ত্রয়োদশ অধ্যায়- ধ্রুব মহারাজের বংশধরদের বর্ণনা

শ্রীসূত গোস্বামী শৌনকাদি সমস্ত ঋষিদের বললেন- “মৈত্রেয় ঋষির কাছে ধ্রুব মহারাজের বিষ্ণুধামে আরোহণের বর্ণনা শ্রবণ করে, ভগবানের প্রতি বিদুরের ভক্তি আরও দৃঢ়তা প্রাপ্ত হয়েছিল এবং তিনি মৈত্রয়কে পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে মহান ভক্ত! প্রচেতারা কে? কোন্ কুলে তাঁদের জন্ম হয়েছিল? তাঁরা কার পুত্র ছিলেন এবং কোথায় তাঁরা সেই মহান যজ্ঞ অনুষ্ঠান করেছিলেন? আমি জানি যে, দেবর্ষি নারদ হচ্ছেন সর্বশ্রেষ্ঠ ভক্ত। তিনি ভগবদ্ভক্তির পাঞ্চরাত্রিক বিধি প্রণয়ন করেছেন এবং স্বয়ং ভগবানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। প্রচেতারা যখন যজ্ঞ অনুষ্ঠানের দ্বারা যজ্ঞপুরুষ ভগবানের আরাধনা করছিলেন, তখন ধ্রুব মহারাজের দিব্য গুণাবলী দেবর্ষি নারদ বর্ণনা করেছিলেন। হে ব্রাহ্মণ! নারদ মুনি কিভাবে পরমেশ্বর ভগবানের মহিমা কীর্তন করেছিলেন এবং সেই সভায় ভগবানের কোন্ লীলা বর্ণনা করা হয়েছিল? আমি তা শুনতে অত্যন্ত আগ্রহী। দয়া করে আপনি পূর্ণরূপে ভগবানের সেই মহিমা বর্ণনা করুন।’ ”
মহর্ষি মৈত্রেয় উত্তর দিলেন- “হে বিদুর! মহারাজ ধ্রুব যখন বনে প্রস্থান করলেন, তখন তাঁর পুত্র উৎকল তাঁর পিতার ঐশ্বর্যমণ্ডিত ও সারা পৃথিবীর উপর সার্বভৌমত্ব স্থাপনকারী রাজসিংহাসন গ্রহণ করতে চাননি। উৎকল তাঁর জন্ম থেকেই সম্পূর্ণরূপে সন্তুষ্ট এবং সংসারের প্রতি অনাসক্ত ছিলেন। তিনি ছিলেন সমদর্শী, কারণ তিনি প্রত্যেক বস্তুকে পরমাত্মায় এবং প্রত্যেকের হৃদয়ে পরমাত্মাকে বিরাজমান দেখতেন। পরম ব্রহ্মের জ্ঞানের প্রসারের দ্বারা, তিনি ইতিমধ্যেই তাঁর দেহের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়েছিলেন। এই মুক্তিকে বলা হয় নির্বাণ। তিনি দিব্য আনন্দে মগ্ন ছিলেন এবং সেই আনন্দময় স্থিতিতেই তিনি সর্বদা বিরাজ করতেন, যা ক্রমশ বর্ধিত হচ্ছিল। নিরন্তর ভক্তিযোগের অনুশীলনের ফলে তাঁর পক্ষে তা সম্ভব হয়েছিল। ভক্তিযোগকে অগ্নির সঙ্গে তুলনা করা হয়, কারণ তা জড় বাসনারূপ সমস্ত মল দগ্ধ করে। তিনি সর্বদাই তাঁর আত্ম-উপলব্ধির স্বরূপে অধিষ্ঠিত ছিলেন এবং ভগবানের অতিরিক্ত অন্য কিছুই তিনি দেখতেন না এবং তিনি সর্বদা তাঁরই সেবাতে যুক্ত থাকতেন। পথে বিচরণ করার সময় অল্পবুদ্ধি-সম্পন্ন মানুষেরা