বিধানপুরের জমিদারের এক পুত্রের ছোটবেলা থেকেই নানা কুঅভ্যাস ছিল। পিতার দেখাদেখি সেও খুবই তামাক খেত। তামাক না খেলে তার যেন বেঁচে ওঠা দায় হয়ে পড়ত। এই বাজে অভ্যাসের জন্য ছেলেটির যক্ষ্মা রোগের লক্ষণ দেখা গেল। জমিদার তখন বড় বড় ডাক্তার আনিয়ে চিকিৎসা করালেন। প্রত্যেক ডাক্তার একই কথা বললেন- “ওই বালক একেবারেই তামাক খেতে পারবে না। যদি তামাক খায় তবে এ রোগ মারাত্মক হয়ে পড়বে। আর তাকে যথেষ্ট পরিমাণে খাঁটি দুধ পান করতে দিতে হবে।”
ছেলেটি দুধ পানের কথাটি শুনে খুবই খুশি হল। কিন্তু যখন শুনল যে, সে তামাক ছুঁতে পারবে না, তখন ডাক্তারের কাছে বলল, “আমি দুধও খাব, তামাকও খাব।” অর্থাৎ তার দুধ খাওয়ার আনন্দ চাই আবার তামাক খাওয়ার সুখটিও চাই। ডাক্তার বললেন- “তুমি যদি কখনও একটুও তামাক খাও তবে দুধ খেয়েও কিছু লাভ হবে না। সুস্থ হতে পারবে না।”
। হিতোপদেশ।
যাদের চিত্তে কোন শ্রদ্ধা নেই, ভগবানের প্রতি ভক্তি নেই, যারা শুধু নানারকম জড়জাগতিক কথা-গল্পে দিন কাটায়, তাদের সঙ্গ ছাড়ব না, তাদের সঙ্গে মেলামেশা করব, গল্পগুজব করব, আবার সমাজে নিজেকে একজন সৎ সাধু লোক বলে জাহির করার জন্য হরিকথায় যোগ দিতে থাকব, নানা উপদেশ বলতে থাকব, দুধ ও তামাক দুইই খাব- এই মনোভাব থাকলে তাতে কোন সুফল লাভ হয় না। বরং যতই ভক্তি দেখাই আর যতই ভগবানের নাম গাই সে সবের মধ্যে নিজে বিরাট অভক্ত হয়ে পড়ব। প্রকৃত ভক্ত হতে হলে সাধুসঙ্গে থেকে ভগবানের সেবা করতে হবে। অসাধুসঙ্গ সম্পূর্ণভাবে বর্জন করতে হবে।