একদা এক গোবুরে পোকা ছিল। সে তার গর্তে বসবাস করত এবং আশপাশের ঘোড়ার মলের গন্ধ নিত। একদিন ঐ রাস্তা দিয়ে কিছু লোক ঘোড়ায় চড়ে যাচ্ছিল, তারা কিছুক্ষণের জন্য সেখানে বিশ্রাম নিল এবং কিছু সুরাপান করল, ঘোড়াগুলো সেখানে মল ত্যাগ করল, পরে তারা আবার ঘোড়ায় চড়ে চলা শুরু করল। ঘোড়ার মলের গন্ধে ঐ পোকাটি গোবরের সন্ধানে বের হয়ে পড়ল। পোকাটি যাবার সময় সুরার দ্বারা ভেজা রাস্তার উপর দিয়ে ঘোড়ার মলের নিকট যখন পৌছাল, তখন সে পুরোপুরি মাতাল। এমন মাতাল অবস্থায় যখন সে ঘোড়ার গোবরকে দেখল। সে মনে করল যে, সে হিমালয়ের পাদদেশে দাঁড়িয়ে রয়েছে। যেহেতু মলগুলো ভেজা এবং তাজা ছিল তাই যখন সে এর উপর দাঁড়াল তখন তার পা এর মধ্যে ডুবে যাচ্ছিল। দেখ দেখ আমি হিমালয় জয় করেছি, আমি কত ক্ষমতাবান, আমি এসে সমস্ত পৃথিবীকে নিচে তলিয়ে দিব। সে যেন তার নিজের প্রশংসায় উদ্ভাসিত হচ্ছিল। এই মুহূর্তে কাছের বন থেকে একটি হাতি বেরিয়ে আসল। হাতিটি ঠিক গোবুরে পোকার দিকেই এগিয়ে আসছিল। গোবরে পোকাটি দেখল যে হাতিটি ঠিক তার দিকে এগিয়ে এসে যেই মাত্র গোবরের গন্ধ পেল তৎক্ষণাৎ সে তার মোড় ঘুরিয়ে নিল। সে মনে করল সামনে ঘোড়ার গোবর দেখে সে ভয়ে মোড় নিয়েছে। পোকাটি এটি দেখে বলল এই যে হাতি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা কর না? আমি জানি তুমি আমাকে দেখে ভয় পেয়েছ।
আসো আমার সাথে যুদ্ধ কর। যেহেতু হাতিটির কান অনেক বড়, তাই সে ঐ ছোট পোকাটির কথাও শুনতে পেল। হাতিটি থেমে গেল এবং চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করল। কে কি কথা বলছে? এবং সে দেখল যে একটি গোবুরে পোকা ঘোড়ার গোবরের উপর বুক ফুলিয়ে মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় যুদ্ধের ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে। হাতিটি চিন্তা করল- এটি তো ভাবার বিষয় এই ছোট্ট গোবুরে পোকা এক টুকরা গোবরে দাঁড়িয়ে থেকে ভাবছে যে সে হাতিকে পরাজিত করতে পারে। যদি এই গোবরের পরিমান বাড়িয়ে দেয়া যায় তবে সে কেমন গর্ব করবে। তাই হাতিটি পেছনের দিকে ফিরে এলো একদম পোকাটির কাছে। হাতিটি এমন আয়তনের মল ত্যাগ করল যা ছোট্ট গোবুরে পোকাকে পিষ্ট করে ফেলল এবং এতে সে মারা গেল। সে চিৎ জ্যোতিতে বিলীন হয়ে গেল।
। হিতোপদেশ।
ঈশপোনিষদ আমাদের সতর্ক করছে যে, সদ্গুরুর তত্ত্বাবধানে কৃষ্ণ অথবা তাঁর প্রিয় ভক্তের মুখ থেকে শ্রবণ করে অনেক সময় মনে হয় আমরা সঠিক পথে আছি কিন্তু মায়ার প্রভাবে এই ছোট গোবুরে পেকার মত অনেকেই আসক্ত হয়ে পড়ে, ভুল পথে চালিত হয় অথবা নিজে হীনতার চরম পর্যায়ে নিয়ে যায়।