বিদুর বললেন, “হে পূজ্য ঋষি, স্বায়ম্ভুব মনুর বংশ অত্যন্ত সম্মানযুক্ত। এই বংশে মিথুন-ধর্মের দ্বারা যেভাবে প্রজা বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়েছে, দয়া করে তা বর্ণনা করুন। স্বায়ম্ভুব মনুর দুই মহান পুত্র- প্রিয়ব্রত এবং উত্তানপাদ ধর্মের অনুশাসন অনুসারে সপ্ত-দ্বীপবর্তী পৃথিবীকে শাসন করেছিলেন। হে পবিত্র ব্রাহ্মণ! হে নিষ্পাপ! আপনি দেবহূতি নামক তাঁর কন্যার বিষয় বর্ণনা করেছেন, যিনি ছিলেন প্রজাপতি কর্দমের পত্নী। সেই মহা যোগী যোগের অষ্ট সিদ্ধি সমন্বিতা রাজকন্যার মাধ্যমে কত সন্তান উৎপাদন করেছিলেন? শ্রবণেচ্ছু আমাকে দয়া করে আপনি তা বলুন। হে পবিত্র ঋষি! কৃপা করে আমাকে বলুন ব্রহ্মার পুত্র দক্ষ এবং রুচি স্বায়ম্ভুব মনুর অন্য দুই কন্যাকে পত্নীরূপে প্রাপ্ত হয়ে কিভাবে সন্তান উৎপাদন করেছিলেন।”
মহর্ষি মৈত্রেয় উত্তর দিয়েছিলেন- “প্রজা সৃষ্টি করার জন্য ব্রহ্মার দ্বারা অদিষ্ট হয়ে, পরম পূজ্য কর্দম মুনি দশ হাজার বছর ধরে সরস্বতী নদীর তীরে তপস্যা করেছিলেন। মহর্ষি কর্দম সমাধিস্থ হয়ে ভক্তিমূলক সেবার মাধ্যমে সেই তপশ্চর্যা অনুশীলন করার সময়, শরণাগতদের সমস্ত বর আশু প্রদানকারী পরমেশ্বর ভগবানের আরাধনা করেছিলেন। তখন সত্য যুগে, পদ্মলোচন পরমেশ্বর ভগবান কর্দম মুনির প্রতি প্রসন্ন হয়ে, তাঁকে তাঁর চিন্ময় স্বরূপ দেখিয়েছিলেন, যা কেবল বেদের মাধ্যমেই জানা যায়। কর্দম মুনি জড় কলুষ-রহিত, সূর্যের মতো উজ্জ্বল শ্বেত পদ্ম এবং কুমুদ মালায় বিভূষিত পরমেশ্বর ভগবানের নিত্য রূপ দর্শন করেছিলেন। ভগবানের পরনে ছিল নির্মল পীত বসন এবং তাঁর পদ্ম-সদৃশ সুন্দর মুখমন্ডল কুঞ্চিত কাল কেশদামের দ্বারা সুশোভিত ছিল। তিনি কিরীট এবং কর্ণ-কুন্ডলে শোভিত, তাঁর তিন হাতে শঙ্খ, চক্র এবং গদা বিরাজমান এবং চতুর্থ হস্তে শ্বেত উৎপলরূপ ক্রীড়ানক শোভমান। তাঁর হাস্যোজ্জ্বল দৃষ্টি সমস্ত ভক্তের হৃদয় হরণ করে। তার বক্ষে শ্রীবৎস চিহ্ন, গলদেশে কৌস্তভ মণি এবং তিনি গরুড়ের স্কন্ধে তাঁর চরণদ্বয় স্থাপন করে আকাশে দন্ডায়মান ছিলেন। কর্দম মুনি যখন সাক্ষাৎভাবে পরমেশ্বর ভগবানকে দর্শন করলেন, তখন তাঁর দিব্য মনোবাসনা পূর্ণ হওয়ায়, তিনি অত্যন্ত প্রসন্ন হয়েছিলেন। তিনি তাঁর মস্তক অবনত করে ভূমিতে বিলুন্ঠিত হয়ে, ভগবানের শ্রীপাদপদ্মে প্রণতি নিবেদন করেছিলেন। তাঁর হৃদয়ে স্বাভাবিকভাবেই ভগবৎ প্রেমে পূর্ণ ছিল এবং তিনি কৃতাঞ্জলিপূর্বক ভগবানের স্তব করে তাঁকে প্রসন্ন করেছিলেন।”
