বাক্ সিদ্ধ গুরুদেব

একজন গুরুদেব একদিন বহুদূরে এক শিষ্যের বাড়ী রওনা দিয়েছেন। পথের মধ্যে মনে পড়ে গেল গীতা আনা হয়নি, শিষ্যের বাড়ীতে যদি গীতা পাঠ করতে হয় তাহলে তো বিপদে পড়ে যেতে হবে। গুরুদেব ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমান। তাই তিনি বুদ্ধি করে পায়ের চটি দুটিকে একটি কাপড়ের মধ্যে বেঁধে শিষ্যের বাড়ীতে উপস্থিত হলেন। সকলে সন্ধ্যায় উপস্থিত হলেন গুরুদেবের মুখে গীতা শ্রবণ করার জন্য। গুরুদেব আসনে বসে কাপড়ে বাধা চটি দুটিকে সামনে রেখে গীতা বলে প্রচার করেন। এবং নিজেও প্রণাম করলেন। গুরুদেব মাত্র গীতাটির প্রথম শ্লোকটি মুখস্ত করেছিলেন।
শ্লোকটি বলেই বললেন- “আমার শরীরটা ভাল নয়। আজ এইখানেই পাঠ শেষ করলাম। শ্রোতাগণ চলে যাওয়ার পর গুরুদেব রান্নার জন্য চলে গেলেন। এর মধ্যে সকলে হৈ-চৈ করে উঠল। -“গুরুদেব গীতা কুকুরে নিয়ে গেছে।” গুরুদেব কপালে হাত চাপড়ে বলে উঠলেন, “হায়! হায়! পবিত্র গীতা কুকুরে স্পর্শ করেছে, তোমরা গীতা উদ্ধার কর। আমি খুব দুঃখের সঙ্গে বলছি গীতা তুমি চটি হয়ে যাও।” এই কথা শুনে শিষ্যবর্গ গীতা উদ্ধার করে কাপড় খুলে দেখেন এক জোড়া চটি জুতা। সকলে অবাক হয়ে গুরুদেবের চরণে প্রণাম করে বললেন-“হে! বাকসিদ্ধ মহাত্মা। আপনি ছাড়া জগতের বুকে আর সদ্গুরু নাই। আপনার চরণে শতশতবার নমস্কার।
। হিতোপদেশ।
এই জগতে বহু হঠযোগী বাকসিদ্ধ রয়েছে। যারা পূর্বপূর্ব যুগে ভগবানের সঙ্গে যুদ্ধ করে সনাতন ধর্মের বিরোধিতা করে এসেছে, সেই অসুর সকলে কলিযুগে এসেছে, ভগবান গৌরহরির নির্মল প্রেমধর্মের বিরোধিতা করার জন্য। মহাপ্রভুর প্রেমধর্মের মধ্যে যুদ্ধের ব্যবস্থা নাই দেখে সেইসব অসুরগুলি মহাপ্রভুর বিরুদ্ধে এক একটি মত স্থাপন করে নিজে অবতার, বাকসিদ্ধ গুরুদেব, মহাত্মা, ইত্যাদি নাম প্রচার করে জগতের মানুষকে ধোকা দিতে লাগল। তারা বহু চাতুর্য্যরে দ্বারা মানুষকে বোকা বানিয়ে, মানুষকে ঠকিয়ে, ছলনা করে অর্থ সংগ্রহ করে স্ত্রী পুত্রাদির সেবায় লাগায়। তার ফলে যারা তাদের শিষ্যত্ব গ্রহণ করে, তারা এবং তাদের গুরুদেবের নরকে গমন করতে হয়।

Comments are closed.

August 2015
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

Blog Stats

  • 140,959 hits