উৎকলকে জড়, অন্ধ, বধির, উন্মত্ত এবং মূক বলে মনে করত, যদিও প্রকৃতপক্ষে তিনি তা ছিলেন না। তিনি ভস্মাচ্ছাদিত জ্বলন্ত শিখাবিহীন অগ্নির মতো অবস্থান করতেন। সেই কারণে মন্ত্রী ও কুলবৃদ্ধগণ উৎকলকে বুদ্ধিহীন ও উন্মত্ত বলে মনে করেছিলেন এবং তাই তাঁর কনিষ্ঠ ভ্রাতা ভ্রমিনন্দন বৎসরকে পৃথিবীর রাজপদে অভিষিক্ত করেছিলেন। মহারাজ বৎসরের স্বর্বীথি নামক অত্যন্ত প্রিয় পত্নী ছিলেন; তিনি পুষ্পার্ণ, তিগ্মকেতু, ইষ, ঊর্জ, বসু এবং জয় নামক ছয় পুত্র প্রসব করেন। পুষ্পার্ণের প্রভা এবং দোষা নামক দুই পত্নী ছিল। প্রভার প্রাতঃ, মধ্যন্দিনম্ এবং সায়ম্ নামক তিন পুত্র ছিল। দোষার প্রদোষ, নিশিথ এবং ব্যুষ্ট নামক তিন পুত্র ছিল। ব্যুষ্টের পত্নী পুষ্করিণী এবং তিনি সর্বতেজা নামে এক অতি শক্তিশালী পুত্র প্রসব করেন। সর্বতেজার পত্নী আকূতি চাক্ষুষ নামক পুত্র প্রসব করেন, যিনি মন্বন্তরে ষষ্ঠ মনু হয়েছিলেন। চাক্ষুষ মনুর পত্নী ছিলেন নড্বলা, তিনি পুরু, কুৎস, ত্রিত, দ্যুম্ন, সত্যবান্, ঋত, ব্রত, অগ্নিষ্টোম, অতীরাত্র, প্রদ্যুম্ন, শিবি এবং উল্মুক নামক শুদ্ধচিত্ত পুত্রদের প্রসব করেন। বারোজন পুত্রের মধ্যে উল্মুক তাঁর পত্নী পুষ্করিণীর গর্ভে ছয়টি পুত্র উৎপাদন করেছিলেন। তাঁরা অত্যন্ত সুসন্তান ছিলেন এবং তাঁদের নাম ছিল অঙ্গ, সুমনা, খ্যাতি, ক্রতু, অঙ্গিরা ও গয়। অঙ্গের পত্নী সুনীথা বেণ নামক একটি পুত্র প্রসব করেন, এই বেণ ছিল অত্যন্ত কুটিল। তার অত্যন্ত দুষ্ট স্বভাবে মর্মাহত হয়ে, রাজর্ষি অঙ্গ গৃহ ত্যাগ করে বনে চলে গিয়েছিলেন। হে বিদুর! মহর্ষিদের অভিশাপ বজ্রের মতো কঠোর। তাই তাঁরা যখন ক্রুদ্ধ হয়ে বেণ রাজাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন, তখন তার মৃত্যু হয়েছিল। তার মৃত্যুর পর কোন রাজা না থাকায় দস্যু-তস্করদের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছিল, রাজ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল এবং সমস্ত প্রজারা ভীষণভাবে দুঃখ-কষ্ট ভোগ করছিল। তা দেখে, মহর্ষিরা বেণের দক্ষিণ হস্তটিকে মন্থন করেছিলেন এবং তাঁদের মন্থনের ফলে, ভগবান বিষ্ণুর অংশে আদি রাজা পৃথু আবির্ভূত হয়েছিলেন।”
