সুকৃতিবান আর্তের ভগবৎ প্রাপ্তি

ভগবদ্‌গীতায় (৭/১৬) ভগবান কৃষ্ণ বলেছেন- চার রকম লোক ভগবানের কাছে শরণাপন্ন হয়- তারা হচ্ছে আর্ত, অর্থার্থী, জিজ্ঞাসু ও জ্ঞানী। তিনি আরো বলেছেন-
চতুর্বিধা ভজন্তে মাং জনাঃ সুকৃতিনোহর্জুন।
আর্তো জিজ্ঞাসুরর্থার্থী জ্ঞানী চ ভরতর্ষভ ।।
সাধারণত কেউই ভগবদ্ সেবা বা কৃষ্ণানুশীলনে আগ্রহী নয়। তবু সুকৃতিবান ব্যক্তি কৃষ্ণানুশীলনে আগ্রহ প্রদর্শন করে।
এই জগত দুঃখ ও দুর্দশায় পূর্ণ, কেউ দুঃখ চায় না, প্রত্যেক জীবকেই দুঃখ পেতে হয়। জীবনে শোকাকুল হয়নি- একথা কেউ বলতে পারে না। শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, ‘দুঃখালয়ম্’, জীব কখন সুখ লাভ করে, কখন আবার দুঃখও পায়, কিন্তু এই সবই অনিত্য। আত্মা নিত্য, ভগবান নিত্য, আর ভগবৎ সেবাও নিত্য কালই রয়েছে। আমরা সকেলই এই জড় শরীর লাভ করেছি, অর্থাৎ এই জড় শরীর প্রাপ্তি মানেই হচ্ছে, আমাদের প্রকৃতির শাসনের অধীনে থাকতে হবে, তা আমরা চাই, আর না চাই- তবুও, এই জগৎটা একটা কারাগারের মত। কারাগারের কয়েকদিকে অনেক সময় রজ্জু দিয়ে বাঁধা হয়, আমাদের বেঁধে রেখেছে প্রকৃতি, কিন্তু কিভাবে?- অত্যন্ত সুক্ষ্ণভাবে, বিশেষভাবে সত্ত্ব, রজ ও তমোগুণ দিয়ে। তাই আমরা দেখি জীবকুলে প্রায় সকলেই রজ ও তমোগুণে আবদ্ধ তমোগুণের লক্ষণ অজ্ঞতা, নিদ্রা, মোহ, রজোগুণের লক্ষণ প্রবল কর্মোদ্যম এবং কাম ও লোভে তাড়িত হয়ে জগৎ ও জড় জাগতি বিষয় ভোগের তৃষ্ণা, তাছাড়া অনেকে সত্ত্বগুণে আবদ্ধ হয়ে থাকে- তথাকথিত কবি, সাহিত্যিক বিজ্ঞানী ও জনকল্যাণকামীরা মানব দেহের সুখ শান্তির উদ্দেশ্যে কাজ করে ও নিজেকের অন্যের কল্যাণকামী ভেবে নিজেরা সুখ অনুভব করে- এইভাবে সে সত্ত্বগুণে আবদ্ধ হয়। সুক্ষèভাবে বিচার করলে শাস্ত্রের দৃষ্টিতে সকলেই এই অনিত্য জগৎরূপ কারাগারে আবদ্ধ হয়ে থাকে। এই কারাগারের প্রধানা হচ্ছেন দুর্গাদেবী- কেননা এই জগৎকে শাস্ত্রে বলা হয়েছে দুর্গ। তাই এখান থেকে বের হওয়া অত্যন্ত কঠিন ও কষ্টকর। জগৎসংসারে প্রবেশ করলে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন-
জাতস্য হি ধ্রুবো মৃত্যধ্রুবং জন্ম মৃতস্য চ।
অর্থাৎ, জন্ম হলে জীবের মৃত্যু হবেই, এবং মৃত্যুর পূর্বে আবার এই জগতে তার জন্মও অনিবার্য- এই হচ্ছে প্রকৃতির নিয়ম। কৃষ্ণশরণাগতি, কৃষ্ণানুশীলন ও কৃষ্ণভজন না করলে সকলকেই এই গতি লাভ করতে হবে, তাছাড়া এই জীবন কালের মধ্যে জরা, ব্যাধি, রোগ-শোক তো আছেই, কেউই এর হাত থেকে রেহাই পায় না- যতক্ষণ না সে কৃষ্ণ সেবা করে ভগবদ্ ভজনে নিয়োজিত হয়। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন- ‘মামেব যে প্রপদ্যন্তে মায়ামেতাং তরন্তি তে’। অর্থাৎ, কৃষ্ণের শ্রীচরণে শরণাগত হলেই জন্ম-মৃত্যুময় সংসার থেকে উদ্ধার হয়। শাস্ত্রে বলা হয়েছে-
