এক আলালের ঘরে দুলাল ছিল। সে ছিল মা-বাবার আদরের। সে কাউকে পরোয়া করত না। একদিন রাতে সে তার ঘরের সব দরজা-জানালা বন্ধ করে শুয়ে আছে। ভোর হল। বেলা আটটা-ন’টা হতে চলে। তবুও দুলালের বিছানা ছাড়া হয় না। তার মা-বাবা মনে করল, হয়তো রাত জেগে ছেলেটা খুব পড়াশুনা করেছে, তাই উঠতে দেরী হচ্ছে। কিন্তু ক্রমে প্রায় দুপুর হতে চলল। তখন সবাই চিন্তায় পড়ল। তার ঘরের দরজায় আঘাত করা হল। ভেতর থেকে কথা আসে, “না, আমি উঠব না। দরজা খুলব না।” বাইরে সবাই চেঁচিয়ে বলতে থাকে, “আরে সূর্য মাথার উপর উঠে গেল, আর তুই কিনা শুয়ে আছিস্ ?” ভেতর থেকে উত্তর আসে, “সূর্যকে লোকে প্রণাম করে। ঈশ্ করে! ঈশ্বর বলে। অথচ আমি তো সূর্যের কোনও শক্তিই দেখছি না। এই শীতের দিনে লেপ ছাড়তে কষ্ট হয়। সূর্যের যদি ক্ষমতা থাকে, তবে ঘরের ভেতর আলো দিয়ে তার মহিমা দেখাক।” তখন সবাই বলতে থাকে, “তুই দরজা খোল আলো পাবি।”
। হিতোপদেশ।
অনেকে মনে করে “ভগবান দয়াময়”- এই কথাটি বাজে কথা । তার কারণ দেখায় যে, ভগবান যদি দয়াময় হন, তবে এই সংসারে এতরকমের যন্ত্রণা ও কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে কেন ? এইরকম ধারণা সেই আলালের ঘরের দুলালের মতো। সূর্যের আলো সর্বত্র রয়েছে। কিন্তু দরজা-জানালা এটে দিয়ে অলস হয়ে বসে থাকলাম আর বললাম, সূর্যের আলো ঘরে এলো না কারণ সূর্যের শক্তি নেই। এটি আপন দোষ, সূর্যের নিন্দা করা অনর্থক। তেমনি ভগবান করুণাময়। তাঁর করুণা লাভ করবার জন্য যদি প্রস্তুত না হই, তবে সেটি নির্বুদ্ধিতা। ভগবানের করুণা হল না- বলা ভুল। আবার অন্ধকার ঘরে সূর্যকে দেখতে পাচ্ছি না অতএব সূর্য নেই- এ কথা যেমন মূর্খামির পরিচয়, তেমনি (অজ্ঞানের অন্ধকারে) ভগবানকে দেখতে পাচ্ছি না, সুতরাং ভগবান নেই- এই সিদ্ধান্তও তেমনি মূর্খামি।