বিংশতি অধ্যায়- পৃথু মহারাজের যজ্ঞস্থলে ভগবান বিষ্ণুর আবির্ভাব

মহর্ষি মৈত্রেয় বলতে লাগলেন- “হে বিদুর! নিরানব্বইটি যজ্ঞ অনুষ্ঠানের ফলে ভগবান শ্রীবিষ্ণু অত্যন্ত সন্তুষ্ট হয়ে, দেবরাজ ইন্দ্রসহ সেই যজ্ঞস্থলে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তার পর তিনি বলেছিলেন- হে মহারাজ পৃথু! ইন্দ্র তোমার শত অশ্বমেধ যজ্ঞ অনুষ্ঠানে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু এখন সে ক্ষমাপ্রার্থী হয়ে তোমার কাছে এসেছে। তাই তাকে তোমার ক্ষমা করার উচিত। হে রাজন্! যাঁরা অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং অন্যের হিতসাধনে রত, মনুষ্য-সমাজে তাঁদের সর্বশ্রেষ্ঠ বলে বিবেচনা করা হয়। তাঁরা কখনও অন্যের প্রতি বিদ্বেষ-পরায়ণ হন না। তাঁরা ভালভাবে জানেন যে, আত্মা থেকে এই জড় দেহ ভিন্ন। পূর্বতন আচার্যদের উপদেশ পালন করার ফলে, পারমার্থিক জীবনে উন্নত তোমার মতো ব্যক্তিরাও যদি আমার মায়ার প্রভাবে মোহাচ্ছন্ন হয়, তা হলে তোমার পারমার্থিক উন্নতি কেবল সময়ের অনর্থক অপচয় বলেই মনে করা হবে। যাঁরা দেহাত্মবুদ্ধির কারণ সম্বন্ধে পূর্ণরূপে অবগত, যাঁরা জানেন যে, এই দেহ মায়াজনিত অবিদ্যা, কাম ও কর্মের দ্বারা সৃষ্টি, তাঁরা কখনও দেহের প্রতি আসক্ত হন না। সম্পূর্ণরূপে দেহাত্মবুদ্ধি থেকে মুক্ত যে-অত্যন্ত বিজ্ঞ ব্যক্তি, তার গৃহ, অপত্য, বিত্ত আদি শারীরিক বিষয়ের প্রতি মমতা থাকবে কি করে? আত্মা এক, শুদ্ধ, চিন্ময় এবং স্বতঃপ্রকাশ। তিনি সমস্ত সদ্্গুণের আধার এবং সর্বব্যাপ্ত। তিনি জড় আবরণ- রহিত এবং তিনি সমস্ত কার্যকলাপের সাক্ষী। তিনি অন্য সমস্ত জীব থেকে সম্পূণরূপে স্বতন্ত্র এবং তিনি সমস্ত দেহধারী আত্মার অতীত। এইভাবে যিনি পরমাত্মা ও আত্মা সম্বন্ধে সম্পূর্ণরূপে অবগত, তিনি জড়া প্রকৃতিতে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও, জড়া প্রকৃতির গুণের দ্বারা কখনই প্রভাবতি হন না, কারণ তিনি সর্বদাই আমার দিব্য প্রেমময়ী সেবায় অবস্থিত।”
“হে পৃথু মহারাজ! কেউ যখন তাঁর স্বধর্মে অবস্থিত হয়ে, কোন রকম জড়-জাগতিক লাভের প্রত্যাশা না করে, আমার প্রেমময়ী সেবায় যুক্ত হন, তিনি ধীরে ধীরে তাঁর অন্তরে অনাবিল তৃপ্তি আস্বাদন করেন। হৃদয় যখন সমস্ত জড় কলুষ থেকে মুক্ত হয়, তখন ভক্তের মন উদার ও স্বচ্ছ হয় এবং তিনি তখন সব কিছুই সমভাবে দর্শন করেন। জীবনের এই অবস্থায় শান্তি লাভ হয় এবং তিনি তখন সচ্চিদানন্দ বিগ্রহরূপী আমার সমপদ প্রাপ্ত হন। যিনি জানেন যে, এই জড় দেহ পঞ্চ-মহাভূত, জ্ঞানেন্দ্রিয়, কর্মেন্দ্রিয় ও মনের দ্বারা গঠিত এবং আত্মা স্থির ও উদাসীন হয়ে এই সবের অধ্যক্ষতা করে, তিনি জড় বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়ার যোগ্য।”
