তু তার মৃত্যুর পর সেই সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়। তাই এই সম্পর্কের ভিত্তিতে ভ্রান্তভাবে হর্ষ এবং বিষাদে জড়িয়ে পড়া উচিত নয়। জীব নিত্য এবং অবিনশ্বর, কারণ তার আদি নেই এবং অন্ত নেই। তার কখনও জন্ম হয় না অথবা মৃত্যু হয় না। সেই সর্বপ্রকার দেহের মূল কারণ, তবু সে কোন দেহের অন্তর্ভুক্ত নয়। জীব এতই মহিমান্বিত যে, সে গুণগতভাবে ভগবানের সমান। কিন্তু যেহেতু সে অত্যন্ত ক্ষুদ্র, তাই সে ভগবানের বহিরঙ্গা শক্তি মায়ার দ্বারা মোহিত হতে পারে এবং তার ফলে সে তার বাসনা অনুসারে নিজের জন্য বিভিন্ন প্রকার দেহ সৃষ্টি করে। এই আত্মর কেউই প্রিয় অথবা অপ্রিয় নয়। সে আপন এবং পরের পার্থক্য দর্শন করে না। সে এক, অর্থাৎ সে শত্রু অথবা মিত্র, শুভাকাঙ্ক্ষী অথবা অনিষ্টকারীর দ্বৈত ভাবের দ্বারা প্রভাবিত হয় না। সে কেবল অন্যদের গুণের দ্রষ্টা এবং সাক্ষী। পরম ঈশ্বর (আত্মা) কার্য ও কারণের স্রষ্টা, কর্মফল-জনিত সুখ এবং দুঃখ গ্রহণ করেন না। জড় দেহ গ্রহণ করার ব্যাপারে তিনি সম্পূর্ণরূপে স্বতন্ত্র এবং যেহেতু তাঁর জড় শরীর নেই, তাই তিনি সর্বদা নিরপেক্ষ। জীব তাঁর বিভিন্ন অংশ হওয়ার ফলে, তাঁর গুণগুলি অত্যন্ত অল্পমাত্রায় জীবের মধ্যেও রয়েছে। তাই শোকের দ্বারা প্রভাবিত হওয়া উচিত নয়।”
শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “মহারাজ চিত্রকেতুর পুত্ররূপী জীব এইভাবে বলে চলে গেলে, চিত্রকেতু এবং মৃত বালকের অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনেরা অত্যন্ত বিস্মিত হয়েছিলেন। এইভাবে তাঁরা তাঁদের স্নেহরূপ শৃঙ্খল ছেদন করে শোক পরিত্যাগ করেছিলেন। আত্মীয়স্বজনেরা মৃত বালকের দেহটির দাহ সংস্কার সম্পন্ন করে শোক, মোহ, ভয় এবং দুঃখ প্রাপ্তির কারণ-স্বরূপ স্নেহ পরিত্যাগ করেছিলেন। এই প্রকার স্নেহ পরিত্যাগ করা অত্যন্ত কঠিন, কিন্তু তাঁরা অনায়াসে তা করেছিলেন। মহারাণী কৃতদ্যুতির সপত্নীরা যারা শিশুটিকে বিষ প্রদান করেছিল, তারা অত্যন্ত লজ্জিত হয়েছিল এবং সেই পাপের ফলে হতপ্রভ হয়েছিল। হে রাজন্, অঙ্গিরার উপদেশ স্মরণ করে তারা পুত্র কামনা পরিত্যাগ করেছিল। ব্রাহ্মণদের নির্দেশ অনুসারে তারা যমুনার জলে স্নান করে সেই পাপের প্রায়শ্চিত্ত করেছিল। ব্রহ্মজ্ঞানী অঙ্গিরা এবং নারদ মুনির উপদেশে রাজা চিত্রকেতু পূর্ণরূপে আধ্যাত্মিক জ্ঞান লাভ করেছিলেন। হস্তী যেমন সরোবরের পঙ্ক থেকে নির্গত হয়, রাজা চিত্রকেতুও তেমন গৃহরূপ অন্ধকূপ থেকে নির্গত