চতুর্দশ অধ্যায়- বেণ রাজার কাহিনী

মহর্ষি মৈত্রেয় বললেন- “হে মহাবীর বিদুর! ভৃগু আদি ঋষিরা সর্বদাই জনসাধারণের কল্যাণ কামনা করতেন। যখন তাঁরা দেখলেন যে, রাজা অঙ্গের অনুপস্থিতিতে জনসাধারণের হিতসাধন করার মতো কেউ নেই, তখন তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন যে, শাসক না থাকার ফলে মানুষেরা স্বাধীন এবং অসংযত হয়ে যাবে। মহর্ষিগণ তখন রাজমাতা সুনীথাকে ডেকে এনে, তাঁর অনুমতিক্রমে বেণকে পৃথিবীপতিরূপে রাজসিংহাসনে অভিষিক্ত করেছিলেন। যদিও তাতে মন্ত্রীদের সম্মতি ছিল না। বেণ যে অত্যন্ত কঠোর ও নিষ্ঠুর ছিল, সেই কথা আগে থেকেই সকলের জানা ছিল; তাই সে রাজসিংহাসনে আরোহণ করেছে শোনা মাত্রই, সমস্ত দস্যু এবং তস্তরেরা অত্যন্ত ভীত হয়েছিল এবং সাপের ভয়ে মূষিক যেমন লুকিয়ে পড়ে, তেমনই তারাও ইতস্তত লুকিয়ে পড়েছিল। রাজসিংহাসনে অরোহণ করে, বেণ অষ্ট ঐশ্বর্যযুক্ত হয়ে সর্ব শক্তিমান হয়েছিল। তার ফলে সে অত্যন্ত গর্বিত হয়ে উঠেছিল। অহঙ্কারে মত্ত হয়ে সে নিজেকে সর্বশ্রেষ্ঠ বলে মনে করত। তার ফলে সে মহান ব্যক্তিদের অপমান করতে শুরু করে। তার ঐশ্বর্যের গর্বে অন্ধ হয়ে রাজা বেণ রথে আরোহণ করে, অঙ্কুশতাড়নরহিত হস্তীর মতো দ্যুলোক এবং ভূলোক কম্পিত করে, তার রাজ্যে বিচরণ করতে লাগল। রাজা বেণ ভেরী নিনাদের দ্বারা রাজ্যের সর্বত্র ঘোষণা করেছিল যে, ব্রাহ্মণেরা আর কোন প্রকার যজ্ঞ অনুষ্ঠান করতে পারবেন না, দান করতে পারবেন না বা হোম আদি ক্রিয়া করতে পারবেন না। অর্থাৎ সব রকম ধর্ম-অনুষ্ঠান সে বন্ধ করে দিয়েছিল। নিষ্ঠুর বেণের অত্যাচার দর্শন করে, সমস্ত মহির্ষরা একত্রে মিলিত হয়ে বিচার করেছিলেন যে, সারা পৃথিবীর মানুষদের এক মহা বিপদ উপস্থিত হয়েছে। তাই তাঁরা দয়াপরবশ হয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে শুরু করেছিলেন, কারণ তারা স্বয়ং যজ্ঞ অনুষ্ঠানকারী ছিলেন। মহর্ষিরা পরস্পরের সঙ্গে আলোচনা করে দেখলেন যে, জনসাধারণ উভয় দিক থেকে বিপদগ্রস্ত হয়েছে। কাঠের উভয় দিকে প্রজ্বলিত হলে যেমন তার মধ্যবর্তী পিপীলিকারা ভয়ঙ্কর অবস্থার সম্মুখীন হয়, ঠিক তেমনই, সেই সময়ে জনসাধারণ একদিকে দায়িত্বজ্ঞানহীন এক রাজা এবং অন্যদিকে দস্যু-তস্কর আদির মাঝে বিপদাপন্ন হয়েছিল। অরাজকতা থেকে রাজ্যকে রক্ষা করার জন্য, ঋষিরা বিবেচনা করতে শুরু করলেন যে, বেণ অযোগ্য হওয়া স্বত্ত্বেও, রাজনৈতিক সঙ্কটের ফলে, তাকে তাঁরা রাজা করেছিলেন। কিন্তু হায়! এখন জনসাধারণ সেই রাজার দ্বারাই উৎপীড়িত হচ্ছে। এই অবস্থায় মানুষ সুখী হতে পারে কি করে?”