“হে রাজন্! প্রকৃতির তিনটি গুণের মিথষ্ক্রিয়ার প্রভাবে এই জড় জগতে নিরন্তর পরিবর্তন হয়। পঞ্চ-মহাভূত, ইন্দ্রিয়সমূহ, ইন্দ্রিয়ের নিয়ন্তা দেবতাগণ এবং মন, যা আত্মার দ্বারা বিক্ষুব্ধ হয়- এই সবের সমন্বয়ে দেহ গঠিত হয়। যেহেতু স্থূল ও সূক্ষ্ম জড় উপাদানের এই সমন্বয় থেকে আত্মা সম্পূর্ণ ভিন্ন, তাই আমার সঙ্গে সুদৃঢ় সৌহার্দ্য ও স্নেহের বন্ধনে আবদ্ধ আমার ভক্ত পূর্ণজ্ঞানে অবস্থিত হয়ে, জড় জগতের এই সুখ ও দুঃখের দ্বারা বিচলিত হন না।”
“হে বীর রাজা! সর্বদা সমভাবাপন্ন হয়ে উত্তম, মধ্যম ও অধম সমস্ত মানুষদের প্রতি সমানভাবে আচরণ কর। অনিত্য সুখদুঃখে বিচলিত হয়ো না। সর্বতোভাবে তোমার মন ও ইন্দ্রিয় সংযত কর। আমার ব্যবস্থাপনায়, তুমি জীবনের যে অবস্থাতেই থাক না কেন, সর্বদা চিন্ময় স্তরে অধিষ্ঠিত হয়ে, রাজারূপে তোমার কর্তব্য সম্পাদন করার চেষ্টা কর। তোমার একমাত্র কর্তব্য হচ্ছে তোমার রাজ্যের প্রজাদের রক্ষা করা। রাজার ধর্ম হচ্ছে রাজ্যের সমস্ত নাগরিকদের রক্ষা করা। এইভাবে আচরণ করার ফলে, রাজা তাঁর পরবর্তী জীবনে প্রজাদের পুণ্যকর্মের এক-ষষ্ঠাংশ ভোগ করেন। কিন্তু রাজা বা রাষ্ট্রপ্রধান যদি কেবল প্রজাদের কাছ থেকে কর সংগ্রহ করে কিন্তু তাদের যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করে না, সেই রাজার পুণ্যফল প্রজারা হরণ করে এবং তার প্রজাদের পাপকর্মের ফল তাকে ভোগ করতে হয়।”
“হে মহারাজ পৃথু! তুমি যদি গুরু-পরম্পরা ধারায় দিব্য জ্ঞান প্রাপ্ত প্রাজ্ঞ ব্রাহ্মণদের নির্দেশ অনুসারে প্রজা পালন কর এবং সব রকম মনোধর্ম-প্রসূত মতবাদের প্রতি অনাসক্ত হয়ে, তাঁদের দেওয়া ধর্মীয় অনুশাসন পালন কর, তা হলে তোমার সমস্ত প্রজারা সুখী হবে এবং তারা তোমার প্রতি শ্রদ্ধাপরায়ণ হবে এবং তুমি অচিরেই সনক, সনাতন, সনন্দন ও সনৎকুমার এই চারজন মুক্ত-পুরুষের দর্শন লাভ করবে।”
“হে রাজন্! তোমার উত্তম গুণাবলী এবং অপূর্ব সুন্দর আচরণে আমি মুগ্ধ হয়েছি এবং তাই আমি তোমার প্রতি অত্যন্ত প্রসন্ন হয়েছি। সেই জন্য তুমি আমার কাছে যে-কোন বর প্রার্থনা করতে পার। যারা উচ্চগুণাবলী-সমন্বিত নয় এবং যাদের আচরণ উত্তম নয়, তারা কেবলমাত্র যজ্ঞ অনুষ্ঠানের দ্বারা, কঠোর তপস্যার দ্বারা অথবা যোগ অভ্যাসের দ্বারা কখনও আমার কৃপা লাভ করতে পারে না। কিন্তু যাঁদের চিত্ত সমস্ত পরিস্থিতিতে বৈষম্য-রহিত, তাঁদের হৃদয়ে আমি সর্বদা বিরাজ করি।”
