ঊনবিংশতি অধ্যায়- পৃথু মহারাজের শত অশ্বমেধ যজ্ঞ

মহর্ষি মৈত্রেয় বললেন- “হে প্রিয় বিদুর! স্বায়ম্ভুব মনুর ক্ষেত্র ব্রহ্মাবর্তে, যেখানে সরস্বতী নদী পূর্ববাহিনী হয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, সেখানে পৃথু মহারাজ শত অশ্বমেধ যজ্ঞ অনুষ্ঠানের জন্য দীক্ষিত হয়েছিলেন। মহা শক্তিশালী দেবরাজ ইন্দ্র যখন তা দেখলেন, তখন তিনি বিবেচনা করেছিলেন যে, সকাম কর্ম অনুষ্ঠানে পৃথু মহারাজ তাঁকে অতিক্রম করবেন। তাই পৃথু মহারাজের সেই মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠান তাঁর কাছে অসহ্য হয়েছিল। পরমেশ্বর ভগবান শ্রীবিষ্ণু সকলের হৃদয়ে পরমাত্মারূপে বিরাজমান এবং তিনি সমস্ত গ্রহলোকের অধীশ্বর ও সমস্ত যজ্ঞের ভোক্তা। তিনি স্বয়ং পৃথু মহারাজের যজ্ঞে উপস্থিত ছিলেন। ভগবান বিষ্ণু যখন যজ্ঞস্থলে আবির্ভূত হয়েছিলেন, তখন ব্রহ্মা, শিব, লোকপালগণ এবং তাঁদের অনুচরেরাও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। যখন তিনি সেখানে আবির্ভূত হয়েছিলেন, তখন গন্ধর্ব, ঋষি এবং অপ্সরারা তাঁর যশকীর্তন করছিলেন। সিদ্ধ, বিদ্যাধর, দৈত্য, দানব, যক্ষরাও ভগবানের সঙ্গে ছিলেন। তাঁর সঙ্গে সুনন্দ, নন্দ আদি মুখ্য পার্ষদেরাও ছিলেন। সর্বদা ভগবানের সেবা করতে উৎসুক মহান ভক্তগণ এবং কপিল, নারদ, দত্তাত্রেয় প্রমুখ মহর্ষিগণ ও সনকাদি যোগেশ্বরগণ, সকলেই ভগবান শ্রীবিষ্ণুর সঙ্গে সেই মহান যজ্ঞে যোগদান করেছিলেন।”
“হে বিদুর! সেই মহাযজ্ঞে সমগ্র ভূমি কামধেনুর মতো হয়েছিল এবং সেই যজ্ঞ অনুষ্ঠানের ফলে, সকলের দৈনন্দিন জীবনের সমস্ত আবশ্যকতাগুলি পূর্ণ হয়েছিল। বহমান নদীসমূহ মধুর, কষায়, অম্ল ইত্যাদি সমস্ত রস বহন করেছিল এবং বিশাল বৃক্ষসমূহ প্রচুর পরিমাণে ফল ও মধু উৎপাদন করেছিল। পর্যাপ্ত পরিমাণে সবুজ ঘাস খেয়ে, গাভীরা প্রচুর পরিমানে দুধ, দই, ঘি এবং অন্যান্য সমস্ত আবশ্যকীয় বস্তুসমূহ প্রদান করেছিল। সমুদ্র নানা প্রকার মূল্যবান রত্নসমূহে পূর্ণ ছিল, পর্বত ধাতুতে পূর্ণ ছিল এবং তার জমি ছিল অত্যন্ত উর্বর এবং তাতে চতুর্বিধ খাদ্যসামগ্রী প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হচ্ছিল। তখন বিভিন্ন গ্রহলোকের লোকপালগণ ও জনসাধারণ পৃথু মহারাজের জন্য নানা প্রকার উপহার নিয়ে সেখানে এসেছিলেন। পৃথু মহারাজ অধোক্ষজ ভগবানের আশ্রিত ছিলেন। বহু যজ্ঞ অনুষ্ঠান করার ফলে, পৃথু মহারাজ ভগবানের কৃপায় অলৌকিক