অনেক দিন আগের কথা, চরজন ব্রাহ্মণ গুরুকুলের শিক্ষা সমাপ্ত করে চিন্তা করল, এখন কিছু ধন-সম্পদ সংগ্রহ করে, গৃহস্থ জীবনে প্রবেশ করতে হবে। তাই তারা ধন সংগ্রহের জন্য হিমালয় পর্বতে গেল এবং সম্পদ খুঁজতে লাগল।
তারা এক সাধুকে দেখল এবং একজন বলল, চল ঐ সাধুর সাথে পরামর্শ করি, তিনি যদি কোন উপায় বলে দিতে পারেন। সাধুকে সব খুলে বলল।
সাধু তখন তাদের বলল, ঠিক আছে আমি তোমাদের চারটি ঘিয়ের প্রদীপের সলতে দিচ্ছি। এটা তোমাদের প্রত্যেকের হাতে রেখে হাঁটতে থাকবে। যেখানে সলতেটি পড়বে সেখানে খুঁড়লে ধনসম্পদ পাবে। এভাবে যখন স্বর্ণ পাবে তখন ফিরে আসবে আর সামনে যাবে না। সাধুর কথায় তারা চারজন চারটি সলতে হাতে নিয়ে হাঁটতে শুরু করল এবং কিছুক্ষণ পর একটি সলতে মাটিতে পড়ল এবং তারা সেখানে খুঁড়ে কিছু তামা পেল। প্রথম ব্রাহ্মণ এটি নিয়ে সন্তুষ্ট হয়ে বাড়ি চলে গেল। অন্য তিনজন আবার হাঁটতে শুরু করল, এবার দ্বিতীয় ব্যক্তির সলতে পড়ে গেল। সেখানে খুঁড়ে কিছু দস্তা পেল। দ্বিতীয় ব্রাহ্মণ খুব খুশি হল এবং তা নিয়ে সে বাড়ি গেল। তারপর তারা দুইজন আবার হাঁটতে শুরু করল, এবার তৃতীয় ব্রাহ্মণের সলতে মাটিতে পড়ে গেল। তারা সেখানে খুঁড়ে স্বর্ণ পেল। তৃতীয় ব্রাহ্মণ বলল চল এই সম্পদ আমাদের দুজনের জন্য যথেষ্ঠ। তাছাড়া সাধু বলেছে স্বর্ণ পাওয়ার পর আর সামনে না যেতে। শেষের ব্রাহ্মণ ভাবল প্রথমে তামা পরে দস্তা তারপর স্বর্ণ পেল। তাহলে এরপরে নিশ্চয়ই দামী কিছু পাব। তাই সে রাজী হল না। সে সামনে হাঁটতে শুরু করল। হাঁটতে হাঁটতে পর্বতের শেষ মাথায় পৌছে গেছে। কিছু দূরে একজন লোককে দেখতে পেল এবং জিজ্ঞাসা করল, আচ্ছা ভাই, এখানে কি কোন সম্পদ পাওয়া যাবে। এই বলতে বলতে তার সলতেটি মাটিতে পড়ে গেল। সে তখন মাটি খুঁড়তে যাবে এমন সময় এক ব্যক্তি তার কাছে আসল। ব্রাহ্মণ দেখল যে লোকটির অনেক বয়স হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হল লোকটির মাথায় একটি চাকার মত ভারী জিনিস আছে যা অনবরত ঘুরছে। যদিও লোকটি কিন্তু স্থির। এতে মাথার রক্ত বের হয়ে বেয়ে বেয়ে পড়ছে। সে অনেক কষ্ট পাচ্ছে। হঠাৎ সেই লোকটি চাকাটাকে ব্রাহ্মণের মাথায় দিয়ে দিল এবং ব্রাহ্মণের মাথায় ও সেটি ঘুরতে লাগল এবং ব্যাথা অনুভব করল।
লোকটি বলল- হে ঈশ্বর, তোমাকে ধন্যবাদ, আমি এখন মুক্ত।
ব্রাহ্মণ বলল- দয়া করে বলুন আমি কেন নড়তে পারছিনা আর এই চাকাটিই বা কি?
লোকটি বলল- আপনি এমন জায়গায় আসছেন যেখানে সম্রাট কুবের তার সম্পদ রেখেছেন।
ব্রাহ্মণ- তাহলে চাকাটি কি?
ব্রাহ্মণ চাকাটি হল অস্ত্র যা এই সম্পদ রক্ষা করছে।
লোকটি আরো বলল, আমার ক্ষেত্রেও এরকম হয়েছিল আমি কিছু বন্ধু নিয়ে এখানে আসি। এক সাধু আমাদের কিছু সলতে দিয়ে বলল, যখন সলতে পড়বে তখন সেই স্থান খুঁড়লে সম্পদ পাবে।
কিন্তু যখন স্বর্ণ পাবে তখন তোমরা চলে যাবে তোমার মত আমিও এই ভুল করে স্বর্ণ পাওয়ার পরেও সামনে আসি। তারপর এই স্থানে আসলে একটি চাকা আমার মাথায় আটকে যায় এবং আমিও স্থির হয়ে গেলাম। এখন আমি তোমাকে সেটি দিয়ে মুক্ত হলাম।
ব্রাহ্মণ- কত বছর ছিলেন এমন করে।
লোকটি- আমি এখানে এসেছি যখন ভারতের রাজা রামচন্দ্র।
ব্রাহ্মণ- হায়! হায়! সে তো অনেক বৎসর প্রায় দুই মিলিয়ন বৎসর পূর্বে।
লোকটি- তুমি রাগান্বিত না হয়ে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা কর যেদিন তোমার মত একজন এখানে আসবে তখন তাকে এটি দিয়ে তুমি মুক্ত হবে। অন্যথায় নয়।
। হিতোপদেশ।
গুরুদেবের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস না থাকাই দুঃখের কারণ।