একদা এক গ্রমে ভয়ানক বিষধর এক গোখরা সাপের উৎপাত বেড়ে গেল। সে গ্রামের লোকজনকে ভীতি দেখিয়ে আনন্দ উপভোগ করত। লোকজন তাকে দেখা মাত্র ভয়ে দিকবিদিক ছোটাছুটি শুরু করত। একদিন নারদমুনি সেই গ্রামের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি দেখলেন যে সেই বৃহৎ বিষধর সাপটি তাঁকে দেখে হিস্-হিস্ শব্দ করতে লাগলো। নারদ মুনি তার উপর সদয় হয়ে অহৈতুকী কৃপা প্রদান করলেন। তিনি সনাতন ধর্মের মূলনীতির শিক্ষা প্রদান করলেন এবং তাকে এই জ্ঞান দিলেন যে তার ভিতরের আত্মা এই জড়জগতে বদ্ধ অবস্থায় পতিত হয়েছে।
সাপটি বললো, আপনি সত্যিই পরম দয়ালু, তাই আপনি আমাকে মুক্তি লাভের এই পরম জ্ঞান সাপ দেহ অবস্থায় দান করলেন। দয়া করে আমাকে নির্দেশনা দান করুন।
নারদ মুনি- আজ হতে তুমি অবিরতভাবে ভগবানের কৃষ্ণ নাম জপ করতে থাক।
সাপ- দয়া করে আমাকে আপনার শিষ্য হিসাবে গ্রহণ করুন।
সাপটি তার নিজ গ্রামের বাসায় ফিরে এসে ভক্তি জীবন পূর্ণভাবে শুরু করলো। গ্রামবাসী প্রত্যক্ষ করল যে, গোখরাটি হঠাৎ তার স্বভাব পরিবর্তন করে ভগবানের পবিত্র নাম জপ করতে শুরু করেছে। তারা যদিও তার নিকটে গেল তবুও সাপটি তাদের কোন ক্ষতি করল না। এই অবস্থা দেখে গ্রামবাসী সাপটিকে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করল। তারা সাপটিকে লাঠি আর পাথর দিয়ে আঘাত করতে লাগল। সাপটি নারদ মুনিকে খোঁজ করতে জঙ্গলে প্রবেশ করল।
সাপ- ওহে আমার পরম দয়ালু গুরুদেব। দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন।
অবশেষে সে নারদ মুনির দেখা পেল।
নারদ মুনি- তোমার কি সমস্যা হয়েছে?
সাপ- পবিত্র নাম গ্রহণের পর আমার স্বভাবের পরিবর্তন সাধিত হয়েছে যার ফলে আমি কারো প্রতি নির্দয় হতে পারছি না, এবং গ্রামবাসী এই সুযোগে আমাকে মারতে শরু করছে। দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন।
নারদ মুনি- যখন গ্রামবাসী তোমাকে আঘাত করতে আসে তখন তুমি তাদেরকে তোমার ফণা ধারণ করে মাথার সাহায্যে ছোবল মারার মত ভান করতে পার।
। হিতোপদেশ।
যদিও ভক্তগণের অভক্তদের প্রতি প্রতিশোধ পরায়ণ হওয়া উচিত নয়, কিন্তু তাদেরকে প্রতিহত করা উচিত। যেভাবেই হোক না কেন, যদি কেউ কৃষ্ণের মন্দির এবং ভক্তদের আক্রমণ করে তবে, কৃষ্ণের মন্দির ও ভক্তদেরর রক্ষা করার জন্য তাদের প্রতিহত করা প্রয়োজন।