দীনবন্ধু

এক গ্রামে একটি গুরুগৃহে কিছু ছাত্র অধ্যয়ন করত। ঐ গুরুগৃহের শিক্ষক তার শিক্ষা দানের জন্য কোনো বেতন গ্রহণ করতেন না। তিনি ভিক্ষা বৃত্তি করে তাঁর জীবন অতিবাহিত করতেন। আসলে এটাই বৈদিক নিয়ম যে, গুরুদেব কখনও বেতনভুক্ত হবে না। এক সময় ঐ গুরুদেবের পিতার মৃত্যুবার্ষিকী অনুষ্ঠানে জানতে চাইলেন, তোমরা কে কি দিয়ে সাহায্য করতে চাও?
তখন কেউ বলল আমি ধুতি দিব, কেউ লল আমি গুড় দিব। এভাবে অনেকেই অনেক কিছু দিবে বলে প্রতিশ্রুতি দিল। কিন্তু ঐ গুরুগৃহের এক দরিদ্র বালক সে কিছু বলছে না।
তাই গুরুদেব তাকে বলল- তুমি কি দিবে?
বালকটি কিছু না বলে তার বাড়ি চলে গেল। বাড়িতে গিয়ে তার মাকে বলল, মা আমাদের গুরুদেবের বাবার মৃত্যু বার্ষিকী অনুষ্ঠানে সকলেই কিছু না কিছু দিচ্ছে, কিন্তু আমি কি দেব। তখন তার মা বলল- বাবা, আমরা তো খুবই গরিব। আমাদের তো কিছুই নেই। কিন্তু ভগবান তো দীনবন্ধু, অর্থাৎ গরীবের বন্ধু। তাই তুমি তার কাছে কিছু চাইতে পার।
বালক বলল- মা, তাঁকে আমি কোথায় পাব ?
মা বলল- আমি জানি যে, তিনি ঐ বনে থাকেন।
তখন বালকটি বনে গেল এবং দীনবন্ধু দাদা, দীনবন্ধু দাদা বলে ডাকতে লাগল।
তার ডাকে সাড়া দিয়ে শ্রীকৃষ্ণ এসে বললেন- হে বালক, তুমি কি জন্য আমাকে ডেকেছ?
বালকটি তখন ঘটনাটি খুলে বলল এবং জিজ্ঞাসা করল, আমি ঐ অনুষ্ঠানে কি দিব?
তখন শ্রীকৃষ্ণ বললেন- আমি তোমাকে যত দই লাগে তা দিব। এই বলে শ্রীকৃষ্ণ চলে গেলেন।
বালকটি তার গুরুদেবকে বলল, গুরুদেব অনুষ্ঠানে যত দই লাগে তা আমি দিব।
গুরুদেব- ভাল, ঠিক আছে যথাসময়ে নিয়ে এসো।
অনুষ্ঠানের দিন বালকটি বনে গেল এবং দীনবন্ধু দাদাকে ডাকল। তখন শ্রীকৃষ্ণ এসে তাকে একটি দই এর পাত্র দিয়ে বললেন, “এতে সকলের জন্য দই দেওয়া আছে তুমি ইহা তোমার গুরুদেবের কাছে দিবে।”
বালকটি সেই দই এর পাত্র নিয়ে সোজা গুরুদেবের বাড়ির দিকে রওনা হল। ইতোমধ্যে অন্য সকলে সবকিছু দিয়ে গেছে যার যার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী।
দরিদ্র বালককে দেখে গুরুদেব বলল, দাও দাও তাড়াতাড়ি দাও।
তখন বালকটি দই এর পাত্রটি দিল। গুরুদেব এই ছোট পাত্র দেখে হতাশ হয়ে গেলেন কারণ, এই অনুষ্ঠানে হাজার হাজার লোক নিমন্ত্রণ করা হয়েছে। তাই তিনি রাগান্বিত হয়ে সেটি উঁচু জায়গায় রাখলেন। তখন সেটি নিচে পড়ে গিয়ে পাত্র থেকে দই পড়ে যাচ্ছিল। তা দেখে গুরুদেব দই এর পাত্রটিকে তুলে অন্য একটি বড় পাত্রে ঢাললেন, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় বড় পাত্রটি দই পরিপূর্ণ হল, কিন্তু ছোট পাত্রটি আগের মতোই রইল। তখন তিনি বুঝতে পারলেন, আসলে এটি নিশ্চয়ই কোন আধ্যাত্মিক পাত্র।
। হিতোপদেশ।
সরল বিশ্বাসে ভগবানের উপাসনা করলে, তিনি তাদের সমস্ত বস্তু সরবরাহ করেন।

Comments are closed.

August 2015
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

Blog Stats

  • 140,963 hits