বিদুর মহর্ষি মৈত্রেয়কে জিজ্ঞাসা করলেন- “হে ব্রাহ্মণ! মহারাজ অঙ্গ ছিলেন অত্যন্ত সুশীল। তিনি অত্যন্ত চরিত্রবান এবং সাধু পুরুষ ছিলেন এবং ব্রহ্মণ্য সংস্কৃতির প্রতি অনুরক্ত ছিলেন। তা হলে এই প্রকার মহাত্মার বেণের মতো কুসন্তান কিভাবে উৎপন্ন হয়েছিল, যার জন্য তিনি বিরক্ত হয়ে রাজ্য ত্যাগ করেছিলেন? ধর্মজ্ঞ মহর্ষিরা কেন শাসন-দণ্ড ধারণকারী রাজা বেণকে ব্রহ্মশাপ দিয়েছিলেন? প্রজাদের কর্তব্য হচ্ছে, রাজা যদি কখনও অত্যন্ত পাপপূর্ণ আচরণ করেও থাকেন, তবুও তাঁকে অপমান না করা। কারণ তিনি তাঁর তেজের দ্বারা অন্য সমস্ত শাসকদের থেকে অধিক প্রভাবশালী।”
বিদুর মৈত্রেয়কে অনুরোধ করলেন- “হে ব্রাহ্মণ! আপনি অতীত এবং ভবিষ্যৎ উভয় কালের সমস্ত বিষয়ের সম্বন্ধে খুব ভালভাবে অবগত আছেন। তাই বেণ রাজার সমস্ত কার্যকলাপ সম্বন্ধে আমি আপনার কাছে শুনতে চাই। আমি আপনার শ্রদ্ধাবান ভক্ত, তাই দয়া করে আপনি তা বর্ণনা করুন।”
শ্রীমৈত্রেয় উত্তর দিলেন- “হে বিদুর! এক সময় মহান রাজা অঙ্গ অশ্বমেধ নামক এক মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। সেখানে উপস্থিত সমস্ত অভিজ্ঞ ব্রাহ্মণেরা জানতেন, কিভাবে দেবতাদের আহ্বান করতে হয়, কিন্তু তাঁদের চেষ্টা সত্ত্বেও কোন দেবতা সেই যজ্ঞে অংশ গ্রহণ করতে আসেননি।”
সেই যজ্ঞে নিযুক্ত পুরোহিতরা তখন রাজা অঙ্গকে বললেন- “হে রাজন্! আমরা যথাযথভাবে যজ্ঞে ঘৃত আহুতি দিচ্ছি, কিন্তু আমাদের সমস্ত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দেবতারা তা গ্রহণ করছেন না। হে রাজন্, আমরা জানি যে, যজ্ঞ অনুষ্ঠানের সকল সামগ্রী আপনি গভীর শ্রদ্ধা এবং সাবধানতা সহকারে সংগ্রহ করেছেন এবং তা দূষিত নয়। আমাদের উচ্চারিত বৈদিক মন্ত্রও বীর্যহীন নয়, কারণ উপস্থিত সমস্ত ব্রাহ্মণ ও পুরোহিতরা যথাযথভাবে যজ্ঞ অনুষ্ঠানে পারদর্শী এবং এই যজ্ঞ তাঁরা দক্ষতা সহকারে অনুষ্ঠান করছেন। হে রাজন্! দেবতারা যে কেন অপমানিত বা উপেক্ষিত বলে অনুভব করবেন, তার কোন কারণও আমরা খুঁজে পাচ্ছি না, কিন্তু তা সত্ত্বেও যজ্ঞের সাক্ষী দেবতারা তাঁদের যজ্ঞভাগ গ্রহণ করছেন না। কেন যে এই রকম হচ্ছে তা আমরা বুঝতে পারছি না।”
সেই প্রশ্নের উত্তরে মৈত্রেয় বললেন যে, “পুরোহিতদের সেই কথা শুনে রাজা অঙ্গ অত্যন্ত বিষণ্ন হয়েছিলেন। তখন তিনি পুরোহিতদের কাছ থেকে কিছু বলার অনুমতি নিয়ে, সেই যজ্ঞস্থলে উপস্থিত সমস্ত পুরোহিতদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন।”