মহর্ষি কর্দম বললেন- “হে পরম আরাধ্য ভগবান। সমস্ত অস্তিত্বের উৎস, আপনাকে দর্শন করে আমার চক্ষুদ্বয় আজ পূর্ণরূপে সার্থক হল। মহান যোগীরা জন্ম-জন্মান্তর ধরে গভীর ধ্যানের মাধ্যমে আপনার চিন্ময় রূপ দর্শন করার আকাঙ্ক্ষা করেন। আপনার শ্রীপাদপদ্ম সংসার-সমুদ্র উত্তীর্ণ হওয়ার আদর্শ তরণি। মায়ার প্রভাবে যাদের বুদ্ধি ভ্রষ্ট হয়েছে, কেবল তারাই নারকীদেরও প্রাপ্য অনিত্য ইন্দ্রিয় সুখের জন্য সেই পাদপদ্মের আরাধনা করে। কিন্তু, হে প্রভু! আপনি এতই দয়াময় যে, এমন কি তাদের প্রতিও কৃপা বর্ষণ করেন। তাই কামধেনুর মতো যে আমার সমস্ত কাম-বাসনা পূর্ণ করবে, সেই প্রকার আমারই মতো স্বভাব-বিশিষ্টা কণ্যাকে বিবাহ করার বাসনায় আমিও আপনার শ্রীপাদপদ্মের আশ্রয় অবলম্বন করেছি, কেননা আপনি কল্পবৃক্ষ-সদৃশ।”
“হে ভগবান! আপনি সমস্ত জীবাত্মাদের প্রভু এবং নেতা। আপনার পরিচালনায় সমস্ত বদ্ধ জীবেরা রজ্জুবদ্ধের মতো নিরন্তর তাদের ইন্দ্রিয় তৃপ্ত সাধনের চেষ্টায় যুক্ত। হে ধর্ম-মূর্তে! তাদের অনুসরণ করে, আমিও শাশ্বত কালরূপী আপনাকে পূজার নৈবেদ্য নিবেদন করছি। কিন্তু, যাঁরা বাঁধাধরা জড়-জাগতিক বিষয়কে এবং সেই সকল বিষয়ের পশুতুল্য অনুগামীদের পরিত্যাগ করেছে এবং পরস্পরের সঙ্গে আপনার গুণাবলী এবং কার্যকলাপে মাদকতা সৃষ্টিকারী অমৃত আস্বাদন করে আপনার শ্রীপাদপদ্মের ছত্রছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করেছেন, তাঁরাই জড় দেহের মৌলিক আবশ্যকতাগুলি থেকে মুক্ত হতে পারেন। আপনার তিন নাভি-সমন্বিত চক্র অক্ষয় ব্রহ্মের অক্ষদন্ডের উপর আবর্তিত হচ্ছে। তার তেরটি দন্ড (অর), তিন শত ষাটটি পর্ব, ছয়টি পরিধি এবং তাতে অসংখ্য পত্র খচিত রয়েছে। যদিও তার আবর্তন সমগ্র সৃষ্টির আয়ু হরণ করছে, কিন্তু প্রচন্ড বেগে ধাবিত এই চক্র ভগবদ্ভক্তের আয়ু স্পর্শ করতে পারে না।”
“হে ভগবান! আপনি একলাই ব্রহ্মান্ডসমূহ সৃষ্টি করেন। হে পরমেশ্বর ! এই জগৎ সৃষ্টি করার বাসনায়, আপনার অন্তরঙ্গা তথা দ্বিতীয়া শক্তি, যোগমায়ার অধীনস্থ শক্তির দ্বারা আপনি তাদের সৃষ্টি করেন, পালন করেন এবং পুনরায় বিনাশ করেন, ঠিক যেমন একটি ঊর্ণনাভ তার শক্তির দ্বার জাল বোনে এবং পুনরায় তা গ্রাস করে। হে ভগবান! আপনার ইচ্ছা না থাকলেও, কেবল আমাদের ইন্দ্রিয়-তৃপ্তির জন্য আপনি স্থূল এবং সূক্ষ্ম উপাদান-সমন্বিত এই জগৎ সৃষ্টি করেন। আপনার অহৈতুকী কৃপা আমাদের উপর বর্ষিত হোক। কেন না তুলসী পত্রের মালায় শোভিত আপনার শাশ্বত রূপে আপনি আমাদের সম্মুখে