ভগবৎ দর্শন ও তার ফল

কৃতে যদ্ধ্যায়তো বিষ্ণুং ত্রেতায়াং যজেতো মখৈঃ।
দ্বাপরে পরিচর্যায়াং কলৌ তদ্ধরিকীর্তনাৎ।।
(ভাঃ ১২/৩/৫২)
ভগবৎ- আরাধনার পন্থা সম্বন্ধে বিভিন্ন যুগে বৈদিক শাস্ত্রে এভাবে উল্লেখ করা আছে। অর্থাৎ কৃত বা সত্য যুগে ধ্যানের মাধ্যমে মানুষ ভগবদুপলব্ধি করত। ত্রেতা যুগে ‘যজতঃ’ অর্থাৎ যজ্ঞ অনুষ্ঠান করে মানুষ ভগবানের দর্শন লাভ করত। দ্বাপর যুগে ‘পরিচর্যায়াম্’ অর্থাৎ মন্দিরাদিতে ভগবৎ-আরাধনা দ্বারা তাকে লাভ করত আর কলিযুগে ভগবানের দিব্যনাম ‘হরিকীর্তনের’ মাধ্যমে ভগবৎ-উপলব্ধি করা হয়।
সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি- এইভাগে চারটি যুগ সাধারণত আসে। সত্য যুগে মানব সমাজে সত্য, দয়া, তপস্যা, শুচিতা এসব গুণাবলী ছিল। সকলেই ভগবৎ-ভাবনাময় ছিল, সেহেতু তারা পুর্ণবান ছিল, তাই তারা দীর্ঘ জীবন যাপন করত। সাধারণত মানুষের জীবনকাল ১০০ হাজার বছর ছিল। তারপর ত্রেতা যগে মানুষের এসব গুণাবলী একটু হ্রাস পায়, তারা তখন ১০ হাজার বছর বাঁচত। মানুষ তখন ছিল অনেক দীর্ঘকায়। যেহেতু যজ্ঞ করবার প্রয়োজনীয় উপকরণ-প্রচুর শস্য, ঘি আদি সকলের পক্ষে সংগ্রহ করার সম্ভব নয়, তাই রাজা, মহারাজারাই এসব যজ্ঞ অনুষ্ঠান করতে পারতেন। তারপর ত্রেতাযুগে মানুষ মন্দির আদিতে ভগবানের আরাধনা করত। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের অবনতি হচ্ছে। তাদের গুণাবলী হ্রাস পেয়ে চলেছে। মানুষের আয়ুষ্কাল এখন বড় জোর ১০০ বছর কিন্তু কলিযুগে মানুষের অনেক অনেক অবনতি হয়েছে। তারা ভগবান সম্বন্ধে তেমন আগ্রহী নয়, এই সম্বন্ধে শ্রীমদ্ভাগবতে শ্রীল ব্যাসদেব লিখেছেন- ‘মন্দাঃ সুমন্দমতয়ো মন্দভাগ্যা হুপদ্রুতঃ’। তাছাড়া এই কলিযুগের মানুষের মধ্যে সত্য, দয়া, তপস্যা ও শুচিতা আদিগুণাবলীর মধ্যে মাত্র সামান্য ‘সততা’ আছে, অন্যগুলি নই বললেই চলে এই যুগে। তাই মানুষ আজ অনেক খর্বাকায় হয়ে গেছে। সাধারণত মানুষের উচ্চতা বেশি হলে ৭ ফুট, তার জীবনকাল ১০০ বছর মাত্র। মানুষ পতিত হওয়ায় ভগবানকে লাভ করবার সবচেয়ে সহজ পন্থা ‘হরিকীর্তন’ শাস্ত্রে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থান, কাল ও পাত্র অনুযায়ী পৃথিবীতে বিভিন্ন শাস্ত্র দেখা যায়। তবে বৈদিক শাস্ত্র এ সব শাস্ত্রগুলির মধ্যে সবচেয়ে পুরানো ও বিশাল। তাই বৈদিক শাস্ত্রে পৃথিবীর অন্যান্য শাস্ত্রের আলোচিত সকল বিষয়ই রয়েছে। ভগবানের লীলা বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী অনুযায়ী অনেক দিব্য নাম রয়েছে। এসব প্রতিটি নামই চিন্ময় ও অর্থপূর্ণ। ভগবানের এই নাম ও ভগবান অভিন্ন। শাস্ত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে-
