মৈত্রেয় বললেন- “সমস্ত পুরোহিত, যজ্ঞসভার সদস্য এবং দেবতারা শিবের সৈন্যদের দ্বারা পরাজিত হয়ে ত্রিশুল, তরবারি ইত্যাদি অস্ত্রের দ্বারা সর্বাঙ্গে আহত হয়ে, ভয়বিহ্বল চিত্তে ব্রহ্মার কাছে উপস্থিত হলেন। তাঁকে প্রণতি নিবেদন করার পরে, দক্ষের যজ্ঞে যা কিছু হয়েছিল তা সবিস্তারে তাঁরা নিবেদন করতে শুরু করলেন। ব্রহ্মা এবং বিষ্ণু উভয়ে পূর্বেই জানতে পেরেছিলেন যে, দক্ষযজ্ঞে এই সমস্ত ঘটনাগুলি ঘটবে তাই তাঁরা সেই যজ্ঞে যাননি।”
দেবতা এবং সেই যজ্ঞে অংশ গ্রহণকারী সদস্যদের সমস্ত বক্তব্য শ্রবণ করে ব্রহ্মা বললেন- “মহাপুরুষের নিন্দা করে এবং তার ফলে তাঁর চরণ-কমলে অপরাধ করে যজ্ঞ অনুষ্ঠান দ্বারা তোমরা কখনই সুখী হতে পারবে না। এইভাবে তোমরা কখনই সুখ লাভ করতে পারবে না। শিবকে তাঁর যজ্ঞাংশ থেকে বঞ্চিত করার ফলে, তোমরা সকলেই তাঁর শ্রীপাদপদ্মে অপরাধ করেছ। তবুও যদি তোমরা শুদ্ধ অন্তঃকরণে তাঁর শ্রীপাদপদ্মে প্রণত হয়ে তাঁর শরণ গ্রহণ কর, তা হলে তিনি অত্যন্ত প্রসন্ন হবেন। ব্রহ্মা তাদের উপদেশ দিয়ে বললেন যে, শিব এতই শক্তিশালী যে, তিনি ক্রুদ্ধ হলে লোকপাল সহ সমস্ত গ্রহলোক তৎক্ষণাৎ বিনষ্ট করতে পারেন। তিনি আরো বলেছিলেন যে, শিব তাঁর প্রিয়তমা পত্নীর বিয়োগে অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছেন এবং দক্ষের নিষ্ঠুর বাক্যের দ্বারা তিনি বিশেষভাবে মর্মাহত হয়েছেন। এই অবস্থায়, ব্রহ্মা তাঁদের উপদেশ দিয়েছিলেন যে, তৎক্ষণাৎ শিবের কাছে গিয়ে ক্ষমা ভিক্ষা করাই তাঁদের পক্ষে মঙ্গলজনক হবে। ব্রহ্মা বলেছিলেন যে, শিব যে কত শক্তিশালী তা তিনি স্বয়ং, ইন্দ্র, যজ্ঞসভার সমবেত সমস্ত সদস্যেরা, অথবা সমস্ত মুনি-ঋষিরা, কেউই জানেন না। সেই অবস্থায় কে তাঁর শীপাদপদ্মে অপরাধ করতে সাহস করবে?”
