অসুর জীবন ও ভক্ত জীবন

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ভগবদ্গীতায় অর্জুনকে বলেছেন–
যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত।
অভুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্ ॥
পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্।
ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে ॥
“হে ভারত, যখনই ধর্মের অধঃপতন হয় এবং অধর্মের অভ্যুত্থান হয়, তখন আমি নিজেকে প্রকাশ করে অবতীর্ণ হই। সাধুদের পরিত্রাণ করার জন্য এবং দুষ্কৃতকারীদের বিনাশ করার জন্য এবং ধর্মসংস্থাপনের জন্য আমি যুগে যুগে অবতীর্ণ হই।”
ভগবান সত্যযুগে নৃসিংহদেব রূপে আবির্ভূত হয়ে দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপুকে বধ করে ভক্তশ্রেষ্ঠ প্রহ্লাদ মহারাজকে রক্ষা করেছিলেন।
কঠোর তপশ্চর্যার দ্বারা হিরণ্যকশিপু ব্রহ্মাজীকে তুষ্ট করে এবং সুদুর্লভ হলেও তাঁর অভীষ্ট বর লাভ করে। ভগবান বিষ্ণুর প্রতি সে অত্যন্ত রুষ্ট হয়েছিল, কারণ তার ভাই হিরণ্যাক্ষ পৃথিবীকে হরণ করে সমুদ্রতলে নিয়ে যাওয়ায় ভগবান বিষ্ণু বরাহ অবতার রূপে পৃথিবীকে উদ্ধার ও হিরণ্যাক্ষকে বধ করছিলেন। হিরণ্যকশিপু এত প্রবল পরাক্রমশালী হয়ে উঠেছিল যে, ব্রহ্মাজী, দেবাদিদেব শিব ও ভগবান বিষ্ণু ছাড়া ব্রহ্মান্ডের সকলকে তার শাসনাধীন করেছিল। দেবরাজ ইন্দ্রকে স্বর্গরাজ্য থেকে সে বিতাড়িত করেছিল। সকল দেবতারা তাঁর সেবা করত, তবু সে সুখী ছিল না, ধন ঐশ্বর্য ও ক্ষমতার মদে সে প্রমত্ত হয়ে উঠেছিল। শাস্ত্রের বিধি লঙ্ঘন করে, যজ্ঞাদি বৈদিক ধর্মানুষ্ঠান–ব্রাহ্মণ, মুনি ঋষিদের সে করতে দিত না। দর্প ও অহংকারে সে স্ফীত হয়ে উঠেছিল।
যজ্ঞানুষ্ঠানের উদ্দেশ্য হচ্ছে ভগবান বিষ্ণুকে তুষ্ট করা। ব্রহ্মার কাছে বর লাভ করে, অতুলনীয় ঐশ্বর্য লাভ করেও ভগবান বিষ্ণুর প্রতি সে বিদ্বেষ ভাবাপন্ন ছিল। স্বর্গরাজ্য দখল করে সে ত্রিলোকের ও অন্যান্য লোকের অধিবাসীদের শাসন করত। মনুষ্য, গন্ধর্ব, গরুড়, উরগ, সিদ্ধ, চারণ, বিদ্যাধর, যম, মনু, যক্ষ, রাক্ষস, পিশাচ, ভূত ও প্রেম–সমস্ত লোক সে জয় করেছিল। ব্রহ্মান্ডে যেখানে যত জীব ছিল সেই লোকের শাসকদের পরাভূত করে, সকলের উপর সে কর্তৃত্ব করত ও সকলের ক্ষমতা সে অধিকার করে নিয়েছিল। এইভাবে স্বর্গের সিংহাসন অধিকার করে, সেখানে বিখ্যাত নন্দনকানন, বিশ্বকর্মা নির্মিত বিপুল ঐশ্বর্য ও আড়ম্বরে পরিপূর্ণ ইন্দ্রপুরী সবই সে উপভোগ করত।