কৃষ্ণভজন বিনা আর সব মিছে।
পালাইতে পথ নাই যম আছে পিছে ।।
কৃষ্ণ শব্দের অর্থ হচ্ছে- যেনি সকলকে আকর্ষণ করেন, যিনি জন্ম ও মৃত্যুকে রোধ করেন, ও যিনি পরম আনন্দময়।
তাই জীবনকে পূর্ণ করতে হলে, সফল ও সার্থক করতে হলে, জীবনমাত্রই কৃষ্ণভজন কাম্য। কৃষ্ণকথা শ্রবণ, কৃষ্ণকীর্তন, কৃষ্ণস্মরণ, কৃষ্ণবন্দন, কৃষ্ণপূজন, কৃষ্ণ দাস, কৃষ্ণের পাদসেবন ও কৃষ্ণে আত্মনিবেদন- সংক্ষেপে এই ন’রকম ভাবে ভগবদনুশীলন করা যায়। তাছাড়া কৃষ্ণই একমাত্র ঈশ্বর, আর সবাই তাঁর ভৃত্য, তাই কৃষ্ণভজন করলে মায়া বা দুর্গাদেবীর শাসন থেকে উদ্ধার লাভ করা যায়।
শ্রীল সচ্চিদানন্দ ভক্তিবিনোদ ঠাকুর ভগবৎ শরণাগতির আসন্ন লক্ষণের বর্ণনা করে বলেছেন-
অশোক, অভয়, অমৃতের আধার
তোমার চরণদ্বয়।
তাহাতে এখন বিশ্রাম লভিয়া
ছাড়িনু ভবের ভয় ।।
সকলেই উত্তম আহার, নিদ্রা, জীবনযাত্রার মান রক্ষা ও বংশ রক্ষার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে চলেছে, ঘোড়াও গাড়ি টেনে প্রচন্ড পরিশ্রম করে চলে- তখন সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তার মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়, মানুষও কঠোর পরিশ্রমের ফলে রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়, তারপর রোগ প্রবল হলে মৃত্যু ভয়ে সে তখন ভীত হয়ে পড়ে। এইভাবে অনিত্য সুখের জন্য জীবন সংগ্রহ করে চলে সকল মানুষ, কৃষ্ণ ভজনের অভাবে তার জীবন বিফলে যায়। কিন্তু কৃষ্ণানুশীলনের ফলে, কৃষ্ণেশরণাগতির ফলে জীবের জীবনকে শোক স্পর্শ করতে পারে না। তখন সে হয় নির্ভিক, এবং তার জীবন দিব্য আনন্দের ধারায় প্লাবিত হয়।
১৯৬৫ সালের শেষের দিকে কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূতি এ.সি ভক্তিবেদান্ত স্বামী শ্রীল প্রভুপাদ আমেরিকায় যান, টম্‌কিন স্কোয়ারে একটি গাছের তলায় তিনি প্রতিদিন মহামন্ত্র কীর্তন করতেন-
হরে কৃষ্ণ হরে হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে ।।
অনেক তরুণ-তরুণীই একসঙ্গে শ্রীল প্রভুপাদের কীর্তনে যোগ দিত ও নাচতো, তারা সকলেই প্রভুপাদের মুখ থেকে হরিকথা শুনতো, ভগবদ্‌গীতা শুনে প্রশ্ন করতো- সন্তুষ্ট হয়ে বন্ধুদের ডেকে নিয়ে আসতো শুদ্ধ কৃষ্ণভক্তকে দর্শনের জন্য। যারা নিয়মিতভাবে সাধুসঙ্গ করছিল, পারমার্থিক জীবন সম্বন্ধে সেই আগ্রহীদের তিনি সদাচার পালন ও শুদ্ধ জীবন যাপনের গুরুত্বের কথা বললেন। ভগবান কৃষ্ণ হচ্ছেন ‘পবিত্রম্ পরমম্’, পবিত্র না হলে ভগবান কেন তার সেবা গ্রহণ করবেন? ‘যেষাং ত্বন্তগতং পাপং’- অর্থাৎ, নিষ্পাপ হওয়া চাই, তবে তো কৃষ্ণভজনে দৃঢ়ব্রত হওয়া যাবে, পাপজীবনের স্তম্ভগুলি হচ্ছে- জীব-হিংসা, অবৈধ সঙ্গ, দ্যূতক্রীড়া ও আসবপান। তিনি তাদের বললেন