ঋষিরা চিন্তা করতে শুরু করলেন- “সুনীথার গর্ভ থেকে উৎপন্ন হওয়ার ফলে, রাজা বেণ স্বভাবতই অত্যন্ত দুষ্ট। এই দুষ্ট রাজাকে সমর্থন কর ঠিক দুধ দিয়ে সাপ পোষার মতো। এখন সে সব রকম দুঃখ-কষ্টের কারণ হয়েছে। প্রজাদের রক্ষা করার জন্য আমরা এই বেণকে রাজপদে অভিষিক্ত করেছিলাম, কিন্তু এখন সে প্রজাদের শত্রুতে পরিণত হয়েছে। তার এই সমস্ত ত্রুটি সত্ত্বেও, আমরা তাকে এখন বোঝাতে চেষ্টা করব। তার ফলে তার পাপ আমাদের স্পর্শ করবে না।”
ঋষিরা বিবেচনা করলেন- “তার দুষ্ট স্বভাব সম্বন্ধে আমরা সম্পূর্ণরূপে অবগত ছিলাম। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমরা বেণকে রাজসিংহাসনে অধিষ্ঠিত করেছিলাম। আমরা যদি তাকে আমাদের উপদেশ গ্রহণে বাধ্য করতে না পারি, তা হলে সে জনসাধারণের দ্বারা নিন্দিত হবে এবং আমরাও তাদের সঙ্গে যোগ দেব। এইভাবে আমাদের তেজের দ্বারা তাকে ভস্মীভূত করব। এইভাবে সংকল্প করে, ঋষিরা তাদের ক্রোধ সংগোপনপূর্বক বেণ রাজার কাছে গিয়েছিলেন এবং তাকে মধুর বাক্য সান্ত্বনা দিয়ে এই কথাগুলি বলেছিলেন- ‘হে রাজন! তোমাকে সৎ উপদেশ দেওয়ার জন্য আমরা এসেছি। দয়া করে গভীর মনোযোগ সহকারে তা শ্রবণ কর। তা করার ফলে, তোমার আয়ু, ঐশ্বর্য, বীর্য এবং কীর্তি বৃদ্ধি পাবে। যারা কায়, মন, বাক্য এবং বুদ্ধির দ্বারা ধর্ম আচরণপূর্বক জীবন যাপন করে, তারা স্বর্গলোকে উন্নীত হয় যা সমস্ত শোক এবং দুঃখ-দুর্দশা থেকে মুক্ত। এইভাবে জড়-জাগতিক প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে তারা অন্তহীন সুখ প্রাপ্ত হয়। হে বীর! সেই হেতু জনসাধারণের পারমার্থিক জীবন নষ্ট করার নিমিত্ত হওয়া তোমার উচত নয়। যদি তোমার কার্যকলাপের ফলে তাদের পারমাথির্ক জীবন বিনষ্ট হয়, তা হলে তুমি অবশ্যই তোমার ঐশ্বর্য এবং রাজপদ থেকে পতিত হবে। রাজা যখন দুষ্ট অমাত্যবর্গ ও দস্যু-তস্করদের উৎপাত থেকে প্রজাদের রক্ষা করেন, তখন তিনি সেই পূর্ণকর্মের ফলে, প্রজাদের থেকে শুল্ক গ্রহণ করেন। এই প্রকার পুণ্যবান রাজা ইহজগতে এবং পরজন্মেও নিশ্চিতভাবে সুখ প্রাপ্ত হন। যে রাজার রাজ্যে এবং নগরে জনসাধারণ নিষ্ঠাসহকারে চতুর্বর্ণ এবং চতুরাশ্রম সমাজ-ব্যবস্থা পালন করে এবং সমস্ত প্রজারা তাদের বিশেষ বিশেষ বৃত্তির দ্বারা পরমেশ্বর ভগবানের আরাধনায় যুক্ত, সেই রাজাকে পুণ্যবান বলে বিবেচনা করা হয়।’ ”
