ভগবানের সনাতন ধাম ও তা প্রাপ্তির উপায়

মহারাজ ঋষভদেব বলেছেন,-
নায়ং দেহো দেহভাজাং নৃলোকে
কষ্টান্ কামানর্হতে বিড্‌ভুজাং যে।
তপো দিব্যং পুত্রকা যেন সত্ত্বং
শুদ্ধ্যেদ্ যস্মাদ্ ব্রহ্মসৌখ্যং ত্বনন্তম্ ।।
(ভাগবত ৫/৫/১)
অর্থাৎ, “এই মনুষ্য জীবন অত্যন্ত মূল্যবান, তা বিষ্ঠাভোজী শুয়োর বা গাধার মত কঠোর পরিশ্রম করবার জন্য নয়, কষ্ট করবার জন্য নয়। হে পুত্র-গণ, এই মনুষ্য জীবন তপশ্চর্যার জন্য, কে? কেননা এই তপশ্চর্যার ফলে অনন্ত চিন্ময় সুখ লাভ করা যায়।”
ঋষভদেব ছিলেন ভগবদবতার, তাঁর একশ পুত্র ছিল। সংসার জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করবার সময় তিনি তাঁর পুত্রদের সদুপদেশ দিচ্ছিলেন। এই উপদেশ মহামূল্যবান ভগবৎ-কথামৃত। কৃষ্ণকথা সকলের জীবনের অত্যন্ত মূল্যবান। ভগবান ও ভগবানের কথা অভিন্ন, ভগবান চিন্ময়, তাঁর কথাও চিন্ময়- অপ্রাকৃত। তাঁর কথা শ্রবণ, কীর্তন ও স্মরণ করে আমরা আজও ভগবৎ-সঙ্গ করতে পারি। ভগবান হচ্ছেন ‘পবিত্রম্ পরমম্’- তিনি পরম পবিত্র, তাই তাঁর সান্নিধ্য আমাদের সমস্ত অশুদ্ধতা দূরীভূত হবে, আমরা শুদ্ধ ও পবিত্র হব। ভগবৎ-কথা শ্রবণ-কীর্তন, স্মরণাদি নবধা ভক্তি অনুশীলন করে আমরা ভগবৎ-ভাবনাময় হব, কৃষ্ণভাবনাময় হব। শ্রীল রূপ গোস্বামী ভক্তিরসামৃতসিন্ধু গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন-
আদৌ শ্রদ্ধা ততঃ সাধুসঙ্গোহথ ভজনক্রিয়া।
ততোহনর্থনিবৃত্তিঃ স্যাৎ ততো নিষ্ঠা রুচিস্ততঃ।।
এই শ্লোকের মাধ্যমে শ্রীল রূপ গোস্বামী জীবের পরম প্রয়োজন ভগবৎ-প্রেম লাভের পূর্বের স্তরগুলি বর্ণনা করেছেন। এইগুলি কি? পূর্ব সুকৃতির ফলে শ্রদ্ধা লাভ হয়, শ্রদ্ধাবান ব্যক্তি সাধুর মুখ-নিঃসৃত হরিকথা শ্রবণের মাধ্যমে কৃষ্ণভক্ত সঙ্গ করেন। তারপর কৃষ্ণভক্ত সাধুর আনুগত্যে কৃষ্ণানুশীলন করেন। ক্রমে ক্রমে তার সমস্ত অনর্থ দূর হয়। অনর্থ যত দূর হয় কৃষ্ণ ভজনে তার নিষ্ঠা তত দৃঢ় হয়। নিষ্ঠা ক্রমে ঘনীভূত হয়ে তার রুচিতে পরিণত অবস্থা প্রাপ্ত হলে তখন কৃষ্ণ-কথায় আসক্তির উদয় হয়। এই আসক্তি ঘনীভূত অবস্থায় ‘ভাব’ এ পরিণত হয়। ‘ভাব’ বা রতি থেকে ভগবৎ-প্রেমের উদয় হয়। এই ভগবৎ-প্রেম বা কৃষ্ণপ্রেমই মানব জীবনের পরম প্রয়োজন।
ভগবান কপিলদেবও তাঁর মাতা দেবহূতিকে বলেছেন-
সতাং প্রসঙ্গান্মম বীর্যসংবিদো
ভবন্তি হৃৎকর্ণরসায়নাঃ কথাঃ।