প্রকাশিত হয়েছেন। আমি নিরন্তর শরণ গ্রহণের যোগ্য আপনার শ্রীাদপদ্মে আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি, কেননা আপনি নগণ্য ব্যক্তিদের উপরও সর্বদা আপনার আশীর্বাদ বর্ষণ করেন। আপনার মায়া শক্তির দ্বারা আপনি এই জড় জগৎ বিস্তার করেছেন, যাতে সমস্ত জীব আপনাকে উপলব্ধি করার মাধ্যম সকাম কর্ম থেকে বিরক্ত হতে পারে।”
মৈত্রেয় ঋষি বললেন- “সেই বাক্যের দ্বারা ঐকান্তিকভাবে সংস্তুত হয়ে, গরুড়ের স্কন্ধে অত্যন্ত সুন্দরভাবে বিরাজমান শ্রীবিষ্ণু অমৃত মধুরবাক্যের উত্তর দিয়েছিলেন। স্নেহপূর্ণ ঈষৎ হাস্য সহকারে ঋষির প্রতি দৃষ্টিপাত করার সময়, গভীর স্নেহে তাঁর ভ্রুযুগল সঞ্চালিত হয়েছিল।”
পরমেশ্বর ভগবান বললেন- “যে জন্য তুমি মন এবং ইন্দ্রিয় সংযমের দ্বারা আমার আরাধনা করেছ, তোমার সেই মনোভাব অবগত হয়ে, আমি পূর্বেই তার ব্যবস্থা করেছি। হে জীবাধ্যক্ষ ঋষি! যারা আমার আরাধনার দ্বারা ভক্তি সহকারে আমার সেবা করে, বিশেষ করে তোমার মতো ব্যক্তিরা, যারা তাদের সর্বস্ব আমাকে অর্পণ করেছে, তাদের নিরাশ হওয়ার কোন প্রশ্নই ওঠে না। ব্রহ্মার পুত্র সম্রাট স্বায়ম্ভুব মনু, যিনি তার ধর্ম আচরণের জন্য অত্যন্ত বিখ্যাত, তিনি ব্রহ্মাবর্তে অবস্থান করে, সপ্ত সাগর-সমন্বিতা এই পৃথিবী শাসন করছেন। হে ব্রাহ্মণ! ধর্ম অনুষ্ঠানে সুদক্ষ, সেই বিখ্যাত সম্রাট তার পত্নী শতরূপা সহ তোমাকে দর্শন করার জন্য পরশু দিন এখানে আসবে। তার এক বয়ঃপ্রাপ্তা, সুন্দর স্বভাব এবং সৎ গুণাবলী সমন্বিতা কৃষ্ণ-নয়না কন্যা রয়েছে। সে তার উপযুক্ত পতির অন্বেষণ করছে। হে মহোদয়! তার পিতা-মাতা সর্বতোভাবে তার যোগ্য প্রার্থী তোমার হস্তে তাদের কন্যাকে তোমার পত্নীরূপে অর্পণ করার জন্য তোমাকে দর্শন করতে আসবে। হে পবিত্র ঋষি! তুমি এত বছর ধরে যার কথা তোমার হৃদয়ে চিন্তা করেছ, সেই রাজকুমারী ঠিক সেই রকমই হবে। অচিরেই সে তোমার হবে এবং পূর্ণ তৃপ্তি সম্পাদনপূর্বক তোমার সেবা করবে। তোমার বীর্য ধারণ করে সে নয়টি কন্যা প্রসব করবে এবং তোমার সেই কন্যাদের মাধ্যমে ঋষিরা সন্তান উৎপাদন করবেন। আমার আদেশ যথাযথভাবে পালন করার ফলে তুমি নির্মল হৃদয়-সম্পন্ন হয়ে, তোমার সমস্ত কর্মের ফল আমাকে সমর্পণ করে, তুমি অবশেষে আমাকে প্রাপ্ত হবে। সমস্ত জীবের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে, তুমি আত্মতত্ত্ব উপলব্ধি করবে। সকলকে অভয় প্রদান করে, তুমি নিজেকে এবং সমগ্র জগৎকে আমার মধ্যে দর্শন করবে এবং আমাকেও তোমার মধ্যে দেখতে পাবে। হে মহর্ষি! তোমার পত্নী দেবহূতির গর্ভে তোমার নয় কন্যা সহ আমি আমার অংশ-কলা প্রকাশ করব এবং দেবহূতিকে সাংখ্য দর্শন সম্বন্ধে শিক্ষা দান করব।”