“হে মহাভাগ! রাজা যদি দেখেন যে, ভূতভাবন বিশ্বাত্মা ভগবান যথাযথভাবে পূজিত হচ্ছেন, তা হলে ভগবান তাঁর প্রতি প্রসন্ন হন। ব্রহ্মান্ডের দেবতা মহান দেবতাদের দ্বারা পরমেশ্বর ভগবান পূজিত হন। তিনি যখন প্রসন্ন হন, তখন কোন কিছু লাভ করা আর অসম্ভব হয় না। সেই জন্য বিভিন্ন গ্রহলোকের পালক দেবতারা এবং সেই সমস্ত গ্রহলোকের অধিবাসীরা ভগবানকে সমস্ত প্রকার নৈবেদ্য নিবেদন করে মহা আনন্দ অনুভব করেন।”
“হে রাজন্! সমস্ত গ্রহলোকে সমস্ত যজ্ঞফলের ভোক্তা হচ্ছেন প্রধান দেবতাগণ সহ পরমেশ্বর ভগবান। ভগবান তিন বেদের সার স্বরূপ, তিনই সব কিছুর ঈশ্বর এবং সমস্ত তপস্যার চরম লক্ষ্য। অতএব তোমার উন্নতির জন্য তোমার দেশবাসীদের বিভিন্ন প্রকার যজ্ঞ অনুষ্ঠান করা উচিত। বাস্তবিকপক্ষে তোমার কর্তব্য হচ্ছে সর্বদা যজ্ঞ অনুষ্ঠান করার জন্য তাদের পরিচালিত করা। যখন তোমার রাজ্যে সমস্ত ব্রাহ্মণেরা যজ্ঞ অনুষ্ঠানে ব্রতী হবেন, তখন ভগবানের অংশ-সম্ভূত দেবতারা তাঁদের কার্যকলাপের দ্বারা অত্যন্ত প্রসন্ন হবেন এবং তোমার অভিলষিত ফল তঁরা প্রদান করবেন। অতএব, হে বীর! যজ্ঞ অনুষ্ঠান বন্ধ করো না। তুমি যদি তা বন্ধ কর, তা হলে দেবতাদের অবজ্ঞা করা হবে।”
রাজা বেণ উত্তর দিল- “তোমরা সকলেই নিতান্তই অজ্ঞ। তোমরা যে অধর্মকে ধর্ম বলে মনে করেছ, তা অত্যন্ত দুঃখের বিষয়। তোমাদের অবস্থা বস্তুত পালন-পোষণকারী পতিকে পরিত্যাগ করে উপপতিকে অন্বেষণকারী স্ত্রীর মতো। যারা ঘোর অজ্ঞানতাবশত রাজারূপী ভগবানের পূজা করে না, তারা ইহলোকে এবং পরলোকে সুখ অনুভব করতে পারে না। তোমরা দেবতাদের প্রতি অনুরক্ত, কিন্তু তাঁরা কে? দেবতাদের প্রতি তোমাদের এই প্রীতি বস্তুতই কুলটা স্ত্রীর বিবাহিত জীবন উপেক্ষা করে, উপপতির প্রতি অনুরক্ত হওয়ার মতো। শ্রীবিষ্ণু, ব্রহ্মা, শিব, ইন্দ্র, বায়ু, যম, সূর্যদেব, পর্জন্য, কুবের, চন্দ্রদেব, পৃথিবী, অগ্নি, বরুণ এবং অন্য সকলে, যারা শাপ ও বর প্রদান করতে পারে, এরা সকলেই রাজার দেহে অধিষ্ঠান করে। তাই রাজাকে সর্বদেবময় বলা হয়। অতএব এরা সসলেই রাজার এই শরীরের অংশ। অতএব হে বিপ্রগণ! তোমরা আমার প্রতি মৎসরতা পরিত্যাগ করে, তোমাদের অনুষ্ঠিত কার্যকলাপের দ্বারা আমার পূজা কর এবং আমার উদ্দেশ্যে সব কিছু নিবেদন কর। তোমরা যদি বুদ্ধিমান হও, তা হলে বুঝতে পারবে যে, আমার থেকে শ্রেষ্ঠ কেউ নেই, যে সমস্ত যজ্ঞের অগ্রভাগ গ্রহণ করতে পারে।”