অর্থাৎ, “শুদ্ধভক্ত সান্নিধ্যে ভগবানের বীর্যবতী কথা যেমন শ্রতিমধুর তেমনি হৃদয়েও বিমল চিন্ময় আনন্দ দান করে। এইভাবে কৃষ্ণভক্তি অনুশীলন করে অপবর্গ বা সংসার মুক্তি লাভ হয়।” সংসার বন্ধন মোচন হলে, তার ভগবদ্ভক্তি দৃঢ় হয়। তারপরই অনন্য শুদ্ধ ভগবদ্ভজন শুরু হয়। কৃষ্ণভজনে উন্নতির জন্য শুদ্ধ কৃষ্ণভক্তদের সঙ্গ করা চাই বা যারা শুদ্ধভাবে ভজন করছেন তার সান্নিধ্যে কৃষ্ণ ভজন করতে হবে। সেই সময় বিষয়ীদের সঙ্গও একেবারে ত্যাগ করতে হবে। একমাত্র শুদ্ধ ভক্তদের সান্নিধ্যেই কৃষ্ণ ও কৃষ্ণলীলা বুঝা সম্ভব। সাধারণত অধিকাংশ লোকই মায়াবাদী, অধিকাংশ লোকই জানে না যে ভগবান একজন ব্যক্তি। ভক্তরাই জানে যে ভগবান একজন ব্যক্তি তাই কৃষ্ণভক্তদের সান্নিধ্যেই ভগবানের ব্যক্তিত্ব ও তাঁর দিব্য লীলাবিলাস সমূহ জানা যায়।
শ্রীঈশোপনিষদে ভগবানের ব্যক্তিত্বের উল্লেখ আছে-
হিরন্ময়েন পাত্রেণ সত্যস্যাপিহিতং মুখম্।
তৎ ত্বং পূষন্নপ্রাবৃণু সত্রধর্মায় দৃষ্টয়ে ॥
অর্থাৎ, “ভগবানের কাছে আবেদন করা হচ্ছে- তিনি যেন তাঁর নিঃসৃত দিব্য ব্রহ্মজ্যোতি সংবরণ করেন, তা হলে শুদ্ধ ভক্ত তাঁর শ্রীমুখ দর্শন করবার সৌভাগ্য লাভ করবে, অর্থাৎ ভগবানের মুখ আছে, মায়াবাদীদের মতবাদ অনুযায়ী তিনি নির্বিশেষ নন, তিনি সবিশেষ, তিনি একজন ব্যক্তি।”
ব্রহ্মসংহিতাতে এই বিষয়ে বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। সৃষ্টি প্রথম জীব ব্রহ্মা সুদীর্ঘকাল ভগবদ্ভজনের পর ভগবান ও তাঁর ধাম দর্শন করেন। তারপর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের গুণ কীর্তন করে তা বর্ণণা করেন। তিনি বলেছেন-
ঈশ^রঃ পরমঃ কৃষ্ণঃ সচ্চিদানন্দ বিগ্রহঃ
অনাাদিরাদির্গোবিন্দ সর্বকারণকারণম্ ॥
অর্থাৎ, “কৃষ্ণ হচ্ছে পরমেশ^র। তিনি সনাতন, চিন্ময় ও আনন্দঘন তাঁর অপ্রাকৃত দেহ হচ্ছে দিব্য। তিনি আদি, তাঁর পূর্বে কিছুই ছিল না, এবং তিনি সকল কারণের কারণ।” সেই গোবিন্দকে ব্রহ্মা আরাধনা করেন।
ভগবান গোবিন্দের সেই পরম ধাম চিন্তামণিময় ও কল্পবৃক্ষে সেই স্থান পরিপূর্ণ। তিনি সেখানে সুরভি গাভীদের পালন করেন। ১৭৩ সহস্য গোপীরা সম্ভ্রমে সেখানে তাঁর সেবা করেন। এইখানে ‘চিন্তামনি’ শব্দদ্বারা এক দিব্য, অপ্রাকৃত মণির উল্লেখ করা হয়েছে। জড় জগৎ যেমন ভূমি, জল, আগুণ, বায়ু ও আকাশ এই পাঁচটি ভৌতিক পদার্থে তৈরী হয়েছে, সেই রকম অপ্রাকৃত মণি দিয়ে ভগবদ্ধাম তৈরি। জড়া-পৃকৃতি যেমন জড় জগৎ সৃষ্টি করেছে, সেই রকম ‘চিৎ’ শক্তি চিন্ময় জগৎ সৃষ্টি করেছে। জড় জগতের ‘পরশমণি’ বা ঐ জাতীয় আমাদের ধারণার কোন মণি নয় এই ‘চিন্তামনি’।
