এক এলাকায় একটি জঙ্গল ছিল। সেখানে একটি গুহায় একটি সিংহ বাস করত। একদিন সে একটি হরিণ শিকার করল এবং সেটি খুব মজা করে খেল, কিন্তু তার সম্পূর্ণ ক্ষুধা নিবৃত্তি হল না। তাই সিংহটি একটি পরিকল্পনা করল।
সে একটি বিশাল বৃক্ষের নিচে গিয়ে বসল, ঠিক ঐ সময় একটি ভেড়া তার সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। তখন সিংহটি বলল, ও ভেড়া ভাই, আমার কাছে এসে বল যে, আমর মুখে খারাপ গন্ধ আছে কিনা?
সিংহটি মুখ হা করল এবং ভেড়াটি কাছে গিয়ে শুকে বলল, “রাজা মহাশয় আপনার মুখে দুর্গন্ধ আছে।”
সিংহ- কী! এত বড় স্পর্ধা, একজন রাজার সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় তা জানো না?
তখন সিংহটি তার পা দিয়ে আঘাত করল এবং ভেড়াটি তৎক্ষণাৎ মৃত্যুবরণ করল।
এরপর একটি পাতিশিয়াল সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিল। সিংহটি তাকে একই কথা বলল, যে তার মুখে দুর্গন্ধ আছে কিনা?
সিংহটি মুখ খুলল এবং পাতিশিয়াল কাছে গিয়ে দেখে পরিস্থিতি বুঝে বলল, না। রাজা মহাশয় আপনার মুখে কোন গন্ধ নেই। তা শুনে সিংহ রেগে গেলেন, আমি এইমাত্র একটি হরিণ খেয়ে আসলাম, আর তুমি বলছ মুখে গন্ধ নেই। এত বড় মিথ্যা কথা! আমার রাজ্যে মিথ্যার স্থান নেই। তখন সিংহটি থাবার আঘাতে শিয়ালটিকে যমের ঘরে পাঠিয়ে দিল।
ঠিক এ সময় একটি খেকশিয়াল ঐ রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। সিংহটি তাকে ডেকে একই কথা বলল। খেঁকশিয়ালটি কাছে আসল এবং দেখল সিংহটির সামনে একটি ভেড়া ও একটি পাতিশিয়াল মৃত অবস্থায় আছে।
এই পরিস্থিতি দেখে বুঝতে পারল যে, এখানে কি ঘটেছিল। তাই সে সিংহের মুখের কছে গিয়ে অন্যদিকে ফিরে নাকে সামনের একটি পা দিয়ে স্পর্শ করে বলল, হে রাজা মহাশয় আমার তো ঠান্ডা লেগেছে, তাই গন্ধ আছে কিনা তা বুঝতে পারছি না। এই বলে খেঁকশিয়ালটি তৎক্ষণাৎ সেই স্থান ত্যাগ করল। ইহা দেখে সিংহটি বিহ্বল হয়ে তাকিয়ে রইল, কিন্তু কিছু করতে পারল না।
। হিতোপদেশ।
বুদ্ধিমত্তা একটি শক্তিশালী অস্ত্র।