নাম চিন্তামণিঃ কৃষ্ণশ্চৈতন্য-রসবিগ্রহ।
পূর্ণঃ শুদ্ধো নিত্যমুক্তোহভিন্নত্বান্নামনামিনোঃ।।
ভগবানের নাম কীর্তনকারীর সকল মনোবাসনা পূর্ণ করে। নামে চৈতন্য স্বরূপ, সকল আনন্দের মূর্তবিগ্রহ। নাম পূর্ণতত্ত্ব পূর্ণ পবিত্র ও নিত্যমুক্ত আর ভগবান ও তাঁর নামের মধ্যে কোন ভেদ নেই। ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু শিক্ষা দিয়েছিলেন- “নাম্নামকারি বহুধা নিজসর্বশক্তি”। ভগবানের অনেক অনেক নাম আছে, এসব নাম কীর্তন করে সকলেই যে কোন অবস্থায় ভগবানের পূত সঙ্গ লাভ করতে পারে। এভাবে কৃষ্ণানুশীলন করে ভগবৎ সান্নিধ্যের ফলে মানুষ জড়াতীত নির্গুণ অবস্থা প্রাপ্ত হতে পারে। তখন জীব দেহাত্মা-বুদ্ধির স্তর, মনোধর্মী জ্ঞানীর জল্পনা-কল্পনার স্তর অতিক্রম করতে পারে। এরপর মনের চেয়ে শ্রেয় বুদ্ধি- সেই বুদ্ধি দিয়ে বিচার করবার স্তর, – তাও সে অতিক্রম করে, এভাবে শুধু ভগবানের দিব্য নাম কীর্তন করে বা মহামন্ত্র-
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে ।।
কীর্তন করে জীবন ব্রহ্মভূত স্তরে উন্নীত হয়। কিন্তু এই স্তর লাভের লক্ষণ কি? আমরা কিভাবে বুঝব একজন এই দিব্য স্তর লাভ করেছে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং এই লক্ষণ ভগবদগীতায় বর্ণনা করেছেন এভাবে-
ব্রহ্মভূত প্রসন্নাত্মা ন শোচতি ন কাক্সক্ষতি।
সমঃ সর্বেষু ভূতেষু মদ্ভক্তিং লভতে পরাম্ ।।
অর্থাৎ, যিনি ‘ব্রহ্মভূত’ হয়েছেন, তার প্রথম লক্ষণ হচ্ছে, তিনি সব সময় আনন্দময়, আর কি লক্ষণ? না, কিছু হারিয়ে গেলে তিনি শোকাকুল হন না; অভাবগ্রস্থ লোকের মত অনুযোগ করেন না যে আমার এটা চাই, আমার ঐটা চাই- না এ সব তিনি করেন না। তিনি শুধু কৃষ্ণানুশীলন করেন; তিনি নিষ্কাম; তিনি শান্ত। কৃষ্ণভক্ত নিষ্কাম অতএব শান্ত। কিন্তু যে প্রকৃতিকে ভোগ করতে চায় সে কর্মী, যে মুক্তি চায় সে জ্ঞানী, যে যোগ ঐশ্বর্য চায় সে যোগী- এদের সকলের মন অশান্ত। কৃষ্ণানুশীলনই কৃষ্ণসেবা, কৃষ্ণসেবাই কৃষ্ণভক্তি। কৃষ্ণ চিন্ময় আনন্দের ঘনীভূত মূর্তি, তাই কৃষ্ণানুশীলন করে জীব সেই চিন্ময় আনন্দ রস আস্বাদন করে। তার ফলে জীবের জড়াশক্তি, জড় জগতের প্রতি তার আকর্ষণ শিথিল হয়ে পড়ে। তাই বৈদিক শাস্ত্রে উল্লেখ করা হয়েছে- ‘ভক্তিঃ পরেশানুভবো বিরক্তিরন্যত্র……।’ জীব এভাবে জড়-বন্ধন মুক্ত হয়।
