বরযাত্রী

এক গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় পরম ভাগবত শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর তাঁর কিছু শিষ্যগণের সহিত খোলা আকাশের নিচে বসেছিলেন। এই শিষ্যগণের মধ্যে এক শিষ্য স্বামীজিকে প্রশ্ন করলেন, স্বামীজি আমি প্রায়ই দেখছি যে, দুইজন ব্যক্তি একই রকম দৃঢ়তার সাথে কৃষ্ণভাবনামৃতের জন্য কাজ করছে, কিন্তু এদের মধ্যে একজন কৃতকার্য হয়, অন্যজন পতিত হন! এর কারণ কি?
স্বামীজি বললেন, একদা এক যুবক বিয়ে করার জন্য তার আত্মীয় স্বজনকে নিয়ে সুসজ্জিত হয়ে রওনা হল। তারা মহাসমারোহের সাথে সেই কন্যার গ্রামের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, যা কিছু দূরে অবস্থিত। তারা যখন একটি নদীর কাছে পৌছল, ঠিক তখনই রাত্রি নেমে এল। তারা তখন এক মাঝিকে ডেকে বলল, “এই মাঝি, যদি তুমি আমাদেরকে এই নদী পার করে দিতে পার, তাহলে তুমি সমস্ত সপ্তাহ যা আয় করেছ তা এক রাত্রেই উপার্জন করতে পার।”
মাঝি- ঠিক আছে, আমি তোমাদের গন্তব্যে পৌছে দিতে পারি। তারা সেই নৌকায় গিয়ে বসল, মাঝিরা নৌকা চালানো শুরু করল এবং তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ছিল। যাত্রীরা ভাবলো নদীর ওপার যাওয়া পর্যন্ত আমরা একটু বিশ্রাম নিয়ে নিই না। মাঝিরা যখন দাঁড় টানছিল তখন সেই বরযাত্রীরাও একটু ঘুমিয়ে নিতে চাইল। কিন্তু যখন সকাল হলো তারা সকলে ঘুম থেকে উঠে পড়ে।
বরযাত্রীরা বলল- আসলে আমরা আমাদের গত রাত্রির যাত্রার শুরুর অবস্থান থেকে এক গজও এগুতে পারিনি।
বর বললো- তোমরা কি আমার বৈভব দেখে বিস্মিত হয়ে গেছ? তোমরা এমন করছো কেন?
মাঝি- আমি প্রকৃতপক্ষে আপনার থেকেও বেশী হতবুদ্ধি এবং ক্রোধান্বিত। তুমি ভুলে যেওনা যে, আমরা সারারাত ধরে এই নৌকায় দাঁড় বেয়েছি।
বরযাত্রী- এই, ঐখানে দেখ, নোঙর! নদীর ধারের জলে ডুবে আছে।
স্বামীজী- হা! হা! হা! তোমার প্রশ্নের উত্তর পেয়েছ? যারা এই জড়জগতে নোঙর গেড়েছে, যারা তাদের মানসিক আকাঙ্ক্ষার দ্বারা তাদের মনের প্রশান্তিকে উপভোগ করতে চায় তারা কখনই কৃষ্ণভাবনামৃতকে হৃদয়ঙ্গম করতে পারবে না। তারা হয়ত কঠোর পরিশ্রম করছে, তাদের অনেক সুযোগ সুবিধা থাকতে পারে এমনকি তাদেরকে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে হওে পারে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তাদের কোন উন্নতিই হয়নি।
। হিতোপদেশ।
জড় আসক্তি পরিত্যাগের দ্বারাই পারমার্থিক উন্নতির সূচনা হয়।

Comments are closed.

August 2015
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

Blog Stats

  • 140,963 hits