পুরোহিতদের সম্বোধন করে রাজা অঙ্গ বললেন- “হে পুরোহিতগণ! দয়া করে আমাকে বলুন, আমি কি অপরাধ করেছি। দেবতারা আমন্ত্রিত হওয়া সত্ত্বেও, তাঁরা এই যজ্ঞে আসছেন না এবং তাঁদের যজ্ঞভাগ গ্রহণ করছেন না।”
প্রধান পুরোহিতগণ বললেন- “হে রাজন্! এই জীবনে আপনার কোন পাপ নেই, এমন কি আপনার মনেও কোন পাপ নেই। কিন্তু পূর্ব জীবনে আপনি পাপ করেছিলেন, যার ফলে অত্যন্ত ধার্মিক হওয়া সত্ত্বেও আপনার কোন পুত্র সন্তান নেই। হে রাজন্! আপনার কল্যাণ হোক। আপনি অপুত্রক, কিন্তু আপনি যদি ভগবানের কাছে পুত্র লাভের জন্য প্রার্থনা করেন এবং সেই উদ্দেশ্যে যজ্ঞ করেন, তা হলে যজ্ঞেশ্বর ভগবান আপনার বাসনা পূর্ণ করবেন। যখন যজ্ঞপুরুষ হরি আপনার পুত্র লাভের বাসনা পূর্ণ করার জন্য আমন্ত্রিত হবেন, তখন সমস্ত দেবতারা তাঁর সঙ্গে আসবেন এবং তাঁদের যজ্ঞভাগ গ্রহণ করবেন। যজ্ঞকর্তা (কর্মকাণ্ডের অন্তর্গত) যে বাসনা নিয়ে ভগবানের পূজা করে, তার সেই বাসনা পূর্ণ হয়। এইভাবে রাজা অঙ্গের পুত্র-লাভের উদ্দেশ্যে, তাঁরা সমস্ত জীবের হৃদয়ে অবস্থিত শ্রীবিষ্ণুর প্রতি আহুতি প্রদান করতে মনস্থ করেছিলেন। যজ্ঞে আহুতি দেওয়ার মাধ্যমেই, যজ্ঞাগ্নি থেকে সুবর্ণ মাল্যভূষিত এবং শ্বেত বস্ত্র পরিহিত এক পুরুষ আবির্ভূত হলেন। তিনি একটি স্বর্ণপাত্রে পায়েস নিয়ে এসেছিলেন। রাজা ছিলেন অত্যন্ত উদার এবং ব্রাহ্মণদের অনুমতি নিয়ে, তিনি অঞ্জলিবদ্ধ হয়ে সেই পায়েস গ্রহণ করেছিলেন এবং তার ঘ্রাণ গ্রহণ করে তিনি তাঁর পত্নীকে তা প্রদান করেছিলেন। পুত্রহীনা রানী সুনীথা পুত্রোৎপাদক সেই পায়েস ভক্ষণ করে তাঁর পতির সাহচর্যে গর্ভবতী হন এবং যথা সময়ে এক পুত্র প্রসব করেছিলেন। সেই বালকটির জন্ম হয়েছিল আংশিকভাবে অধর্মের বংশে। তার মাতামহ ছিল সাক্ষাৎ মৃত্যু এবং সে তার মাতামহের অনুগত হয়েছিলেন; তার ফলে সে অত্যন্ত অধার্মিক হয়েছিল। সেই নিষ্ঠুর বালক ধনুর্বাণ নিয়ে বনে গিয়ে, অকারণের নিরীহ হরিণদের বধ করত। তাকে আসতে দেখা মাত্রই পুরজনেরা চিৎকার করত, “নিষ্ঠুর বেণ আসছে! নিষ্ঠুর বেণ আসছে!” সেই বালক এত নিষ্ঠুর ছিল যে, খেলার সময় সে তার সমবয়স্ক বালকদের পশুর মতো হত্যা করত। রাজা অঙ্গ তাঁর পুত্র বেণের নিষ্ঠুর ও নির্দয় আচরণ দর্শন করে, তাকে সংশোধন করার জন্য নানা প্রকার দণ্ড দিয়েছিলেন, কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি তাকে সৎপথে নিয়ে আসতে সক্ষম হলেন না। তার ফলে তিনি অত্যন্ত বিষণ্ন হয়েছিলেন।”
রাজা মনে মনে ভাবলেন- “যাঁরা অপুত্রক তাঁরা নিশ্চয়ই ভাগ্যবান। তাঁরা অবশ্যই পূর্বজন্মে ভগবানের আরাধনা করেছিলেন, যার ফলে কুপুত্রের দ্বারা তাঁদের অসহ্য দুঃখভোগ করতে হয় না। পাপী পুত্রের ফলে মানুষের যশ নষ্ট হয়। তার অধর্ম আচরণের ফলে, গৃহে অধর্ম এবং বিরোধের সৃষ্টি হয় এবং তা কেবল অন্তহীন উৎকন্ঠার সৃষ্টি করে। এমন কোন্ বিবেচক এবং বুদ্ধিমান ব্যক্তি আছেন, যিনি এই প্রকার কুপুত্র কামনা করবেন? এই প্রকার পুত্র জীবের মোহবন্ধনের কারণ ছাড়া আর কিছু নয় এবং তার নিমিত্ত গৃহ ক্লেশদায়ক হয়ে থাকে।”
তার পর রাজা মনে মনে বিচার করেছিলেন- “সুুপুত্র থেকে কুপুত্র ভাল, কারণ সুপুত্র থেকে গৃহের প্রতি আসক্তির সৃষ্টি হয়, কিন্তু কুপুত্র থেকে তা হয় না। কুপুত্র গৃহকে নরকে পরিণত করে, যার ফলে বুদ্ধিমান মানুষ সহজেই সেই গৃহের প্রতি বিরক্ত হয়। এইভাবে চিন্তা করে, রাজা অঙ্গ রাত্রে ঘুমাতে পারলেন না। তিনি গৃহস্থ জীবনের প্রতি সম্পূর্ণরূপে উদাসীন হয়েছিলেন। তাই, একদিন গভীর রাত্রে তিনি শয্যা থেকে উত্থিত হলেন এবং গভীর নিদ্রায় মগ্ন বেণের মাতাকে (তাঁর পত্নীকে) ত্যাগ করে চলে গেলেন। তিনি তাঁর অত্যন্ত ঐশ্বর্যময় রাজ্যের প্রতি সমস্ত আসক্তি ত্যাগ করেছিলেন এবং সকলের অজ্ঞাতসারে, তিনি নিঃশব্দে তাঁর গৃহ ও সমস্ত ঐশ্বর্য পরিত্যাগ করে বনে গমন করেছিলেন। সকলে যখন বুঝতে পেরেছিলেন যে, রাজা উদাসীন হয়ে গৃহত্যাগ করেছেন, তখন সমস্ত প্রজারা, পুরোহিতরা, মন্ত্রীরা, সুহৃদেরা এবং জনসাধারণ অত্যন্ত শোকবিহ্বল হয়েছিলেন। তাঁরা পৃথিবীর সর্বত্র তাঁর অন্বেষণ করতে শুরু করেছিলেন, ঠিক যেভাবে একজন অনভিজ্ঞ যোগী তাঁর অন্তরে পরমাত্মার অন্বেষণ করে। সর্বত্র রাজার অন্বেষণ করা সত্ত্বেও তাঁকে খুঁজে না পেয়ে, নাগরিকেরা অত্যন্ত নিরাশ হয়েছিলেন এবং তাঁরা নগরীর সেই স্থানে ফিরে এসেছিলেন, যেখানে রাজ্যের সমস্ত মহর্ষিরা রাজার অনুপস্থিতির ফলে সমবেত হয়েছিলেন। নাগরিকেরা অশ্রুপূর্ণ নয়নে সেই মহর্ষিদের প্রণতি নিবেদন করে সবিস্তারে তাঁদের জানিয়েছিলেন যে, তাঁরা কোথায়ও রাজাকে খুঁজে পাননি।”

Leave a Reply

August 2025
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

Blog Stats

  • 140,959 hits