পাখীর গান

এক ব্যাধ প্রতিদিন বন থেকে পাখী ধরে বাজারে বিক্রি করে সেই অর্থ দিয়ে সংসার পরিচালনা করে। একদিন কতকগুলি পাখি ধরে শহরের মুখে চলেছে। হঠাৎ পথের মধ্যে এক সাধুর সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। পাখীদের দুঃখ দুর্দশা দেখে সাধুর হৃদয় কাতর ও বেদনায় ভরে গেল। সাধু জিজ্ঞেস করলেন, ভাই! তুমি পাখিগুলি নিয়ে কি করবে?” ব্যাধ বলল, “বিক্রয় করে যে টাকা হয়, আমি সেই টাকায় সংসার পরিচালনা করি। সাধু চিন্তা করলেন, এইভাবে যদি প্রতিদিন পাখী ধরে, তাহলে কিছুদিনের মধ্যে পাখী সমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে। এদের বাঁচাতেই হবে।” তিনি ব্যাধকে বললেন,-“এই পাখীগুলি কত টাকায় বিক্রি হবে? ব্যাধ বলল-“৩০/৪০ টাকায় বিক্রি হবে?” সাধু ব্যাধকে ৪০ টাকা দিয়ে পাখীগুলি নিয়ে আশ্রমে চলে গেলেন। তারপর পাখীগুলিকে বোল শিখাতে লাগলে ঐ ব্যাধ এসেছে।
ঐ ফাঁদ পেতেছে।
ঐ দান ছড়িয়েছে
ঐ ধান খাবে না।
প্রাণে কেউ বাঁচবে না।
এইভাবে কয়েকদিন শেখাবার পর পাখীগুলির মুখস্থ হয়ে গেল। তারা এইসব বোল সব সময় বলতে লাগল। সাধু মনে করলেন-“এই পাখীগুলি ছেড়ে দিলে এরা বনে গিয়ে সমস্ত পাখীগুলিকে সজাগ করে দেবে। ফলে পাখী সমাজ বেঁচে যাবে” এই ভেবে তিনি পাখীগুলিকে ছেড়ে দিলেন। সমস্ত পাখীদের গান শুনে অন্যান্য পাখীগুলিও শিখে গেল।
একদিন ব্যাধ বনের মধ্যে ফাঁদ পাততে এসে পাখীদের ঐসব গান শুনতে পেল। পাখীর বোল শুনে ব্যাধ মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল, দুঃখের সঙ্গে চিন্তা করতে লাগল- “সেদিন ঐ সাধুর কাছে পাখীগুলি বিক্রি করে কি ভুল করেছি। আমার ছেলে মেয়ে তো খেতে না পেয়ে মারা যাবে। এখন উপায় কি?
এমন সময় তার এক বন্ধু সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিল। ব্যাধের এই দুরাবস্থা দেখে বন্ধুটি বলল-“পাখীরা যাই বলুক না কেন, ওরা ফাঁদে পড়বেই। তুমি আমার কথা শুনে ফাঁদ পাত। “ব্যাধ ফাঁদ পাতলে পাখীগুলি তাদের মুখস্ত বোলগুলি বলতে বলতে উড়ে এসে বসল। তারপর ধানগুলি খেতে খেতে ফাঁদের মধ্যে ঢুকে পড়ল। ব্যাধ পাখীগুলি নিয়ে চলল। তখন পাখীগুলি আনন্দে সেই বোল বলতে লাগল-
ঐ ব্যাধ এসেছে।
ঐ ফাঁদ পেতেছে।
ঐ ধান ছড়িয়েছে।
ঐ ধান খাবে না।
প্রাণে কেউ বাঁচবে না।
। হিতোপদেশ।
শাস্ত্রের বাণী কন্ঠস্থ করে বক্তৃতা করলে লোকের কাছ থেকে বাহবা নিয়ে নিজের আত্মার কল্যান লাভ হবে না। সাধু গুরুর কাছে বা শাস্ত্রে যা শুনতে হবে, যা পড়তে হবে, তাহা হৃদয়ঙ্গম করে নিজের জীবনে আচরণ করতে হবে। তবেই আমাদের প্রকৃত মঙ্গল হবে। যদি আমরা সাধুমুখে কথা শুনে নিজের জীবনে আচরণ না করি বাইরে শুধু কচ্কচানি করি তাহলে গল্পের পাখীর মতো দুরাবস্থা, অকাল মৃত্যু আমাদেরও হবে। আমাদেরও নরক পথের পথিক হতে হবে।

Comments are closed.

August 2015
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

Blog Stats

  • 140,963 hits