দুটি পাখি বনে এক গাছের উঁচু ডালে বাসা করেছিল। বাসায় তাদের তিনটি ছোট ছোট ছানা ছিল। তাদের দিনগুলি সুখেই কাটছিল। বাচ্চা পাখিগুলির যখন ডানা গজালো, তারা একটু একটু উড়তে শিখল। তখন তাদের মা-বাবার আর আনন্দ ধরে না।
একদিন গাছের নীচে এক শিকারী ফাঁদ পেতে ছিল তাতে তিনটি ছোট পাখি ফাঁদের মধ্যে আটকে যায়। তারা চেঁচাতে থাকলে, মা-পাখিটি উড়ে এসে বাচ্চাদের উদ্ধার করতে না পেরে নিজেই আটকে যায়। তখন পুরুষ পাখিটি আত্মীয়-প্রিয়জনদের অসহায় দুর্দশাগ্রস্থ অবস্থায় দেখে অত্যন্ত দুঃখিত অন্তরে কাঁদতে লাগল। শোকে পাগল হয়ে পুরুষ-পাখিটিও ফাঁদের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ল।
তখন নিষ্ঠুর শিকারী হাসতে হাসতে পাখি গুলিকে খাঁচায় পুরে নিয়ে চলল। নীল আকাশের নীচে উঁচু ডালের ওপর তাদের বাসাটি পড়ে রইল। আর নিষ্ঠুর মৃত্যুর করাল গ্রাস তাদের ছিনিয়ে নিয়ে গেল।
। হিতোপদেশ।
মানুষ যদি এই মৃত্যুময় জগতে জড় সুখের আশায় বাসা বাঁধে, অথচ মৃত্যু সম্পর্কে সচেতন না হয়, তবে তার জীবনের সব আশা অপূর্ণ থাকবে। অকালে নিষ্ঠুর মৃত্যুর কবলে সে পতিত হবে। কিন্তু মানুষ যদি জীবন সার্থক করতে চায়, তবে পরম নিয়ন্তা পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণের শরণাপন্ন হবে। ফলে সে এই জন্ম-মৃত্যুর পরপারে নিত্য আনন্দময় জীবনে উর্ত্তীণ হতে পারবে।