একজন লোক কোন গ্রামে বাস করত। সে রোজ বলত, “পিতা স্বর্গ পিতা ধর্ম।” লোকটার পিতামহ একটি কুয়ো খুঁড়ে গিয়েছিলেন। সেই কুয়োটির জল খুব মিষ্টি ও নির্মল ছিল। তিন পুরুষ পর অর্থাৎ সেই লোকটির সময়ে সেই দেড়শ বছরের পুরানো কুয়োর জল নষ্ট হয়ে গেছে। নানা নোংরা, পাঁক ও মরা ব্যাঙ পঁচে যাওয়াতে জল দুর্গন্ধ হয়ে গেছে। নানা রোগজীবাণু ছড়াচ্ছে। সেই দূষিত জল পান করে লোকটির ছেলে, নাতি ও স্ত্রী বহু রোগে ভুগে ভুগে মারা গেল। তার-নিজেরও নানা ব্যাধি শুরু হল। প্রতিবেশীরা যখন তাকে বলত, “কুয়োর জল বাদ দিয়ে গঙ্গার জল ব্যবহার কর।” তখন লোকটি বলত, ‘না, না আমার বাপ-ঠাকুরদার কুয়ো, আমার বাপঠাকুরদা এই কুয়োর জল পান করে জীবন কাটিয়েছে। আমি কেন তা পান করব না ? সেই কুয়োটি লোপ করবার জন্য যখন সরকারী লোকজন এসে উপস্থিত হল, তখন লোকটি জোরে জোরে বলতে লাগল, “আমার বাপঠাকুরদার কুয়ো। এই বলতে বলতে সে এমন ভাব দেখাল যে, তার মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত কোনও রাজশক্তি সেই কুয়োর অস্তিত্ব লোপ করতে পারবে না।
। হিতোপদেশ।
কোন কোন ব্যক্তিকে দেখা যায় তাঁরা কুলগুরুর কাছে দীক্ষা গ্রহণ করেছেন। কুলগুরু আশ্রিত ব্যক্তিকে যদি বলা হয়,- “আমার বাপ-ঠাকুরদার গুরু আমার গুরু। তিনি পরম্পরা সূত্রে ভালই হোন, মন্দই হোন তবুও তিনি আমার গুরু।” অতীতে কোনও ভাল গুণ দেখে গোঁসাই- এর কাছ থেকে বাপ-ঠাকুরদার মন্ত্র নিয়েছেন। পরবর্তীকালে যদিও তার ব্যতিক্রম ঘটেছে, তবুও সেই কুলগুরুর আশ্রিত হতে হবে– এইরকম একগুয়ে যুক্তি, বাপ-ঠাকুরদার কুয়োতে পঁচা জল খেয়ে রোগ বাড়ানোর মতোই।