হয়েছিলেন। তারপর রাজা যমুনার জলে বিধিপূর্বক স্নান করে দেবতা এবং পিতৃদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করেছিলেন। তারপর অত্যন্ত গম্ভীরভাবে তাঁর মন এবং ইন্দ্রিয় সংযত করে ব্রহ্মার দুই পুত্র অঙ্গিরা এবং নারদের বন্দনা করেছিলেন এবং প্রণাম করেছিলেন। তারপর, ভগবান নারদ শরণাগত জিতেন্দ্রিয় ভক্ত চিত্রকেতুর প্রতি অত্যন্ত প্রসন্ন হয়ে, তাঁকে এই দিব্য জ্ঞান উপদেশ করেছিলেন।”
“(নারদ মুনি চিত্রকেতুকে এই মন্ত্রটি প্রদান করেছিলেন।) হে প্রণবাত্মক ভগবান, আমি আপনাকে আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি। হে বাসুদেব, আমি আপনার ধ্যান করি, হে প্রদ্যুম্ন, অনিরুদ্ধ এবং সঙ্কর্ষণ, আমি আপনাকে আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি। হে চিৎ-শক্তির উৎস, হে পরম আনন্দময়, হে আত্মারাম, হে শান্ত, আমি আপনাকে আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি। হে পরম সত্য, হে এক এবং অদ্বিতীয়, আপনি ব্রহ্ম, পরমাত্মা ও ভগবানরূপে উপলব্ধ হন এবং তাই আপনি সমস্ত জ্ঞানের উৎস। আমি আপনাকে আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি। আপনি আপনার স্বরূপভূত আনন্দের অনুভূতির দ্বারা সর্বদা মায়ার তরঙ্গের অতীত। তাই, হে প্রভু, আমি আপনাকে আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি। আপনি সমগ্র ইন্দ্রিয়ের অধিষ্ঠাতা হৃষীকেশ, আপনি অনন্ত মূর্তি ও মহান এবং তাই আপনাকে আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি। বদ্ধ জীবের বাণী এবং মন ভগবানকে প্রাপ্ত হতে পারে না, কারণ জড় নাম এবং রূপ সম্পূর্ণভাবে চিন্ময় ভগবানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তিনি সমস্ত স্থূল এবং সূক্ষ্ম ধারণার অতীত। নির্বিশেষ ব্রহ্ম তাঁর আর একটি রূপ। তিনি আমাদের রক্ষা করুন। মৃন্ময় পাত্র যেমন মৃত্তিকা থেকে উৎপন্ন হয়ে মৃত্তিকাতেই অবস্থান করে এবং ভেঙে গেলে পুনরায় মৃত্তিকাতেই লীন হয়, তেমনই এই জগৎ পরমব্রহ্মের দ্বারা সৃষ্টি হয়েছে, পরমব্রহ্মে অবস্থান করছে এবং সেই পরমব্রহ্মেই বিলীন হয়ে যাবে। অতএব, ভগবান যেহেতু সেই ব্রহ্মেরও কারণ, আমরা তাঁকে আমাদের সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি। ব্রহ্ম ভগবান থেকে উদ্ভূত এবং আকাশের মতো ব্যাপ্ত। যদিও জড় পদার্থের সঙ্গে তার কোন সংস্পর্শ নেই, তবু তা সব কিছুর অন্তরে এবং বাইরে বিরাজ করে। মন, বুদ্ধি, ইন্দ্রিয় এবং প্রাণ তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না বা জানতে পারে না। তাঁকে আমি আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি। লৌহ যেমন অগ্নির সংস্পর্শে তপ্ত হয়ে অন্য বস্তুকে দহন করার সামর্থ্য লাভ করে, তেমনই দেহ, ইন্দ্রিয়, প্রাণ, মন এবং বুদ্ধি, জড় হলেও ভগবানের চৈতন্য অংশের দ্বারা আবিষ্ট হয়ে নিজ নিজ কর্মে প্রবৃত্ত হয়। অগ্নির দ্বারা তপ্ত না হলে লৌহ যেমন দহন করতে পারে না, দেহের ইন্দ্রিয়গুলিও তেমন পরমব্রহ্মের দ্বারা অনুগৃহীত না হলে কর্ম করতে পারে না।”
“হে গুণাতীত ভগবান, আপনি চিৎ-জগতের সর্বোচ্চ লোকে বিরাজ করেন। আপনার পাদপদ্ম-যুগল সর্বদা সর্বশ্রেষ্ঠ ভক্তদের কমলকলি-সদৃশ হস্তের দ্বারা সেবিত। আপনি ষড়ৈশ্বর্যপূর্ণ ভগবান। পুরুষসূক্ত স্তবে আপনাকে পরমপুরুষ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। আপনি পরম পূর্ণ এবং সমস্ত যোগ-বিভূতির অধিপতি। আমি আপনাকে আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি।”
শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “চিত্রকেতু সর্বতোভাবে তাঁর শরণাগত হয়েছিলেন বলে, নারদ মুনি তাঁকে শিষ্যত্বে বরণ করে, তাঁরা গুরুরূপে এই বিদ্যা উপদেশ দিয়ে মহর্ষি অঙ্গিরার সঙ্গে ব্রহ্মার লোকে গমন করেছিলেন। চিত্রকেতু কেবল জলপান করে, অতি সাবধানতা সহকারে নারদ মুনির দেওয়া সেই মন্ত্র এক সপ্তাহ ধরে জপ করেছিলেন।”
“হে মহারাজ পরীক্ষিৎ, চিত্রকেতু তাঁর গুরুদেবের কাছ থেকে প্রাপ্ত সেই মন্ত্র কেবলমাত্র সাত দিন জপ করার ফলে, সেই মন্ত্রজপের গৌণ ফলস্বরূপ বিদ্যাধর-লোকের আধিপত্য লাভ করেছিলেন। তারপর, কয়েক দিনের মধ্যে সেই মন্ত্র সাধনের ফলে, চিত্রকেতুর মন দিব্য জ্ঞানের প্রভাবে প্রদীপ্ত হয়েছিল এবং তিনি দেবদেব অনন্তদেবের শ্রীপাদপদ্মে আশ্রয় লাভ করেছিলেন। ভগবান অনন্ত শেষের শ্রীপাদপদ্মের আশ্রয়ে উপনীত হয়ে চিত্রকেতু দেখেছিলেন যে, তাঁর অঙ্গকান্তি শ্বেতপদ্মের মতো শুভ্র, তিনি নীলাম্বর পরিহিত এবং অতি উজ্জ্বল মুকুট, কেয়ূর, কটিসূত্র এবং কঙ্কণে সুশোভিত। তাঁর মুখমণ্ডল প্রসন্ন হাসিতে উদ্ভাসিত এবং তাঁর নয়ন অরুণবর্ণ। তিনি সনৎকুমার আদি মুক্ত পুরুষ দ্বারা পরিবৃত। ভগবানকে দর্শন করা মাত্রই মহারাজ চিত্রকেতুর সমস্ত পাপ বিধৌত হয়েছিল এবং তাঁর অন্তঃকরণ নির্মল হওয়ার ফলে তিনি তাঁর স্বরূপগত কৃষ্ণভক্তি প্রাপ্ত হয়েছিলেন। তখন তিনি মৌনভাবে প্রেমাশ্রু বর্ষণ করতে করতে হর্ষে রোমাঞ্চিত হয়ে, ঐকান্তিক ভক্তি সহকারে আদি পুরুষ সঙ্কর্ষণকে প্রণাম করেছিলেন। চিত্রকেতু তাঁর প্রেমাশ্রু ধারায় ভগবানের পাদপদ্ম-তলের আসন বার বার অভিষিক্ত করতে লাগলেন। প্রেমে গদ্‌গদ-কন্ঠে ভগবানের উপযুক্ত প্রার্থনার বর্ণ উচ্চারণ করতে অসমর্থ হওয়ায়, অনেকক্ষণ পর্যন্ত তাঁর স্তব করতে পারলেন না। তারপর, তাঁর বুদ্ধির দ্বারা মনকে বশীভূত করে এবং ইন্দ্রিসমূহের বাহ্যবৃত্তি নিরোধপূর্বক পুনরায় বাক্‌শক্তি লাভ করে সেই চিত্রকেতু ব্রহ্মসংহিতা, নারদপঞ্চরাত্র আদি ভক্তিশাস্ত্রের (সাত্বত সংহিতার) মূর্তরূপ জগদ্্গুরু ভগবানের স্তব করে বলেছিলেন, ‘হে অজিত ভগবান, যদিও আপনি অন্যের দ্বারা অজিত, তবু আপনার যে ভক্ত তাঁর মন এবং ইন্দ্রিয় সংযত করেছেন, তাঁর দ্বারা আপনি বিজিত হন। তাঁরা আপনাকে তাঁদের অধীনে রাখতে পারেন, কারণ যে ভক্তেরা আপনার কাছে কোন জড়-জাগতিক লাভেন বাসনা করেন না, তাঁদের প্রতি আপনি অহৈতুকী কৃপাপরায়ণ। প্রকৃতপক্ষে সেই নিষ্কাম ভক্তদের আপনি আত্মদান করেন, সেই জন্য আপনিও আপনার সেই ভক্তদের সম্পূর্ণরূপে বশীভূত করেছেন। হে ভগবান, জগতের সৃষ্টি, স্থিতি, লয় ইত্যাদি আপনারই বৈভব। ব্রহ্মা আদি অন্যান্য স্রষ্টারা আপনারই অংশের অংশ। তাঁদের মধ্যে যে সৃষ্টি করার আংশিক শক্তি রয়েছে, তা তাঁদের ঈশ্বরে পরিণত করে না। স্বতন্ত্র ঈশ্বর বলে তাঁদের যে অভিমান, তা বৃথা। এই জগতে পরমাণু থেকে শুরু করে, বিশাল ব্রহ্মাণ্ড এবং মহত্তত্ত্ব পর্যন্ত সব কিছুরই আদি, মধ্য এবং অন্তে আপনি বর্তমান রয়েছেন। অথচ, আপনি আদি, অন্ত এবং মধ্য রহিত সনাতন। এই তিনটি অবস্থাতেই আপনার অবস্থা উপলব্ধি করা যায় বলে আপনি নিত্য। যখন জগতের অস্তিত্ব থাকে না, তখন আপনি আদি শক্তিরূপে বিদ্যমান থাকেন। প্রতিটি ব্রহ্মাণ্ড মাটি, জল, আগুন, বায়ু, আকাশ মহত্তত্ত্ব এবং অহঙ্কার- এই সাতটি আবরণের দ্বারা আচ্ছাদিত এবং প্রতিটি আবরণ পূর্ববর্তীটির থেকে দশগুণ অধিক। এই ব্রহ্মাণ্ডটি ছাড়া আরও কোটি কোটি ব্রহ্মাণ্ড রয়েছে এবং সেগুলি আপনার মধ্যে পরমাণুর মতো পরিভ্রমণ করছে। তাই আপনি অনন্ত নামে প্রসিদ্ধ।’ ”
“হে পরমেশ্বর ভগবান, যে সমস্ত বুদ্ধিহীন ব্যক্তিরা জড় সুখভোগের পিপাসু এবং দেব-দেবীদের উপাসনা করে, তারা নরপশুতুল্য। তাদের পাশবিক প্রবণতার ফলে, তারা আপনার আরাধনা না করে নগণ্য দেবতাদের উপাসনা করে, যাঁরা আপনার বিভূতির কণিকা-সদৃশ। সমস্ত ব্রহ্মাণ্ড যখন লয় হয়ে যায়, তখন দেবতা সহ তাদের প্রদত্ত আশীর্বাদও বিনষ্ট হয়ে যায়, ঠিক যেভাবে রাজা ক্ষমতাচ্যুত হলে, তাঁর অনুগৃহীত ব্যক্তিদের