“এইভাবে দেবতাদের উপদেশ দিয়ে, পিতৃগণ, প্রজাপতিগণ এবং দেবতাগণ সহ ব্রহ্মা তাঁর স্বধাম থেকে শিবের প্রিয়তম আলয় গিরিরাজ কৈলাসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। কৈলাস নামক ধাম বিভিন্ন ওষধি এবং বনস্পতিতে পূর্ণ, তা বৈদিক মন্ত্র এবং যোগ অভ্যাসের দ্বারা পবিত্র। তাই সেই ধামের অধিবাসীরা জন্মসূত্রে দেবতা এবং তাঁরা সমস্ত যোগশক্তি সমন্বিত। তা ছাড়া সেখানে অন্য মানুষেরা রয়েছেন, যাঁদের বলা হয় কিন্নর এবং গন্ধর্ব, সেখানে তাঁরা তাঁদের অপ্সরা নামক সুন্দরী স্ত্রীদের সঙ্গে বিরাজ করেন। কৈলাস সমস্ত প্রকার বহুমূল্য মণিরত্ন এবং ধাতুতে পূর্ণ পর্বত-সমন্বিত এবং নানা প্রকার মূল্যবান বৃক্ষ এবং লতার দ্বারা পরিবৃত। সেই পর্বতশৃঙ্গ বিভিন্ন প্রকার হরিণদের দ্বারা বিভূষিত। সেখানে বহু ঝরনা রয়েছে এবং পর্বতে অনেক সুন্দর গুহা রয়েছে, যেখানে সিদ্ধ রমণীগণ তাঁদের কান্ত সহ বিহার করেন। কৈলাস পর্বত সর্বদা ময়ূরের কেকারব, ভ্রমরের গুঞ্জন, কোকিলের কুহুরব এবং অন্যান্য পক্ষীদের কুজনে মুখরিত। কৈলাস পর্বতের ঋজু শাখা-সমন্বিত সুউচ্চ বৃক্ষগুলি যেন হস্ত প্রসারণ করে বিহঙ্গদের আহ্বান করে। মাতঙ্গগণ যখন ইতস্তত ভ্রমন করে, তখন মনে হয় যে কৈলাস পর্বত মন্থর গতিতে তাদের সাথে গমন করছেন। ঝরনা থেকে যকন সশব্দে জল পড়ে, তখন মনে হয় যেন কৈলাস পর্বতও কলকন্ঠে কীর্তন করছেন। সমগ্রকৈলাস পর্বতটি বিভিন্ন প্রকার বৃক্ষের দ্বারা শোভিত। তাদের কয়েকটির নাম এখানে উল্লেখ করা হয়েছে, মন্দার, পারিজাত, সরল, তমাল, তাল, কোবিদার, আসন, অর্জুন, আম্র, কদম্ব, ধুলি-কদম্ব, নাগ, পুন্নাগ, চম্পক, পাটল, অশোক, বকুল, কুন্দ ও কুরবক। সমগ্র পর্বতটি এই সমস্ত বৃক্ষের দ্বারা শোভিত যাতে সুরভিত ফুল ফোটে। অন্যান্য বৃক্ষও সেই পর্বতকে সুশোভিত করেছে, যথা স্বর্ণবর্ণ কমল, দারুচিনি, মালতী, কুব্জ, মল্লিকা এবং মাধবী। কৈলাস পর্বত অন্যান্য যে-সমস্ত বৃক্ষের দ্বারা শোভিত, সেগুলি হচ্ছে কাঁঠাল, অশ্বত্থ প্লক্ষ, ন্যগ্রোধ এবং হিং-উৎপাদানকারী বৃক্ষ। সেখানে সুপারি, ভূর্জপত্র, পূগ, রাজপূগ, জম্বু ইত্যাদি বৃক্ষও রয়েছে। সেখানে আম, প্রিয়াল, মধুক এবং ইঙ্গুদ বৃক্ষ আছে। আর তা ছাড়া বেণু, কীচক এবং অন্যান্য বিবিধ প্রকার বাঁশ গাছ রয়েছে, যা কৈলাস পর্বতকে পরিশোভিত করে আছে। সেখানে কুমুদ, উৎপল, শতপত্র আদি নানা প্রকার পদ্মা রয়েছে। সেই বন সুশোভিত উদ্যানের মতো প্রতীত হয় এবং সেখানকার ছোট ছোট সরোবরগুলি বিভিন্ন প্রকার পাখির অতি মধুর কূজনে মুখরিত। সেই স্থানটি হরিণ, বানর, শূকর, সিংহ, ঋক্ষ, শল্যক, নীল গাই, বন্য গর্দভ, ব্যাঘ্র, রুরু, মহিষ ইত্যাদি নানা প্রকার পশুতে পূর্ণ, তারা সেখানে তাদের জীবন উপভোগ করে