গোপাল তার সন্তানদের খুব ভালবাসে। সন্তানরা তাকে তাদের বন্ধুর মত মনে করত। একদিন এক ছেলে গোপালকে বলল, আজ তোমাকে আমাদের বন্ধুত্বকে প্রমাণ করার জন্য পরীক্ষা দিতে হবে।
অন্য ছেলেরা, হ্যাঁ, বলে তাদের সম্মতি জ্ঞাপন করল। এক ছেলে বলল, তুমি কি আমাদের ভোলার দোকান থেকে বিনে পয়সায় মিষ্টি খাওয়াতে পারবে ?
একজন বলল- ভোলা একজন বড় ঠকবাজ। আমরা টাকা দিয়ে মিষ্টি কিনলেও সে আমাদের ঠকায়।
গোপাল- তাই নাকি? তাহলে মিষ্টি দিয়ে ভুড়িভোজের জন্য প্রস্তুত হও। এখন ভোলার দুপুরের খাবারের পরে বিশ্রামের সময়-
ভোলা- আমি অল্প কিছুক্ষণের জন্য বিশ্রাম নেব। কেউ যদি মিষ্টির জন্যে আসে তবে আমাকে ডেকে দিও।
ভোলার পুত্র- হ্যাঁ, বাবা।
ভোলা- তার পুত্রকে বলল, আর তুমি ভুলেও একটি মিষ্টি খেওনা। ভোলা যখন গভীর নিদ্রায় মগ্ন, তখন গোপাল দোকানে প্রবেশ করল। কোন কিছু না বলে কয়ে গোপাল মিষ্টি খাওয়া শুরু করল- এই অবস্থা দেখে ভোলার পুত্র- কে তুমি? কে তুমি? কি করছ? মিষ্টি খাওয়া বন্ধ কর।
গোপাল- তুমি চিন্তা কর না। আমি তোমার বাবার বন্ধু। তুমি তাকে আমার সম্বন্ধে বল।
পুত্র- আপনার নাম কি?
গোপাল- তুমি তোমার বাবাকে বল যে, মাছি মিষ্টি খাচ্ছে।
পুত্র- বাবা, তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠ, মাছি সব মিষ্টি খেয়ে ফেলল।
ভোলা- বিরক্তিরস্বরে বলল, কি মাছি?
তুমি চুপ কর। যদি মাছি মিষ্টি খায় তবে সমস্যা কোথায়?
মাছি মিষ্টি পছন্দ করে। তুমি আমাকে জ্বালাতন করো না। আমাকে এখন ঘুমাতে দাও।
পুত্র- বাবা, মাছিতে সব মিষ্টি খেয়ে ফেলল।
ভোলা- তুমি একটু চিন্তা কর মাছি কতটুকু মিষ্টি খেতে পারবে। আমাকে এরপরে আর জ্বালাতন করবে না।
গোপাল- ভোলার পুত্রকে বলল, আমি তোমায় বলেছিলাম না, তোমার বাবা আমাকে চেনেন। তিনি এতে কিছু মনে করবেন না।
গোপাল- প্রিয় সন্তান, এই নাও তোমাদের মিষ্টি, আর ভোলার দোকান দিয়ে যাবার সময় তাকে ধন্যবাদ জানাতে ভুল কর না। আর অবশ্যই তাকে এই মাছির নমস্কার জ্ঞাপন করবে।
। হিতোপদেশ।
কৃপণ ব্যক্তির অবস্থা এমনই হয়ে যায়।