ভোগ্যসমূহও নষ্ট হয়ে যায়। হে পরমেশ্বর, কেউ যদি জড় ঐশ্বর্যের মাধ্যমে ইন্দ্রিয়সুখ ভোগের বাসনার বশেও সমস্ত জ্ঞানের উৎস এবং নির্গুণ আপনার উপাসনা করে, তা হলে দগ্ধ বীজ থেকে অঙ্কুর জন্মায় না, তেমনই তাদেরও আর পুনরায় এই জড় জগতে জন্মগ্রহণ করতে হয় না। জড়া প্রকৃতির বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ফলেই জীবকে জন্ম-মৃত্যুর চক্রে আবর্তিত হতে হয়। কিন্তু আপনি যেহেতু জড়া প্রকৃতির অতীত, তাই যে নির্গুণ স্তরে আপনার সঙ্গ করে সেও জড়া প্রকৃতির বন্ধন থেকে মুক্ত হয়। হে অজিত, আপনি যখন আপনার শ্রীপাদপদ্মের আশ্রয় লাভের পন্থাস্বরূপ নিষ্কলুষ ভাগবত-ধর্ম বলেছিলেন, তখন আপনার বিজয় হয়েছিল। চতুঃ সনদের মতো জড় বাসনাযুক্ত আত্মরামেরাও জড় কলুষ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য আপনার আরাধনা করেন। অর্থাৎ, আপনার শ্রীপাদপদ্মের আশ্রয় লাভের জন্য তাঁরা ভাগবত-ধর্মের পন্থা অবলম্বন করেন। ভাগবত-ধর্ম ব্যতীত অন্য সমস্ত ধর্ম বিরুদ্ধে ভাবনায় পূর্ণ হওয়ার ফলে, সকাম কর্ম এবং “তুমি ও আমি” এবং “তোমার ও আমার” এই প্রকার বিরুদ্ধ ধারণা সমন্বিত। শ্রীমদ্ভাগবতের অনুগামীদের এই প্রকার বিষম বুদ্ধি নেই। তাঁরা সকলেই কৃষ্ণভাবনায় এবং তাঁরা সব সময় মনে করেন যে, তাঁরা শ্রীকৃষ্ণের এবং শ্রীকৃষ্ণ তাঁদের। যে সমস্ত নিম্নস্তরের ধর্ম শত্রুসংহার এবং যোগশক্তি লাভের জন্য সাধিত হয়, তা কাম এবং বিদ্বেষে পূর্ণ হওয়ার ফলে অশুদ্ধ এবং নশ্বর। যেহেতু সেগুলি হিংসাপরায়ণ, তাই সেগুলি অধর্মে পূর্ণ। যে ধর্ম নিজের প্রতি এবং অন্যের প্রতি বিদ্বেষ সৃষ্টি করে, সেই ধর্ম কিভাবে নিজের অথবা অন্যের মঙ্গলজনক হতে পারে? এই প্রকার ধর্ম অনুশীলন করার ফলে কি কল্যাণ হতে পারে? তার ফলে কি কখনও কোন লাভ হতে পারে? আত্মদ্রোহী হয়ে নিজের আত্মাকে কষ্ট দিয়ে এবং অন্যদের কষ্ট দিয়ে, তারা আপনার ক্রোধ উৎপাদন করে এবং অধর্ম আচরণ করে।”
“হে ভগবান, আপনার যে দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে শ্রীমদ্ভাগবত এবং ভগবদ্‌গীতায় মানুষের ধর্ম উপদিষ্ট হয়েছে, সেই দৃষ্টি কখনও জীবনের চরম উদ্দেশ্য থেকে বিচলিত হয় না। যাঁরা আপনার পরিচালনায় সেই ধর্ম অনুশীলন করেন, তাঁরা স্থাবর এবং জঙ্গম সমস্ত জীবের প্রতিই সমদৃষ্টি-সম্পন্ন এবং তাঁরা কখনও উচ্চ-নিচ বিচার করেন না। তাঁদের বলা হয় আর্য। এই প্রকার শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরা পরমেশ্বর ভগবান আপনারই উপাসনা