বৈশাখ জ্যৈষ্ঠ মাস। ভীষণ গরম। জলের অভাবে মানুষ, পশু, পাখী সকলেই তৃষ্ণায় কাতর। এক ভদ্রলোককে দেখে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন,-“ভাই। কি করলে জলের অভাব মেটানো যায়?” ভদ্রলোকটি বললেন- “মাটির ভেতর জল আছে। আপনি মাটি খুঁড়লে জল পাবেন।” তার কথা মত লোকটি বাড়ীতে এসে ৫ ফুট খুঁড়ে জল না পেয়ে দুঃখিত হয়ে ভদ্রলোকটিকে গালা গালি দিতে লাগল। এইভাবে লোকটি যার কাছে জলের সন্ধান করতে যায় সকলে ওই একই কথা বলেন। প্রত্যেকের কথামত প্রায় ২০/২২ টি গর্ত করে কোন সন্ধান না পেয়ে নাম করা গণ্যমান্য-জ্ঞানী-গুণী এক ব্যক্তির কাছে জলের অভাবের কথা সবিস্তার বললেন। তখন সব কথা শুনে গণ্যমান্য লোকটি বললেন-‘কেন ভাই! তোমার জমিতে একটি গর্ত করলে নিশ্চয়ই জল পাবে।” লোকটি বলল- “আমি বহু লোকের কাছে জলের সন্ধানের পরামর্শ নিয়েছি। সকলেই একই কথা বলেন। আমি জমিতে ২০-২২ টি গর্ত করেছি কিন্তু জল থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আপনি জ্ঞানী-গুণী-পন্ডিত-সজ্জন ব্যক্তি হয়ে আমাকে একইভাবে ঠকাবেন না।” পন্ডিত মহাশয় বললেন- “বহু জায়গায় গর্ত না করে যদি একস্থানে গভীরভাবে খনন করতেন তবে নিশ্চয়ই জলের সন্ধান পেতেন। আপনি একস্থানে খনন করুন, তাহলে নিশ্চয়ই জল পাবেন।” পন্ডিতের কথামত লোকটি ভাবল- “যাক, বহুবার ঠকেছি এবার পন্ডিতের কথার সত্য মিথ্যা প্রমাণ করে জগতের মাঝে প্রচার করব। পন্ডিতের কথামত লোকটি একস্থানে গভীর করে খনন করে জলের সন্ধান পেলেন।
। হিতোপদেশ।
যদি কোন ব্যক্তি চঞ্চল বা অস্থির হয়, এমনকি শিষ্য গুরুসেবা বাদ দিয়ে যদি বহু স্থানে ঘুরে বেড়ায় শান্তির সন্ধানে, অথবা একাধিক গুরু করে তবে তার জীবনের অধোগতি হয় এবং অশান্তির মধ্যে জীবন অতিবাহিত করতে হয়। তাই বলি, -হে সজ্জনবৃন্দ। আপনারা মহতের আনুগত্যে জীবনকে উৎসর্গ করে হরিভজন করুণ। তাহলে অচিরেই ভগবৎ প্রাপ্তি হবে।