বৈদিক শাস্ত্রে উল্লেখ করা হয়েছে- ‘মুক্তির্হিত্বান্যথারূপং স্বরূপেন ব্যাবস্থিতিঃ।’ জীবের স্বরূপ হচ্ছে যে সে ভগবানের, সে কৃষ্ণের নিত্যদাস, তাই ভগবানের সেবায়, কৃষ্ণের সেবায় নিযুক্ত হওয়া মাত্রই সে মুক্ত। যে কৃষ্ণসোব করে, যে ভগবৎ-সেবা করে, সে-ই এই সত্য অনুভব করতে পারে, যে অমৃতপান করে সে-ই অমৃতের স্বরূপ বুঝতে পারে। এই আনন্দ বড় জাগতিক আনন্দের মত নয়- কখন আনন্দ, কখন নিরানন্দ- দৃঃখ। না, ঐ রকম নয়- এই আনন্দ বৈচিত্রপূর্ণ, এই আনন্দ নিত্য নব-নবায়মান। ‘আনন্দাম্বুধিবর্ধনম্’- অর্থাৎ, এই আনন্দ সবসময়ই বেড়ে চলে, এই আনন্দের কোন হেয়তা নেই।
বহু বহু জন্মের পর বহু ভাগ্যের ফলে মনুষ্য জীবন লাভ হয়। বিষ্ণু পুরাণে উল্লেখ করা হয়েছে- ‘জলজা নব লক্ষাণি স্থাবরা লক্ষবিংশতি ক্রিময়ো রুদ্রসংখ্যকাঃ পক্ষিনাং দশলক্ষকম্। ত্রিংশলক্ষাণি পশবঃ চতুর্লাক্ষাণি মানুষাঃ।
অর্থাৎ, জলজীব আছে ৯ লক্ষ রকম ২০ লক্ষ রকম বৃক্ষলতা, ১১ লক্ষ রকম ক্রিমি জাতীয় জীব, ১০ লক্ষ রকম পাখি, ৩০ লক্ষ রকম পশু এবং ৪ লক্ষ রকম মানুষ আছে। মোট ৮৪ লক্ষ রকম প্রজাতি আছে- অর্থাৎ- ৮৪ লক্ষ রকম জীবদেহ আছে। ৪ লক্ষ রকম মানব দেহ মানে?- তার মানে হচ্ছে- সভ্য মানুষ, অর্ধসভ্য মানুষ, অসভ্য মানুষ আবার সত্ত্বগুণ সম্পন্ন মানুষ, রজোগুণ সম্পন্ন মানুষ, তমোগুণ সম্পন্ন মানুষ। আবার এই সব গুণের মিশ্রণে বিভিন্ন প্রকৃতির মানব রয়েছে।
এভাবে জীব ৮৪ লক্ষ যোনি ভ্রমণ করে বিভিন্ন জীব দেহ লাভ করছে, জন্ম লাভ করছে। তারপর একদিন তার মৃত্যু বা দেহাবসান হয়। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ভগববদ্‌গীতায় বলেছেন- ‘জাতস্য হি ধ্রুবো মুত্যৃ’, আবার ‘ধ্রুবং জন্ম মৃতুস্য চ’, মৃত্যু হলেই আবার অন্য এক জীব দেহ গ্রহণ করতে হবে। পরিদৃশ্যমান জগতে আমরা এ সব বৈচিত্রময় জীবদেহ দেখছি, এর কারণ কি?- বৈদিক শাস্ত্রে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে- ‘কর্মণা দৈবনেত্রেণ’- অর্থাৎ প্রত্যেকের কর্ম উপরওয়ালারা দেখছেন। যে যেমন কর্ম করছে, প্রকৃতি তাকে তার কর্ম অনুযায়ী উপযুক্ত জীব দেহ দান করছে। কেউ যদি খুব মাংস আহারে আসক্ত হয়, তাহলে তাকে মাংস আহারের উপযুক্ত দেহ দেওয়া হয়। তাহলে পরবর্তী জীবনে সে হয়ত মাংশাসী কোন পশুদেহ লাভ করতে পারে। একবার মনুষ্যেতর জীবদেহ লাভ করলে তার চেয়ে দুর্ভাগ্যের আর কিছু নেই, কেননা মনুষ্য জন্ম অতি দুর্লভ। আবার এই জীবনের স্থায়িত্ব কালও অনিশ্চিত। ভক্তশ্রেষ্ঠ প্রহ্লাদ মহারাজ বলেছেন- ‘দুর্লভং মানুষং জন্ম তদপ্যধ্রæবমর্থদম্।’ অর্থাৎ, এই দুর্লভ মানব জীবন পরমার্থ লাভের জন্য। ভগবানকে লাভ করবার জন্য শ্রীমদ্ভাগবতে শ্রীল ব্যাসদেব লিখেছেন-
নিবৃত্ততর্ষৈরুপগীয়মানাদ্
ভবৌষধাচ্ছ্রোত্রমনোহভিরামাৎ।
ক উত্তমশ্লোকগুণানুবাদাৎ
পুমান্ বিরজ্যেত বিনা পশুঘ্নাৎ।।
(ভাঃ ১০/১/৪)
এখানে এই ‘পশুঘ্নাৎ কথাটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ- যে আত্মহনন বা যে অন্য জীবের হত্যার কারণ হয়।
জীবাত্মা মাটি, জল, আগুন, বায়ু, আকাশ আদি পঞ্চ ভৌতিক স্থুল দেহ আর মন, বুদ্ধি, অহংকারাত্মক স্থুল দেহে আবদ্ধ হয়ে আছে। তার চিন্ময় স্বরূপ, আত্মাকে উদ্ধারের কোন প্রয়াস করছে না । কৃষ্ণানুশীলন করে এই মনুষ্য জন্মেই আত্মার স্বরূপকে জানা যায়। ভগবৎ-অনুশীলন করে জানা যায় আমরা ভগবনের নিত্য দাস। ভগবান কৃষ্ণ সকলের নিত্য কালের প্রভু। তাঁর নিত্য সেবা করই সকল জীবের একমাত্র ধর্ম। তা হয়- কৃষ্ণকথা শ্রবণ, কৃষ্ণ-কীর্তন, কৃষ্ণ-স্মরণ, কৃষ্ণ-বন্দন, কৃষ্ণার্চন, ভগবৎ পাদসেবন, ভগবৎ-দাস, ভঘবৎ-সখ্য ও ভগবানে আত্মনিবেদনের মাধ্যমে। এইগুলিকে ভক্তশ্রেষ্ঠ প্রহ্লাদ মহারাজ ভগবৎ-গতি লাভের পন্থা বলে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি হচ্ছেন একজন মহাজন। এরকম বারজন মহাজনই ভক্তি লাভের জন্য কৃষ্ণানুশীলনের উপদেশ দিয়েছেন; তারা হচ্ছেন-
স্বয়ম্ভুর্নারদঃ শম্ভুঃ কুমারঃ কপিলো মনুঃ।
প্রহ্লাদো জনকো ভীষ্মো বলির্বৈয়াসকির্বয়ম্ ।।
(ভাঃ ৬/৩/২০)
নবধা ভক্তি অনুশীলন করে যে কেউ কৃষ্ণভক্তি লাভ করতে পারেন, এই ন’টির মধ্যে এমন কি শুধু একটি পন্থা দ্বারাও কৃষ্ণপ্রাপ্তি সম্ভব হয়। যেমন মহারাজ পরীক্ষিৎ শুধু ভগবানের কথা শ্রবণ করে তাকেই লাভ করেছিলেন। শ্রীল শুকদেব গোস্বামী কৃষ্ণ-কীর্তন করেই ভগবানকে লাভ করেছিলেন। আর প্রহ্লাদ মহারাজ স্মরণ করেই ভগবানকে লাভ করেছিলেন। অক্রুর, পৃথু মহারাজ, ল²ীদেবী, হনুমান, অর্জুন ও বলি মাহরাজ যথাক্রমে বন্দনা, অর্চা পাদসেবন, দাস্য, সখ্য ও আত্মনিবেদন করে ভগবৎ-গতি লাভ করেছিলেন।