মৈত্রেয় ঋষি বলতে লাগলেন- “এইভাবে কর্দম মুনিকে উপদেশ দিয়ে, কেবল কৃষ্ণভক্তি পরায়ণ ব্যক্তির নয়ন-গোচর পরমেশ্বর ভগবান সরস্বতী নদী বেষ্টিত বিন্দু সরোবর থেকে অন্তর্হিত হলেন। কর্দম ঋষি দেখতে লাগলেন, মহান মুক্ত পুরুষেরাও যে-পথের বন্দনা করেন, সেই বৈকুন্ঠ মার্গে ভগবান অন্তর্হিত হলেন। তিনি দাঁড়িয়ে থেকে শ্রবণ করলেন, ভগবানের বাহন গরুড় যখন তাঁকে নিয়ে উড়ে যাচ্ছিলেন, তখন তাঁর পক্ষ সঞ্চালনের ফলে সামবেদের মন্ত্রসমূহ স্পন্দিত হচ্ছিল। তার পর, ভগবানের অন্তর্ধানের পর, পূজনীয় কর্দম মুনি বিন্দু-সরোবরের তীরে, ভগবান যে-কথা বলেছিলেন তার প্রতীক্ষা করে অবস্থান করেছিলেন। স্বায়ম্ভুব মনু তাঁর ভার্যা সহ স্বর্ণাভরণ মণ্ডিত রথে আরোহন করেছিলেন। তার পর, তাঁর কন্যাকে তাঁর উপর সংস্থাপন করে, পৃথিবী পর্যটন করতে শুরু করেছিলেন।”
“হে বিদুর! ভগবান কর্তৃক পূর্ব-নির্দিষ্ট দিনে ঋষির তপশ্চর্যা ব্রত সম্পূর্ণ হলে, তাঁরা তাঁর আশ্রমে উপস্থিত হয়েছিলেন। সেই পবিত্র বিন্দুসরোবর সরস্বতী নদীর জলের দ্বারা পরিপ্লুত ছিল এবং তা মহর্ষিগণ কর্তৃক সেবিত ছিল। তার পবিত্র জল কেবল মঙ্গলপ্রদই ছিল না, তা ছিল অমৃতের মতো মধুর। সেই সরোবরের নাম ছিল বিন্দুসরোবর, কেননা শরণাগত ঋষির প্রতি গভীর করুণায় অভিভূত হওয়ার ফলে, ভগবানের নেত্র থেকে সেখানে অশ্রুবিন্দু পতিত হয়েছিল। সেই সরোবরের তট পবিত্র বৃক্ষরাজি ও লতার দ্বারা সুশোভিত ছিল এবং সমস্ত ঋতুর ফল ও ফুলের দ্বারা সেইগুলি সমৃদ্ধ ছিল। তা বিবিধভাবে কুজনরত পবিত্র পশু-পাখিদের আশ্রয় দান করেছিল। তা বন্য বৃক্ষরাজির কুঞ্জের শোভার দ্বারা বিভূষিত ছিল। সেই স্থান আনন্দে বিহ্বল পক্ষীদের কূজনে প্রতিধ্বনিত হত। মদমত্ত ভ্রমরেরা সেখানে আনন্দে বিচরণ করতো, উন্মত্ত ময়ূরেরা গর্বভরে নৃত্য করতো এবং আনন্দোচ্ছল কোকিলেরা পরস্পরকে আহ্বান করতো। বিন্দু সরোবর কদম্ব, চম্পক, অশোক, করঞ্জ, বকুল, আসন, কুন্দ, মন্দার, কুটজ, আদি পুষ্পে ভরা বৃক্ষ এবং তরুণ আম্র বৃক্ষের দ্বারা সুশোভিত ছিল। সেখানকার বায়ু কারণ্ডব, প্লব, হংস, কুরর, জলকুক্কুট, সারস, চক্রবাক, চকোর প্রভৃতি পক্ষীদের মনোহর কুজনে নিনাদিত ছিল। বিন্দু সরোবরের তট হরিণ, বরাহ, শজারু, গবয়, হস্তী, গোপুচ্ছ বানর, সিংহ, মর্কট, নকুল, কস্তুরী মৃগ প্রভৃতি পশুগণ পরিবৃত ছিল। সেই পবিত্র