যে মাছ, মাংছ, ডিম আদি আমিষাহার ত্যাগ করতে হবে, বন্ধু-বান্ধবীর একসঙ্গে জীবন যাপন করা চলবে না, গাঁজা, চরস, সিগারেট, মদ,- এসব পান করা বর্জন করতে হবে, সঙ্গে সঙ্গে আজে-বাজে চলচ্চিত্র, নাটক দেখা ও জুয়া খেলা সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করা চাই, একইভাবে নিষ্পাপ হয়ে কৃষ্ণানুশীলন করতে হবে। তাদের মধ্যে যারা ঐকান্তিকভাবেই ভগবানকে জানতে চেয়েছিল, বুঝতে চেয়েছিল, যারা কৃষ্ণানুশীলন করে, ভগবদ্ভাবনাময় হতে আগ্রহী ছিল, তারা সকলেই এইসব সদাচার পালন করেছিল। তাছাড়া ব্রহ্মমুহুর্তে শয্যাত্যাগ করে স্নান, বৈষ্ণব তিলক চিহ্ন ধারণ ও পরিচ্ছন্ন পোষাকে শ্রীশ্রীপঞ্চতত্ত্ব, গৌর-নিতাই, শ্রীজগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রা দেবী বা শ্রীশ্রী রাধামাধবের শ্রীবিগ্রহের সামনে কীর্তন, নর্তন করে মঙ্গল আরতিতে উপস্থিত হওয়া, প্রতিনি ১৬ মালা মহামন্ত্র জপ করা, শ্রীমদ্ভাগবত আদি বৈষ্ণব শাস্ত্র পাঠ ও শ্রবণ করা, একমাত্র কৃষ্ণপ্রসাদ গ্রহণ করা ও হরিনাম সংকীর্তন করে কৃষ্ণপ্রসাদ ও বৈষ্ণবশাস্ত্রাদি বিতরণ করার শিক্ষা শ্রীল প্রভুপাদ সকলকে দিয়েছিলেন। এইভাবে শুদ্ধ ও পবিত্র করে, তিনি তাদের মহাপ্রবুর শিক্ষায় গড়ে তুলেছিলেন।
তাই এইসব ভক্তরা যখন একসঙ্গে মৃদঙ্গ, করতাল বাজিয়ে হরিনাম সংকীর্তন করে, তখন সকলে খুব আনন্দ পান, কিন্তু পেশাদারী কীর্তনীয়া, অথবা ভাড়াটে কীর্তনকারীর দল যতই সুর, তাল দিয়ে তা করুক না কেন, তা জনগণের মনে তেমন রেখাপাত করে না, তাদের আনন্দ দান করে না।
কেননা একটা হচ্ছে জীবিকার জন্য কীর্তন গান, যেখানে শুদ্ধতা নেই, সদাচার নেই, তা কখনো কৃষ্ণকে তুষ্ট করে না। আর যারা বাবা-মা, ঘর-বাড় সবকিছু ত্যাগ করেছে, কৃষ্ণের সুখের জন্য সবকিছু উৎসর্গ করেছে, শুদ্ধদেহে, শুদ্ধমনে, শুদ্ধ কৃষ্ণভক্তের আনুগত্যে কৃষ্ণানুশীলন করছে, তাদের কীর্তনে কি সকলে বিমল আনন্দ পাবে না? তাদের সেবা কি ভগবান গ্রহণ করবেন না?- শুদ্ধ কৃষ্ণভক্ত তুষ্ট হলেই ভগবান তুষ্ট হবেন। সদ্‌গুরু গ্রহণ করলে, ভগবানও তা গ্রহণ করবেন, তিনি কৃপা করলে তবেই ভগবানের কৃপা লাভ হবে। তাই শ্রীল বিশ্বনাথ চক্রবর্তী ঠাকুর বলেছেন- ‘যস্য প্রসাদাৎ ভগবৎপ্রসাদো’, এইভাবে শুদ্ধ কৃষ্ণভক্ত গুরুদেবের কৃপায় কৃষ্ণানুশীলনকারী ভগবান শ্রীহরির কৃপা লাভ করে।
আর্ত, অর্থার্থী, জিজ্ঞাসু ও জ্ঞানী ভগবদ্ শরণাগতির মাধমে ভগবানের পাদপদ্ম লাভ করে ও ভগবান শ্রীহরির ধামে চলে যান। এইভাবেই আর্ত গজেন্দ্র, অর্থার্থী ধ্রুব মহারাজ, জিজ্ঞাসু শৌনকাদি ঋষি ও জ্ঞানি চতুঃসন ভগবান শ্রীহরির পদকমল লাভ করেছিলেন।