উৎকর্ষ লাভ করেছিলেন। কিন্তু পৃথু মহারাজের এই ঐশ্বর্য সহ্য করতে না পেরে দেবরাজ ইন্দ্র তাঁর প্রতি মাৎসর্য-পরায়ণ হয়ে, তাঁর যজ্ঞে বিঘ্ন উৎপাদন করার চেষ্টা করেছিলেন। পৃথু মহারাজ যখন শেষ অশ্বমেধ যজ্ঞটি অনুষ্ঠান করছিলেন, তখন ইন্দ্র সকলের অলক্ষ্যে যজ্ঞাশ্বটি অপহরণ করেন। পৃথু মহারাজের প্রতি অত্যন্ত মাৎসর্য-পরায়ণ হয়ে, তিনি তা করেছিলেন। ইন্দ্র যখন ঘোড়াটি চুরি করে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি মুক্ত পুরুষের বেশ ধারণ করেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে সেই বেশ ছিল এক প্রকার প্রতারণা, কারণ তখন তাঁর আচরণ ভ্রমবশত ধর্মাচরণ বলে মনে হয়েছিল। ইন্দ্র যখন আকাশমার্গে এইভাবে পলায়ন করছিলেন, তখন মহর্ষি অত্রি তাঁকে দেখতে পান এবং সমস্ত ঘটনা সম্বন্ধে অবগত হন। মহর্ষি অত্রি যখন পৃথু মহারাজের পুত্রকে ইন্দ্রের ছলনার কথা জানান, তখন সেই পরম বীর অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে “দাঁড়াও! দাঁড়াও!” বলতে বলতে তাঁকে অনুসরণ করেছিলেন। ইন্দ্রকে জটাধারী ও ভস্মাচ্ছাদিত দেখে, পৃথুর পুত্র তাঁকে একজন ধর্মাত্মা ও পবিত্র সন্ন্যাসী বলে মনে করেছিলেন এবং তাই তিনি তাঁর প্রতি বাণ নিক্ষেপ করেননি। অত্রি যখন দেখলেন যে, ইন্দ্রকে বিনাশ না করে, মহারাজ পৃথুর পুত্র তাঁর দ্বারা প্রতারিত হয়ে ফিরে এসেছেন, তখন অত্রি মুনি তাঁকে পুনরায় হত্যা করতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন, কারণ তিনি মনে করেছিলেন যে, পৃথু মহারাজের যজ্ঞে বিঘ্ন সৃষ্টি করার জন্য, ইন্দ্র সমস্ত দেবতাদের মধ্যে নিকৃষ্টতম হয়ে গেছে। সেই কথা শুনে, বেণ রাজার পৌত্র তৎক্ষণাৎ অত্যন্ত দ্রুত গতিতে আকাশমার্গে পলায়নরত ইন্দ্রের পশ্চাদ্ধাবন করেছিলেন। তিনি তাঁর প্রতি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন এবং শকুনিদের রাজা জটায়ু যেভাবে রাবণের পশ্চাতে ধাবিত হয়েছিলেন, ঠিক সেইভাবে তিনি ইন্দ্রের পশ্চাদ্ধাবন করেছিলেন। ইন্দ্র যখন দেখলেন যে, পৃথুর পুত্র তাঁর পশ্চাদ্ধাবন করছেন, তৎক্ষণাৎ তিনি তাঁর ছদ্মবেশ পরিত্যাগ করে, ঘোড়াটি রেখে সেখান থেকে অন্তর্হিত হলেন। মহাবীর পৃথুপুত্র সেই অশ্বটি নিয়ে তাঁর পিতার যজ্ঞস্থলে ফিরে গিয়েছিলেন।”
“হে বিদুর! মহর্ষিরা মহারাজ পৃথুর পুত্রের এই অদ্ভুত পরাক্রম দর্শন করে, তাঁকে বিজিতাশ্ব নাম প্রদান করেছিলেন। হে বিদুর! অত্যন্ত শক্তিশালী স্বর্গের রাজা ইন্দ্র তখন ঘন অন্ধকারের দ্বারা যজ্ঞস্থল আচ্ছন্ন করে, স্বর্ণশৃঙ্খলের দ্বারা যূপকাষ্ঠে বেঁধে রাখা সেই অশ্বটিকে পুনরায় অপহরণ করেছিলেন। মহর্ষি অত্রি পুনরায় পৃথু মহারাজের পুত্রকে দেখিয়েছিলেন যে, আকাশমার্গে ইন্দ্র পলায়ন করছে। মহাবীর পৃথুপুত্র তখন পুনরায় তাঁর পশ্চাদ্ধাবন করেছিলেন, কিন্তু তিনি যখন দেখলেন যে, ইন্দ্র কপাল ও খট্বাঙ্গ ধারণ করেছেন, তখন তিনি তাঁকে হত্যা না করতে স্থির করেছিলেন। মহর্ষি অত্রি যখন পুনরায় তাঁকে নির্দেশ দিলেন, তখন পৃথু মহারাজের পুত্র অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে তাঁর ধনুকে বাণ যোজন করলেন। তা দেখে ইন্দ্র তৎক্ষণাৎ সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশ এবং অশ্ব পরিত্যাগ করে সেখান থেকে অন্তর্হিত হয়েছিলেন। তার পর মহারাজ পৃথুর পুত্র বিজিতাশ্ব পুনরায় সেই অশ্বটি নিয়ে তাঁর পিতার যজ্ঞস্থলে উপস্থিত হলেন। সেই সময় থেকে যারা মন্দবুদ্ধি, তারা কপট সন্ন্যাসীর বেশ গ্রহণ করেছিল। ইন্দ্রই তাঁর প্রবর্তন করেছেন। যজ্ঞাশ্ব অপহরণের চেষ্টায় ইন্দ্র যে-সমস্ত সন্ন্যাসবেশ ধারণ করেছিলেন, সেগুলি নাস্তিক্য দর্শনের প্রতীক। এইভাবে পৃথু মহারাজের যজ্ঞের অশ্ব হরণ করার উদ্দেশ্যে ইন্দ্র কয়েকটি সন্ন্যাসবেশ গ্রহণ করেছিলেন। সেই থেকে কপট সন্ন্যাস প্রথার সৃষ্টি হয়েছে। কিছু সন্ন্যাসী নগ্ন থাকে এবং কখনও কখনও তারা রক্তবর্ণের বেশ ধারণ করে; তাদের বলা হয় কাপালিক। এগুলি কেবল পাপকর্মের প্রতীক মাত্র। পাপাসক্ত মানুষেরা এই তথাকথিত সন্ন্যাসীদের খুব সমাদর করে, কারণ তারা সকলেই হচ্ছে ভগবদ্বিদ্বেষী নাস্তিক। তারা তাদের নিজেদের মতবাদ স্থাপন করার ব্যাপারে অত্যন্ত বাকপটু। কিন্তু আমাদের জানতে হবে যে, তাদের ধর্ম-আচরণকারী বলে মনে হলেও, প্রকৃতপক্ষে তারা তা নয়। দুর্ভাগ্যবশত মোহাচ্ছন্ন মানুষেরা তাদের ধার্মিক বলে মনে করে এবং তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে নিজেদের সর্বনাশ করে। অত্যন্ত পরাক্রমশালী মহারাজ পৃথু তৎক্ষণাৎ তাঁর ধনুর্বাণ গ্রহণ করে ইন্দ্রকে হত্যা করতে উদ্যত হয়েছিলেন, কারণ ইন্দ্র এই প্রকার অধার্মিক সন্ন্যাসপ্রথা প্রবর্তণ করেছিলেন। যখন পুরোহিতরা এবং অন্য সকলে দেখলেন, পৃথু মহারাজ অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে ইন্দ্রকে হত্যা করতে উদ্যত হয়েছেন, তখন তাঁরা তাঁকে