একদা এক মহৎ গুরুর আশ্রমে তার শিষ্য দেখা করতে এলেন। শিষ্য ব্যক্তিটি বহু বছরের সাধনা এবং চেষ্টার দ্বারা নিজেকে উদ্ভাসিত করে তুলেছিল। সে বলল হে প্রভু, আপনি যা বলেছিলেন- ‘আমি ঈশ্বর এবং সবাই এক’ তা আমি বুঝতে পেরেছি। শুধু এই মায়াই আমাকে এবং ঈশ্বরের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করে। আপনার দয়ায় আমি আজ সব বুঝতে পেরেছি। সে চিন্তা করতে থাকল যে আমি নিরাকার অনন্ত এবং অনবদ্য মহান পরাক্রমশীল। যখন তার গুরু বুঝলেন যে তার শিষ্য সবকিছু সঠিকভাবে বুঝতে পেরেছে, তার শিষ্য তখন তার কাছে তীর্থে যাবার জন্য অনুমতি প্রার্থনা করলেন। সে পথিমধ্যে তার সম্প্রতি জাগ্রত ধারণাগুলোকে চিন্তা করছিল। কিছুক্ষণ পর সে শুনতে পেল যে, এক হাতি চালক হাতির উপর থেকে চিৎকার করতে করতে এগিয়ে আসছিল।
হাতি চালক- রাস্তার মাঝ থেকে সরে দাঁড়িয়ে হাতির জন্য রাস্তা করে দাও।
শিষ্য- আমি যদি ঈশ্বরই হই, তবে আমি হাতিকে রাস্তা ছেড়ে দিব কেন? এটি তো আমার বিশ্বাসের পরিপন্থী। হাতিই আমার জন্য সরে দাঁড়াক।
সে এবং হাতি মুখোমুখি হল।
হাতি চালক (মহুত) ভয়ে চিৎকার করতে থাকল, কিন্তু সেই তপস্বী রাস্তার উপরই দাঁড়িয়ে থাকল।
হাতি চালক- হাতির জন্য রাস্তা ছেড়ে দাও ওও.. হাতিটি তপস্বীকে তার শুড় দিয়ে জড়িয়ে ধরে পেঁচিয়ে রাস্তা থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিল। সেই তপস্বীর হাত ভেঙ্গে গেল এবং শরীরে কিছু ক্ষতের সৃষ্টি হলো।
পরদিন খুব সকালে সে খোঁড়াতে খোঁড়াতে তার আধ্যাত্মিক গুরুর নিকট উপস্থিত হলো।
শিষ্য- হে প্রভু, গতকাল আমি ভেবেছিলাম যে, আমি সম্পূর্ণভাবেই আপনার শিক্ষাকে বুঝতে পেরেছি। কিন্তু দেখুন আমি যখন তা প্রয়োগ করলাম তখন কি অবস্থা হল।
এমন দূর্ঘটনা আমার সাথে কেন ঘটল? আর আমি যে দিন উপলব্ধি করতে পারলাম সেইদিনেই তা ঘটল।
শিষ্যের সামান্য ইঙ্গিতেই গুরু প্রকৃত ঘটনা বুঝতে পারলেন।
গুরু- ঐ হাতির উপর থেকে ঈশ্বরই যে তোমাকে রাস্তা থেকে সরে দাঁড়াতে বলেছিলেন, তা তুমি শুনতে পাওনি?
। হিতোপদেশ।
এই গল্পটির মাধ্যমে অনুধাবন করা যায় যে এক ঈশ্বরবাদীতার মারাত্মক কুফল কি যার মূলনীতি হল ঈশ্বর এবং সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। এই গল্প এই শিক্ষাই দেয় যে, যদি প্রত্যেকে ঈশ্বরের অবস্থায় নিজেকে চিন্তা করে তবে এর ফলে কেবল বিশৃঙ্খলারই সৃষ্টি হয়।