বর্তমান যুগের বিজ্ঞানীরা বলতে পারে পৃথিবীতেই একমাত্র জীব আছে, ব্রহ্মান্ডের অন্য গ্রহে কোন জীব নেই। তারা চন্দ্রগ্রহে অভিযান সাফল্যের দাবি করে। তারা বলে, তারা সেখানে কোন জীবনের চিহ্ন দেখে নি। সেখানে বিশাল গহ্বর রয়েছে–ধূলি ও পাথরে পূর্ণ সেগুলি। কিন্তু ত্রিকালজ্ঞ ব্যাসদেবের বর্ণনায় আমরা জানতে পারি যে, চন্দ্রগ্রহ সহ অসংখ্য গ্রহে ও নক্ষত্রে বিভিন্ন রকম জীব রয়েছে।
আমরা যে পৃথিবীতে আছি তার চেয়ে ঊর্ধ্বলোকবাসীরা হাজার হাজার গুণ উন্নত ও ঐশ্বর্যশালী। স্বর্গলোকের স্থপতি বিশ্বকর্মা ঊর্ধ্বলোকে অনেক অনেক আশ্চর্যজনক অট্টালিকা প্রাসাদাদি নির্মাণ করেন। সেখানে দেবতাদের আমোদ-প্রমোদের জন্য নন্দকাননাদি, সুন্দর সুন্দর উদ্যানাদি রয়েছে। বৈদিক সাহিত্যের মতো প্রমাণিত শাস্ত্রগ্রন্থ থেকে ঊর্ধ্বলোক ও ঐ লোকের ঐশ্বর্যের বিবরণ পাওয়া যায়। বৈদিক সাহিত্যের প্রত্যক্ষ তথ্য নিভুল ও ত্রুটিহীন। ইন্দ্রের স্ফটিকময় প্রাসাদ বহুমূল্য মহামরকত, বৈদুর্য মণি, পদ্মরাগ মণি প্রভৃতি দ্বারা সুশোভিত ছিল।
পিতামহ ব্রহ্মা, দেবাদিদেব শিব ও ভগবান বিষ্ণু ছাড়া স্বর্গের সকল দেবতারা হিরণ্যকশিপুর সেবা করতে বাধ্য ছিলেন। কঠোর শাস্তির ভয়ে তারা হিরণ্যকশিপুর আদেশ অমান্য করতে সাহসী ছিল না। শ্রীমদ্ভাগবতে বেন রাজের উল্লেখ আছে, এই বেনরাজ ছিল ভগবদ্বিদ্বেষী। সেও ব্রাহ্মণদের বৈদিক ক্রিয়াকর্ম, যজ্ঞানুষ্ঠানকে নিদারূণ ঘৃণা করত।
বৈষ্ণবাচার্য শ্রীল বিশ্বনাথ চক্রবর্তী ঠাকুর হিরণ্যকশিপুকে শ্রীমদ্ভাগবতে উল্লেখিত বেনরাজের সঙ্গে তুলনা করেছেন। বেনরাজ, ভৃগু প্রভুতি মুনিকে ভয় করত কিন্তু হিরণ্যকশিপুর ভয়ে সকল দেবতা এত ভীত ছিল যে তারা দৈত্যরাজকে নতমস্তকে প্রণাম করত।
ভৃগুমুনির ক্রোধানলে হিরণ্যকশিপু যাতে ভস্মীভূত না হয়, তাই সে কঠোর তপশ্চর্যা ও কৃচ্ছ্রসাধন করে, ভৃগু প্রভৃতি মুনির শক্তিকে অতিক্রম করে এবং তাঁদের পর্যন্ত তার আজ্ঞাধীনে এনেছিল। পিতামহ ব্রহ্মা, দেবাদিদেব শিব ও ভগবান বিষ্ণুকে বাদ দিলে ত্রিজগতের সকলেই তার দ্বারা উৎপীড়িত ও লাঞ্ছিত হয়েছিল। দেবর্ষি নারদ মহারাজ যুধিষ্ঠিরকে জানান যে দেবরাজ ইন্দ্রের সিংহাসনে উপবিষ্ট হিরণ্যকশিপু নিজ বলে বিশ্বের সকলের নিয়ন্তা হয়ে উঠেছিল। দুই গন্ধর্ব বিশ্ববসু, তম্বুরু, বিদ্যাধর, অপ্সরারা বার বার তার বন্দনা করত।