আমাদের ধারণার ‘কল্পবৃক্ষ’ ধন, পুণ্য-কর্ম ফলাদি থেকে শুরু করে মুক্তি পর্যন্ত সকল জড় কামনা বাসনা পূর্ণ করে। কিন্তু ভগবদ্বামে কল্পবৃক্ষ ‘ভগবৎ-প্রেম’ রূপ দিব্য ফল দান করে। আর ভগবদ্ধামের সুরভি অর্থাৎ কামধেনুরা ভগবৎ-প্রেরমরূপ যে দিব্য আন্দ দান করে, তার ফলে শুদ্ধ ভগবদ্ভক্ত জড় জাগতিক ক্ষুধা-তৃষ্ণা থেকে মুক্ত হয়।
যাঁর আয়ত চক্ষু পূর্ণ প্রস্ফুটিত কমলের মত, যাঁর অঙ্গকান্তি শ্যাম জলধরের মত, যিনি সবসময় তাঁর বংশী বাদন দ্বারা নিখিত জীবকুলের হৃদয় আকর্ষণ করছেন, যার শিরদেশ ময়ুরপুচ্ছ শোভিত সেই গোবিন্দের অনন্য, অনুপম সৌন্দর্য সৃষ্টির প্রথম জীব ব্রহ্মার মনের কল্পনা নয়, কৃষ্ণের এই দিব্য রূপ চিন্ময়। শুদ্ধ ভগবদ্ভজনের সময় ‘ভাব’ সমাধিতে ব্রহ্মা কৃষ্ণের এই অপ্রাকৃত রূপ দর্শন করেন। পদ্মের পাপড়ির মত কৃষ্ণের চোখদুটি তাঁর মুখচন্দ্রিমার অসীম সৌন্দর্য সুষমা প্রকাশ করে। এইভাবে ব্রহ্মাজী ভগবান ও তাঁর অপ্রাকৃত ধামের বর্ণনা করেছেন।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে যখন দিব্য জ্ঞান দান করেছিলেন, তখন তার নিত্য ধামের কথাও সেখানে উল্লেখ করেছিলেন, তিনি বলেছিলেন-
ন তদ্ ভাসয়তে সুর্যো ন শশাঙ্কো ন পাবকঃ।
যদ্ গত্বা ন নিবর্তন্তে তদ্ধাম পরমং মম ॥
ভগবানের ধামে সূর্যের আলো, চন্দের আলো বা বৈদ্যুতিক আলোর কোন প্রয়োজন নেই। এই স্থানকে “পরমধাম” বলেছেন ভগবান; যে একবার সেখানে যায়, সে আর এই দুঃখ-দুর্দশাপূর্ণ জড় জগতে ফিরে আসে না।
কখনও কখনও ভগবদগীতায় ভগবান কৃষ্ণ তাঁর নিত্য ধামকে মদ্‌ধাম বা সনাতন ধাম বলেও উল্লেখ করেছেন। এই সংসারে, এই জড় জগতে কেউই উদ্বেগ-শূণ্য নয়, কিন্তু এই জগতের মত ভগবদ্ধাম নয়। সেখানে উদ্বেগ নেই, ভয় নেই, শোক নেই, দুঃখ নেই, দুর্দশার লেশমাত্র নেই- এই জন্য ভগবানের একই ধামকে ‘বৈকুন্ঠ’ বলে।
ভগবান যখন নববপু ধারণ করে জগতে আবির্ভূত হন ও দিব্য-লীলা বিলাস করেন, তাঁর ভক্তদের অফুরন্ত আনন্দ দান করেন- সেই অপ্রাকৃত লীলাবিলাস সমূহই তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ লীলা। ভগবদবতার শ্রীল ব্যাসদেব তা শ্রীমদ্ভাগবতের দশম স্কন্ধে বর্ণনা করেছেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সবচেয়ে রহস্যময় এই দিব্য লীলাসমূহ কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ “লীলা পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণ” গ্রন্থে