থাকে। সেখানে কর্ণান্ত্র, একপদ, অশ্বাস্য, বৃক এবং কস্তুরী প্রভৃতি নানাবিধ মৃগ বাস করছে। পাহাড়ের গায়ে সরোবরের তীরে বহু কদলী বৃক্ষ অপূর্ব সুষমা বিস্তার করছে। সেখানে অলকনন্দা নামে ছোট হৃদটিতে সতী স্নান করতেন এবং সেই হৃদটি বিশেষভাবে পবিত্র। কৈলাস পর্বতের অপূর্ব সৌন্দর্য এবং মহান ঐশ্বর্য দর্শন করে দেবতারা বিস্ময়ান্বিত হয়েছিলেন। দেবতারা সৌগন্ধিক নামক, অর্থাৎ সুগন্ধে পরিপূর্ণ এক বনে অলকা নামক এক অপূর্ব সুন্দর স্থান দর্শন করেছিলেন। সেই বনে প্রচুর পদ্মফুলের জন্য তার নাম হয়েছিল সৌগন্ধিক। তাঁরা নন্দা এবং অলকনন্দা নামক দুটি নদীও দর্শন করেছিলেন। এই নদী দুটি পরমেশ্বর ভগবান গোবিন্দের শ্রীপাদপদ্মের ধূলিকণার দ্বারা বিশেষভাবে পবিত্র।”
“হে বিদুর! স্বর্গের সুন্দরীরা তাঁদের পতিগণ সহ বিমানে চড়ে এই নদীতে অবতরণ করেন এবং কামক্রীড়ার পর, জলে প্রবেশ করে তাঁদের পতিদের অঙ্গে জল সিঞ্চন করে তাঁরা আনন্দ উপভোগ করেন। দিব্যাঙ্গনাদের স্নানের ফলে, তাঁদের গাত্রভ্রষ্ট নব কুমকুমের সংযোগে সেই দুটি নদীর জল পীতবর্ণ হয়ে ওঠে। তখন স্নানের জন্য সেখানে আগত হস্তিনীগণ সহ হস্তীরা তৃষ্ণার্ত না হলেও, সেই জল পান করে। স্বর্গবাসীদের বিমানগুলি মুক্তা, সোনা এবং বহুমূল্য রত্নখচিত। আকাশে ক্ষণে ক্ষণে বিদ্যুৎ-ঝলকের দ্বারা উদ্ভাসিত মেঘরাজির সঙ্গে সেই স্বর্গবাসীদের তুলনা করা হয়েছে। ভ্রমণকালে দেবতারা সৌগন্ধিক নামক সেই বনটি অতিক্রম করলেন, যা বিবিধ প্রকার ফুল, ফল এবং কল্পবৃক্ষে পূর্ণ। সেই বনের উপর দিয়ে যাওয়ার সময়ে, তাঁরা যজ্ঞেশ্বর কুবেরের পুরীও দর্শন করলেন। সেই দিব্য বনে বহু পাখি ছিল যাদের গলার রং ছিল লাল এবং তাদের মধুর স্বরের সঙ্গে ভ্রমরকুলের গুঞ্জন মিশ্রিত হয়েছিল। সেখানকার সরোবরগুলি কলহংস এবং খরদণ্ড মৃণালসমূহের দ্বারা সুশোভিত ছিল। সেই পরিবেশ চন্দন বনে সমবেত বন্য হস্তীর পালকে প্রভাবিত করে এবং সেখানকার সমীরণ যক্ষপত্নীদের চিত্ত রতি সুখের জন্য উন্মথিত করে। তাঁরা আরও দেখেছিলেন যে, সেখানকার স্নানের ঘাট ও সেগুলির সোপানশ্রেণী বৈদূর্য মণির দ্বারা নির্মিত। সেখানকার সরোবরগুলি ছিল পদ্মে পূর্ণ। ঐ সমস্ত সরোবর অতিক্রম করে দেবতারা একটি বিশাল বট বৃক্ষ দর্শন করলেন। সেই বট বৃক্ষটি ছিল আট শত মাইল দীর্ঘ এবং তার শাখাগুলি ছয় শত মাইল পর্যন্ত বিস্মৃত ছিল। সেই বৃক্ষটি অপূর্ব সুন্দর শীতল ছায়া বিস্তার করেছিল, কিন্তু তবুও সেখানে কোন পাখির কোলাহল ছিল না।”