করেন। হে ভগবান, আপনার দর্শনে যে মানুষের অখিল পাপ নাশ হয়, তা অসম্ভব নয়। আপনার দর্শনের কি কথা, কেবল একবার মাত্র আপনার পবিত্র নাম শ্রবণ করলে, সব চাইতে নিকৃষ্ট চণ্ডাল পর্যন্ত জড় জগতের সমস্ত কলুষ থেকে মুক্ত হয়। অতএব, আপনাকে দর্শন করে কে না জড় জগতের কলুষ থেকে মুক্ত হবে? অতএব, হে ভগবান, আপনাকে দর্শন করেই আমার অন্তরের সমস্ত পাপ এবং তার ফলস্বরূপ জড় আসক্তি ও কামবাসনা অপসারিত হয়েছে। আপনার ভক্ত দেবর্ষি নারদ যা বলেছিলেন তার কখনও অন্যথা হতে পারে না। অর্থাৎ তাঁর শিক্ষার ফলে আমি আপনার দর্শন পেলাম। হে অনন্ত, এই সংসারে জীবেরা যা আচরণ করে তা আপনার সুবিদিত, কারণ আপনি পরমাত্মা। সূর্যের উপস্থিতিতে জোনাকি পোকা যেমন কিছুই প্রকাশ করতে পারে না, তেমনই, আপনি যেহেতু সব কিছুই জানেন, তাই আপনার উপস্থিতিতে আমার পক্ষে জানাবার মতো কিছুই নেই। হে ভগবান, আপনি সমস্ত জগতের সৃষ্টি, স্থিতি এবং প্রলয়ের কর্তা, কিন্তু যারা অত্যন্ত বিষয়াসক্ত এবং সর্বদা ভেদ দৃষ্টি সমন্বিত, আপনাকে দর্শন করার চক্ষু তাদের নেই। তারা আপনার প্রকৃত তত্ত্ব অবগত হতে পারে না এবং তাই তারা মনে করে যে, এই জড় জগত আপনার ঐশ্বর্য থেকে স্বতন্ত্র। হে ভগবান, আপনি পরম পবিত্র এবং ষড়ৈশ্বর্যপূর্ণ। তাই আমি আপনাকে আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি। হে ভগবান, আপনি চেষ্টা যুক্ত হলে তারপর ব্রহ্মা, ইন্দ্র আদি জড় জগতের অন্যান্য অধ্যক্ষেরা তাঁদের নিজ নিজ কার্যে যুক্ত হয়। জড়া প্রকৃতিকে আপনি দর্শন করার পর জ্ঞানেন্দ্রিয়গুলি অনুভব করতে শুরু করে। আপনার শিরোদেশে সমস্ত ব্রহ্মাণ্ড সর্ষপের মতো বিরাজ করে। সেই সহস্রশীর্ষ ভগবান আপনাকে আমি আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি।”
শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “হে কুরুশ্রেষ্ঠ মহারাজ পরীক্ষিৎ, বিদ্যাধরপতি চিত্রকেতুর স্তবে অত্যন্ত প্রসন্ন হয়ে ভগবান অনন্তদেব তাঁকে বলেছিলেন, ‘হে রাজন্, দেবর্ষি নারদ এবং অঙ্গিরা তোমাকে আমার সম্বন্ধে যে তত্ত্বজ্ঞান উপদেশ দিয়েছেন, সেই দিব্য জ্ঞানের ফলে এবং আমার দর্শন প্রভাবে তুমি সম্পূর্ণরূপে সিদ্ধ হয়েছ। স্থাবর এবং জঙ্গম সমস্ত জীব আমারই প্রকাশ এবং তারা আমার থেকে ভিন্ন। আমিই সমস্ত জীবের পরমাত্মা এবং আমি প্রকাশ করি বলে তাদের অস্তিত্ব রয়েছে। আমিই ওঁকার এবং হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্ররূপে শব্দব্রহ্ম এবং আমিই পরমব্রহ্ম। আমার এই দুটি