তা লিপিবদ্ধ করেছেন। এই ‘গ্রন্থকে’ শ্রীল প্রভুপাদ ভগবদ্ধাম দর্শনের জানালা বলে বর্ণনা করেছেন। জীবের অন্তিম লক্ষ ভগবদ্ধাম। কোন লক্ষ্যে পৌছতে হলে প্রথম সেই স্থান সম্বন্ধে কিছু জানা প্রয়োজন। তাই শ্রীল প্রভুপাদের এই গ্রন্থ পাঠ করে আমরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও তাঁর দিব্য ধাম সম্বন্ধে জানতে পারি।
এক সময় আমরা, জীবকুল কৃষ্ণভাবনাময় ছিলাম। আজ কৃষ্ণ ও কৃষ্ণের ধামের কথা শুদ্ধভক্ত শ্রীল প্রভুপাদের কাছে জানতে পেরে, আমরা আমাদের অন্তির লক্ষ, সেই ভগবদ্ধাম প্রাপ্তির জন্য অনুপ্রাণিত হতে পারি এবং এইভাবে কৃষ্ণভাবনা অনুশীলন করে সহজেই ভগবদ্ধামে চলে যেতে পারি। ভগবানের ধাম অবাস্তব নয়, কল্পনাপ্রসূত নয়। এই ভগবদগীতায় ভগবান স্বয়ং বলেছেন-
যান্তি দেবব্রতা দেবান্ পিতৃণ্ যান্তি পিতৃব্রতাঃ।
ভূতানি যান্তি ভূতেজ্য যান্তি মদ্‌যাজিনোহপি মাম্ ॥
অর্থাৎ, “বিভিন্ন দেবতার উপসকরা সেই সেই দেবলোক প্রাপ্ত হয়, পিতৃলোক উপাসক, ভূতাদির উপাসক সেই সেই লোক প্রাপ্ত হয় কিন্তু যে আমার উপাসনা করে সে আমার সঙ্গে আমার লোকে বসবাস করে।” শ্রীল জীব গোস্বামী কৃষ্ণ সন্দর্ভে ভগবানের ধামের আলোচনা করেছেন। কৃষ্ণলোকের বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করে, তিনি স্কন্ধপুরাণ থেকে উল্লেখ করে লিখেছেনঃ
যা যথা ভুবিবর্তন্তে পুরয়ো ভগবতাঃ প্রিয়াঃ।
তা তথা সন্তি বৈকুন্ঠে তৎ লীলার্থামাদৃতাঃ ॥
অর্থাৎ, “জড় জগতে ভগবানের ধামের অবস্থান হচ্ছে দ্বারকা, মথুরা ও গোকুলে। এই ধামগুলি জড় সৃষ্টির অতীত।” স্বয়ম্ভুবতন্ত্রের শিব-পার্বতীর কথোপকথনে এর সমর্থন পাওয়া যায়।
নানা কল্পলতাকীর্ণং বৈকুন্ঠং ব্যাপকং স্মরেৎ।
অধঃ সাম্যং গুণানাং চ প্রকৃতিঃ সর্বকারণাৎ ॥
অর্থাৎ, চতুর্দশাক্ষর একটি মন্ত্র জপ করবার সময় সর্ববাঞ্চাপূর্ণকারী কল্পবৃক্ষপূর্ণ বিশাল বিস্তৃর্ণ বৈকুন্ঠলোক সর্বদা স্মরণ করা উচিত।” বৈকুন্ঠলোকের নিচেই জড় জগতের উৎস গুণময়ী জড়া প্রকৃতির অবস্থান।
বৃন্দাবন বা গোকুল গোলোক নামেও অভিহয় হয়, ব্রহ্মসংহিতায় বলা হয়েছে, এই স্থান ভগবদ্ধামের সর্বোচ্চে অবস্থিত। এই গোকুলকে সহস্য কমল দলের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এই কমলের চতুর্ভুজাকার বহির্ভাগকে শ্বেতদ্বীপ বলে। এই গোকুলের অন্তর্দেশে কৃষ্ণের নিত্য পার্ষদ নন্দ-যশোদাদি সহ তাঁর নিত্য আবাসের ব্যাপক আয়োজন রয়েছে।