বৈদিক শাস্ত্রে এইসব কাহিনীর বর্ণনা পাওয়া যায়। ক্ষীর সমুদ্রে ত্রিকূট নামে এক সুউচ্চ পর্বত আছে, বরুণদেবের তৈরী ঋতুমৎ নামে এক সুন্দর উদ্যান আছে। এই উচ্চ পর্বতের উপত্যকায় সেখানে পদ্মফুলেপূর্ণ এক চমৎকার সরোবরে গজেন্দ্র তার হস্তিনীদের নিয়ে এক সময় স্নান ও তাদের সঙ্গে জলক্রীড়া উপভোগ করছিল। তার চলে জলচর জীবেরা বিরক্ত হয় এবং তাদের প্রধান একটি বলবান কুমীর গজেন্দ্রকে আক্রমণ করে। এইভাবে গজেন্দ্র ও কুমীরের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। প্রায় হাজার বছর ধরে তাদের মধ্যে এই যুদ্ধ চলতে থাকে, কিন্তু তাদের মধ্যে কেউ পরাজিত হয় না।
গজেন্দ্র বলশালী হলেও সে জলের কুমীরের সঙ্গে পারবে কেন? সেখানে কুমীরই বলবান। গজেন্দ্রের বল ক্রমশঃ ক্ষীণ হয়ে এলো, সে ক্রমশঃ দুর্বলতা অনুভব করল। কুমীরের প্রাধান্য বেড়ে গেলে এই যুদ্ধে তখন অসহায় অবস্থায়, গজেন্দ্র শ্রীভগবানের চরণকমলে আশ্রয় নেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় দেখল না।
বিশেষ বিবেচনার পরই গজেন্দ্র এই সঠিক সিদ্ধান্ত করেছিল। ভগবদ্‌গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেচেন যে সুকৃতিবান জীবই বিপদে ভগবানের শরণাগত হয়। তাই বিপন্ন গজেন্দ্র ভগবানের প্রপত্তি করেছিল। আর ভগবানও তাকে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করেছিলেন।
এই গজেন্দ্রের পূর্ব জীবন ছিল সুকৃতিপূর্ণ, সে ছিল একজন সুকৃতিবান রাজা, তার নাম ছিল ইন্দ্রদ্যুম্ন সংসার ত্যাগ করে, তিনি একসময় বনে গভীরভাবে ভগবচ্চিন্তায় নিমগ্ন ছিলেন। ঠিক সেই সময় মহামুনি অগস্ত্য শিষ্যগণকে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। রাজা এইরকম অবস্থায় মুনি ও তাঁর শিষ্যদের সাদর অভ্যর্থনা করেন নি, তখন মহামুনি রাজাকে অভিশাপ দিলেন- আর রাজা এইভাবে হাতিতে পরিণত হয়েছিলেন।
মুনির এই অভিশাপ পরোক্ষভাবে আশীর্বাদই বলতে হবে, কেননা এক জীবন গজেন্দ্ররূপে অতিবাহিত করে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন পূর্বে সকল পাপ কর্মের ফল থেকে নির্মুক্ত হলেন, হাতীর জীবন অবসান হওয়া মাত্রই তিনি ভগবদ্ধাম বৈকুন্ঠ লাভ করলেন এবং পরমেশ^র ভগবান নারায়ণের পার্ষদত্ব প্রাপ্ত হলেন।
এই জগতে জীবমাত্রই তার দেহকে স্বরূপ বলে মনে করছে, তই আহার-নিদ্রা-আত্মরক্ষা ও বংশবৃদ্ধিই জড় জীবনের মুখ্য লক্ষ্য হয়ে উঠেছে, এটি পশুর লক্ষ্য। তাই প্রত্যেকেই প্রায় পশুতুল্য। গজেন্দ্রকে কুমীর আক্রমণ করেছিল, তার জীবন বিপন্ন হয়েছিল, আর আমাদের জীবনও জন্ম-মৃত্যু-জরা-ব্যাধি প্রভৃতি দ্বারা বিপন্ন; এইভাবে সংসার বন্ধনে আবদ্ধ আমরাও একমাত্র ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শরণাগত হয়ে ভববন্ধন মুক্ত হয়ে ভগবদ্ধামে চলে যেতে পারি।

Leave a Reply

March 2025
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

Blog Stats

  • 140,943 hits