কোন একজন লোক তার বিয়ের সময় শ্বশুর বাড়ী থেকে যৌতুক হিসেবে একটি খাট পেয়েছিলেন। শ্বশুর মশায় খুব কম দামের খাটটি জামাইকে দিয়েছিলেন। কিছুদিন যেতে না যেতেই খাটটি ভেঙ্গে গেল। তখন পাছে লোকের কাছে সম্মান নষ্ট হয়, এই ভয়ে জামাই অতি বৈরাগী সেজে বসল। শোবার ঘরে মাটিতে কোনমতে সাধারণ বিছানা পেতে সে ঘুমাতে লাগল।
যখন কোন লোকজন তাকে জিজ্ঞেস করত, “তোমার খাট কই, মাটিতে ঘুমাচ্ছ কেন?” তখন সে উত্তর দিত,“এই পৃথিবীর ভোগ সুখ সব অনিত্য। ভাল জিনিস, বিছানা! ঘরবাড়ি, স্ত্রী পুত্র কিছু নিত্য নয়। ক’দিনের জন্য এই জীবন! মাটির শরীর মাটিতেই মিশে যাবে। এই শরীরের আরামের জন্য এত রকমের আয়োজন কি দরকার।”
। হিতোপদেশ।
খাট ভেঙ্গে গেলে বা খাটের অভাবে মাটিতে বিছানা করা, তা প্রকৃত বৈরাগ্য নয়। অনেকে স্ত্রী, পুত্র, সংসার প্রভৃতির প্রতি বৈরাগ্য দেখায়। কেননা এগুলি তাদের নানারকম অশান্তি ও ঝামেলা আনে। এ জন্যাই তারা বিরক্ত হয়ে ত্যাগী সাজে। যদি খাট না ভাঙত, ভাল ভাল ঘরবাড়ী থাকত, তবে তারা তা ভোগ করতে বিরত হত না। বিরক্ত ও হত না। ভোগ করার সুবিধা পাচ্ছি না বলে বৈরাগী সাজতে বাধ্য হয়। খাট ভেঙ্গে গেছে বলে মাটির বিছানাকে আদর করে। এই রকম বৈরাগ্য প্রকৃত পক্ষে ভোগী মানুষেরই লক্ষণ।