জীব গোস্বামীর মতে ‘বৈকুন্ঠ’ কে কখনও কখনও ব্রহ্মলোকও বলা হয়। নারদ পঞ্চরাত্রে এইভাবে ভগবদ্ধামের উল্লেখ আছে-
তৎ সর্বোপরি গোলোকে অত্র লোকোপরি স্বয়ম্।
বিহারেৎ পরমানন্দী গোবিন্দ তুলনায়ক ॥
অর্থাৎ, “গোপীদের অতুলনীয় নায়ক গোবিন্দ পরব্যোমের সর্বোচ্চ গোলোকধামে পরমানন্দে লীলাবিলাস করেন।” মহান বৈষ্ণবাচার্য নরোত্তর দাস ঠাকুর গান গেয়েছেন-
বিষয় ছাড়িয়া কবে শুদ্ধ হবে মন।
কবে হাম হেরব শ্রীবৃন্দাবন ॥
অর্থাৎ, “আমরা বিষয়ভোগ বাসনা যত ত্যাগ করব, আমরা সেই পরিমাণে শুদ্ধ হব। তখন দিব্য দৃষ্টির মাধ্যমে এক সময় আমাদের ধাম দর্শনের সৌভাগ্য হবে।”
স্বরূপতঃ জীব নিত্য ও চিন্ময়, তাই অনন্ত বৈকুন্ঠলোকে বসবাস করলেই তার জীবন আনন্দময় হতে পারে, এই অনিত্য সংসারে নিত্য জীব কখনও সুখী হতে পারে না। জড় জগতে অবস্থিত দ্বারকা, মথুরা, বৃন্দাবন আদি ভগবদ্ধাম আর চিৎ-জগতের মূল ধামগুলির মধ্যে কোন বিভেদমূলক দৃষ্টিতে দেখা উচিত নয়। কেননা ভগবান যখন এই জড় জগতে আবির্ভূত হন, তখন সর্বশক্তিমান ভগবানের ইচ্ছায় সেই ধামগুলিও এই জগতে আবির্ভূত হয়। তাই শুধু চিজ্জগতের ধামগুলিই চিন্ময় আর এই জগতের ধামগুলি জড়- এই রকম বিবেচনা করা উচিত নয়।
জন্ম-মৃত্যু-জরা ব্যাধিময় ভবরোগকে কেউ জয় করতে পারে না। যতই কঠোর সংগ্রাম করা যাক না, কেউ প্রকৃতির নিয়মকে অতিক্রম করতে পারে না। সকলকেউ একদিন মরতে হবে। তাই এই সংসার-দুঃখ মোচন করে ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়া আমাদের অন্তিম লক্ষ্য হওয়া উচিত , আর তা একমাত্র শুদ্ধ ভগবদ্ভক্তের আনুগত্যে শ্রবণ-কীর্তনাদি হরি ভজনের মাধ্যমেই সম্ভব। এই জন্য ঋষভদেব তাঁর পুত্রদের বিষয়ভোগের জন্য কঠোর সংগ্রাম করতে নিষেধ করেছেন। অনন্ত চিন্ময় সুখকর ভগবদ্ভজনের উপদেশ দিয়েছেন, যার ফলে তারা শাশ্বত জীবন লাভ করতে পারে, অনন্ত জীবন লাভ করতে পারে, যে জীবন জ্ঞানময় ও নিত্য আনন্দে পরিপূর্ণ।
প্রকৃতপক্ষে জীবকুলকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য, তাদের জীবনের প্রকৃত লক্ষ কি হওয়ায় উচিত তা জনাবার জন্য এবং সেই সঙ্গে লক্ষ্যে পৌছাবার পন্থা অর্থাৎ কৃষ্ণভাবনা অনুশীলনের কথা তিনি বলেছেন। তাই মহাভাগবতদের নির্দেশ মত ভগবানের ব্যক্তিত্ব ও তাঁর ধাম সম্বন্ধে জেনে আমরা যেন আমাদের অন্তিম গতি ভগবদ্ধাম লাভের জন্য অনুপ্রাণিত হই।

Leave a Reply

March 2025
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

Blog Stats

  • 140,963 hits