একদেশে এক রাজার ভগবান পন্ডিত নামে এক অত্যন্ত প্রিয় পাত্র ছিলেন। তিনি গুণে মানে বিদ্যায় রাজার অত্যন্ত প্রিয় হয়ে উঠেছেন দেখে রাজার মন্ত্রীরা তার হিংসা করতে লাগল। কি করে দেশ থেকে ভগবান পন্ডিতকে তাড়ানো যায় সেই ষড়যন্ত্র মন্ত্রিরা করতে লাগল। তারা দারোয়ানকে বলে দিল-“রাজার আদেশ হয়েছে, ভগবান পন্ডিতকে রাজবাড়ীতে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। দারোয়ান সেরূপ কাজ করল। এদিকে ভগবান পন্ডিতকে দেখতে না পেয়ে রাজা খুবই ব্যস্ত হলেন। তার সংবাদ মন্ত্রীদের জিজ্ঞাসা করলে তারা জানালো, “ভগবান পন্ডিত অসুখে ইহলোক গত হয়েছেন।” মন্ত্রীদের চক্রান্তে রাজবৈদ্যও মিথ্যা সাক্ষ্য দিল। ভগবান পন্ডিতের মৃত্যু সংবাদ শুনে রাজা খুবই দুঃখ পেলেন। কিছুদিন পরে রাজা নগর ভ্রমণে বের হলেন। ভগবান পন্ডিত সেই সুযোগে রাজার সাথে দেখা করতে ইচ্ছা করলেন। কিন্তু রাজার সাথে মন্ত্রীরা ও বহু অনুচর ছিল। তারা রাজাকে এমনভাবে ঘিরে ছিল যে, জনতা ভেদ করে ভগবান পন্ডিত কোন ক্রমে রাজার কাছে যেতেই পারলেন না। বেগতিক দেখে একটি গাছের উপর উঠে চিৎকার করে ভগবান পন্ডিত বলতে লাগলেন-‘মহারাজ! “আমি আপনার ভগবান পন্ডিত।” একথা শুনে রাজা সেই দিকে তাকানো মাত্রই সব পার্ষদবর্গ একসাথে বলে উঠল- “মহারাজ! ভগবান পন্ডিত ‘ভূত’ হয়ে গাছের ডালে বসে আপনাকে ডাকছে। শিগগির এই পথ ত্যাগ করে অন্য পথে চলুন।
এতগুলি লোকের একই কথা শুনে রাজা ভাবলেন সবার কথা যখন একই তাহলে অবিশ্বাস্য হতে পারে না। তাই তিনি ভগবান পন্ডিতের কথায় কর্ণপাত না করে অন্য পথে চলে গেলেন। তখন দুঃখ প্রকাশ করে ভগবান পন্ডিত বলতে লাগলেন-“আহা, চক্রের কি শক্তি! দশচক্রে পড়ে ভগবান পন্ডিতকে ভূত হতে হল।”
। হিতোপদেশ।
বর্তমান জগতে প্রকৃত ভক্তি, সনাতন ধর্ম নানা জড়বাদী ভক্তিবহির্মূখ জনগণের জনমতের চাপে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। তাদের কর্ম, জ্ঞান ও যোগের পথ বা মত নিয়ে অধিকাংশ লোকই ভাবে ভক্তিটাও সেরূপ কোন একটা মত বা পথ। অধিকাংশ লোকই যা বলছে, মানুষ তাকেই সত্য বলে গ্রহণ করছে। এইভাবে ‘যত মত তত পথ’ থেকে শুরু করে কত রকমের মত ও পথ উদ্ভাবন করেছে। কল্পনাপ্রসূত এ সমস্ত মত এবং পথ মানুষকে কেবলই বিপথে চালিত করছে। একমাত্র কৃষ্ণভক্তিই জীবের পরম প্রয়োজন- তা বড় বড় নেতৃবর্গেরও বুঝে ওঠা দায় হয়েছে। তাই সর্বকারণের আদি কারণ শ্রীকৃষ্ণকে জানেন এমন সদগুরুর শরণ নেওয়াই আবশ্যক। তা না হলে জনমতের গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসালে মিথ্যাটাকেই সত্য বলে গ্রহণ করতে হবে।