দেবর্ষি নারদ অবশ্য তার অধীন ছিলেন না। তবুও তার পরাক্রম এত ছিল, কখনও কখনও ভক্তশ্রেষ্ঠ দেবর্ষি নারদ আদি পর্যন্ত তার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়েছিল।
হিরণ্যকশিপু তীব্র গন্ধময় মদ্য পান করে প্রায়ই প্রমত্ত থাকত, তাই তার চোখ ছিল তাম্রবর্ণ। পিতামহ ব্রহ্মা, দেবাদিদেব শিব ও ভগবান বিষ্ণু ছাড়া সকল দেবতারাই তাকে তুষ্ট করবার জন্য স্বয়ং নানা রকম উপহার নিয়ে আসত তার কাছে। কঠোরভাবে বর্ণাশ্রম ধর্ম পালনকারীর প্রচুর পরিমাণে যে যজ্ঞের উপকরণ, উপহার আদি নিয়ে আসত, তার কিছু মাত্র সে দেবতাদের দিত না, নিজের ভোগের জন্য সব কিছু গ্রহণ করত।
হিরণ্যকশিপুর ভয়ে সপ্তদ্বীপ সমন্বিত পৃথিবীতে কৃষিকার্য ছাড়াই প্রচুর খাদ্যশস্য উৎপন্ন হত, গাভীরা বৈকুন্ঠের সুরভিদের মত প্রচুর দুগ্ধ দান করত, আকাশ পথও অপূর্ব সুন্দর রূপ ধারণ করত। আর ঊর্মিমালাময় সমুদ্র ও নদীগুলি হিরণ্যকশিপুর ভোগের জন্য বহুমূল্য নানা রত্ন উৎপন্ন করত।
শাস্ত্র অনুযায়ী প্রকৃতির তিনটি গুণ তিনজন বিভিন্ন দেবতার নির্দেশ অনুযায়ী সক্রিয় হয়। শ্রীমদ্ভাগবতে উল্লেখ করা হয়েছে ‘তেজোবারিমৃদাং যথা বিনিময়ঃ’–অর্থাৎ এই জড় জগৎ মৃত্তিকা, জল ও আগুনের মিশ্রণেই আকার লাভ করেছে। ইন্দ্রের নির্দেশে বারি বর্ষণ হয়, সেরকম অন্যান্য দেবতাদের সাহায্য ছাড়াই তপশ্চর্যা ও কৃচ্ছ্রসাধনার দ্বারা প্রবল পরাক্রমশালী হিরণ্যকশিপুর নির্দেশেই এসব কার্য সম্পাদিত হত। যারা বিশ্বের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা লাভ করে, ইন্দ্রিয় তৃপ্তিকর সব কিছু উপভোগ করলেও, সে জীবনে সুখী হতে পারেনি, কারণ ইন্দ্রিয় সংযমের পরিবর্তে সে ছিল ইন্দ্রিয়ের দাস।
আদর্শ জীবন হচ্ছে ভক্তজীবন–ভগবৎ সেবাময় জীবন, অর্থাৎ যে জীবনে ভগবানের তৃপ্তির জন্য ইন্দ্রিয়গুলিকে ব্যবহার করা হয়, নিযুক্ত করা হয়।
‘হৃষীকেণ হৃষীকেশ-সেবনং ভক্তিরুচ্যতে’।
