কোনও সঙ্গতি-সম্পন্ন ব্যক্তির দুইটি নিতান্ত অশান্ত ছেলে ছিল। তাহারা সর্বদাই ক্রীড়া-কৌতুক আমোদ-প্রমোদাদিতে কাল কাটাইত। পুস্তকের কোনও কথা তাহাদের কর্ণগোচর হইলে তাহাদের শরীরে জ্বর আসিত। এই পুত্র দুইটির পড়াশুনার জন্য তাহাদের পিতা একজন উপযুক্ত গৃহশিক্ষক নিযুক্ত করিলেন। শিক্ষক মহাশয় তাহাদিগকে কড়া শাসনে রাখিতেন। একদিন ঐ শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে ছোট ভাই বড় ভাইকে বলিল-“দাদা, এই মাষ্টারটার অত্যাচার আর সহ্য করা যায় না। ইহার মৃত্যু হইলেই বাঁচি। যম কি ইহাকে চোখে দেখে না ?”
তাহা শুনিয়া বুদ্ধিমান বড় ভাইটি বলল, “তুই নিতান্ত বোকা, এই শিক্ষকের মৃত্যু হইলে বাবা পুনরায় আর একজন শিক্ষক নিযুক্ত করিবেন। তিনি হয়তো আরও কড়া হইবেন। যদি বাবার মৃত্যু হয়, তাহা হইলে আমাদের উপরে শাসন করিবার আর কেহ থাকিবে না।”
। হিতোপদেশ।
শ্রীভগবান জীবের মঙ্গলের জন্য শ্রীগুরুদেবকে পাঠাইয়াছেন। শ্রীগুরুদেব যখন তারন ভৎর্সনা করেন তখন উক্ত ছোটভাই সদৃশ শিষ্যগণ গুরুদেবের প্রাণনাশে উদ্যত হয়। তাদের এই সামান্য জ্ঞানটুকু থাকে না, শ্রীগুরুদেব তাদের মঙ্গলের জন্যই শাসন করছেন। কিছুকিছু বুদ্ধিমান শিষ্যরা আছে, তারা শ্রীভগবানের বিনাশ করিবার জন্য অগ্নিকুন্ডে পতঙ্গের ন্যায় ধাবিত হয়।