এক গুরুদেব তাঁর শিষ্যকে নিয়ে একটি ঘোড়ায় চেপে ভ্রমণ করতে বের হলেন। যেতে যেতে ঘোড়ার পিঠ থেকে গুরুদেবের চাদরটি পড়ে যেতে দেখে শিষ্যটি ভ্রুক্ষেপও করল না। কিছুক্ষণ পর গুরুদেব বললেন, “আমার চাদর কোথায়?” শিষ্য বলল- “চাদরটি রাস্তায় পড়ে গেছে”। গুরুদেব বললেন- “দূর বোকা। চাদরটি তুলে নিবি তো। যাক, এখন থেকে যা পরবে তুই তা তুলে নিবি।” কিছুদূর যাওয়ার পর ঘোড়াটি পায়খানা করতে লাগল। শিষ্যটি তখন বলল, “গুরুদেব একটু দাঁড়ান। “গুরুদেব বললেন- “কেন”? কি হয়েছে ?” তৎক্ষণাৎ নেমে গিয়ে হাতে করে ঘোড়ার পায়খানা তুলে নিয়ে বলল- “গুরুদেব”। গুরুদেব বললেন- “বোকা ফেলে দিয়ে হাত ধুয়ে আয়।” শিষ্যটি বলল “ঘোড়ার” কি কি জিনিস পড়ে গেলে তুলতে হয়, তার একটি ফর্দ আমায় করে দিন। গুরুদেব ফর্দ করে দিলেন- “কাপড়, চাদর, ছাতা, জামা, ব্যাগ, আসন” ইত্যাদি। কিছুদূর যাওয়ার পর পথের মধ্যে একটি গর্ত দেখে ঘোড়াটি লাফ দেওয়ার ফলে গুরুদেব গর্তের মধ্যে পড়ে অজ্ঞান হয়ে গেলেন। শিষ্য তখন ফর্দ্দ অনুযায়ী সমস্ত জিনিসপত্র একত্র করতে লাগল। কাপড়, জামা, ব্যাগ, ছাতা, চাদর এমনকি গুরুদেবের অঙ্গ থেকে সবকিছু খুলে নিয়ে গুরুদেবকে উলঙ্গ অবস্থায় রেখে দিল। অনেকক্ষণ পর গুরুদেবের জ্ঞান আসলে তিনি বললেন, ‘আমাকে ধরে তোল।’ শিষ্যটি বলল ‘ফর্দে আপনাকে তোলার কথা নাই। সুতরাং আমি আপনাকে কি প্রকারে তুলব?” গুরুদেব বললেন,- ওরে, আমার পরনের কাপড়ের কি হল ?” শিষ্য বলল- “ফর্দ্দ অনুসারে সব গুছিয়ে রেখেছি।”
। হিতোপদেশ।
ফর্দ্দ অনুসারে গুরু, বৈষ্ণব, ভগবানের সেবা হয় না। যা করলে বৈষ্ণব ভগবানের সুখ হয় তার নাম স্নেহময়ী সেবা। গুরু বৈষ্ণবের আনুগত্যে স্নেহময়ী সেবার দ্বারা গৌরগোবিন্দের সেবা করাই আত্মার বৃত্তি।