অনুরোধ করে বলেছিলেন- হে মহাত্মন্! দয়া করে তাঁকে বধ করবেন না, কারণ যজ্ঞস্থলে যজ্ঞের নিমিত্ত পশু ব্যতীত অন্য কিছু বধ করা উচিত নয়। এটি শাস্ত্রের বিধান। হে রাজন্! আপনার যজ্ঞ অনুষ্ঠানে বিঘ্ন সৃষ্টি করার ফলে, ইন্দ্র ইতিমধ্যেই হতবীর্য হয়েছে। আমরা অভূতপূর্ব বৈদিক মন্ত্রের দ্বারা আহ্বান করে, এই যজ্ঞশালায় তাকে নিয়ে আসব এবং আমাদের মন্ত্রের বলে তাকে যজ্ঞাগ্নিতে হোম করব, কারণ সে হচ্ছে আপনার শত্রু।”
“হে বিদুর! রাজাকে এই উপদেশ দেওয়ার পর, যজ্ঞ অনুষ্ঠানে রত পুরোহিতরা মহাক্রোধে দেবরাজ ইন্দ্রকে আহ্বান করলেন। তাঁরা যখন যজ্ঞে আহুতি দিতে যাচ্ছিলেন, তখন ব্রহ্মা সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁদের নিবৃত্ত করলেন।”
ব্রহ্মা তাঁদের সম্বোধন করে বললেন- “হে যজ্ঞ অনুষ্ঠানকারীগণ, আপনারা দেবরাজ ইন্দ্রকে বধ করতে পারেন না। সেটি আপনাদের কর্তব্য নয়। আপনাদের জেনে রাখা উচিত যে, ইন্দ্র পরমেশ্বর ভগবানেরই মতো। বাস্তবিকপক্ষে তিনি ভগবানের একজন শক্ত্যাবেশ অবতার। এই যজ্ঞ অনুষ্ঠানের দ্বারা আপনারা সমস্ত দেবতাদের প্রসন্নতা বিধান করার চেষ্টা করছেন, কিন্তু আপনাদের জানা উচিত যে, সমস্ত দেবতারা হচ্ছেন ইন্দ্রের অংশ। তা হলে এই মহান যজ্ঞে আপনারা কিভাবে তাঁকে বধ করতে পারেন? পৃথুর মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠানে বিঘ্ন সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে দেবরাজ ইন্দ্র এমন কতকগুলি পন্থা অবলম্বন করেছেন, যার ফলে ভবিষ্যতে ধর্মের সুনির্দিষ্ট পথ বিনষ্ট হবে। ভেবে দেখুন, আপনারা যদি তাঁর আরোও বিরোধিতা করেন, তা হলে তিনি তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করে অন্য অনেক অধর্মের পদ্ধতি প্রবর্তন করবেন।”
“অতএব বিপুলকীর্তি পৃথুর নিরানব্বইটি যজ্ঞই হোক।” তার পর ব্রহ্মা পৃথু মহারাজের প্রতি বললেন- “যেহেতু আপনি মোক্ষের মার্গ সম্বন্ধে পূর্ণরূপে অবগত, অতএব আপনার আর অধিক যজ্ঞ করার কি প্রয়োজন?” আপনাদের উভয়েরই কল্যাণ হোক, কারণ আপনি এবং দেবরাজ ইন্দ্র উভয়েই পরমেশ্বর ভগবানের শক্ত্যাবেশ অবতার। সুতরাং আপনি ইন্দ্র থেকে ভিন্ন নন। অতএব ইন্দ্রের প্রতি আপনার ক্রুদ্ধ হওয়া উচিত নয়। হে রাজন্! আপনার যজ্ঞ যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়নি বলে, ক্ষুব্ধ ও চিন্তাগ্রস্থ হবেন না। এই বিঘ্ন দৈবের প্রভাবেই হয়েছে। দয়া করে