“দেবতারা দেখেছিলেন যে, শিব সেই বৃক্ষের নীচে উপবিষ্ট ছিলেন, যে বৃক্ষটি যোগীদের সিদ্ধি প্রদান করতে এবং সমস্ত মানুষদের মুক্ত করতে সক্ষম। অনন্ত কালের মতো গম্ভীর শিবকে তখন সমস্ত ক্রোধ থেকে মুক্ত বলে মনে হয়েছিল। প্রশান্তবিগ্রহ শিব গুহ্যকদের পালক কুবের এবং চার কুমারদের মতো মুক্তাত্মাদের দ্বারা পরিবৃত হয়ে সেখানে বসে ছিলেন। দেবতারা দেখলেন, শিব ইন্দ্রিয়, জ্ঞান, সকাম কর্ম এবং সিদ্ধিমার্গের অধীশ্বররূপে অবস্থিত। তিনি ছিলেন সমস্ত জগতের সুহৃদ এবং সকলের প্রতি পূর্ণরূপে স্নেহপরায়ণ হওয়ার ফলে, তিনি অত্যন্ত কল্যাণকারী। তিনি একটি মৃগচর্মে উপবিষ্ট ছিলেন এবং সব রকম তপস্যা করছিলেন। তাঁর দেহ ভস্মাচ্ছাদিত ছিল বলে, তাঁকে সন্ধ্যাকালীন মেঘের মতো দেখাচ্ছিল। তিনি তাঁর ললাটে চন্দ্রলেখা প্রতীকী-চিহ্ন ধারণ করেছিলেন। তিনি কুশাসনে উপবিষ্ট ছিলেন এবং সেখানে উপস্থিত নারদ আদি মহর্ষিদের কাছে পরমতত্ত্ব উপদেশ দিচ্ছিলেন। তাঁর বাম পাদপদ্ম দক্ষিণ ঊরুদেশে এবং বামহস্ত বাম ঊরুদেশে স্থাপিত ছিল। তাঁর ডান হাতে ছিল রুদ্রাক্ষের মালা। এই আসনকে বলা হয় বীরাসন। তিনি অঙ্গুলিতে তর্কমুদ্রা ধারণ করে বীরাসনে উপবিষ্ট ছিলেন। সমস্ত মুনি এবং ইন্দ্রাদি দেবতারা কৃতাঞ্জলিপুটে শিবকে সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করেছিলেন। সমস্ত মননশীল মুনিদের অগ্রগণ্য মহাদেব তখন যোগপট্ট অবলম্বন করে সমাধিমগ্ন হয়েছিলেন। শিবের শ্রীপাদপদ্ম দেবতা এবং অসুর উভয়ের দ্বারাই পূজিত হয়। কিন্তু তাঁর অতি উচ্চ পদ সত্ত্বেও, অন্য সমস্ত দেবতাদের মধ্যে ব্রহ্মাকে দর্শন করা মাত্রই তিনি উঠে দাঁড়িয়ে অবনত মস্তকে তাঁর শ্রীপাদপদ্ম স্পর্শ করেছিলেন, ঠিক যেভাবে বামনদেব কশ্যপ মুনিকে সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করেছিলেন। নারদ আদি অন্য যে-সমস্ত ঋষিরা শিবের চারিপাশে উপবিষ্ট ছিলেন, তাঁরাও ব্রহ্মাকে তাঁদের সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করেছিলেন। এইভাবে পূজিত হয়ে, ব্রহ্মা ঈষৎ হেসে শিবকে বলতে লাগলেন, ‘হে ভগবান শিব! আমি জানি যে, আপনি সমগ্র জড় জগতের নিয়ন্তা। জড় সৃষ্টির পিতা এবং মাতা উভয়ই আপনি এবং আপনি জড় সৃষ্টির অতীত পরমব্রহ্মও। এইভাবে আমি আপনার তত্ত্ব অবগত আছি। হে ভগবান! আপনি আপনার ব্যক্তিগত বিস্তারের দ্বারা এই দৃশ্য জগৎ সৃষ্টি করেন, পালন করেন এবং সংহার করেন, ঠিক যেমন ঊর্ণনাভ তার জাল রচনা করে, সেটি পালন করে এবং অবশেষে তা গুটিয়ে নেয়। হে ভগবান! আপনিই দক্ষের মাধ্যমে যজ্ঞপ্রথা প্রবর্তন করেছেন, যাতে মানুষ ধর্ম অনুষ্ঠান এবং অর্থনৈতিক উন্নতি সাধনের ফল লাভ করতে পারে। আপনার বিধি-বিধানেই চতুর্বর্ণ এবং চতুরাশ্রমের মর্যাদা নির্ণীত হয়েছে। তাই ব্রাহ্মণেরা ব্রতধারণপূর্বক নিষ্ঠা সহকারে সেই প্রথা পালন করেন। হে পরম মঙ্গলময় ভগবান! আপনি স্বর্গলোক, বৈকুন্ঠলোক এবং নির্বিশেষ ব্রহ্মলোক প্রাপ্ত হওয়ার মঙ্গলময় কার্যকলাপের বিধান প্রদান