মহর্ষি মৈত্রেয় বললেন- “হে বিদুর! এইভাবে বিশ্বজিৎ মহারাজ পৃথু পরমেশ্বর ভগবানের আদেশ শিরোধার্য করেছিলেন। ইন্দ্র তখন তাঁর কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হয়ে, পৃথু মহারাজের পদযুগলে পতিত হলেন। কিন্তু পৃথু মহারাজ তৎক্ষণাৎ প্রেমাপ্লুত হয়ে তাঁকে আলিঙ্গন করেছিলেন এবং তাঁর যজ্ঞাশ্ব অপহরণ-জনিত বিদ্বেষভাব পরিত্যাগ করেছিলেন।”
“পৃথু মহারাজ তাঁর প্রতি অত্যন্ত কৃপাপরায়ণ পরমেশ্বর ভগবানের শ্রীপাদপদ্ম অত্যন্ত সুন্দরভাবে পূজা করেছিলেন। ভগবানের শ্রীপাদপদ্মের পূজা করার সময়, পৃথু মহারাজের ভগবৎ-প্রেম ক্রমশ বর্ধিত হয়েছিল। ভগবান তখন প্রস্থান করতে উদ্যত হয়েছিলেন, কিন্তু যেহেতু তিনি পৃথু মহারাজের প্রতি অত্যন্ত অনুগ্রহ-পরায়ণ ছিলেন, তাই তিনি প্রস্থান করতে পারলেন না। ভগবান তখন তাঁর কমল-নয়নের দ্বারা পৃথু মহারাজের আচরণ দর্শন করেছিলেন, ভক্ত-বাৎসল্যহেতু তাঁর এই বিলম্ব হয়েছিল। আদি রাজা পৃথুর চক্ষু তখন অশ্রুপূর্ণ হওয়ায় এবং কন্ঠ রুদ্ধ হওয়ায়, ভগবানকে দর্শন করতে পারলেন না এবং তাঁকে সম্ভাষণ করতে পারলেন না। তিনি কেবল তাঁর হৃদয়ে তাঁকে আলিঙ্গন করে, কৃতাঞ্জলিপুটে সেখানে দাঁড়িয়ে রইলেন। তার পর তিনি অশ্রুধারা মার্জন করে দেখতে পেলেন যে, পরমেশ্বর ভগবান পৃথিবীপৃষ্ঠ প্রায় স্পর্শ করে, গরুড়ের উন্নত স্কন্ধে তাঁর হস্তের অগ্রভাগ বিন্যস্ত করে, তাঁর অপরিতৃপ্ত নয়ন-পথের পথিকরূপে অবস্থান করছেন। তখন পৃথু মহারাজ তাঁকে সম্বোধন করে এই প্রার্থনাটি নিবেদন করেছিলেন।”
“হে ভগবান! যাঁদের বরদান করার ক্ষমতা রয়েছে, আপনি সেই দেবতাদেরও ঈশ্বর। অতএব কোন বিবেকী ব্যক্তি কেন আপনার কাছে জড় জগতের গুণের বন্ধনে মোহগ্রস্ত ব্যক্তিদের ভোগ্য বর প্রার্থনা করবে ? সেই সমস্ত বর নরকবাসী জীবেরা পর্যন্ত আপনা থেকে লাভ করে। হে ভগবান! আপনি ব্রহ্ম-সাযুজ্যও অবশ্যই দান করতে পারেন, কিন্তু সেই সমস্ত বর আমি লাভ করতে ইচ্ছা করি না। হে ভগবান! আমি তাই আপনার অস্তিত্বে লীন হয়ে যাওয়ার বর প্রাথনা করি না, কারণ সেই অস্তিত্বে আপনার শ্রীপাদপদ্মের অমৃত পান করা যায় না। আমি কেবল অযুত কর্ণ লাভের বর প্রার্থনা করি, কারণ তার ফলে আমি আপনার শুদ্ধ ভক্তদের শ্রীমুখ থেকে আপনার শ্রীপাদপদ্মের মহিমা শ্রবণ করতে সক্ষম হব। হে ভগবান! মহাপুরুষদের মুখ নিঃসৃত উত্তমশ্লোকের দ্বারা