রূপ- যথা শব্দব্রহ্ম এবং বিগ্রহরূপে আমার সচ্চিদানন্দঘন তনু আমার শাশ্বত স্বরূপ; সেগুলি জড় নয়। বদ্ধ জীব এই জড় জগৎকে সুখভোগের সাধন বলে মনে করে এই জড় জগতে ভোক্তারূপে ব্যাপ্ত। তেমনই, জড় জগৎ জীবাত্মাতে ভোগ্যরূপে ব্যপ্ত। কিন্তু যেহেতু তারা উভয়েই আমার শক্তি, তাই তারা আমার দ্বারা ব্যাপ্ত। পরমেশ্বররূপে আমি এই উভয় কার্যেরই কারণ। তাই জানা উচিত তারা উভয়েই আমাতে অবস্থিত। কোন ব্যক্তি যখন গভীর নিদ্রায় নিদ্রিত হয়, তখন সে গিরি, নদী, এমন কি সমগ্র বিশ্ব দূরস্থ হলেও নিজের মধ্যে দর্শন করে, কিন্তু জেগে উঠলে দেখতে পায় যে, সে একটি মানুষরূপে তার শয্যায় এক স্থানে শায়িত রয়েছে। তখন সে নিজেকে কোন বিশেষ জাতি, পরিবার ইত্যাদির অন্তর্ভুক্তরূপে বিভিন্ন অবস্থায় দেখতে পায়। সুযুপ্তি, স্বপ্ন এবং জাগরণ- এই অবস্থাগুলি ভগবানেরই মায়া মাত্র। মানুষের সর্বদা মনে রাখা উচিত, এই সমস্ত অবস্থার আদি স্রষ্টা হচ্ছেন পরমেশ্বর ভগবান, যিনি সেগুলির দ্বারা প্রভাবিত হন না। যে সর্বব্যাপ্ত পরমাত্মার মাধ্যমে নিদ্রিত ব্যক্তি তার স্বপ্নাবস্থা এবং অতীন্দ্রিয় সুখ জানতে পারে, আমাকেই সেই পরমব্রহ্ম বলে জেনো। অর্থাৎ, আমিই সুপ্ত জীবাত্মার কার্যকলাপের কারণ। নিদ্রিত অবস্থায় স্বপ্নে দৃষ্ট বিষয় যদি কেবল পরমাত্মাই দেখে থাকেন, তা হলে পরমাত্মা থেকে ভিন্ন জীবাত্মা কিভাবে সেই স্বপ্নের বিষয় স্মরণ রাখে? এক ব্যক্তির অভিজ্ঞতা অন্য ব্যক্তি বুঝতে পারে না। অতএব জ্ঞাতা জীব, যে স্বপ্ন এবং জাগ্রত অবস্থায় প্রকাশিত ঘটনাবলী সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করে, সে কার্য থেকে পৃথক। সেই জ্ঞানই হচ্ছে ব্রহ্ম। অর্থাৎ, জানবার ক্ষমতা জীব এবং পরমাত্মা উভয়ের মধ্যে রয়েছে। অতএব জীবও স্বপ্ন এবং জাগ্রত অবস্থার অভিজ্ঞতা উপলব্ধি করতে পারে। উভয় স্তরেই জ্ঞাতা অপরিবর্তিত এবং গুণগতভাবে পরমব্রহ্মের সঙ্গে এক। জীবাত্মা যখন নিজেকে আমার থেকে ভিন্ন বলে মনে করে, সচ্চিদানন্দময় স্বরূপে সে যে আমার সঙ্গে গুণগতভাবে এক তা বিস্মৃত হয়, তখন তার জড়-জাগতিক সংসার-জীবন শুরু হয়। অর্থাৎ, আমার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ার পরিবর্তে সে স্ত্রী, পুত্র, বিত্ত ইত্যাদি দৈহিক সম্পর্কে সম্পর্কিত হয়। এইভাবে সে তার কর্মের প্রভাবে এক দেহ থেকে আর এক দেহে এবং এক মৃত্যু থেকে আর এক মৃত্যুতে পরিভ্রমণ করে। বৈদিক জ্ঞান এবং তার ব্যবহারিক প্রয়োগের দ্বারা মানুষ সিদ্ধিলাভ করতে পারে। পুণ্য ভারত-ভূমিতে যারা মনুষ্যজন্ম লাভ করেছে, তাদের পক্ষে তা বিশেষভাবে সম্ভব। এই প্রকার অনুকূল অবস্থা লাভ করা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি তার আত্মার স্বরূপ উপলব্ধি করতে পারে না, সে স্বর্গলোকে উন্নীত হলেও পরম সিদ্ধি লাভ করতে পারে না। কর্মক্ষেত্রে সকাম কর্ম অনুষ্ঠান করার ফলে যে মহাক্লেশ প্রাপ্তি হয় সেই কথা মনে রেখে এবং লৌকিক ও বৈদিক কাম্য কর্ম থেকে যে বিপরীত ফল লাভ হয়, সেই কথা স্মরণ করে বুদ্ধিমান ব্যক্তি সকাম কর্মের বাসনা পরিত্যাগ করবেন, কারণ এই প্রকার প্রচেষ্টার ফলে জীবনের চরম উদ্দেশ্য সাধিত হয় না। পক্ষান্তরে কেউ যদি নিষ্কামভাবে কর্ম করেন, অর্থাৎ ভগবানের সেবায় যুক্ত হন, তা হলে তিনি জড় জগতের সমস্ত ক্লেশ থেকে মুক্ত হয়ে জীবনের চরম সিদ্ধি লাভ করতে পারেন। সেই কথা স্মরণ করে জ্ঞানীজন জড় বাসনা পরিত্যাগ করবেন। পুরুষ ও স্ত্রী উভয়েই সুখ লাভ এবং দুঃখ নিবৃত্তির জন্য নানা প্রকার কর্ম করে, কিন্তু তাদের সেই সমস্ত কার্যকলাপ সকাম বলে তা থেকে কখনও সুখ প্রাপ্তি হয় না এবং দুঃখের নিবৃত্তি হয় না। পক্ষান্তরে, সেগুলি মহা দুঃখেরই কারণ হয়।’ ”
“মানুষের বোঝা উচিত যে, যারা তাদের জড়-জাগতিক অভিজ্ঞতার গর্বে গর্বিত হয়ে কর্ম করে, তাদের জাগ্রত, স্বপ্ন এবং সুযুপ্তির অবস্থায় তাদের যে ধারণা তার বিপরীত ফল লাভ হয়। অধিকন্তু তাদের জানা উচিত যে, জড়বাদীর পক্ষে আত্মাকে জানা অত্যন্ত কঠিন এবং তা এই সমস্ত অবস্থার অতীত। বিবেক বলে বর্তমান জীবনে এবং পরবর্তী জীবনে সমস্ত ফলের আমার পরিত্যাগ করা উচিত। এইভাবে দিব্য জ্ঞান লাভ করে এবং উপলব্ধি করে আমার ভক্ত হওয়া উচিত। যাঁরা জীবনের চরম উদ্দেশ্য সাধন করতে চান, তাঁদের কর্তব্য পূর্ণ এবং অংশরূপে গুণগতভাবে এক পরমেশ্বর ভগবান এবং জীবের তত্ত্ব ভালভাবে নিরীক্ষণ করা। সেটিই জীবনের পরম পুরুষার্থ, তার থেকে শ্রেষ্ঠ আর কোন পুরুষার্থ নেই। হে রাজন্, তুমি যদি জড় সুখভোগের প্রতি অনাসক্ত হয়ে শ্রদ্ধা সহকারে আমার এই উপদেশ গ্রহণ কর, তা হলে জ্ঞান এবং বিজ্ঞান সম্পন্ন হয়ে আমাকে প্রাপ্ত হওয়ার পরম সিদ্ধি লাভ করবে।”
শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “ভগবান জগদ্‌গুরু বিশ্বাত্মা সঙ্কর্ষণ এইভাবে চিত্রকেতুকে সিদ্ধি লাভের আশ্বাস প্রদান করে, তাঁর সমক্ষেই সেখান থেকে অন্তর্হিত হলেন।”

Leave a Reply

January 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  

Blog Stats

  • 140,963 hits