এখানে লক্ষ্যণীয় দৈত্যরাজের নাম ছিল হিরণ্যকশিপু অর্থাৎ স্বর্গ, ধন-সম্পদ, ও স্ত্রীসঙ্গ ভোগই যার জীবনের অন্তিম লক্ষ্য। আসুরিক জীবনের অন্তিম লক্ষ্যই হচ্ছে চরম ইন্দ্রিয়তৃপ্তি। ভগবদ্বিদ্বেষী অসুর ইন্দ্রিয় সুখকর এক পরম আরামপ্রদ জীবন যাপনের ব্যবস্থা করে, কিন্তু তারা ইন্দ্রিয়ের দাস হওয়ায় পরিশেষে জীবনে সুখী হতে পারে না। এই সব অসুরেরা অর্থ ও স্ত্রীসঙ্গ ভোগের আয়োজনেই অনেক অগ্রসর হয়েছে। এইটিই হচ্ছে বর্তমান জগতের জনজীবন। হিরণ্যকশিপুর মত বর্তমান যুগের লোকেরাও কর্তৃত্ব ও ইন্দ্রিয়ভোগের চূড়ান্ত আয়োজন করেও কেউ কখন সুখী হতে পারবে না। তই শ্রীল ব্যাসদেব শ্রীমদ্ভাগবতে লিখেছেন–
নূনং প্রমত্ত কুরুতে বিকর্ম
যঃ ইন্দ্রিয়প্রীতয়ে আপ্নোতি।
“ইন্দ্রিয়ভোগই যাদের জীবনের অন্তিম লক্ষ, তারা ইন্দ্রিয়তৃপ্তিতে প্রমত্ত হয়ে সব রকম শাস্ত্র বিরুদ্ধ কর্ম করে।” তাই তারা ভগবানকে জানতে পারে না। অর্থাৎ–
সকল যজ্ঞ তপস্যার আমি ভোক্তা নই
সমস্ত লোকের স্বামী কেহ নহে সেই ॥
সমস্ত জীরে বন্ধু আমি একমাত্র।
জগতের শান্তি হয় জানিলে সর্বত্র ॥
শান্তিপূর্ণ সুখী জীবনের এইটি হচ্ছে পন্থা। এখানে তিনটি সত্য উল্লেখ করা হয়েছে। পরমেশ্বর ভগবান বিষ্ণু হচ্ছেন সব কিছুরই পরম ভোক্ত, নিখিল সৃষ্টির অন্তিম মালিক, এবং তিনিই জীবকুলের পরম কল্যাণকামী বন্ধু। এই সত্য উপলব্ধি হলে শান্তিময় হয়–জীবন সুখময় হয়।
এই দিব্য সুখলাভের উদ্দেশ্যে জীবাত্মা ব্রহ্মান্ডে বিভিন্ন যোনি ভ্রমণ করে চলেছে। ভগবানের সঙ্গে তার অন্তরঙ্গ ‘সম্বন্ধ’–এর কথা ভুলে যাওয়ায় অনেক অনেক জীবদেহে সে দুঃখ ভোগ করে চলে। জীবমাত্রই ভগবানের সঙ্গে বিশেষ সম্বন্ধ রয়েছে আর মনুষ্য জীবনে ভগবান বিষ্ণুর সঙ্গ নিত্য সম্বন্ধের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা যায়। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের প্রতিষ্ঠাতা-আচার্য ওঁ বিষ্ণুপাদ পরমহংস পরিব্রাজকাচার্য শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ এই শিক্ষাই সারা বিশ্বের জনগণকে দিয়ে গিয়েছেন। ক্রমশ ক্রমশ আজকাল বিশ্বের মানব সমাজে জীবনের অন্তিম লক্ষ্যের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়ছে; নিত্য আনন্দময় জীবন লাভে উদাসীন হয়ে পড়ছে। ভগবান শ্রীহরিকে তুষ্ট করাই যে জীবনের পরম সিদ্ধি, এই জ্ঞানের অভাবে ধীরে ধীরে মানুষ কুকুর বেড়ালের মতো জীবন যাপন করতে চলেছে। এই আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলন বিশ্বের জনগণের সেবা করতে চায়, তারা বিশ্বময় কৃষ্ণভক্তি প্রচার করতে চায়।