স্থানে আদিরাজ স্বায়ম্ভুব মনু তাঁর কন্যা সহ প্রবিষ্ট হয়ে এবং ঋষির নিকট গিয়ে দেখলেন যে, পবিত্র অগ্নিতে আহুতি নিবেদন করে সেই ঋষি তাঁর আশ্রমে উপবিষ্ট রয়েছেন। যদিও তিনি দীর্ঘ কাল কঠোর তপস্যা করেছিলেন, তবুও তাঁর দেহ ছিল অত্যন্ত জ্যোতির্ময় এবং তা ক্ষীণ হয়ে পড়েনি, কেননা পরমেশ্বর ভগবান তাঁর প্রতি তার স্নেহযুক্ত কটাক্ষপাত করেছিলেন এবং তিনি ভগবানের চন্দ্র-সদৃশ সুমধুর কথামৃত পান করেছিলেন। সেই ঋষির শরীর ছিল দীর্ঘ, নয়ণ কমলদলের মতো বিস্তৃত, তাঁর মস্তকে জটাভার এবং পরনে চীর বসন। তাঁর সমীপবর্তী হয়ে স্বায়ম্ভুব মনু তাঁকে অশোধিত মণির মতো মলিন দেখতে পেলেন। রাজাকে তাঁর আশ্রমে উপস্থিত হতে দেখে এবং তাঁর সম্মুখে প্রণতি নিবেদন করতে দেখে, ঋর্ষি তাঁকে উপযুক্ত সম্মান প্রদর্শণ করে অশীর্বাদপূর্বক অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। ঋষির সম্মান গ্রহণ করে, রাজা মৌনীভাব অবলম্বনপূর্বক আসন গ্রহণ করেছিলেন। তখন কর্দম মুনি ভগবানের আদেশ স্মরণ করে, রাজার প্রীতি উৎপাদনপূর্বক সুমধুর বাক্যে বলতে লাগলেন- হে দেব! আপনি নিশ্চয়ই সাধুদের সংরক্ষণ এবং অসাধুদের বিনাশের জন্য এইভাবে পর্যটন করছেন, কেননা আপনি ভগবান শ্রীহরির পালনকারী শক্তির মূর্ত প্রকাশ। আবশ্যকতা অনুসারে, আপনি সূর্য, চন্দ্র, অগ্নি, স্বর্গরাজ ইন্দ্র, বায়ু, যম, ধর্ম, বরুণ প্রভৃতির রূপ ধারণ করেন। আপনি ভগবান শ্রীবিষ্ণু ব্যতীত অন্য কেউ নন, তাই আপনাকে আমি সর্বতোভাবে নমস্কার করি। আপনি যদি রত্নরাজি বিভূষিত এই জয়শীল রথে আরোহণ করে, ধনুকের টঙ্কারের দ্বারা ভয়ঙ্কর শব্দ করে, ধর্ম-বিরোধী পাষন্ডীদের ভয় উৎপাদন করে, আপনার বিশাল সেনাবাহিনীর পদ-প্রহারের দ্বারা ভূমন্ডলকে কম্পিত করে সূর্যের মতো এই পৃথিবী প্রদক্ষিণ না করতেন, তা হলে স্বয়ং ভগবান কর্তৃক প্রবর্তিত বর্ণাশ্রম ধর্ম সংস্থাপক সমস্ত ধর্মনীতিই দুর্বৃত্ত অসুরদের দ্বারা বিনষ্ট হত। আপনি যদি পৃথিবীর পরিস্থিতির চিন্তা ত্যাগ করেন, তা হলে অধর্মের বিস্তার হবে, কেননা তখন ধন-লোলুপ মানুষদের বাধা দেওয়ার মতো কেউ থাকবে না। তখন সেই সমস্ত দুর্বৃত্তেরা আক্রমণ করবে এবং এই বিশ্ব বিনষ্ট হয়ে যাবে। তা সত্ত্বেও, অঅমি আপনাকে জিজ্ঞাসা করছি, হে পরাক্রমশালী রাজা! কি উদ্দেশ্য নিয়ে আপনি এখানে এসেছেন তা বলুন; আমি সর্বান্তঃকরণে নিষ্কপটে তা সম্পাদন করবো।”
একবিংশতি অধ্যায়- মনু-কর্দম সংবাদ
23 Jun 2025 Leave a comment
in অমল পুরান, তৃতীয় স্কন্ধ- সৃষ্টির স্থিতি