কোন উৎসব উপলক্ষ্যে শিক্ষককে ছাত্ররা বিভিন্ন দ্রব্য দান করতে চাইল। চাল, ডাল, পাতা, গুড় ইত্যাদি। কিন্তু খুব গরীব এক বালক কি দেবে ভেবেই পেল না।
বাড়ী গিয়ে মাকে জিজ্ঞেস করলে মা বলল, “খোকা, আমরা এতই দরিদ্র, কিছুই করতে পারি না। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ দীনবন্ধু, তিনি যদি তোমাকে কিছু দেন তাহলে তুমি শিক্ষককে তাই দিতে পার।”
ছোট বালক জিজ্ঞেস করে, “মা, কৃষ্ণ কোথায়?” মা বলে, “কৃষ্ণ বনে থাকেন।” সরল বালক বনে গিয়ে ‘কৃষ্ণ’ ‘কৃষ্ণ’ ডাকাডাকি করতে থাকে। কেউ শোনেই না। তখন সে খুব কাঁদতে লাগল। অবশেষে শ্রীকৃষ্ণ এসে তাকে শান্ত করে বললেন, “তুমি শিক্ষককে গিয়ে বল যে, তুমি কিছু দই দেবে।” সে তাই গিয়ে বলল।
উৎসবের দিন সেই বনে শ্রীকৃষ্ণের কাছ থেকে একটি ছোট দই-ভাঁড় নিয়ে বালকটি শিক্ষকের কাছে এল। শিক্ষক তা দেখে বললেন, ‘একি? শত শত লোক আমন্ত্রিত, আর তুমি এইটুকু দই নিয়ে এসেছ?” রেগে তিনি সেই ভাঁড় উল্টে ফেলেই দিলেন সব দইটুকু। দই পড়ে গেল কিন্তু আবার দেখা গেল সেই ভাঁড়টি দইতে পূর্ণ হয়েছে। যতবার তা থেকে দই ঢেলে নেওয়া হচ্ছে ততবারই ভাঁড়টি দইতে পরিপূর্ণ হচ্ছে। তখন শিক্ষক বুঝতে পারলেন- দইটা চিন্ময়।
। হিতোপদেশ।
চিন্ময় বস্তু সর্বদা অক্ষয়। আমরা যদি ভগবানের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকি, ভগবানের নির্দেশ অনুসারে চলি তাহলে আমাদের জীবনও অক্ষয়ভাবে আনন্দময় হবে উঠবে। বঞ্চিত হতে হবে না, নিরাশ হতে হবে না।