শাস্ত্রে বলা হয়েছে, ‘মহাজন যেন গত স পন্থা’–অর্থাৎ স্বয়ম্ভু, শম্ভু, নারদ মুনি, কপিলদেব, জনক রাজ, যমরাজ, বলি মহারাজ, ভক্ত প্রহ্লাদ, কুমার, ভীষ্মদেব ও শুকদেব–এই মহাজনদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
দেবর্ষি নারদ মহারাজ যুধিষ্ঠিরের কাছে ভক্তশ্রেষ্ঠ প্রহ্লাদ মহারাজের অতুলনীয় চরিত্র ও গুণাবলী বর্ণনা করেছেন। প্রহ্লাদ মহারাজ অসুর পিতা হরিণ্যকশিপুর জঘন্য সকল অত্যাচার ও উৎপীড়ন সহ্য করেন। সব সময় ভগবানকে স্মরণ করেন, ভগবানও তাঁর প্রিয় ভক্তকে রক্ষা করেন।
হিরণ্যকশিপুকে বধ করে ভগবান নৃসিংহদেব প্রহ্লাদকে বর প্রার্থনা করতে বললেন। প্রহ্লাদ কিন্তু এই বর নেওয়াকে বনিকের মনােবৃত্তি বলে বিবেচনা করেছেন, এগুলি শুদ্ধ ভক্তির প্রতিবন্ধক। তিনি ভগবানের কাছে শুদ্ধ ভক্তি–ভগবৎ সেবা প্রার্থনা করলেন, আর কিছু চাইলেন না। এইটি হচ্ছে শুদ্ধ ভক্তের লক্ষণ।
ভক্তশ্রেষ্ঠ প্রহ্লাদ মহারাজ বলেছেন কৃষ্ণানুশীলন হচ্ছে–
শ্রবণং কীর্তনং বিষ্ণোঃ স্মরণং পাদসেবনম্।
অর্চনং বন্দনং দাস্যং সখ্যমাত্মনিবেদনম্ ॥
অর্থাৎ, সর্বত্র–সকল স্থানে, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বালক-বালিকা, যুবক-যুবতী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা নির্বিশেষে হরিকথামৃত শ্রবণ শিক্ষণীয়। অর্থাৎ, প্রত্যেকের জীবনে কায়মনোবাক্যের দ্বারা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উপদেশ ভগবদ্গীতার বাণী প্রয়োগ করা উচিত। এইভাবে পশু জীবনে অধঃপতনের ভয় থাকবে না।
প্রহ্লাদ মহারাজ নবধা ভক্তির কথা বলেছেন পূর্বের শ্লোকে। ভগবান বিষ্ণুর দিব্য নাম, রূপ, গুণ, লীলাদি মহিমার শ্রবণ, কীর্তন, স্মরণ, ভগবৎ পাদ সেবন, অর্চন, বন্দন, দাস্য, সখ্য ও আত্মনিবেদন–এই ন’টির যে কোন একটি বা একাধিক বা সব কটি পন্থায় কৃষ্ণনুশীলন করে যে কেউ ভগবানের ধামে যেতে পারে।
কলিযুগে কৃষ্ণানুশীলন খুবই সহজ। ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু শাস্ত্রীয় এই শিক্ষা সকলকে গ্রহণ করতে বলেছেন–
হরের্নাম হরের্নাম হরের্নামৈব কেবলম্।
কলৌ নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব গতিরন্যথা ॥
সকলের প্রয়োজন শুধু মহামন্ত্র কীর্তন করা–
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে ॥

Comments are closed.

November 2015
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30  

Blog Stats

  • 140,959 hits