গোপালের এক প্রতিবেশী ছিল। তার নাম গোবিন্দ। সে ছিল এক স্বপ্নচারী মানুষ আর তার স্ত্রী এই অলীক স্বপ্নে তার সহচারী ছিল। একদিন গোবিন্দ তার স্ত্রীকে বলছিল-
গোবিন্দ- আমার যখন টাকা হবে তখন আমি একটি গাভী কিনব।
স্ত্রী- তাহলে তো আমাদের খুব তাড়াতাড়ি কিছু অতিরিক্ত পাত্র কিনতে হবে। তাহলে আমি বাইরে গিয়ে কিছু পাত্র কিনে নিয়ে আসব।
অতঃপর তার স্ত্রী কিছু পাত্র বাইরে থেকে কিনে বাড়িতে ফিরে এলেন।
গোবিন্দ- তুমি এত পাত্র কেন কিনে আনলে?
স্ত্রী- এই পাত্রগুলোতে দুধ, দই, মাখন, ঘি রাখব আর কিছু পাত্রতে করে আমার বোনের বাসায় দুধ নিয়ে যাব।
গোবিন্দ- কি! তোমার বোনের বাসায় দুধ? সে আমাদের জন্য এমন কি করেছে যার জন্য তুমি তাদেরকে দুধ দেবে। গোবিন্দ এতে অত্যন্ত রাগান্বিত হয়ে সমস্ত পাত্রগুলি চারিদিকে ছুড়ে ফেলে দিতে শুরু করল। তোমার বোন নরকে যাক, তুমি সবসময় তাদের নিয়েই ব্যস্ত থাক।
স্ত্রী- তুমি এক অবোধ স্বামী। তোমার হৃদয়ে আমার জন্য কোন দরদ নেই। ঠিক সেই সময় গোপাল গোবিন্দদের বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, আর একটি পাত্র তার গায়ে এসে লাগল।
গোপাল দৌড়ে গোবিন্দের ঘরে প্রবেশ করল। ঢুকেই লক্ষ্য করল যে, গোবিন্দ তার স্ত্রীকে একটি হাঁড়ি দিয়ে মারতে যাচ্ছে।
গোপাল- থাম! থাম! কি হয়েছে? তুমি এমন করছ কেন?
গোবিন্দ- এই মেয়ে মানুষ আমার গরুর দুধ তার বোনকে দিতে চায়।
গোপাল- গরু, কোন গরু।
গোবিন্দ- আমার যখন টাকা হবে তখন তো আমি গরু কিনব।
গোপাল- ওহ! তাহলে তো তোমার এখনও কোন গরুই নেই।
গোবিন্দ- তাতে কি? কিন্তু আমি তো একটি কিনতে চাই।
তখন গোপাল ভাবল যে, এই লোকটিকে একটি শিক্ষা দিতে হবে। তাদের দুজনেরই এই অলীক স্বপ্ন দেখা বন্ধ করতে হবে। তাই সে হাতে একটি লাঠি তুলে নিল। তা দিয়ে গোবিন্দকে মারতে শুরু করল।
কি এমন ঘটল যে, তুমি আমাকে এমনভাবে মারছ।
গোপাল- কারণ তোমার গরু আমার ক্ষেতে ঢুকে সব খেয়ে নষ্ট করে ফেলেছে।
গোবিন্দ- দয়া কর, আমাকে মেরো না। আমার গরু কেনা তো দূরের কথা, আমার কাছে কোন টাকাই নেই। গোবিন্দ তার ভুল বুঝতে পারল এবং গোপালকে তার এ ভুল ভাঙ্গানোর জন্য অনেক সমাদর করল।
। হিতোপদেশ।
স্বপ্ন কখনোই বাস্তব নয়।