একসময় এক শিকারী, পাখির বাচ্চা ধরার জন্য জঙ্গলে জাল বিছিয়েছিল। আর পাশেই একটি গাছের মধ্যে পাখির বাসায় ছোট্ট দুটি বাচ্চা ছিল। তাদের মা খাবারের সন্ধানে বাইরে গিয়েছিল এবং যাওয়ার আগে তাদের বাসা থেকে কোথাও যেতে নিষেধ করে গিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ তাদের গাছের নিচে চোখ পড়লে তারা দেখতে পেল, কিছু শস্যদানা সেখানে পড়ে আছে। তখন একটি বাচ্চা আরেকটি বাচ্চাকে বলতে লাগল, “মা-বাবা আসা পর্যন্ত কেন আমরা ক্ষুধার্ত থাকব, চল এগুলো খাই। নিচে গিয়ে শস্যদানা খাওয়ার চেষ্টা করার সাথে সাথে তারা ফাঁদে আটকা পড়ল। ফাঁদা আটকা পড়ে মা-মা, বাবা-বাবা বলে ডাকতে শুরু করল। কিছুক্ষণ পর তাদের মা-বাবা ফিরে আসল, কিন্তু বাচ্চাদের না পেয়ে ব্যাকুল হয়ে উঠল এবং ব্যাকুল হয়ে তাদের খুঁজতে শুরু করল। কিছুক্ষণ খোঁজার পরে তারা দেখতে পেল যে, তাদের বাচ্চারা গাছের নিচে শিকারীর ফাঁদে আটকা পড়েছে। তখন মা কিছু না ভেবেই বাচ্চাদের বাঁচানোর জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ল। পিছন থেকে বাবা পাখিটা অনেক ডাকল এবং না বুঝে ওখানে যেতে নিষেধ করল। কিন্তু মা পাখিটা কোন কিছু না শুনে সেখানে গিয়ে ফাঁদে আটকা পড়ল। তখন বাচ্চাদের মত মা পাখিটিও জালে আটকা পড়ল এবং সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকল। এই ঘটনা দেখে বাবা পাখিটি চিন্তা করতে লাগল, আমি যদি জীবন দিয়েও বাঁচানোর চেষ্টা করি, তাহলে তাদেরকে বাঁচাতে পারব না। সুতরাং তাদেরকে বাঁচাতে যাওয়া আর জেনে শুনে মৃত্যুকে ডেকে আনা একই কথা। এ বাস্তবতা মেনে নিয়ে ওখান থেকে বাবা পাখিটি চলে গেল।
। হিতোপদেশ।
মায়ারূপী মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আমাদের উচিত শুরু থেকেই ‘কৃষ্ণভাবনামৃত’ গ্রহণ করা। “আপনি কখনই আপনার পরিবার বা সমাজকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে পারবেন না। এটা অসম্ভব। তাদের মৃত্যুকে বরণ করতেই হবে। তারা মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ হবেই, আপনি তাদেরকে রক্ষা করতে পারবেন না। যদি আপনি প্রকৃতই তাদেরকে রক্ষা করতে চান, তাহলে অবশ্যই তাদেরকে পূর্ণ কৃষ্ণভাবনাময় করে গড়ে তুলুন। এটাই প্রকৃত বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। আর এটাই একমাত্র উপায়।”