করেছেন। তেমনই, যারা অশুভ কর্মের অনুষ্ঠানকারী দুষ্কৃতকারী, তাদের জন্য বিভিন্ন প্রকার ভযঙ্কর নরকের সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু তবুও কখনও কখনও দেখা যায় যে, উক্ত নিয়মের বিপর্যয় হয়। তার কারণ নির্ণয় করা অত্যন্ত কঠিন। হে ভগবান! যে সমস্ত ভক্তরা সর্বতোভাবে আপনার শ্রীপাদপদ্মে তাঁদের জীবন অর্পণ করেছেন, তাঁরা প্রতিটি জীবের মধ্যে পরমাত্মারূপে আপনার উপস্থিতি দর্শন করেন এবং তার ফলে তাঁরা বিভিন্ন জীবের মধ্যে কোন রকম ভেদ দর্শন করেন না। এই প্রকার ব্যক্তিরা সমস্ত জীবের প্রতিই সমদর্শী। তাঁরা কখনই পশুর মতো ক্রোধের বশবর্তী হন না, কারণ পশুরা ভেদভাব ব্যতীত কোন কিছুই দর্শন করতে পারে না। যে-সমস্ত ব্যক্তি ভেদবুদ্ধি সহকারে সব কিছু দর্শন করে, যারা কেবল সকাম কর্মে লিপ্ত, যারা দুষ্ট আশয় যুক্ত, যারা অন্যের উন্নতি দর্শনে হৃদয়ে বেদনা অনুভব করে এবং যারা কর্কশ ও মর্মভেদী বাক্যের দ্বারা অন্যদের ব্যথা দেয়, তারা ইতিমধ্যেই দৈব কর্তৃক নিহত হয়েছে। তাই আপনার মতো মহান ব্যক্তির পক্ষে পুনরায় তাদের বধ করার কোনও প্রয়োজন হয় না। হে ভগবান! পরমেশ্বরের দুর্লঙ্ঘ্য মায়ার দ্বারা মোহাচ্ছন্ন বিষয়াসক্ত ব্যক্তিরা যদি কখনও কোন অপরাধ করে, সাধু পুরুষ দয়াবশত তাদের সেই অপরাধ গুরুতরভাবে গ্রহণ করেন না। তিনি জানেন যে, মায়া বশীভূত হয়ে তারা অপরাধ করে, তাই তাদের বিনাশ করার জন্য তাঁর পরাক্রম প্রকাশ করেন না। হে ভগবান! আপনি কখনও পরমেশ্বর ভগবানের অচিন্ত্য প্রভাবশালিনী মায়ার দ্বারা বিমোহিত হন না। তাই আপনি সর্বজ্ঞ এবং যারা সেই মায়ার দ্বারা মোহিত এবং সকাম কর্মের প্রতি অত্যন্ত আসক্ত, তাদের প্রতি আপনার কৃপাপরবশ হওয়া উচিত। হে ভগবান শিব! আপনি যজ্ঞভাগের অধিকারী এবং আপনি ফল প্রদানকারী। কু-যাজ্ঞিকেরা আপনাকে আপনার ভাগ প্রদান করেনি, তাই আপনি সব কিছু ধ্বংস করেছেন এবং তার ফলে যজ্ঞ অসম্পূর্ণ হয়ে রয়েছে। এখন আপনি যা প্রয়োজন তা করুন এবং আপনার ন্যায্য ভাগ গ্রহণ করুন। হে ভগবান! আপনার কৃপায় যজমান ( রাজা দক্ষ) পুনর্জীবিত হোন, ভগদেব তাঁর চক্ষু পুনঃপ্রাপ্ত হোন, ভৃগু মুনির শ্মশ্রু এবং পূষাদেবের দন্তরাজি পুনরায় পূর্ববৎ হোক। হে ভগবান শিব! আপনার সৈন্যদের অস্ত্র এবং প্রস্তরের আঘাতে যে-সমস্ত দেবতা এবং পুরোহিতদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গাদি ভগ্ন হয়েছে, তাঁরা আপনার অনুগ্রহে শ্রীঘ্র আরোগ্য লাভ করুন। হে যজ্ঞনাশক! দয়া করে আপনি আপনার যজ্ঞভাগ গ্রহণ করুন এবং কৃপাপূর্বক যজ্ঞ পূর্ণ হতে দিন।’ ”
ষষ্ঠ অধ্যায়- ব্রহ্মা শিবকে প্রসন্ন করলেন
23 Jul 2025 Leave a comment
in অমল পুরান, চতুর্থ স্কন্ধ- ভগবদ্ভক্তদের প্রতি অনুগ্রহ