তবে এই নবধা ভক্তির মধ্যে প্রথম ও প্রধান হচ্ছে শ্রবণ ও কীর্তন। কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণাবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ বলেছেন, সদ্‌গুরুর কাছে শ্রদ্ধায় ‘হরিকথা’ শ্রবণ করলে, হরিকীর্তনের যোগ্যতা অর্জন করা হয়। এভাবে যিনি হরিকীর্তন করেন, তারই স্বতঃস্ফূর্ত হরিস্মরণ হয়। দেহাবসানের সময় এভাবে হরিস্মলন হলে, নিঃসন্দেহে আমরা শ্রীহরিকে প্রাপ্ত হব। আর যে এই দুর্লভ মনুষ্য জন্ম পরমার্থ লাভে অবহেলা করল সে ‘আত্মহনন’ই করল। আর যারা জিহ্বার লালসা তৃপ্তির জন্য কসাইখানা খোলে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই সঙ্গে জড়িত- যেমন আমিষাহারী, তারাও ‘পশুঘ্নাত’ তারা পরমার্থ লাভ করতে পারে না। তাহলে কারা ভগবানের চরণে আশ্রয় গ্রহণ করে? স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ভগবদ্‌গীতা এভাবে তা ব্যাখ্যা করেছেন-
চতুর্বিধা ভজন্তে মাং জনাঃ সুকৃতিনোহর্জুন।
আর্তো জিজ্ঞাসুরর্থার্থী জ্ঞানী চ ভরতর্ষভ।।
যারা বিপন্ন তারা আর্ত, উদাহরণস্বরূপ চতুর্কুমাররা হচ্ছেন জ্ঞানীর দৃষ্টান্ত।
মহারাজ উত্তারপাদের দুই পত্নী ছিল। তাদের মধ্যে সুনীতী ছিলেন ধ্রুব মহারাজের মা। ধ্রুব’র বয়স তখন ৫ বছর। সে সিংহাসনে উপবিষ্ট তার পিতার কোলে বসেছিল। ঈর্ষাপরায়ন সৎমা তাকে অপমান করে, তার পিতার কোল থেকে তাকে নামিয়ে দিল। ক্ষত্রিয়ের সন্তান ধ্রুবের এই অপমান সহ্য হল না । সে বুঝতে পারল তা সৎভাই ভবিষ্যতে সিংহাসন অধিকার করবে, সে রাজা হবে। মায়ের উপদেশ পেয়ে আরো বিরাট রাজ্য সম্পদ লাভের জন্য ভগবানের শরণাপন্ন হতে সে প্রয়াসী হল। ভগবান তার প্রিয়ভক্ত নারদমুনি দ্বারা তাকে পরীক্ষা করলেন। দেখা গেল- ধ্রুব তার প্রচেষ্টায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দেবর্ষি নারদ তাকে ‘ওঁ’ নমো ভগবতে বাসুদেবায়’ মন্ত্র জপ করতে উপদেশ দিলেন। কঠোর তপশ্চর্যায় মাত্র ৬ মাসের মধ্যেই ছোট্ট বালক ধ্রুব ভগবান শ্রী নারায়নের দর্শন লাভ করলেন। ভগবান শ্রীনারায়ন তার মঙ্গল শঙ্খ দিয়ে ধ্রুবের শির স্পর্শ করলেন। তিনি ধ্রুবকে বর চাইতে বললেন। ধ্রুব শ্রীভগবানকে দর্শন করে দিব্য আনন্দে অভিভূত হলেন। ধ্রুব তাঁকে বললেন, ‘কৃতার্থেহস্মি বরং ন যাচে’ অর্থাৎ আপনার দর্শন লাভ করে আমি কৃতার্থ হয়েছি, আমার জীবন আজ ধন্য, আমার জীবন আজ সার্থক হল। প্রভু, আমি আর কিছু চাই না। এটিই হচ্ছে ভগবৎ-দর্শনের ফল।

Leave a Reply

March 2025
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

Blog Stats

  • 140,943 hits