মহর্ষি মৈত্রেয় বললেন- “তার পাপকর্মের ফলে এবং সন্মার্গ থেকে ভ্রষ্ট হওয়ার ফলে, রাজা বেণ মতিচ্ছন্ন হয়েছিল এবং সর্বপ্রকার সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। মহর্ষিরা গভীর সম্মান সহকারে তাকে যে অনুরোধ করেছিলেন, তা সে গ্রহণ করতে পারেনি এবং তার ফলে সে ধিক্কৃত হয়েছিল। হে বিদুর! তোমার সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল হোক। সেই মূর্খ রাজা নিজেকে মস্ত বড় পণ্ডিত বলে মনে করে এইভাবে সেই মহর্ষিদের অপমান করেছিল এবং রাজার বাক্যে মর্মাহত হয়ে তাঁরা তার প্রতি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন।”
সমস্ত মহান ঋষিগণ তখন গর্জন করে বলেছিলেন- “একে সংহার কর! একে সংহার কর! এ অত্যন্ত ভয়ঙ্কর ও পাপী। এ যদি বেঁচে থাকে, তা হলে অবশ্যই সে সারা পৃথিবীকে অতি শ্রীঘ্রই ভস্মসাৎ করবে। এই দুরাচারী দাম্ভিক ব্যক্তিটির রাজসিংহাসনে বসার কোন যোগ্যতা নেই। সে এমনই নির্লজ্জ যে, ভগবান শ্রীবিষ্ণুকে পর্যন্ত অপমান করার দুঃসাহস করে। যে-ভগবানের কৃপাভাজন হয়ে এই ব্যক্তি সমগ্র সৌভাগ্য এবং এই প্রকার ঐশ্বর্য লাভ করে, মূর্তিমান পাপসদৃশ রাজা বেণ ছাড়া, আর কেই বা সেই ভগবানের নিন্দা করতে পারে? ঋষিরা এইভাবে তাঁদের আচ্ছাদিত ক্রোধ প্রকাশ করে, তৎক্ষণাৎ রাজা বেণকে হত্যা করতে স্থির করেছিলেন। পরমেশ্বর ভগবানকে নিন্দা করার ফলে, রাজা বেণ পূর্বেই হত হয়েছিল। এইভাবে কোন প্রকার অস্ত্র প্রয়োগ না করে, ঋষিরা কেবল হুঙ্কার ধ্বনির দ্বারা রাজা বেণকে সংহার করেছিলেন। তার পর ঋষিরা নিজ নিজ আশ্রমে প্রস্থান করেছিলেন। বেণ-জননী সুনীথা তখন তাঁর পুত্রের মৃত্যুতে অত্যন্ত কাতর হয়েছিলেন। তিনি তাঁর পুত্রের মৃতদেহ বিশেষ উপাদানের প্রয়োগের দ্বারা এবং মন্ত্রের দ্বারা (মন্ত্র-যোগেন) সংরক্ষন করতে স্থির করেছিলেন।”
“এক সময় সেই মহাত্মাগণ সরস্বতী নদীতে স্নান করে এবং যজ্ঞাগ্নিতে আহুতি প্রদান করে, তাঁদের দৈনন্দিন কৃত্য অনুষ্ঠান করেছিলেন। তার পর, নদীর তটে উপবেশন করে, তাঁরা চিন্ময় ভগবানের লীলা আলোচনা করতে শুরু করেছিলেন। সেই সময় রাজ্যে নানা প্রকার উপদ্রব হওয়ার ফলে, সমাজে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছিল। তাই সেই ঋষিরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে শুরু করেছিলেন- যেহেতু রাজার মৃত্যু হয়েছে এবং পৃথিবীকে রক্ষা করার মতো কেউ নেই, তাই হয়তো দস্যু-তস্করদের প্রভাবে প্রজারা সঙ্কটাপন্ন হতে পারে। মহান ঋষিরা যখন এইভাবে আলোচনা করছিলেন, তখন তাঁরা দেখলেন যে, সর্বদিকে এক ধুলির ঝড় উত্থিত