শ্রদ্ধাসহকারে আমার উপদেশ শ্রবণ করুন। আমাদের সব সময় মনে রাখা উচিত যে, দৈবের প্রভাবে যদি কোন কিছু ঘটে, তা হলে সেই জন্য আমাদের দুঃখিত হওয়া উচিত নয়। দৈবের দ্বারা কোন কার্য বিনষ্ট হলে, যতই আমরা সেই কার্য সম্পন্ন করার চেষ্টা করি, ততই আমরা জড়বাদী বিচারের ঘন অন্ধকারে প্রবেশ করি। এই যজ্ঞ অনুষ্ঠান বন্ধ করুন, কারণ এই যজ্ঞের ফলে ইন্দ্র অনেক অধর্ম আচরণ প্রবর্তন করেছে। আপনি জেনে রাখুন যে, দেবতাদের মধ্যে অনেকের বহু অবাঞ্ছিত বাসনা রয়েছে। দেখ, যজ্ঞাশ্ব চুরি করার ফলে, দেবরাজ ইন্দ্র কিভাবে যজ্ঞের মাঝে এক বিঘ্ন সৃষ্টি করেছেন। তাঁর প্রবর্তিত এই সমস্ত চিত্তাকর্ষক পাপকর্ম জনসাধারণকে অভিভূত করবে।”
“হে বেণপুত্র মহারাজ পৃথু! আপনি ভগবান বিষ্ণুর কলা অবতার। রাজা বেণের দুষ্ট কার্যকলাপের ফলে, ধর্ম প্রায় অবলুপ্ত হয়েছিল। সেই উচিত সময়ে আপনি ভগবান বিষ্ণুর অবতাররূপে অবতরণ করেছেন। বাস্তবিকপক্ষে ধর্মরক্ষা করার জন্য আপনি রাজা বেণের শরীর থেকে আবির্ভূত হয়েছেন। হে প্রজারক্ষক! দয়া করে আপনি আপনার অবতরণের উদ্দেশ্য বিবেচনা করুন। ইন্দ্র যে পাষণ্ড মতবাদ সৃষ্টি করেছেন, তা নানা অধর্মের জননী। সুতরাং আপনি দয়া করে সেই সমস্ত ছলনা অচিরে নিরস্ত করুন।”
মহর্ষি মৈত্রেয় বলতে লাগলেন- “এইভাবে পরম গুরু ব্রহ্মা কর্তৃক আদিষ্ট হয়ে, পৃথু মহারাজ তাঁর যজ্ঞ করার ইচ্ছা পরিত্যাগ করলেন এবং গভীর স্নেহ প্রদর্শন করে ইন্দ্রের সঙ্গে মিত্রতা করলেন। তার পর পৃথু মহারাজ স্নান করেছিলেন। যজ্ঞ অনুষ্ঠানের পর, বিধি অনুসারে স্নান করতে হয়। তার পর তার মহিমান্বিত কার্যকলাপে প্রসন্ন হয়েছিলেন যে সমস্ত দেবতারা, তাঁদের কাছ থেকে তিনি বর প্রাপ্ত হয়েছিলেন। গভীর শ্রদ্ধা সহকারে, আদি রাজা পৃথু এই যজ্ঞে উপস্থিত সমস্ত ব্রাহ্মণদের নানা প্রকার উপহার প্রদান করেছিলেন। সেই ব্রাহ্মণেরা অত্যন্ত প্রসন্ন হয়ে, রাজাকে তাঁদের আন্তরিক আশীর্বাদ প্রদান করেছিলেন।”
সমস্ত মহর্ষি ও ব্রাহ্মণেরা বললেন- “হে শক্তিশালী রাজা! আপনার নিমন্ত্রণে সর্বশ্রেণীর জীবেরা এই সভায় যোগদান করেছেন। তাঁরা পিতৃলোক ও স্বর্গলোক থেকে এসেছেন এবং মহর্ষিগণ ও সাধারণ মানুষেরাও এই সভায় যোগদান করেছেন। এখন তাঁরা সকলেই আপনার ব্যবহারে এবং আপনার দানে অত্যন্ত সন্তুষ্ট হয়েছেন।”

Leave a Reply

August 2025
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

Blog Stats

  • 140,963 hits