এক জমিদারের এক চাকর ছিল। সে রোজই প্রতি কাজে নানা ভুল করত। কেউ তার ভুল ধরলে সে কিছুতেই নিজের ভুল মানতে চাইত না। বরং তার কাজ ঠিক হয়েছে বলে সে জাহির করে বেড়াত।
চাকরটিকে তার মনিব কোন একদিন কোন এক কাজে সে ভুল করেছে বলে জানালেন। কিন্তু সে কিছুতেই নিজের ভুল মানতেই চায় না। তখন মনিব তার গালে থাপ্পর বসিয়ে দিলেন। চাকরটি মার খেয়ে বলে উঠল,‘আমাকে আবার মারুন তো দেখি, আপনার কত শক্তি?”যতই মার খেতে লাগল, ততই সে বলতে লাগল, “আমাকে মেরে ফেলুন তো দেখি? মার খেয়ে মাটিতে লটিয়ে পড়ল, তবুও বলতে লাগল-“আমাকে মারুন তো দেখি!” তখন আশেপাশের লোকজনেরা বলতে লাগল “তুমি এতই মার খাচ্ছ, তবুও তুমি এখনও বেশ বলেই যাচ্ছ- ‘আমাকে মারুন তো দেখি’ ” চাকরটি তখন বলে উঠল, “আচ্ছা, আমার ছেলেকে মারুন তো দেখি।” চাকরের ছেলেটিকে সামনে দেখতে পেয়ে ধীর ভাবে মনির কয়েক ঘা তাকেও কষে দিলেন। তবুও চাকরটি একগুয়েমি ছাড়ল না, সে বলল, “আমার স্ত্রীকে মারুন তো দেখি।” মনির মেয়ে মানুষের মর্যাদা নষ্ট করতে চাইছেন না দেখে চাকরটি একটু দূরে গিয়েই বলে উঠল, “দুয়ো! মারতে পারলে না।”
। হিতোপদেশ।
কুতার্কিক, মায়াবাদী, সহজিয়া, পাষন্ডি, জড়বাদী ব্যক্তিদের নানা কুমতিগুলিকে কৃষ্ণতত্ত্ববিদ্ কোন ব্যক্তি যদি বারে বারে খন্ডন করে, তবুও তারা একগুঁয়েমি ছাড়তে চায় না। শেষ অবধি তারা বলে বেড়ায়, “ঐসব আচার্য্যরা আমাদের কোন সিদ্ধান্ত খন্ডন করতে পারেন নি।” কিন্তু বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা একগুঁয়ে হন না। তারা বিষয়টি বুঝতে চেষ্টা করেন এবং ভুল ঘটলে তা সংশোধনে প্রয়াসী হন। তাতে তাঁদের অযথা তর্কে সময় ও শক্তির অপব্যবহার করতে হয় না, এবং নিজেদের স্বাভাবিক মর্যাদাও কখনো নষ্ট হয় না।