বিলাসপুর গ্রামে বামাচরণ নামে এক কর্মকার (কামার) বাস করত। সে একদিন হরিপুর নিবাসী এক কুমার বন্ধুর বাড়ীতে বেড়াতে গেল।
হে বন্ধু, বামাচরণ, তোমাকে দেখে আমার অনেক ভাল লাগছে।
বামাচরণ- আমারও অনেক ভাল লাগছে। তোমার হাতে অনেক কাজ বলে ব্যস্ত দেখাচ্ছ।
আমি কি তোমার কাজে সাহায্য করতে পারি? তাহলে তোমার কাজ তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাবে এবং আমরা একত্রে সময় কাটাতে পারব।
অবশ্যই বন্ধু, যেভাবেই পার আমাকে কাজের হাত থেকে রক্ষা কর।
কামার বন্ধুটি লক্ষ্য করল যে, তার বন্ধুটি হাতুড়ি পিটিয়ে কাজ করছে। তখন সে ভাবল যে, আমি আরো জোরে হাতুড়ি পিটিয়ে কাজটি দ্রুত শেষ করে দেই। কামার বন্ধুটি আরো ভাবল, আমি একজন দক্ষ কামার। আমি যেভাবে প্রতিদিন হাতুড়ি পেটাই, সেইভাবে পিটিয়ে এই পাত্রগুলোকেও আরো সুন্দর আকৃতি দিয়ে বন্ধুকে খুশি করতে পারি।
বামাচরণ একটি হাতুড়ি নিয়ে হাড়ি ও কলসিগুলো এমনভাবে পিটাতে শুরু করল যে, অচিরেই ঐ পাত্রগুরো ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।
। হিতোপদেশ।
কর্মকার যেভাবে হাতুড়ি দিয়ে লোহাকে পিটিয়ে কোন বস্তু তৈরী করে, কুমার সেইভাবে মাটির পাত্র তৈরী করে না। দুজনেরই নির্মাণ কৌশল ও প্রণালী সম্পূর্ণ পৃথক। জড়জাগতিক কর্মীরা মনে করে, ভক্তের ভগবদ্ সেবার অনুকূল কর্ম ও জগতের ভোগপর কর্ম উভয়ই সমজাতীয়। বস্তুত উভয়ের কর্মের কৌশল ও প্রণালীর মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। জগতের তথাকথিত নিষ্কাম কর্মগুলোরও কোন মূল্য নেই, যদি তা ভগবানের সেবা অনুকূল না হয়। যে কর্মের দ্বারা ভগবানের প্রীতি না হয় না, আত্মার ভগবদ-সেবাবৃত্তির জাগরণ হয় না, সেই কর্ম যতই ত্যাগের বা জগতের তথাকথিত হিতকারক হোক না কেন, তা পরিণামে ভগবানের সেবাবৃত্তিকে চূর্ণ করার চেষ্টাই মাত্র। অর্থাৎ সেসব নাস্তিকতাকেই বৃদ্ধি করে।