এক গরীব লোক ক্ষুধায় কাতর হয়ে পড়েছিল। সে এক ধর্মশালায় একটি পাকা থাম আঁকড়ে ধরে দাঁড়িয়ে ছিল। সে ভাবছিল, এইভাবে থামের চাপে পেটের জ্বালা কিছুটা কমবে।
সে জায়গা দিয়ে একজন ধনীলোক গঙ্গা স্নান সেরে যাচ্ছিল। সে এই ক্ষুধার্ত ব্যক্তিকে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে করুণাবশত কাছাকাছি দোকান থেকে কিছ খই কিনে এনে লোকটিকে বলল- “আমি কিছু খই দিচ্ছি, তুমি নাও।”
তখন ক্ষুধার্ত লোকটি ব্যাকুল হয়ে তাড়াতাড়ি থামের দু’পাশ দিয়েই হাতের আঁজলা পাতল। সেই ধনীলোকটি তখন বলল-“একি। থামটা ছেড়ে তবে খই নাও।” কিন্তু সে শুনল না। তখন সেই অবস্থায় হাতের আঁজলায় খই দিয়ে লোকটি চলে গেল।
কিন্তু ক্ষুধার্ত লোকটি কোনমতে খই খেতে পারছে না। খই খেতে হলে থাম ছাড়তে হবে। অথচ সে ক্ষুধায় এতই কাতর যে, কোনমতেই সে থাম ছাড়তে রাজি নয়। মুখ বাড়িয়ে খই খাওয়া যাচ্ছে না। থামও ছাড়তে পারছে না। তখন সে দাঁড়িয়ে থাকল। পেটে আগুন জ্বলছে। হাতে খাবার আছে। অথচ খাওয়ার উপায় নেই।
। হিতোপদেশ।
বদ্ধজীব সংসারে সুখভোগের আশায় কোন বিষয়সুখ আঁকড়ে ধরে থাকে এবং সে ভাবে, এতে তার দুঃখ ঘুচবে। কিন্তু প্রকৃতির বিধানে সেইসব বিষয়সুখ নিয়েই তার সমস্যা শুরু হয়। তখন সে সুবিধামতো ভোগ করতে পারে না, ত্যাগ করতেও পারে না। এইভাবে বিষয় সমস্যা নিয়েই ত্রিতাপ জ্বালায় জ্বলতে থাকে। ক্ষুধা মেটাতে হলে যেমন থাম বাদ দিয়ে খই নিতে হয়, তেমনি প্রকৃত শান্তি পেতে হলে জড় বিষয়গুলিকে সুখের কেন্দ্র না মনে করে অকপটে ভগবৎ সেবা করতে হয়।