হয়েছে। নাগরিকদের লুন্ঠনে রত দস্যু-তস্করদের চতুর্দিকে ধাবিত হওয়ার ফলে এই ঝড় উঠেছিল। সেই ধুলির ঝড় দর্শন করে ঋষিরা বুঝতে পেরেছিলেন যে, রাজা বেণের মৃত্যুর ফলে, মহা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। শাসক না থাকার ফলে, রাজা আইন ও শৃঙ্খলা-রহিত হয়েছে এবং তার ফলে ভয়ঙ্কর দস্যু-তস্করদের প্রাবল্য দেখা দিয়েছে, যারা প্রজাদের ধন-সম্পদ হরণ করছে। সেই মহান ঋষিরা যদিও তাঁদের নিজেদের শক্তির দ্বারা সেই উপদ্রব উপশম করতে পারতেন- ঠিক যেভাবে তাঁরা রাজা বেণকে সংহার করেছিলেন- তবুও তাঁরা তা করা অনুচিত বলে বিবেচনা করেছিলেন। তাই তাঁরা সেই উপদ্রব বন্ধ করার চেষ্টা করেননি। মহান ঋষিরা বিবেচনা করলেন যে, ব্রাহ্মণ যদিও শান্তিপ্রিয় এবং সকলের প্রতি সমদর্শী হওয়ার ফলে নিরপেক্ষ, তবুও দীনজনদের অবহেলা করা তাঁর কর্তব্য নয়। এই প্রকার অবহেলার ফলে, ব্রাহ্মণের ব্রহ্মতেজ ক্ষয় হয়, ঠিক যেমন একটি ভগ্নপাত্র থেকে জল ঝড়ে পড়ে। ঋষিরা বিবেচনা করেছিলেন যে, রাজর্ষি অঙ্গের এই বংশ একেবারে ধ্বংস হওয়া উচিত নয়, কারণ এই বংশের বীর্য অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এই বংশের সন্তানেরা ভগবদ্ভক্তি পরায়ণ হয়। ঋষিরা এইভাবে স্থিরনিশ্চয় করে, অতিবেগে এবং এক বিশেষ পন্থায়, মৃত রাজা বেণের ঊরুদেশ মন্থন করেছিলেন। তার ফলে রাজা বেণের শরীর থেকে এক বামন পুরুষের উৎপত্তি হয়েছিল। রাজা বেণের ঊরুদেশ থেকে যে ব্যক্তিটি উৎপন্ন হয়েছিল, তার নাম ছিল বাহুক, তার গায়ের রং কাকের মতো কৃষ্ণবর্ণ ছিল, তার দেহের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলি অত্যন্ত খর্ব, তার বাহু এবং পা খর্ব এবং তার চোয়াল ছিল অত্যন্ত বিশাল। তার নাসিকা অনুন্নত, তার চক্ষু রক্তবর্ণ এবং তার কেশ তাম্রবর্ণ ছিল। সে অত্যন্ত বিনীত ও নম্র ছিল এবং তার জন্মের পরেই সে অবনত হয়ে প্রশ্ন করেছিল, ‘মহাশয়! আমি কি করব?’ ঋষিরা তখন উত্তর দিয়েছিলেন, ‘নিষীদ অর্থাৎ উপবেশন কর।’ এইভাবে নৈষাদ জাতির জনক নিষাদের জন্ম হয়েছিল। তার (নিষাদের) জন্মের পরেই, সে রাজা বেণের সমস্ত পাপকর্মের ফল গ্রহণ করেছিল। তাই এই নিষাদ জাতি সর্বদা চুরি, ডাকাতি এবং শিকার আদি পাপকর্মে সর্বদা যুক্ত থাকে। তার ফলে তাদের কেবলমাত্র পর্বতে এবং অরণ্যেই বাস করতে হয়।”

Leave a Reply

August 2025
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

Blog Stats

  • 140,963 hits