আপনার মহিমা কীর্তিত হয়। আপনার শ্রীপাদপদ্মের এই মহিমা ঠিক কেশরের কণার মতো। যখন মহান ভক্তদের মুখনিঃসৃত বাণী আপনার শ্রীপাদপদ্মের ধুলিসদৃশ কেশরের সৌরভ বহন করে, তখন বিস্মৃত জীবেরা পুনরায় আপনার সঙ্গে তাদের নিত্য সম্পর্কের কথা স্মরণ করে। এইভাবে ভক্তরা যথাযথভাবে জীবনের মূল্য হৃদয়ঙ্গম করতে পারে। হে ভগবান, আমি আপনার শুদ্ধ ভক্তের শ্রীমুখ থেকে আপনার মহিমা শ্রবণ করার সৌভাগ্য ব্যতীত আর অন্য কোন বর চাই না। হে মহা-মহিমান্বিত ভগবান! কেউ যদি শুদ্ধ ভক্তের সাহচর্যে আপনার কার্যকলাপের মহিমা একবারও শ্রবণ করেন এবং তিনি যদি একটি পশু না হন, তা হলে ভগবদ্ভক্তের সঙ্গ তিনি ত্যাগ করতে পারবেন না, কারণ কোন বুদ্ধিমান ব্যক্তি তা কখনও করবে না। আপনার মহিমা শ্রবণ ও কীর্তনের পূর্ণপন্থা লক্ষ্মীদেবীও গ্রহণ করেছেন। তিনি কেবল আপনার অনন্ত কার্যকলাপ ও অপ্রাকৃত মহিমা শ্রবণ করার জন্য সর্বদা উৎসুক। এখন আমি ঠিক কমলার মতো ভগবানের শ্রীপাদপদ্মের সেবায় যুক্ত হতে চাই, কারণ ভগবান হচ্ছেন সমস্ত দিব্য গুণের আধার। সেই জন্য হয়তো লক্ষ্মীদেবীর সঙ্গে আমার বিবাদ হতে পারে, কারণ আমরা উভয়েই একাগ্রচিত্তে একই সেবায় যুক্ত হব। হে জগদীশ্বর! লক্ষ্মীদেবী হচ্ছেন সারা জগতের মাতা এবং তবু আমার মনে হয় যে, তাঁর সেবায় হস্তক্ষেপ করার ফলে এবং যে পদের প্রতি তিনি অত্যন্ত আসক্ত সেই সেবা করার ফলে, তিনি হয়তো আমার প্রতি ক্রুদ্ধ হতে পারেন। তা হলেও আমি আশা করি যে, আমাদের এই ভুল বোঝাবুঝিতে আপনি আমার পক্ষ অবলম্বন করবেন, কারণ আপনি দীনবৎসল এবং আপনি সর্বদা তুচ্ছ সেবাকেও অনেক বড় করে দেখেন। তাই লক্ষ্মীদেবী আমার প্রতি ক্রুদ্ধ হলেও, আমার মনে হয় যে, তাতে আপনার কোন ক্ষতি হবে না, কারণ আপনি সম্পূর্ণরূপে আত্ম-নির্ভরশীল, সুতরাং লক্ষ্মীতেও আপনার তত প্রয়োজন নেই।”
“মহান মুক্ত পুরুষেরা সর্বদা আপনাকে ভক্তি করে, কারণ ভক্তির প্রভাবেই কেবল মোহময়ী জড় অস্তিত্বের বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়া যায়। হে ভগবান! মুক্ত পুরুষেরা যে আপনার শ্রীপাদপদ্মে শরণ গ্রহণ করেন, তার একমাত্র কারণ হচ্ছে তাঁরা নিরন্তর আপনার শ্রীপাদপদ্মের কথা চিন্তা করেন। হে প্রভু! আপনার অনন্য ভক্তের কাছে আপনি যা বলেছেন তা অত্যন্ত মোহকারিণী। বেদে আপনি যে প্রলোভন প্রদান করেছেন তা অবশ্যই আপনার শুদ্ধ ভক্তদের উপযুক্ত নয়। সাধারণ মানুষেরাই বেদের মধুর বাণীতে মোহিত হয়ে, তাদের কর্মফলের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পুনঃ পুনঃ সকাম কর্মে রত হয়। হে ভগবান! আপনার মায়ার প্রভাবে এই জড়-জগতের সমস্ত জীবেরা তাদের প্রকৃত স্বরূপ বিস্মৃত হয়েছে এবং অজ্ঞানতা-বশত তারা সর্বদাই সমাজ, বন্ধুত্ব ও প্রেমরূপে জড় সুখ কামনা করছে। তাই, দয়া করে আপনি আমাকে কোন রকম জড়-জাগতিক লাভের জন্য বর প্রার্থনা করতে বলবেন না। পক্ষান্তরে, পিতা যেমন তাঁর পুত্রের প্রার্থনার প্রত্যাশা না করে তার কল্যাণের জন্য সব কিছু করেন, তেমনই আপনিও যা কিছু আমার কল্যাণকর বলে মনে করেন তাই করুন।”
মহর্ষি মৈত্রেয় বললেন- “পৃথু মহারাজের প্রার্থনা শুনে, ব্রহ্মাণ্ডের দ্রষ্টা ভগবান রাজাকে সম্বোধন করে বলেছিলেন- “হে রাজন্! আমার ভক্তিবৃত্তিতে তুমি সর্বদাই যুক্ত থেকো। তুমি যা বুদ্ধিমত্তাপূর্বক ব্যক্ত করেছ, কেবল এই প্রকার সৎ উদ্দেশ্যের ফলেই দুর্লঙ্ঘ্য মায়াকে অতিক্রম করা যায়। হে রাজন্! হে প্রজাপালক! এখন থেকে অত্যন্ত সাবধানতা সহকারে তুমি আমার আদেশ পালন কর এবং কখনও কোন কিছুর দ্বারা বিভ্রষ্ট হয়ো না। যে শ্রদ্ধাপূর্বক এইভাবে আমার আজ্ঞা পালন করে, তার সর্বত্র মঙ্গল হয়।”
“পরমেশ্বর ভগবান অচ্যুত পৃথু মহারাজের সারগর্ভ প্রার্থনার প্রচুর সমাদর করলেন। এইভাবে তাঁর দ্বারা সুন্দরভাবে পূজিত হয়ে তাঁকে আশীর্বাদ করলেন এবং সেখান থেকে তিনি প্রস্থান করতে ইচ্ছা করেছিলেন। দেবতা, ঋষি, পিতৃ, গন্ধর্ব, সিদ্ধ, চারণ, পন্নগ, কিন্নর, অপ্সরা, মর্ত্যলোকবাসী, পক্ষী এবং যজ্ঞস্থলে উপস্থিত অন্যান্য সমস্ত জীবদের এবং পরমেশ্বর ভগবান ও তাঁর পার্ষদদের অঞ্জলিবদ্ধ হয়ে পৃথু মহারাজ সুমধুর বাণীর দ্বারা এবং যথাসম্ভব সম্পদ প্রদান করে পূজা করেছিলেন। এই অনুষ্ঠানের পর, তাঁরা সকলে ভগবান শ্রীবিষ্ণুর পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাঁদের স্ব-স্ব স্থানে প্রস্থান করেছিলেন। পুরোহিতসহ রাজার মন হরণ করে, অচ্যুত ভগবান চিদাকাশে তাঁর ধামে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। পৃথু মহারাজ তখন সমস্ত দেবতাদের পরম দেবতা পরমেশ্বর ভগবানের প্রতি তাঁর সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করেছিলেন। ভগবান যদিও জড় সৃষ্টির অগোচর, তবুও তিনি পৃথু মহারাজের দৃষ্টিপথে নিজেকে প্রকাশিত করেছিলেন। ভগবানকে প্রণতি নিবেদন করার পর, পৃথু মহারাজ তাঁর গৃহে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন।”

Leave a Reply

August 2025
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

Blog Stats

  • 140,959 hits