ধাড়ী ছাগল

একজন ভাগবত পাঠক একটি সভায় ভাগবৎ পাঠ আরম্ভ করলেন। তাঁর পাঠ শ্রবনর জন্য বহু শ্রোতা উপস্থিত হয়েছিলেন। পাঠক মহাশয়ের মাথায় চুল ও মুখে দাড়ি শোভা পাচ্ছিল। তিনি দাড়ি নেড়ে নেড়ে ভাগবতের ব্যাখ্যা করছিলেন। তাঁর পাঠ এত সুন্দর যে, শ্রোতাগণ মনোযোগ সহকারে শুনছিলেন। তার পাঠ শুনে একজন বুড়িমা তো কেঁদেই আকুল। তার আর কান্না থামে না, সকলে ভাবলেন, পাঠ শুনে বুড়িমার নির্মল হৃদয়ে শুদ্ধ প্রেম উদয় হয়েছে। তাই সে এত কাঁদছে।
পাঠ শেষ হলে, পাঠক মশাই বুড়িমাকে ডেকে বললেন, “মাতাজী, আমার পাঠের মধ্যে কোন স্থানে আপনার হৃদয় স্পর্শ করল, যার জন্য আপনি এত কাঁদছিলেন।” বুড়িমা বললেন,  বাবাঠাকুর। কি আর বলব তোমায়, আমার দুঃখের কথা ? এ জগতে আমার কেউ নেই। ছিল মাত্র একটি ধাড়ি ছাগল। সেই ধাড়ি ছাগলটি প্রতিদিন সন্ধ্যাবেলায় বারান্দায় শুয়ে ঠিক তোমার মতো দাড়ি নেড়ে নেড়ে জাবর কাটত। কয়েকদিন গত হল আমার ধাড়িছাগলটি মারা গেছে। তার বিরহে আমার হৃদয় অত্যন্ত কাতর। আমি ভেবেছিলাম ভাগবৎ শুনে নিজের মনকে সান্ত্বনা দেব। কিন্তু বাবা তোমার দাড়ি নাড়া দেখে আমার চতুর্গুন দুঃখ বেড়ে গেল।” বুড়িমার এইসব দুঃখের কথা শুনে সভাস্থ শ্রোতামন্ডলী হো হো করে হেসে উঠলেন।
। হিতোপদেশ।
সাধুগণ যখন ভগবানের নিত্য অপ্রাকৃত মধুর লীলা কথা আস্বাদন করেন, জড় জগতের লোক তাদের হৃদয়ে জড় কামনা, বাসনা, ইন্দ্রিয় ভোগ-সুখ থাকার জন্য সাধুগণের সুখোচ্চারিত ভগবৎ কথা তাঁরা বুঝতে পারে না। তখন তারা রাধা-গোবিন্দের মধুর-লীলা হৃদয়ে ধারণ করতে না পেরে শুদ্ধ কৃষ্ণপ্রেমকে জড় কামনা, ইন্দ্রিয় ভোগ সুখের দিকে টেনে নিয়ে যায়। গল্পের বুড়িমার মতো ভাগবতের অর্থ না বুঝে ধাড়িছাগলের জন্য কাঁদতে থাকে। কিছু মান, যশ, প্রতিষ্ঠা কামী ব্যক্তিগণ হরিনাম ও ভাগবত শুনতে গিয়ে নানারকম ভাব দেখিয়ে নিজেদের প্রেমিক ও রসিক ভক্ত বলে খ্যাতিলাভ করে। কিন্তু পন্ডিতগণ তাদের পরিত্যাগ করেন।

Comments are closed.

August 2015
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

Blog Stats

  • 140,963 hits